ঢাকা, মঙ্গলবার ০১ মে ২০১২, ১৮ বৈশাখ ১৪১৯, ৮ জমাদিউস সানি ১৪৩৩
¦
ঢিলেঢালা হরতালে বিচ্ছিন্ন সহিংসতাহামলা সংঘর্ষ লাঠিপেটা গুলিতে আহত ৯১, আটক ১০৫ নিজস্ব প্রতিবেদক
এম ইলিয়াস আলীর 'সন্ধান' দাবিতে ডাকা সকাল-সন্ধ্যা হরতাল চলাকালে গতকাল সোমবার রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে পুলিশের সঙ্গে বিএনপিকর্মীদের বিক্ষিপ্ত সংঘর্ষ, ভাঙচুর, ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। পুলিশ রাজধানীতে ১০ জনকে আটকের কথা স্বীকার করেছে। এ ছাড়া সারা দেশে বিরোধী দলের কমপক্ষে ৯৫ নেতা-কর্মীকে আটক করা হয়েছে। হামলা, সংঘর্ষ, পুলিশের লাঠিপেটা ও গুলিতে আহত হয়েছে অন্তত ৯১ জন।
ইলিয়াস আলী ইস্যুতে বিএনপির দ্বিতীয় দফায় ডাকা দুই দিনের হরতালের শেষ দিনে গতকাল ঢাকার রাজপথে যানবাহনের সংখ্যা ছিল তুলনামূলক বেশি। দুপুরের পর উল্লেখযোগ্যসংখ্যক যানবাহন বের হয় রাস্তায়।
গত রবিবার হরতাল চলাকালে সচিবালয়ে ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা এবং তেজগাঁওয়ে পাবলিক সার্ভিস কমিশন কার্যালয়ের সামনে গাড়ি পোড়ানোর অভিযোগে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ দলের কেন্দ্রীয় নেতাদের নামে শাহবাগ ও তেজগাঁও থানায় মামলা করে পুলিশ। সকালে মির্জা ফখরুলের উত্তরার বাসায় তল্লাশি করা হয়। ফখরুল গ্রেপ্তার হতে পারেন_এ খবর ছড়িয়ে পড়লে নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে ও নগরীর বিভিন্ন স্থানে পিকেটিং করার জন্য প্রস্তুত নেতা-কর্মীদের মধ্যে আতঙ্ক শুরু হয়। মামলার ভয়ে নেতা-কর্মীদের অনেকে আত্মগোপনে চলে যান। হরতালের মাঠে বিএনপির সিনিয়র অনেক নেতাকেই দেখা যায়নি। ফখরুল ইসলামও দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে যাননি। এমনকি জোটের শরিকদেরও মাঠে দেখা যায়নি। গ্রেপ্তার আতঙ্ক থাকায় তাঁরা সতর্ক অবস্থান নেন বলে মনে করা হচ্ছে।
গতকাল হরতালের শুরুতেই বিএনপি নেতা-কর্মীরা নয়াপল্টনে কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে মিছিল করতে গেলে পুলিশ ছত্রভঙ্গ করে দেয়। এ সময় সাবেক স্বাস্থ্য উপমন্ত্রী সিরাজুল হকসহ অন্তত তিনজনকে আটক করা হয়। এ ছাড়া নগরীর কয়েকটি স্থানে নেতা-কর্মীরা হরতালের সমর্থনে রাস্তায় নামার প্রস্তুতি নিলে পুলিশ লাঠিপেটা করে।
মতিঝিল শাপলা চত্বরে সকালে দুটি ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। দুপুর ১টার দিকে মগবাজারে চাংপাই রেস্তোরাঁর সামনে একটি ককটেল বিস্ফোরিত হয়। এ ঘটনায় জড়িত সন্দেহে ঘটনাস্থল থেকে মামুন নামের এক যুবককে আটক করে পুলিশ। দুপুর ২টার দিকে সদরঘাটে সোনালী ব্যাংকের কাছে একটি ককটেল বিস্ফোরিত হয়। এ ঘটনায় রুবেল নামের এক তরুণকে আটক করা হয়। বিকেল পৌনে ৪টার দিকে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনে পর পর দুটি ককটেল বিস্ফোরিত হয়।
প্রথম দিনের হরতালের মতোই গতকাল বিএনপি কার্যালয় সকাল থেকে ঘিরে রাখে পুলিশ। কার্যালয়ের বিপরীত পাশে রাস্তার ওপর প্রিজন ভ্যান, জলকামান ও রায়ট কার দেখা গেছে। দলের যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী, নগর বিএনপির সদস্যসচিব আবদুস সালাম, স্বেচ্ছাসেবক দলের সাধারণ সম্পাদক শরাফত আলী সপু, সাংগঠনিক সম্পাদক শফিউল বারী বাবুসহ কয়েকজন কেন্দ্রীয় নেতা ভেতরে থাকলেও অন্য কাউকে কার্যালয়ে ঢুকতে দেওয়া হয়নি।
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য এম কে আনোয়ারের নেতৃত্বে দুপুরে সংসদ ভবন প্রাঙ্গণে মিছিল হয়। প্রায় একই সময়ে সংসদ ভবন গেটের সামনে মানিক মিয়া এভিনিউয়ের প্রধান সড়কে অবস্থান নিয়ে ক্ষমতাসীন দলের সংসদ সদস্য ফজিলাতুন্নেসা বাপ্পি ও অপু উকিলের নেতৃত্বে সমাবেশ শুরু করে যুব মহিলা লীগ। বিএনপির এমপিরা মিছিল নিয়ে সংসদ ভবন থেকে বের হতে চাইলে 'ধর ধর' বলে তাঁদের দিকে ধেয়ে আসেন যুব মহিলা লীগের নেত্রীরা। পরে পুলিশ পাহারায় বিএনপির সংসদ সদস্যরা সংসদ ভবন এলাকা ত্যাগ করেন।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সাহারা খাতুনের নির্বাচনী এলাকা উত্তরা, বিমানবন্দর, খিলক্ষেত, উত্তরখান, দক্ষিণখান, তুরাগ থানা এলাকা ছিল ক্ষমতাসীন দলের নেতা-কর্মীদের দখলে। ১৩টি পয়েন্টে তাঁরা শামিয়ানা টানিয়ে দলীয় নেতা-কর্মীদের নিয়ে অবস্থান করেন।
রাজধানীর বেশ কয়েকটি স্থানে মিছিল করেছেন জামায়াতে ইসলামী ও ছাত্রশিবিরের নেতা-কর্মীরা। মিছিলের সময় পুলিশের সঙ্গে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া হলেও কেউ আটক হয়নি। সকাল সাড়ে ৬টায় যাত্রাবাড়ীতে মিছিল বের করে মহানগর জামায়াতে ইসলামী। এ সময় ছাত্রলীগ ও যুবলীগের কর্মীরা মিছিলে হামলা চালায় বলে জামায়াত-শিবির অভিযোগ করে। সকাল সাড়ে ৭টায় পান্থপথ থেকে প্রায় ২০০ ছাত্রশিবির নেতা-কর্মী মিছিল নিয়ে কারওয়ান বাজারের দিকে আসার চেষ্টা করলে পুলিশ ছত্রভঙ্গ করে দেয়। এ ছাড়া মিরপুর-১১, রামপুরা, খিলগাঁও এলাকায় মিছিল করে ছাত্রশিবির।

বিভাগীয় শহরগুলোতে হরতাল
বিভাগীয় শহরগুলোতে বিক্ষিপ্ত সংঘর্ষ ও মিছিল-সমাবেশের মধ্য দিয়ে গতকাল সোমবার হরতালের দ্বিতীয় দিন শেষ হয়েছে। আটক করা হয়েছে কমপক্ষে ৬৭ জনকে। তবে বন্দরনগরী চট্টগ্রাম ছিল গতকাল পুরোপুরি শান্ত। এর বাইরে নোয়াখালীতে গতকাল হরতালের পক্ষে মাঠে নেমে তাণ্ডব চালিয়েছে বিএনপির পরস্পরবিরোধী দুই পক্ষ। কালের কণ্ঠের ব্যুরো, আঞ্চলিক অফিস ও স্থানীয় প্রতিনিধিরা জানিয়েছেন বিস্তারিত।
চট্টগ্রামে ঢিলেঢালা হরতাল : বন্দরনগরীতে গতকাল হরতাল ঢিলেঢালাভাবে শেষ হয়েছে। সকালের দিকে কম থাকলেও বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে নগরীর রাস্তায় যানবাহনের সংখ্যা বাড়তে থাকে। তবে বেশির ভাগ মার্কেট ও দোকানপাট বন্ধ ছিল। নগরীর আলমাস সিনেমা হলের সামনে গাড়ি ভাঙচুরের সময় এক পিকেটারকে আটক করে পুলিশ। সকাল থেকেই কাজীর দেউড়িতে মহানগর বিএনপির কার্যালয়ের সামনের রাস্তায় মিছিল-সমাবেশ করেন বিএনপির নেতা-কর্মীরা।
বিকেলে মহানগর বিএনপির সহসভাপতি শামসুল আলমের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক ডা. শাহাদাত হোসেনের পরিচালনায় এক সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন সাবেক মন্ত্রী ও মহানগর বিএনপির সভাপতি আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী।
এর আগে সকালে মীর মোহাম্মদ নাছির উদ্দিন হরতালের সমর্থনে মিছিল বের করেন। উত্তর জেলা বিএনপি জুবিলী রোড ও কাজীর দেউড়ি এবং দক্ষিণ জেলা বিএনপি কর্ণফুলী সেতু এলাকায় মিছিল-সমাবেশ করে।
রাজশাহীতে আটক ২৫ : মিছিলে বাধা দেওয়াকে কেন্দ্র করে রাজশাহীতে বিএনপি নেতা-কর্মীদের সঙ্গে পুলিশের ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া, ইটপাটকেল ও টিয়ার শেল নিক্ষেপের ঘটনায় কমপক্ষে ১০ জন আহত হন। রবিবার রাত ও গতকাল নগরীর বিভিন্ন স্থান থেকে পুলিশ কমপক্ষে ২৫ জনকে আটক করে।
এদিকে তানোরে হরতালে ট্রাক ভাঙচুর ও ড্রাইভারকে মারধর করার ঘটনায় বিএনপির অর্ধশতাধিক নেতা-কর্মীর বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। ভাঙচুরকৃত ট্রাকের মালিক রইস উদ্দিন বাদী হয়ে গতকাল এ মামলা করেন।
সিলেটে হরতালের পক্ষে-বিপক্ষে সমাবেশ : গতকাল সিলেট নগরীতে হরতালের পক্ষে-বিপক্ষে সমাবেশ হয়েছে। বিএনপির সমাবেশে বক্তারা দলের ভারপ্রাপ্ত মহাসচিবের বাসায় পুলিশি তল্লাশি এবং তাঁকেসহ কেন্দ্রীয় নেতাদের বিরুদ্ধে মামলা দায়েরের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানান। চৌহাট্টায় কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের সামনে সমাবেশের আয়োজন করা হয়। জেলা ও মহানগর বিএনপি আয়োজিত সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন মহানগর বিএনপির সভাপতি এম এ হক। পরিচালনা করেন জেলা সাংগঠনিক সম্পাদক আলী আহমদ।
সমাবেশে বক্তারা বলেন, সরকার ইলিয়াস আলীকে খুঁজে বের করার পরিবর্তে তাঁর নিখোঁজ হওয়ার দায় বিএনপির ওপর চাপাতে ব্যস্ত হয়ে পড়েছে। সিলেটে বিএনপিতে দ্বন্দ্ব-বিবাদ নেই। এ ছাড়া কেন্দ্রীয় নেতাদের বিরুদ্ধে মামলা দায়েরের প্রতিবাদে নগরে বিক্ষোভ মিছিল করে জেলা ও মহানগর ছাত্রদল।
হরতালে নগরীতে বিচ্ছিন্নভাবে রিকশা ও হালকা যানবাহন চলাচল করলেও ভারি যানবাহন চলেনি। সকাল থেকে পুলিশের পাশাপাশি র‌্যাব ও বিজিবি সদস্যরা সতর্ক অবস্থানে ছিলেন। সকালে জেলা ও মহানগর বিএনপি মিছিল বের করে। মিছিলটি জিন্দাবাজার থেকে শুরু হয়ে চৌহাট্টায় গিয়ে শেষ হয়। জামায়াতে ইসলামী ও ছাত্রশিবির খণ্ড খণ্ড মিছিল করে।
কোর্ট পয়েন্ট ছিল পুলিশ পাহারায় আওয়ামী লীগের দখলে। এখানে আয়োজিত সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি মেয়র বদর উদ্দিন আহমদ কামরান। পরে একই স্থানে সমাবেশ করে সিলেট জেলা ও মহানগর শ্রমিক লীগ।
এদিকে ইলিয়াস আলীর জন্মস্থান বিশ্বনাথ উপজেলায় গতকালও কোনো পিকেটিং ছাড়াই শান্তিপূর্ণভাবে হরতাল পালিত হয়েছে। বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতা-কর্মীদের মাঠে দেখা যায়নি। তবে হরতালের বিরোধিতা করে আওয়ামী লীগ মিছিল ও সমাবেশ করে।
খুলনায় কয়েক দফা সংঘর্ষ, আটক ২৫ : কয়েক দফা সংঘর্ষ, ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া, টিয়ার শেল, গুলি ও পেট্রল বোমা বিস্ফোরণের মধ্য দিয়ে গতকাল খুলনায় হরতালের দ্বিতীয় দিন শেষ হয়। পুলিশ জেলা বিএনপির সহসভাপতি আবদুর রশিদসহ বিভিন্ন স্থান থেকে মোট ২৫ জনকে আটক করে। এ ছাড়া পুলিশের রাবার বুলেটে হাসান আলী বাবু নামে স্বেচ্ছাসেবক দলের এক নেতা আহত হন।
বরিশালে মহিলা দলের মিছিলে লাঠিপেটা, আটক ১৭ : গতকাল বরিশালে মহিলা দলের মিছিলে পুলিশ লাঠিপেটা করেছে। সকাল ১০টায় মহিলা দল কোতোয়ালি শাখার উদ্যোগে মিছিল বের হলে পুরুষ পুলিশ সদস্যরা তাদের লাঠিপেটা করে। এ সময় মহানগর মহিলা দলের আহ্বায়কসহ চারজন আহত হন। পুলিশ এখান থেকে চারজনসহ মোট ১৭ জনকে আটক করে। এ ছাড়া মজিবর রহমান সরোয়ার এমপির নেতৃত্বে জেলেবাড়ীর পুল এলাকা থেকে মিছিল বের হয়। মিছিলটি জেলখানা মোড় অতিক্রমকালে পুলিশ লাঠিপেটা করলে ১০ জন আহত হন।
নোয়াখালীতে হরতালকারীদের তাণ্ডব, আহত ৩০ : হরতালের দ্বিতীয় দিনে গতকাল বিএনপির দুই পক্ষে ঘণ্টাব্যাপী ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া, সংঘর্ষ, ইটপাটকেল নিক্ষেপের ঘটনা ঘটে। এ সময় তারা মসজিদ, প্রেসক্লাব, মুক্তিযোদ্ধা সংসদ কার্যালয়, আইনজীবী সমিতির ভবন, বাণিজ্যিক ব্যাংকসহ অর্ধশতাধিক ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে হামলা ও ভাঙচুর চালায়। আহত হন সাংবাদিক ও পুলিশসহ ৩০ জন। এ সময় বেশ কয়েকটি মোটরসাইকেলও ভাঙচুর করা হয়। তাৎক্ষণিক জেলা আইনজীবী সমিতি ও ব্যবসায়ীরা এ হামলার প্রতিবাদে জেলা শহরে বিক্ষোভ মিছিল করেন।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সকাল সাড়ে ১১টায় জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও পৌরসভার মেয়র হারুনুর রশিদ আজাদের নেতৃত্বে একটি মিছিল স্থানীয় প্রেসক্লাব চত্বর থেকে বের হয়ে জেলা জামে মসজিদ মোড়ে আসে। একই সময় বিএনপির কেন্দ্রীয় যুগ্ম মহাসচিব ও জেলা বিএনপির সভাপতি মো. শাহজাহানের নেতৃত্বে জামায়াতসহ ১৮ দলের অন্য একটি মিছিল প্রধান সড়ক দিয়ে জিলা স্কুলের সামনে আসে। এ সময় দুটি মিছিল থেকে পরস্পরকে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া ও ইটপাটকেল নিক্ষেপ শুরু করে। একপর্যায়ে তারা রাস্তার দুই পাশে মার্কেন্টাইল ব্যাংক, এনসিসি ব্যাংক, ব্র্যাক ব্যাংকসহ বেশ কয়েকটি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে ভাঙচুর চালায়।
একপর্যায়ে হারুন সমর্থকদের ধাওয়া করতে গিয়ে অন্য মিছিল থেকে নোয়াখালী আইনজীবী সমিতি ভবনেও ভাঙচুর চালানো হয়। কয়েকজন আইনজীবীর চেম্বার, কয়েকটি মোটরসাইকেল, চায়নিজ রেস্টুরেন্ট, নোয়াখালী প্রেসক্লাব, জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদ কার্যালয়, পাঁচ রাস্তার মোড় মসজিদ ও ম্যাটসের মসজিদেও ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে ব্যাপক ভাঙচুর চালায় শিবির ও বিএনপিকর্মীরা। এ সময় পুলিশ ছিল নীরব দর্শক। এ ঘটনায় পুলিশ, সাংবাদিকসহ ৩০ জন আহত হন।
দুপুর দেড়টা পর্যন্ত শহরের বিভিন্ন মোড়ে থেমে থেমে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া চলে। এ সময় হারুনের সমর্থকরা জেলা বিএনপির সহসভাপতি এ বি এম জাকারিয়াকে রেড ক্রিসেন্ট ভবনে এক ঘণ্টা অবরুদ্ধ করে রাখে।
এলোপাতাড়ি এই হামলা-ভাঙচুরের প্রতিবাদে আইনজীবীরা শহরে বিক্ষোভ করেন। জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি নাজমুল হক হামলার ঘটনায় সুধারাম থানায় মামলা দায়ের করেন। ব্যবসায়ীরাও দোকানপাট ভাঙচুরের প্রতিবাদে বিক্ষোভ করেন।
রামগতিতে আওয়ামী লীগ-বিএনপি সংঘর্ষ, আহত ২০ : লক্ষ্মীপুরের রামগতি উপজেলার আজাদনগর ব্রিজ এলাকায় গতকাল হরতাল চলাকালে আওয়ামী লীগ ও বিএনপির মধ্যে হামলা ও সংঘর্ষে কমপক্ষে ২০ জন আহত হন। এ সময় পাঁচটি মোটরসাইকেল ও ১০টি দোকান ভাঙচুর এবং লুটের ঘটনা ঘটে। আহতদের স্থানীয় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেঙ্ ও সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করে।
Jobs in Bangladesh
আজকের পাঠকসংখ্যা
৯২৮৪৩০
পুরোনো সংখ্যা
সম্পাদক : ইমদাদুল হক মিলন, উপদেষ্টা সম্পাদক : অমিত হাবিব, ইস্ট ওয়েস্ট মিডিয়া গ্রুপ লিমিটেডের পক্ষে ময়নাল হোসেন চৌধুরী কর্তৃক প্লট-৩৭১/এ, ব্লক-ডি, বসুন্ধরা, বারিধারা থেকে প্রকাশিত এবং প্লট-সি/৫২, ব্লক-কে, বসুন্ধরা, খিলক্ষেত, বাড্ডা, ঢাকা-১২২৯ থেকে মুদ্রিত।
বার্তা ও সম্পাদকীয় বিভাগ : বসুন্ধরা আবাসিক এলাকা, প্লট-৩৭১/এ, ব্লক-ডি, বারিধারা, ঢাকা-১২২৯। পিএবিএক্স : ০২৮৪০২৩৭২-৭৫, ফ্যাক্স : ৮৪০২৩৬৮-৯, বিজ্ঞাপন ফোন : ৮১৫৮০১২, ৮৪০২০৪৮, বিজ্ঞাপন ফ্যাক্স : ৮১৫৮৮৬২, ৮৪০২০৪৭। E-mail : info@kalerkantho.com
free counters
Latest News Portal Food Recipe in Bangladesh jobs in Bangladesh