Developed by : Md. Rokibul Hossain Powered by : orangebd Web address : http://www.orangebd.com Address : 6 North Gulshan C/A, Plaza Building (1st Floor), Gulshan Circle - 2, Dhaka - 1212, Bangladesh
:: কালের কণ্ঠ :: সিলেবাসে নেই :: খেয়েছে দুটি, দিয়েছে ৪৯টি!
ঢাকা, বুধবার ৮ ফেব্রুয়ারি ২০১২, ২৬ মাঘ ১৪১৮, ১৫ রবিউল আউয়াল ১৪৩৩
চ্যাম্পিয়ন হয়ে এক লাখ টাকা জিতে নিয়েছে রাঙামাটির মঘাছড়ি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মেয়েরা
¦
খেয়েছে দুটি, দিয়েছে ৪৯টি! ফজলে এলাহী, রাঙামাটি
ফুটবল টিমের ১৭ মেয়ের কেউই এর আগে কোনো দিন ঢাকায় আসেনি। প্রথমবারেই ঢাকা জয় করল রাঙামাটির মঘাছড়ি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় দল। ওরা জিতে নিয়েছে বঙ্গমাতা গোল্ডকাপ টুর্নামেন্টের শিরোপা। এতে অংশ নেয় সারা দেশের ৫৯ হাজার ৭১০টি প্রাথমিক বিদ্যালয়। তারা ২-০ গোলে হারায় রংপুরের পালিচোড়া প্রাথমিক বিদ্যালয়কে।
রাঙামাটির ছোট্ট একটি গ্রাম মঘাছড়ি। উঁচু একটি পাহাড়ে অবস্থিত এই প্রাথমিক বিদ্যালয়টি। বাংলাদেশের আর দশটি স্কুলের মতোই আটপৌরে, গতানুগতিক, তবে ৩১ জানুয়ারিই বদলে গেল এই স্কুলের ইতিহাস! কারণ ওই দিন দেশের প্রায় ৬০ হাজার প্রাথমিক বিদ্যালয়কে পেছনে ফেলে এই স্কুলের মেয়েরা যে নিজেদের প্রমাণ করেছে দেশসেরা!

পেছনের কথা
বঙ্গমাতা ফুটবল টুর্নামেন্টের শুরুতেই মঘাছড়ি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক বীরসেন চাকমা ধরেই নিয়েছিলেন, তাঁর মেয়েরা অসাধারণ কিছু একটা করতে পারবে! একই বিশ্বাস ছিল স্কুলের অন্য শিক্ষকদের, বিশেষ করে ক্রীড়া আর সংস্কৃতি অন্তঃপ্রাণ ধারশমনি চাকমার। নাম লেখালেন ছেলে এবং মেয়েদের দুটি বিভাগেই। ছেলেরা উপজেলা পর্যায়ে রানার্সআপ হয়েই বাদ পড়ে যায়। কিন্তু মেয়েরা অদম্য! তারা একে একে উপজেলা-জেলা-বিভাগ পর্যায়ে প্রমাণ করে গেল নিজেদের শ্রেষ্ঠত্ব।
চূড়ান্ত পর্বের খেলায় ঢেলে দিল নিজেদের সেরাটা। ফাইনালে তারা ২-০ গোলে হারায় রংপুরের পালিচোড়া প্রাথমিক বিদ্যালয়কে। শুরু থেকে জাতীয় পর্যায়ের ফাইনাল পর্যন্ত মঘাছড়ি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মেয়েরা গোল দিয়েছে ৪৯টি, আর বিপরীতে গোল খেয়েছে মাত্র দুটি! দলের পক্ষে সেরা গোলদাতা লাজুক টিনা চাকমাকে দেখে কেউ বিশ্বাস করবে না, এই ছোট্ট মেয়েটা একাই করেছে ১৮টি গোল। টিনা জানাল, প্রতিপক্ষকে এত গোল দিতে তার একটু খারাপই লেগেছে। আর দলনেতা তিশা চাকমা সপ্রতিভ, দুরন্ত। তার সোজাসাপ্টা কথা, 'ইস, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সঙ্গে খেলায় যদি ওই দুটি গোল না খেতাম!'

গল্প তো নয়
প্রধান শিক্ষক বীরসেন চাকমা জানান, জেলা পর্যায়ে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার পরও জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসে পড়ে থাকা দুটি ফুটবল চেয়েও পাননি। নূ্যনতম সহযোগিতাও করেনি রাঙামাটি জেলা ক্রীড়া সংস্থা। তাতে কী! সঙ্গে ছিল ঘাগড়া এলাকার মানুষের ভালোবাসা। স্কুলের কোনো মাঠ নেই। প্রায় পাঁচ কিলোমিটার দূরের ঘাগড়া স্কুল মাঠে প্রতিদিন গাড়িতে করে মেয়েদের নিয়ে যাওয়া হতো অনুশীলনের জন্য। এভাবে কিছুদিন চলার পর ব্যয় বহন করতে না পেরে মেয়েদের দুই-তিনজন করে তুলে দিলেন ওই এলাকার স্বজনদের বাসায়। খাওয়ার ব্যবস্থা করলেন নিজেই, এগিয়ে এলেন এলাকার অনেকেই। কেউ দিলেন চাল, আবার কেউ ক্রীড়াসামগ্রী। জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসারের কাছে দুটি বল চেয়ে না পেলেও বিভাগীয় পর্যায়ে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার পর এলাকার দরিদ্র মানুষই নিজেরা চাঁদা তুলে কিনে দিয়েছে ৪৭টি বল!
ঢাকায় আসার পর পাশে এসে দাঁড়িয়েছিলেন বাংলাদেশ বধির ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি বাকপ্রতিবন্ধী ফিরোজ আহম্মেদ।
যুদ্ধজয়ী মেয়েরা!
দলের খেলোয়াড়রা হলো_তিশা চাকমা, পিয়ারি তংচঙ্গ্যা, রুনা তংচঙ্গ্যা, আয়না চাকমা, নদী চাকমা, সিবলিকা তালুকদার, শিল্পা চাকমা, মাউচাই মারমা, চাথুইমা মারমা, রনি চাকমা, নিংচানা মারমা, উনুচিং মারমা, মুনা মারমা, উইনুচিং মারমা, হ্লানুমা মারমা, চম্পা মারমা ও রুমা আক্তার। ওরা একেকজন একেক ক্লাসে পড়ে। দীর্ঘদিন একসঙ্গে থাকায় ওরা সবাই যেন বন্ধুই হয়ে উঠেছে। সবার ইচ্ছা মিলে গেছে একটি জায়গায়, স্বপ্ন দেখে, একদিন ঠাঁই হবে জাতীয় দলে।
চ্যাম্পিয়ন হয়ে ওরা জিতে নিয়েছে এক লাখ টাকা। প্রত্যেকে পেয়েছে একটি করে পদক। পুরস্কারের এই টাকা কী কাজে ব্যবহৃত হবে এখনো ঠিক করা হয়নি।
এই প্রতিবেদন সম্পর্কে আপনার মতামত দিতে এখানে ক্লিক করুন
আজকের পাঠকসংখ্যা
৬৭৬২২৮
পুরোনো সংখ্যা
শনিবার
রবিবার
সোমবার
মঙ্গলবার
বুধবার
বৃহস্পতিবার
শুক্রবার
বৃহত্তর নোয়াখালী ও চট্টগ্রামের পাঠকদের জন্য প্রতি রবি, মঙ্গল, ও বৃহস্পতিবার আলাদা দৈনিক
সম্পাদকমণ্ডলীর সভাপতি : মোস্তফা কামাল মহীউদ্দীন, সম্পাদক : ইমদাদুল হক মিলন, ইস্ট ওয়েস্ট মিডিয়া গ্রুপ লিমিটেডের পক্ষে মোস্তফা কামাল মহীউদ্দীন কর্তৃক প্লট-৩৭১/এ, ব্লক-ডি, বসুন্ধরা, বারিধারা থেকে প্রকাশিত এবং প্লট-সি/৫২, ব্লক-কে, বসুন্ধরা, খিলক্ষেত, বাড্ডা, ঢাকা-১২২৯ থেকে মুদ্রিত।
বার্তা ও সম্পাদকীয় বিভাগ : বসুন্ধরা আবাসিক এলাকা, প্লট-৩৭১/এ, ব্লক-ডি, বারিধারা, ঢাকা-১২২৯। পিএবিএক্স : ০২৮৪০২৩৭২-৭৫, ফ্যাক্স : ৮৪০২৩৬৮-৯, বিজ্ঞাপন ফোন : ৮১৫৮০১২, ৮৪০২০৪৮, বিজ্ঞাপন ফ্যাক্স : ৮১৫৮৮৬২, ৮৪০২০৪৭। E-mail : info@kalerkantho.com