ঢাকা, রবিবার ৬ মে ২০১২, ২৩ বৈশাখ ১৪১৯, ১৩ জমাদিউস সানি ১৪৩৩
¦
আহমেদ আতাউল হাকিমের দাবিসরকারি হিসাব নিরীক্ষা কাজে গতি এসেছে নিজস্ব প্রতিবেদক
বাংলাদেশের মহাহিসাব নিয়ন্ত্রক ও নিরীক্ষক কার্যালয়ের স্বাধীনতা আছে। সরকার কখনো তাদের কাজে হস্তক্ষেপ করে না। কিন্তু সক্ষমতার অভাব ও আইনি কিছু দুর্বলতার কারণে এটি ঠিকমতো কাজ করতে পারে না। এসব কথা জানিয়ে মহাহিসাব নিয়ন্ত্রক ও নিরীক্ষক আহমেদ আতাউল হাকিম বলেছেন, বর্তমান সংসদের সরকারি হিসাবসংক্রান্ত সংসদীয় কমিটির কর্মতৎপরতায় সরকারি হিসাব নিরীক্ষার কার্যক্রম দ্রুত এগোচ্ছে। এ সংসদের মেয়াদেই তারা পুরনো হিসাব নিরীক্ষা শেষ করে 'আপডেটেড' হতে পারবেন।
গতকাল 'সরকারি হিসাবে জবাবদিহিতার ক্ষেত্রে গণমাধ্যমের নজরদারিমূলক ভূমিকা' নিয়ে এক সেমিনারে তিনি এসব কথা বলেন। ব্রিটিশ হাইকমিশনের সহায়তায় মহাখালির ব্র্যাক সেন্টারে এর আয়োজন করে ম্যানেজমেন্ট রিসোর্সেস ডেভলপমেন্ট ইনিশিয়েটিভ (এমআরডিআই) নামের একটি বেসরকারি সংস্থা। গণমাধ্যমের সঙ্গে মহাহিসাব নিয়ন্ত্রক ও নিরীক্ষক কার্যালয়ের যোগাযোগ বাড়ানোর লক্ষ্যে ধারাবাহিক কার্যক্রমের অংশ হিসেবে এমআরডিআই আলোচনা সভাটির আয়োজন করে।
অনুষ্ঠানে বক্তারা সরকারি ব্যয়ের ক্ষেত্রে দুর্নীতি রোধে গণমাধ্যমের ভূমিকা নিয়ে আলোচনা করেন। তাঁরা বলেন, গণমাধ্যম সরকারকে কোনোভাবে সহায়তা করতে চাইলে তার সমালোচকের ভূমিকা নিয়েই কেবল সহায়তা করতে পারে। যাতে সরকার তার ভুল শুধরে নেয়। এ জন্য সরকারি ব্যয়ের ক্ষেত্রে অস্বচ্ছ দিকগুলো তুলে ধরতে হবে।
বক্তারা সরকারি ব্যয়ের তথ্য গণমাধ্যমের কাছে আরো উন্মুক্ত করার ওপর গুরুত্ব দেন। তাঁদের মতে, তথ্য গণমাধ্যমের কাছে গেলে দুর্নীতি করার সুযোগ কমে যায়। ব্যয়ের খাত বাছাই, বরাদ্দ ও প্রকল্পের বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে জবাবদিহি নিশ্চিত হয়।
অনুষ্ঠানে জানানো হয়, হিসাব নিরীক্ষার মাধ্যমে ২০১০ সালে মহাহিসাব নিয়ন্ত্রক ও নিরীক্ষকের কার্যালয় আদায় ও সমন্বয় করেছে ছয় হাজার ৩১৫ কোটি টাকা। বর্তমান সংসদের প্রায় তিন বছরের মেয়াদে সরকারি হিসাবসংক্রান্ত সংসদীয় কমিটির ১৭৫টি বৈঠক হয়েছে। অন্য সংসদের মেয়াদগুলোয় কখনোই এত বৈঠক হয়নি। ৫০টির বেশি বৈঠক হয়েছে_এমন সংসদ আছে মাত্র দুটি। বাকি সংসদগুলোর মেয়াদে মাত্র আট থেকে ১০টি বৈঠক হতো। বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার পর প্রথম অধিবেশনেই সরকারি হিসাবসংক্রান্ত সংসদীয় কমিটি গঠন করা হয়। অন্য সংসদের সময় এক-দেড় বছর পেরিয়ে গেলে এই কমিটি গঠিত হতো।
উল্লেখ্য, সরকারি হিসাবের নিরীক্ষা প্রতিবেদন আলোচনা করে ব্যবস্থা নেওয়া সরকারি হিসাবসংক্রান্ত সংসদীয় কমিটির কাজ। সংসদীয় গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় এ ধরনের কমিটি বহুল প্রচলিত। প্রধান অতিথির বক্তব্যে ওই কমিটির সভাপতি ড. মহীউদ্দীন খান আলমগীর বলেন, সরকারি হিসাবে জবাবদিহি শুধু গণতন্ত্র থাকলেই সুষ্ঠুভাবে প্রতিষ্ঠিত হয়। স্বৈরতন্ত্রে রাষ্ট্রের নির্বাহী বিভাগের কোনো জবাবদিহি থাকে না। কারণ সংসদের কাছে তাদের জবাবদিহি করতে হয় না।
তিনি প্রতিরক্ষা ব্যয় ও স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানের বাজেট ব্যয় পূর্ণাঙ্গভাবে সংসদে উপস্থাপন হওয়া প্রয়োজন বলে উল্লেখ করেন। তিনি জানান, এরশাদ সরকারের আমলে প্রতিরক্ষা ব্যয় সংক্ষেপিত আকারে উপস্থাপনের নিয়ম চালু হয়।
প্রথম আলোর যুগ্ম সম্পাদক আবদুল কাইয়ুম হিসাবসংক্রান্ত সংসদীয় কমিটির সভাপতি পদে বিরোধী দল থেকে কাউকে নিয়োগ করা প্রয়োজন বলে উল্লেখ করেন। তাঁর মতে, এতে জবাবদিহি আরো বাড়বে। এর জবাবে মহীউদ্দীন খান আলমগীর বলেন, আমাদের চূড়ান্ত লক্ষ্য এটাই হওয়া উচিত। কিন্তু যে দেশে বিরোধী দল সংসদেই আসে না, সরকারের অংশ হিসেবে তাদের মনে করা হয় না, সে দেশে সরকারি হিসাবসংক্রান্ত সংসদীয় কমিটির সভাপতির পদে বিরোধী দলের লোক আকাঙ্ক্ষিত নয়।
আহমেদ আতাউল হাকিম বলেন, বর্তমান সংসদের মেয়াদে সংসদীয় কমিটির বৈঠক বেশি হওয়ায় হিসাব নিরীক্ষার কাজের গতি বেড়েছে। আশা করা যায়, বর্তমান সংসদের মেয়াদেই আমরা পশ্চাৎপদতা ৯০ শতাংশ কাটিয়ে উঠতে পারব। তিনি বলেন, আমাদের কাজ শুধু নিরীক্ষা করা। নিরীক্ষা প্রতিবেদনের ভিত্তিতে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার কাজ সচিবের। এখন ব্যবস্থা নেওয়াও হচ্ছে।
তিনি মহাহিসাব নিয়ন্ত্রক ও নিরীক্ষকের কার্যালয়ের জনবল সংকট, বিশেষ কাজে বিশেষজ্ঞদের নিয়োগ দিতে না পারা, অডিট আইন না থাকা, দক্ষ লোকের অভাব ও বিভিন্ন পর্যায়ের নিরীক্ষার (পিরিওডিক অডিট) দায়িত্ব অর্থ মন্ত্রণালয়ের কাছে চলে যাওয়ায় কাজে সমস্যা হচ্ছে বলে উল্লেখ করেন।
তাঁর বক্তব্যের সূত্র ধরে মহীউদ্দীন খান আলমগীর বলেন, অর্থমন্ত্রীর সঙ্গে তাঁর কথা হয়েছে। অডিট আইন আগামী সংসদে পাস হওয়ার জন্য উত্থাপিত হবে।
অনুষ্ঠানে ইংরেজি দৈনিক ফিন্যান্সিয়াল এক্সপ্রেসের সম্পাদক মোয়াজ্জেম হোসেন মূল প্রবন্ধ পাঠ করেন। এতে সেন্ট্রাল প্রকিউরমেন্ট টেকনিক্যাল ইউনিটের মহাপরিচালক অমূল্য কুমার দেবনাথ, সাংবাদিক অজয় দাসগুপ্ত, ডি-নেটর নির্বাহী পরিচালক ড. অনন্য রায়হান, এমআরডিআইয়ের নির্বাহী পরিচালক হাসিবুর রহমানসহ অনেকে উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন এমআরডিআইয়ের বোর্ড সদস্য এম এমামুল হক।
Jobs in Bangladesh
আজকের পাঠকসংখ্যা
৭৭২১৮০
পুরোনো সংখ্যা
সম্পাদক : ইমদাদুল হক মিলন, উপদেষ্টা সম্পাদক : অমিত হাবিব, ইস্ট ওয়েস্ট মিডিয়া গ্রুপ লিমিটেডের পক্ষে ময়নাল হোসেন চৌধুরী কর্তৃক প্লট-৩৭১/এ, ব্লক-ডি, বসুন্ধরা, বারিধারা থেকে প্রকাশিত এবং প্লট-সি/৫২, ব্লক-কে, বসুন্ধরা, খিলক্ষেত, বাড্ডা, ঢাকা-১২২৯ থেকে মুদ্রিত।
বার্তা ও সম্পাদকীয় বিভাগ : বসুন্ধরা আবাসিক এলাকা, প্লট-৩৭১/এ, ব্লক-ডি, বারিধারা, ঢাকা-১২২৯। পিএবিএক্স : ০২৮৪০২৩৭২-৭৫, ফ্যাক্স : ৮৪০২৩৬৮-৯, বিজ্ঞাপন ফোন : ৮১৫৮০১২, ৮৪০২০৪৮, বিজ্ঞাপন ফ্যাক্স : ৮১৫৮৮৬২, ৮৪০২০৪৭। E-mail : info@kalerkantho.com
free counters
Latest News Portal Food Recipe in Bangladesh jobs in Bangladesh