ঢাকা, রবিবার, ২ অক্টোবর ২০১১, ১৭ আশ্বিন ১৪১৮, ৩ জিলকদ ১৪৩২
খাগড়াছড়ির একটি বাগানে উৎপাদিত পাম ফল। ছবি : কালের কণ্ঠ
¦
« পূর্ববর্তী সংবাদ
ব্যক্তি উদ্যোগে গড়ে উঠছে পাম বাগানপার্বত্য চট্টগ্রাম হবে দ্বিতীয় মালয়েশিয়া মো. নিজাম উদ্দিন লাভলু, রামগড়
পার্বত্য চট্টগ্রামের অনাবাদি পাহাড়-টিলায় পাম গাছচাষের মাধ্যমে তরল সোনা উৎপাদনের সম্ভাবনা উঁকি দিচ্ছে। এ সম্ভাবনাকে কাজে লাগানো গেলে অদূর ভবিষ্যতে ভোজ্য তেল বা পাম অয়েল উৎপাদনে পার্বত্য চট্টগ্রাম হবে 'দ্বিতীয় মালয়েশিয়া'। খাগড়াছড়ি, বান্দরবান ও রাঙামাটির বিভিন্ন এলাকায় ইতিমধ্যে ব্যক্তি উদ্যোগে অনেক পাম বাগান গড়ে উঠেছে। খাগড়াছড়ির রামগড় ও মাটিরাঙ্গার বাগানগুলোর গাছে এবার প্রচুর ফলও ধরেছে ।
পার্বত্যাঞ্চলের মাটি এবং আবহাওয়া পামচাষের জন্য অত্যন্ত উপযোগী বলে অভিমত দিয়েছেন কৃষি বিজ্ঞানীরা। রামগড় পাহাড়াঞ্চল কৃষি গবেষণা কেন্দে র প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. মু জুলফিকার আলী ফিরোজ বলেন, 'পাহাড়ের মাটিতে পামচাষের জন্য প্রয়োজনীয় সব ধরনের উপাদান রয়েছে। এখানকার আবহাওয়া, তাপমাত্রা ও বৃষ্টিপাতের পরিমাণ সব কিছু পামচাষের জন্য খুবই উপযোগী। পার্বত্য চট্টগ্রামে হাজার হাজার একর জায়গা অনাবাদি পড়ে থাকা টিলায় পরিকল্পিতভাবে ব্যাপক হারে পামচাষ করে দেশের ভোজ্য তেলের চাহিদার সিংহভাগ পূরণ করা সম্ভব। এতে ভোজ্য তেল আমদানির বিদেশিনির্ভরতা থাকবে না। পামচাষের মাধ্যমে ভোজ্য তেল উৎপাদন করে পশ্চাৎপদ পার্বত্যাঞ্চলের দরিদ্র জনগোষ্ঠীর অর্থনৈতিক উন্নতি শুধু নয়, গোটা দেশের অর্থনীতির চিত্র পাল্টে যেতে পারে।' তথ্যাবিজ্ঞমহলের অভিমত, ব্যক্তি উদ্যোগের পাশাপাশি সরকারি বন বিভাগের মাধ্যমেও পার্বত্য এলাকায় পরিবেশবান্ধব পামচাষ সম্প্রসারণ করা যেতে পারে। মালয়েশিয়ার ফেল্ডা প্লান্টেশনের পাম সেক্টরে দীর্ঘদিন ধরে কর্মরত রামগড়ের যুবক আহসান উল্লাহ মুঠো ফোনে বলেন, 'পামচাষের জন্য বাংলাদেশের তথা পার্বত্য চট্টগ্রামের মাটি ও আবহাওয়া মালয়েশিয়ার চেয়েও উন্নত। এ সুযোগ কাজে লাগানো গেলে পাম অয়েল উৎপাদনে মালয়েশিয়াকেও পেছনে ফেলে দিতে পারে বাংলাদেশ।' কৃষি বিশেষজ্ঞরা জানান, পাম গাছ রোপণের তিন-চার বছরের মধ্যে ফল দেওয়া শুরু করে। একটি গাছ টানা ৬০ থেকে ৭০ বছর পর্যন্ত ফল দেয়। এক কাঁদিতে ফল হয় ৪০ থেকে ৮০ কেজি। আর বছরে আট থেকে ১০ কাঁদি ফল ধরে। চার-পাঁচ বছর বয়সী একটি গাছের ফল থেকে বছরে ৪০ কেজি পাম তেল পাওয়া যায়। প্রতি হেক্টর জমিতে ১২০-১৫০ চারা রোপণ করা যায়। তথ্যানুসন্ধনে জানা যায়, ২০০৮ সালে সেনাবাহিনীর উদ্যোগে তিন পার্বত্য জেলায় পামচাষে উদ্বুদ্ধ করতে এখানকার বাসিন্দাদের বিনা মূল্যে কিছু কিছু পাম গাছের চারা দেওয়া হয়। পরে অনেকে সেনাবাহিনীর মাধ্যমে চারা সংগ্রহ করে বাগান করেন। সে সময় লাগানো পাম গাছে এখন ফল ধরতে শুরু করেছে। কিন্তু যথাযথ প্রশিক্ষণ ও প্রক্রিয়াজাত করার সুযোগ না পেয়ে চাষিরা এ বাগান নিয়ে দুশ্চিন্তায় পড়েছেন।
রামগড় উপজেলার পাতাছড়া ইউনিয়নের মাহবুবনগর এলাকায় তিন একর জায়গায় পাম বাগান করেছেন আবদুর রহিম সওদাগর। তাঁর এ বাগানে ৫৫০টি গাছ আছে। এ বছর অনেক গাছে প্রচুর ফলও ধরেছে। আবদুর রহিম বলেন, সেনাবাহিনীর উৎসাহ ও সহযোগিতায় ২০০৮ সালে তিনি পাহাড়ি টিলায় বাগানটি করেন। সরেজমিন পরিদর্শন করে দেখা গেছে, ছোট ছোট গাছে প্রচুর ফল ধরেছে। আবদুর রহিম বলেন, 'ফল তোলা এবং ফল থেকে তেল সংগ্রহের কোনো পদ্ধতি জানা না থাকায় এগুলো নিয়ে চিন্তায় আছি।' মাটিরাঙ্গা উপজেলার হাতিয়াপাড়া এলাকায় আলী আকবর নামে এক ব্যবসায়ীর ১৫ একর বাগানে প্রায় তিন হাজার পাম গাছ রয়েছে। তাঁর বাগানে প্রায় দুই হাজার গাছে এ বছর ফুল ও ফল ধরেছে। বাণিজ্যিক পরিকল্পনায় তিনি তাঁর এ বাগানটি গড়ে তুলেছেন। আকবর বলেন, সরকারিভাবে মালয়েশিয়া থেকে পাম বীজ আমদানি না করায় টাঙ্গাইলের ঘাটাইলে ব্যক্তি উদ্যোগে গড়ে ওঠা একটি নার্সারি থেকে চারা সংগ্রহ করেন। তিনি বলেন, পাহাড়ের মাটিতে পাম গাছের চারা খুব দ্রুত বেড়ে যায়। ছোট চারা গাছেও প্রচুর ফল আসছে। এখন গাছে ফল আসতে শুরু করেছে। কিন্তু এ ফল তাঁরা কোথায় বাজারজাত করবেন, কিভাবে তেল শোধন করবেন, এ বিষয়ে কিছুই জানেন না। তা ছাড়া গাছের পরিচর্যা সম্পর্কেও যথেষ্ট ধারণা নেই তাঁদের। কৃষি বিভাগ বা উদ্যান বিভাগের মাধ্যমে পামচাষ বিষয়ে চাষি প্রশিক্ষণ এবং সঠিক জাতের চারা সরবরাহের দাবি করেন বাগানের মালিকরা। এদিকে পামচাষে পার্বত্য এলাকার মানুষের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ সৃষ্টি হওয়ায় খাগড়াছড়ি ও বান্দরবানে পাম অয়েল চাষ উন্নয়ন সমবায় সমিতি নামে সংগঠনও গড়ে উঠেছে। খাগড়াছড়ি পাম অয়েল চাষ সমবায় সমিতির সভাপতি আবদুল জলিল বলেন, পাহাড়ে পাম অয়েল উৎপাদনের সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে তাঁরা পামচাষে মানুষকে উদ্বুদ্ধ করছেন। সমিতির মাধ্যমে টাঙ্গাইলের ঘাটাইল থেকে চারা গাছ এনে এখানে বিক্রি হচ্ছে। প্রতিটি চারা ৬০ থেকে ১৫০ টাকা দরে বিক্রি হয়। এখানে পাম গাছচাষে বেশ সাড়া পড়েছে।
« পূর্ববর্তী সংবাদ
আজকের পাঠকসংখ্যা
৫৭২৮৪২
পুরোনো সংখ্যা
সম্পাদক : ইমদাদুল হক মিলন, উপদেষ্টা সম্পাদক : অমিত হাবিব, ইস্ট ওয়েস্ট মিডিয়া গ্রুপ লিমিটেডের পক্ষে ময়নাল হোসেন চৌধুরী কর্তৃক প্লট-৩৭১/এ, ব্লক-ডি, বসুন্ধরা, বারিধারা থেকে প্রকাশিত এবং প্লট-সি/৫২, ব্লক-কে, বসুন্ধরা, খিলক্ষেত, বাড্ডা, ঢাকা-১২২৯ থেকে মুদ্রিত।
বার্তা ও সম্পাদকীয় বিভাগ : বসুন্ধরা আবাসিক এলাকা, প্লট-৩৭১/এ, ব্লক-ডি, বারিধারা, ঢাকা-১২২৯। পিএবিএক্স : ০২৮৪০২৩৭২-৭৫, ফ্যাক্স : ৮৪০২৩৬৮-৯, বিজ্ঞাপন ফোন : ৮১৫৮০১২, ৮৪০২০৪৮, বিজ্ঞাপন ফ্যাক্স : ৮১৫৮৮৬২, ৮৪০২০৪৭। E-mail : info@kalerkantho.com
free counters
Latest News Portal Food Recipe in Bangladesh jobs in Bangladesh