logo
আপডেট : ১০ ফেব্রুয়ারি, ২০১৮ ০০:৫৪
বসতবাড়ি থেকে মুক্তিযোদ্ধা অফিসও ভাড়া এনজিওতে

বসতবাড়ি থেকে মুক্তিযোদ্ধা অফিসও ভাড়া এনজিওতে

কক্সবাজার- টেকনাথ মহাসড়কের রুমখা পালং এলাকার মুফিজুর মেম্বারের চালকের এই গুদামটির মাসিক ভাড়া ৬০ হাজার টাকা। ছবি : কালের কণ্ঠ

কক্সবাজারের উখিয়ার হলদিয়া পালং ইউনিয়নের মুফিজুর রহমান মেম্বারের সংসার খরচ চালানোর জন্য নগদ আয়ের একটি উৎস প্রয়োজন ছিল। কক্সবাজার-টেকনাফ মহাসড়কের পাশে রুমখাঁ পালং এলাকায় গত বর্ষায় চার শতকের মতো ধানি জমি ভরাট করে নির্মাণ করলেন সেমি পাকা একটি গুদাম। ভেবেচিন্তে গুদামে বসানোর জন্য একটি ধান-চালের মেশিনও নিয়ে এলেন। গত জুন-জুলাই মাসের কথা এসব।

ইত্যবসরে ২৫ আগস্ট মিয়ানমারে সেনাবাহিনীর বর্বর নির্যাতনের মুখে উখিয়া-টেকনাফে রোহিঙ্গার ঢল নামে। আশ্রিত এসব রোহিঙ্গা নারী-পুরুষ ও শিশুর মানবিক সাহায্যে ছুটে আসে দেশি-বিদেশি নানা বেসরকারি সংস্থা (এনজিও)। কারও অফিস দরকার, কারও বাসা, কারো বা গুদাম। মুফিজুর রহমান মেম্বারের সেই ছোট্ট গুদামটি মাসিক ৬০ হাজার টাকায় ভাড়া নেয় ‘ড্যানিশ রিফিউজি কাউন্সিল’ (ডিআরসি) নামের একটি এনজিও।

‘পালং গার্ডেন’ নামের একটি অত্যাধুনিক কমিউনিটি সেন্টারের অবস্থান হচ্ছে উখিয়ার রত্না পালং গ্রামে। বিভিন্ন অনুষ্ঠানের সুবাদে সদা ব্যস্ত থাকা কমিউনিটি সেন্টারটিতে চার মাস ধরে কোনো অনুষ্ঠান নেই। বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচি (ডাব্লিউএফপি), বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট ও মুক্তি নামের একটি বেসরকারি সংস্থা প্রতি মাসে তিন লাখ টাকার বিনিময়ে এটি ভাড়া নিয়েছে।

সরেজমিনে দেখা গেছে, কমিউনিটি সেন্টারটির পাশেই দুবাইপ্রবাসী নুরুল আলমের দোতলা বাড়ি। সুপারি বাগানের মাঝখানে অবস্থিত বাড়িটিও মাসিক দুই লাখ টাকায় ভাড়া নিয়েছে একটি এনজিও। এলাকার সাবেক ইউপি মেম্বার আকতার কামাল জানান, ঘরটি ভাড়া দিয়ে প্রবাসী নুরুল আলমের পরিবার বর্তমানে চট্টগ্রাম শহরে বসবাস করছেন। একই এলাকায় কক্সবাজার-টেকনাফ মহাসড়কের পাশে প্রয়াত ডা. নুরুল আলম চৌধুরীর পাকা ঘরটিও মাসিক এক লাখ টাকায় ভাড়া নিয়েছে একটি এনজিও।

উখিয়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি আদিল উদ্দিন চৌধুরী এসব বিষয়ে কালের কণ্ঠকে বলেন, সড়কের পাশের বাসা-বাড়িগুলোর চাহিদা রয়েছে বেশ। এ কারণে সড়কের পাশের জমি ভরাট করে এখন স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে নতুন করে ঘর তৈরির ধুম পড়েছে। তারা এসব ঘর-দুয়ার ভাড়া দিয়ে কক্সবাজার ও চট্টগ্রামে গিয়ে বসবাস করছে। এনজিও ছাড়াও অনেক অবস্থাসম্পন্ন রোহিঙ্গা পরিবারও গোপনে শিবিরের বাইরে ঘর ভাড়া নিয়ে অবস্থান করছে।

কক্সবাজার জেলা শহরেও এনজিওগুলোর জন্য বাসা-বাড়ির চাহিদা বেড়ে গেছে অস্বাভাবিকভাবে। কক্সবাজার জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের অফিস ভবনটি পর্যন্ত এক লাখ ২০ হাজার টাকায় আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থাকে (আইওএম) ভাড়া দেওয়া হয়েছে।

কুতুপালং উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আবদুল মান্নান বলেন, রোহিঙ্গা শিবিরসংলগ্ন এলাকায় প্রতি ইঞ্চি জমির দামও এখন অনেক। রোহিঙ্গারা অবস্থান করছে বেশির ভাগই সরকারি জায়গায়। সেই সরকারি জায়গায় দখলদাররা বস্তি বানিয়ে কাছ থেকে ভাড়া আদায় করছে।’

ঘর ভাড়ায় এগিয়ে রয়েছেন কুতুপালং বাজার এলাকার আলোচিত ব্যক্তি মৌলভী বখতেয়ার মেম্বার। তিনি বাজারটির বেশির ভাগ দোকানপাটসহ অনেক ঘরের মালিক।

উখিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. নিকারুজ্জামান বলেন, ‘ব্যাপক সংখ্যায় রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশের সঙ্গে সঙ্গে অনেক এনজিও একসঙ্গে কাজ করতে আসায় এলাকায় বাসা-বাড়ির চাহিদা ব্যাপকভাবে বেড়ে গেছে। এমন সুযোগে ভাড়াও বেড়েছে বাসা-বাড়ির। এমনকি ইনানী সৈকত এলাকায় এক বিদেশি এনজিওকে মাসিক তিন লাখ টাকা ভাড়ায় একটি কটেজ ভাড়া দেওয়া হয়েছে।’

কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক মো. আলী হোসেন বলেন, ‘কক্সবাজারে রোহিঙ্গার ঢলে ব্যস্ত দেশি-বিদেশি এনজিওগুলোতে কাজ করছে কয়েক হাজার মানুষ। রোহিঙ্গা শিবিরভিত্তিক কর্মরত রয়েছে ৯৩টি এনজিও। এসব এনজিওতে বিদেশি নাগরিকই রয়েছেন সহস্রাধিক। টেকনাফ-উখিয়া থেকে শুরু করে কক্সবাজার জেলা শহরের বিভিন্ন এলাকায়ও এনজিওগুলো অফিস এবং বাসা ভাড়া নিয়েছে। তবে বিদেশি নাগরিকদের নিরাপত্তার ব্যাপারে প্রশাসনের আলাদা দৃষ্টি রয়েছে।’

সম্পাদক : ইমদাদুল হক মিলন,
নির্বাহী সম্পাদক : মোস্তফা কামাল,
ইস্ট ওয়েস্ট মিডিয়া গ্রুপ লিমিটেডের পক্ষে ময়নাল হোসেন চৌধুরী কর্তৃক প্লট-৩৭১/এ, ব্লক-ডি, বসুন্ধরা, বারিধারা থেকে প্রকাশিত এবং প্লট-সি/৫২, ব্লক-কে, বসুন্ধরা, খিলক্ষেত, বাড্ডা, ঢাকা-১২২৯ থেকে মুদ্রিত।
বার্তা ও সম্পাদকীয় বিভাগ : বসুন্ধরা আবাসিক এলাকা, প্লট-৩৭১/এ, ব্লক-ডি, বারিধারা, ঢাকা-১২২৯। পিএবিএক্স : ০২৮৪০২৩৭২-৭৫, ফ্যাক্স : ৮৪০২৩৬৮-৯, বিজ্ঞাপন ফোন : ৮১৫৮০১২, ৮৪০২০৪৮, বিজ্ঞাপন ফ্যাক্স : ৮১৫৮৮৬২, ৮৪০২০৪৭। E-mail : info@kalerkantho.com