logo
আপডেট : ১০ ফেব্রুয়ারি, ২০১৮ ০০:১২
কুয়াকাটায় আন্তর্জাতিক সম্মেলন
ফারাক্কার ক্ষতিকর দিক আন্তর্জাতিক অঙ্গনে তুলে ধরার তাগিদ

 ফারাক্কার ক্ষতিকর দিক আন্তর্জাতিক অঙ্গনে তুলে ধরার তাগিদ

ভারতের সঙ্গে আন্তদেশীয় ৫৪টি নদীর পানির ন্যায্য হিস্যা নিশ্চিত করতে রাজনৈতিকভাবে সমস্যাটি সমাধান করার তাগিদ এসেছে একটি আন্তর্জাতিক সম্মেলন থেকে। এ বিষয়ে একমত হয়েছেন সম্মেলনে যোগ দেওয়া বাংলাদেশ, চীন, ভারত ও নেপালের পানি বিশেষজ্ঞরা। তাঁরা বলেছেন, ভারতে গঙ্গা নদীতে নির্মিত ফারাক্কা বাঁধের কারণে বাংলাদেশের নদ-নদীর যে অপূরণীয় ক্ষতি হচ্ছে, সেটি প্রতিনিয়ত আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে তুলে ধরতে হবে। একই সঙ্গে ভারতের সঙ্গেও আলোচনা জোরদার করতে হবে।

গতকাল শুক্রবার পর্যটন শহর পটুয়াখালীর কুয়াকাটায় ‘পানি ও জন-উদ্ভাবন’ শিরোনামের আন্তর্জাতিক সম্মেলনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে এমন অভিমত উঠে আসে। পানির ন্যায্যতা প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে দুই দিনব্যাপী এই সম্মেলন আয়োজন করেছে আন্তর্জাতিক সংস্থা অ্যাকশন এইড। আজ সম্মেলনের শেষ দিন।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ এ এস এম ফিরোজ নিজেও স্বীকার করে বলেন, ‘আমাদের দেশে নদী মরে যাওয়ার প্রধান কারণ ফারাক্কা বাঁধ। দেশে মিঠা পানি কমে গেছে ফারাক্কা বাঁধের কারণে। লবণাক্ততা বেড়ে গেছে।’

চিফ হুইপ আরো বলেন, ‘যারা আমাদের পানি আটকে রেখেছে, তাদের সঙ্গে যদি আমাদের সমঝোতা না হয়, তারা যদি আমাদের সহযোগিতা না করে, তাহলে এই সমস্যা সমাধান সহজে হবে না।’

সম্মেলনের প্রথম দিন ভারত, চীন, নেপাল থেকে আসা পানি বিশেষজ্ঞরা বলেছেন, কোনো কাজই একা কারো পক্ষে বাস্তবায়ন করা সম্ভব নয়। যদি সেটা হয় আন্তর্জাতিক, তাহলে সেটা তো আরো জটিল বিষয়। অবশ্য সবার সহযোগিতার মাধ্যমে যেকোনো সমস্যার সমাধান সম্ভব।

সম্মেলনে আরো উঠে আসে বুড়িগঙ্গা নদীর দূষণসহ বিভিন্ন নদীর মরে যাওয়ার বিষয়টি। বক্তারা বলেছেন, ফারাক্কা বাঁধের পাশাপাশি বাংলাদেশে অপরিকল্পিত উন্নয়নের কারণে নদীগুলোকে গলা টিপে মেরে ফেলা হচ্ছে। নদী মরে যাওয়ার কারণে নদীকেন্দ্রিক মানুষের সামাজিক, অর্থনৈতিক, সাংস্কৃতিক অঙ্গনে পরিবর্তন আসছে।

তাঁরা আরো বলেছেন, বাংলাদেশ, নেপাল ও ভারতের নদীগুলোকে কেন্দ্র করে বহু দ্বিপক্ষীয় ও বহুপক্ষীয় চুক্তি করা হয়। কিন্তু এসব চুক্তিতে কখনোই নদীর ওপর সাধারণ মানুষের অধিকারের আলোচনাকে স্থান দেওয়া হয়নি।

জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ ছাড়াও অন্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন ভারতের গঙ্গা ভাঙন প্রতিরোধ সমিতির সাধারণ সম্পাদক তরিকুল ইসলাম, নেপালের মহিলা অধিকার মঞ্চের উপদেষ্টা সাবিত্রী পোখারেল, চীনের তিয়ানজিন ফিন্যান্স ও অর্থনীতি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ঝ্যাং লিয়ান ও অ্যাকশন এইড বাংলাদেশের কান্ট্রি ডিরেক্টর ফারাহ কবির।

ভারতের গঙ্গা ভাঙন প্রতিরোধ সমিতির সাধারণ সম্পাদক তরিকুল ইসলাম বলেন, ‘ফারাক্কার কারণে আমাদের ওখানে গঙ্গার আশপাশের মানুষের অবস্থা এখন অত্যন্ত নাজুক। প্রতিনিয়ত মানুষ জীবিকা হারাচ্ছে। আমরা ফারাক্কায় বাঁধ চাইনি, সেতু চেয়েছি। কিন্তু সেতুর পরিবর্তে ফারাক্কা বাঁধ করায় তা আমাদের জন্য বিষফোঁড়া হয়ে দাঁড়িয়েছে।’

আলোচনায় অংশ নিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের অধ্যাপক ড. ইমতিয়াজ আহমেদ বলেন, ‘ফারাক্কা বাঁধ শুধু বাংলাদেশের জন্যই সমস্যা না। ভারতে যারা ওই বাঁধের আশপাশে বসবাস করে তাদের জন্যও সমস্যা।’

নেপালের মহিলা অধিকার মঞ্চের উপদেষ্টা সাবিত্রী পোখারেল একটি উদ্ভাবন তুলে ধরেন। যেখানে তিনি উল্লেখ করেন, শীত মৌসুমে পানির প্রবাহ কমে যায় নেপালে। নেপালের মোট জনসংখ্যার ৩০ শতাংশের বসবাস পাহাড়ে। পাহাড়ি এলাকার মানুষ পাইপের সাহায্যে পানি সরবরাহ করে থাকে। একই সঙ্গে বর্ষার সময় বৃষ্টির পানি সংরক্ষণ করে তা ব্যবহার করে। অন্যদিকে, তরাই এলাকার মানুষ প্রচলিত পদ্ধতির সাহায্যে ভূগর্ভস্থ পানি ব্যবহার করে আসছে। তারা একটি স্বতন্ত্র সেচ ব্যবস্থা উদ্ভাবন করেছে, যাতে পুকুর থেকে জমিতে পানি নিতে কোনো মানুষের প্রয়োজন হয় না।

চীনের তিয়ানজিন ফিন্যান্স ও অর্থনীতি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ঝ্যাং লিয়ান বলেন, বাংলাদেশ মধ্যম আয়ের দেশে উন্নীত হওয়ার স্বপ্ন দেখছে। এর জন্য উন্নয়ন দরকার আছে। শিল্পায়নের প্রয়োজনীয়তা আছে। তবে সেটা যেন হয় নদীকে রক্ষা করে। গ্রামগঞ্জে যদি শিল্পায়ন শুরু হয়, তাহলে নদী দূষণের মাত্রা বেড়ে যাবে। তখন অল্প মুনাফার জন্য দীর্ঘমেয়াদি ক্ষতি হবে।

বাংলাদেশের মো. আসাদুজ্জামান যশোরের ভাসমান সেতুর উদ্ভাবন নিয়ে কথা বলেন। যেখানে তিনি ড্রামসহ বিভিন্ন উপকরণ দিয়ে কম খরচে পরিবেশবান্ধব ঝুলন্ত সেতু বানানোর উদাহরণ দেন।

অ্যাকশন এইড বাংলাদেশের কান্ট্রি ডিরেক্টর ফারাহ্ কবির বলেন, ‘আঞ্চলিকভাবে নানা উদ্যোগের মাধ্যমে আমরা নদীর অধিকার কেড়ে নিচ্ছি। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে আমাদের দেশের অপরিকল্পিত উন্নয়ন ও নগরায়ণ। নদীকে বাঁচাতে তাই আমাদের উদ্ভাবনকে জোর দিতে হবে।’

গতকালের সম্মেলনে বেশ কয়েকটি সুপারিশ তুলে ধরা হয়। তাতে বলা হয়, বাংলাদেশকে বেশি করে বৃষ্টির পানি সংরক্ষণ শুরু করতে হবে। পানির অপচয় বন্ধ করতে হবে। নদীর দূষণ ও দখল বন্ধ করতে হবে। একই সঙ্গে নদীতে মিঠা পানির সরবরাহ বাড়াতে হবে।

সম্পাদক : ইমদাদুল হক মিলন,
নির্বাহী সম্পাদক : মোস্তফা কামাল,
ইস্ট ওয়েস্ট মিডিয়া গ্রুপ লিমিটেডের পক্ষে ময়নাল হোসেন চৌধুরী কর্তৃক প্লট-৩৭১/এ, ব্লক-ডি, বসুন্ধরা, বারিধারা থেকে প্রকাশিত এবং প্লট-সি/৫২, ব্লক-কে, বসুন্ধরা, খিলক্ষেত, বাড্ডা, ঢাকা-১২২৯ থেকে মুদ্রিত।
বার্তা ও সম্পাদকীয় বিভাগ : বসুন্ধরা আবাসিক এলাকা, প্লট-৩৭১/এ, ব্লক-ডি, বারিধারা, ঢাকা-১২২৯। পিএবিএক্স : ০২৮৪০২৩৭২-৭৫, ফ্যাক্স : ৮৪০২৩৬৮-৯, বিজ্ঞাপন ফোন : ৮১৫৮০১২, ৮৪০২০৪৮, বিজ্ঞাপন ফ্যাক্স : ৮১৫৮৮৬২, ৮৪০২০৪৭। E-mail : info@kalerkantho.com