logo
আপডেট : ১০ ফেব্রুয়ারি, ২০১৮ ০০:০৪
এখনই কৌশল বদলাচ্ছে না আওয়ামী লীগ
বিএনপিকে আরো পর্যবেক্ষণে রাখার চিন্তা

এখনই কৌশল বদলাচ্ছে না আওয়ামী লীগ

দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচন ঘিরে লাগাতার আন্দোলনকালে ব্যাপক জ্বালাও-পোড়াও আর বিপুল প্রাণহানির কারণে বিএনপিকে ঘরে-বাইরে কঠোর সমালোচনার মুখে দাঁড় করায় ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগ। এ নিয়ে আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে ‘আগুন সন্ত্রাসের নেত্রী’ তকমাও দেওয়া হয়েছে। কিন্তু কারাগারে যাওয়ার আগে সেই নেত্রী তাঁর নেতাকর্মীদের ধৈর্য ধরতে এবং শান্তিপূর্ণভাবে কর্মসূচি পালন করতে নির্দেশ দিয়েছেন, যা অনেকটাই পালন করেছে বিএনপির নেতাকর্মীরা। এতে কিছুটা বিস্মিত আওয়ামী লীগের নেতারা। তবে রাতারাতি বিএনপি চরিত্র বদলে ফেলবে তা মনে করেন না তাঁরা। এ জন্য আরো কিছু সময় দলটির নেতাকর্মীদের আচরণ পর্যবেক্ষণ করতে চান আওয়ামী লীগের নেতারা। এরপর তাঁরা নতুন কৌশল প্রণয়ন বা পুরনো কৌশলেই এগিয়ে যেতে চান। আওয়ামী লীগের কয়েকজন নেতার সঙ্গে কথা বলে এমন আভাস মিলেছে।

আওয়ামী লীগের ওই নেতাদের ধারণা, যতই অহিংস কর্মসূচির কথা বলা হোক, বিএনপি সে অবস্থানে থাকতে পারবে না। কারণ তাদের পেছনে আছে জামায়াত। স্বাধীনতাবিরোধী এই দলটি বিএনপির চালিকাশক্তি হিসেবে কাজ করে এসেছে। তাই বিএনপি ঘোষণা দিলেও সে প্রতিশ্রুতি রাখতে পারবে বলে তাঁরা মনে করেন না। আওয়ামী লীগের নেতারা বলেন, দু-একটা ঘটনা দিয়ে বিএনপির আন্দোলনের ধরন পরিবর্তন হয়ে গেছে বলে মনে করা ঠিক হবে না। নির্বাচনের এখনো প্রায় ১০ মাস বাকি। তার আগে বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে মুক্ত করে আনতে হবে। সে জন্য ধারাবাহিক আন্দোলনের প্রয়োজন হতে পারে। কারণ জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলা ছাড়া আরো কয়েকটি মামলা এখনো বিচারাধীন। সেসব মামলার রায়ও নির্বাচনের আগে হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তাই আওয়ামী লীগ হুট করে প্রচারের ধরন বা কৌশল পরিবর্তন করে ফেলবে, তা নয়। তবে বিষয়টি ভাবনার মধ্যে থাকবে, যাতে যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবেলা করা যায়।

এ বিষয়ে আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য কাজী জাফরউল্যাহ গতকাল শুক্রবার কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘একটা দুইটা ঘটনা দেখে তাদের আসল রূপ পরিবর্তন হয়েছে বলা যাবে না। আগামী দিনে কী পদক্ষেপ নেয় সেটা দেখার বিষয়। সেই রকম সময় এলে চিন্তা-ভাবনা করা যাবে। তবে অস্তিত্বের প্রয়োজনে বিএনপির কিছুটা জ্ঞান হয়েছে। নির্বাচন না করে যে ভুল হয়েছে সেটা তারা বুঝতে পেরেছে।’

আওয়ামী লীগের প্রচার সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘খালেদা জিয়া শান্তিপূর্ণ কর্মসূচির কথা বললেও তাদের অভ্যন্তরীণ নির্দেশনা কী সেটা স্পষ্ট নয়। আর কৌশল পরিবর্তন করলেও তো গত কয়েক বছর যেভাবে মানুষ হত্যা করেছে তা মুছে যাবে না। এই ধ্বংসযজ্ঞের কথা মানুষের বারবার মনে পড়বে। যারা ভুক্তভোগী তারা তো কখনই ভুলতে পারবে না। কাজেই প্রচার-প্রচারণাটা থাকবে।’  

৫ জানুয়ারির নির্বাচনের বছর পূর্তিতে চালানো বিএনপির টানা তিন মাসের অবরোধ চলাকালে ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ, অগ্নিসংযোগ ও প্রাণহানির ঘটনা পুঁজি করে আওয়ামী লীগ দলটির বিরুদ্ধে দেশ-বিদেশে ব্যাপক প্রচার চালিয়ে আসছে। এ নিয়ে আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে একাধিক প্রামাণ্যচিত্র ও গ্রন্থ তৈরি করা হয়েছে। বাংলাদেশে অবস্থিত বিদেশি দূতাবাস এবং হাইকমিশনগুলোতে পাঠানো হয়েছে সেগুলো। সর্বশেষ নির্বাচনের চার বছর পূর্তি উপলক্ষে রাজধানীর শিল্পকলা একাডেমিতে ডকুমেন্টারি ও আলোকচিত্র প্রদর্শনীর আয়োজন করে আওয়ামী লীগ। সেখানে অনুষ্ঠিত আলোচনাসভায় ঘটনার শিকার ব্যক্তি ও তাদের পরিবারের সদস্যদের আনা হয়। তারা বীভৎস ঘটনার বর্ণনা দেয় দর্শকদের সামনে। এভাবে তিন বছর পর পুরনো ঘটনা মানুষকে মনে করিয়ে দেওয়ার কাজটি করে আওয়ামী লীগ। এ ধরনের কার্যক্রম নির্বাচনের আগ পর্যন্ত অব্যাহত থাকবে বলে জানা গেছে।

সম্পাদক : ইমদাদুল হক মিলন,
নির্বাহী সম্পাদক : মোস্তফা কামাল,
ইস্ট ওয়েস্ট মিডিয়া গ্রুপ লিমিটেডের পক্ষে ময়নাল হোসেন চৌধুরী কর্তৃক প্লট-৩৭১/এ, ব্লক-ডি, বসুন্ধরা, বারিধারা থেকে প্রকাশিত এবং প্লট-সি/৫২, ব্লক-কে, বসুন্ধরা, খিলক্ষেত, বাড্ডা, ঢাকা-১২২৯ থেকে মুদ্রিত।
বার্তা ও সম্পাদকীয় বিভাগ : বসুন্ধরা আবাসিক এলাকা, প্লট-৩৭১/এ, ব্লক-ডি, বারিধারা, ঢাকা-১২২৯। পিএবিএক্স : ০২৮৪০২৩৭২-৭৫, ফ্যাক্স : ৮৪০২৩৬৮-৯, বিজ্ঞাপন ফোন : ৮১৫৮০১২, ৮৪০২০৪৮, বিজ্ঞাপন ফ্যাক্স : ৮১৫৮৮৬২, ৮৪০২০৪৭। E-mail : info@kalerkantho.com