logo
আপডেট : ১০ ফেব্রুয়ারি, ২০১৮ ০০:০৩
আমরা তাঁর মূল্যায়ন করতে পারিনি

আমরা তাঁর মূল্যায়ন করতে পারিনি

হুমায়ুন ফরীদি

এবার একুশে পদকের জন্য মনোনীত হয়েছেন ২১ জন। তালিকায় রয়েছেন সংগীতের পাঁচজন—শেখ সাদী খান, সুজেয় শ্যাম, মো. খুরশীদ আলম, ইন্দ্রমোহন রাজবংশী ও মতিউল হক খান। অভিনয়ে প্রয়াত হুমায়ুন ফরীদি, নৃত্যে মীনু হক, নাটকে নিখিল সেন এবং সমাজসেবায় ইলিয়াস কাঞ্চন। বেশ কিছু দিন ধরে ফরীদিভক্তরা দাবি করে আসছিলেন প্রিয় অভিনেতাকে পুরস্কৃত করা হোক। মরণোত্তর পুরস্কার পাওয়ার ঘোষণায় আনন্দিত ফরীদির বন্ধু ও সহকর্মী আফজাল হোসেন। বন্ধুর জন্য কলম ধরেছেন এই অভিনেতা→

 

ফরীদির সঙ্গে দীর্ঘদিনের সম্পর্ক। অবশ্য সে এতদিন পুরস্কার পায়নি বলে আমার তেমন ক্ষোভ ছিল না। আবার এখন তাঁকে মরনোত্তর পুরস্কার দিয়ে খুব যে লাভ হয়েছে সেটাও মনে হচ্ছে না। একজন মৃত মানুষ পুরস্কার নিয়ে কী করবেন! ফরীদি যে মাপের অভিনেতা ছিলেন, জীবদ্দশায় আমরা তার মূল্যায়ণ করতে পারিনি। আশি ও নব্বইয়ের দশকে সে যে অভিনয় করেছে, মঞ্চ ও টেলিভিশনের পর্দা কাঁপিয়েছে সেটা আর পরে করতে পারেনি। কেউ কাজেই লাগাতে পারলেন না দামি এই শিল্পীকে। শুধু ফরীদি নয়, নায়ক রাজ্জাকের কথাও বলব। যার হাত ধরে পাকিস্তান আর ভারতের মাঝখানে মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়েছিল বাংলাদেশের চলচ্চিত্র। শেষ ১২টি বছর রাজ্জাককে নিয়ে বলার মতো কোনো চলচ্চিত্র হয়েছে কি! বলিউডে দেখেন, অমিতাভ বচ্চনকে ঘিরে কত কত গল্প তৈরি হচ্ছে। কলকাতায় সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়কে নিয়েও গল্প তৈরি হচ্ছে। কিন্তু আমাদের দেশে? একজন শিল্পীর বয়স যত বাড়ে তাঁর অভিজ্ঞতাও তত বাড়ে। আমাদের এখানে বয়স বাড়লেই তাঁকে সরিয়ে রাখা হয় তালিকা থেকে। মৃত্যুর আগে কতদিন যে ঘর থেকে বের হয়নি ফরীদি, সেই খবর কেউ রেখেছেন? নির্মাতা-প্রযোজকদের বিষয়টি বোঝা উচিত। আমার মনে হয়, ফরীদি যদি কাজের মধ্যে থাকত তাহলে আরও কিছুদিন বেশি বাঁচত। তাঁর মৃত্যুর কারণ আমরাই, আমরাই তাঁকে একাকিত্বে ডুবিয়ে রেখেছিলাম। লজ্জাপ্রকাশ করছি আমাদের এই ব্যর্থতায়।

আমার মতে পুরস্কার একজন শিল্পীর জন্য বড় কিছু নয়। এরচেয়ে বড় দরকারি তাঁকে কাজের সুযোগ করে দেওয়া। শেষ দিন পর্যন্ত যেন কাজ করে যেতে পারে, মানুষের ভালোবাসা পেতে পারে—সেদিকে খেয়াল রাখা।

সম্পাদক : ইমদাদুল হক মিলন,
নির্বাহী সম্পাদক : মোস্তফা কামাল,
ইস্ট ওয়েস্ট মিডিয়া গ্রুপ লিমিটেডের পক্ষে ময়নাল হোসেন চৌধুরী কর্তৃক প্লট-৩৭১/এ, ব্লক-ডি, বসুন্ধরা, বারিধারা থেকে প্রকাশিত এবং প্লট-সি/৫২, ব্লক-কে, বসুন্ধরা, খিলক্ষেত, বাড্ডা, ঢাকা-১২২৯ থেকে মুদ্রিত।
বার্তা ও সম্পাদকীয় বিভাগ : বসুন্ধরা আবাসিক এলাকা, প্লট-৩৭১/এ, ব্লক-ডি, বারিধারা, ঢাকা-১২২৯। পিএবিএক্স : ০২৮৪০২৩৭২-৭৫, ফ্যাক্স : ৮৪০২৩৬৮-৯, বিজ্ঞাপন ফোন : ৮১৫৮০১২, ৮৪০২০৪৮, বিজ্ঞাপন ফ্যাক্স : ৮১৫৮৮৬২, ৮৪০২০৪৭। E-mail : info@kalerkantho.com