logo
আপডেট : ৯ ফেব্রুয়ারি, ২০১৮ ২৩:৫২
রায় নিয়ে সংঘাত-সংঘর্ষ
ধৈর্য ও সহনশীলতার পরিচয় দিন

রায় নিয়ে সংঘাত-সংঘর্ষ

জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতির মামলায় বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার কারাদণ্ডাদেশের প্রতিবাদে গত বৃহস্পতিবার রাজধানীসহ ১৩টি জেলায় বিচ্ছিন্ন সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এসব ঘটনায় পুলিশসহ শতাধিক ব্যক্তি আহত হয়েছে বলে জানা গেছে। কোথাও বিএনপিকর্মীদের সংঘর্ষ হয়েছে পুলিশের সঙ্গে, কোথাও আওয়ামী লীগ ও এর সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদের সঙ্গে, কোথাও বা ত্রিমুখী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। সাতক্ষীরায় রাস্তার পাশে দাঁড়িয়ে থাকা একটি এসি বাসে, শেরপুরে একটি ট্রাকে, ঢাকায় দুটি মোটরসাইকেলে এবং ময়মনসিংহে ট্রেনের একটি কামরায় আগুন দেওয়া হয়েছে। বিভিন্ন স্থানে শতাধিক যানবাহনে ভাঙচুর করা হয়েছে। এসব ঘটনায় সাড়ে তিন শতাধিক ব্যক্তিকে আটক করা হয়েছে। অন্যদিকে রায় ঘোষণার আগেই যুক্তরাজ্য বিএনপির নেতাকর্মীরা গত বুধবার লন্ডনে বাংলাদেশ হাইকমিশনে হামলা ও ভাঙচুর চালায়। লন্ডন পুলিশ সেখানেও একজনকে গ্রেপ্তার করেছে। বিএনপি এই রায়কে ‘রাজনৈতিক প্রতিহিংসামূলক’ আখ্যায়িত করে শুক্রবার ও শনিবার সারা দেশে বিক্ষোভ প্রদর্শনের ঘোষণা দিয়েছে। একই সঙ্গে রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করারও প্রস্তুতি নিচ্ছে। এমন পরিস্থিতিতে রাজধানীসহ কিছু বড় শহরে গণপরিবহনের চলাচল প্রায় বন্ধ হয়ে গিয়েছিল। এতে জনসাধারণকে ব্যাপক দুর্ভোগ পোহাতে হয়েছে।

রায় নিয়ে অশান্ত পরিবেশ তৈরি হতে পারে—এমন উদ্বেগ আগে থেকেই জনমনে ছিল। আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীগুলোও প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নিয়ে রেখেছিল। ফলে কোথাও পরিস্থিতি খুব একটা খারাপের দিকে যেতে পারেনি। কিন্তু এমনটি কেন হবে? দুর্নীতি দমন কমিশন এই মামলা রুজু করেছিল ২০০৮ সালে তৎকালীন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে। ১০ বছর ধরে চলা এই মামলায় বিবাদীপক্ষকে আইনের সর্বোচ্চ সুযোগ দেওয়া হয়েছে। তার পরও রায় মনঃপূত না হলে হাইকোর্ট ও সুপ্রিম কোর্টে আপিল করার সুযোগ রয়েছে। সেই রায়ও মনঃপূত না হলে রিভিউ আবেদন কিংবা রাষ্ট্রপতির কাছে ক্ষমা প্রার্থনার সুযোগ রয়েছে। কিন্তু একদিকে আইনি লড়াই করা, অন্যদিকে রাস্তায় শক্তি প্রদর্শন ও ক্ষয়ক্ষতি করা কোনোভাবেই কাম্য নয়। আমরা আশা করি, বিএনপি নেতারা বিষয়টি বুঝতে পারবেন। একইভাবে বিএনপির নেতাকর্মীদের প্রতিরোধে সরকারি দলের নেতাকর্মীরা যেভাবে রাস্তায় নেমে সংঘাতে জড়িয়েছে, তা-ও কোনোভাবেই কাম্য ছিল না। বিএনপির নেতাকর্মীরা যদি রাস্তায় বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে, জনগণের জানমালের ক্ষতিসাধন করে, তা রোধ করার দায়িত্ব পুলিশের—কোনোক্রমেই আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের নয়। সরকারি দলের নেতাকর্মীদেরও বিষয়টি মাথায় রাখতে হবে। এমনটি করলে বিশৃঙ্খলা, সংঘাত ও উত্তেজনা বাড়া ছাড়া কমে না। আমরা উভয় দলের নেতাদের কাছেই আরো সংযম ও সহনশীলতা আশা করি।

আইন ও বিচার ব্যবস্থাকে তার নিজস্ব গতিতেই চলতে দেওয়া উচিত। মনে রাখতে হবে, আইনের শাসন ছাড়া গণতন্ত্র হয় না, দেশও এগোয় না। আইনের দৃষ্টিতে সবাই সমান—শুধু কথায় নয়, বাস্তবেও এই ধারণার প্রতিফলন থাকতে হবে। আমরা চাই, দল-মতের ঊর্ধ্বে উঠে আইন তার নিজস্ব গতিতেই এগিয়ে যাক।

সম্পাদক : ইমদাদুল হক মিলন,
নির্বাহী সম্পাদক : মোস্তফা কামাল,
ইস্ট ওয়েস্ট মিডিয়া গ্রুপ লিমিটেডের পক্ষে ময়নাল হোসেন চৌধুরী কর্তৃক প্লট-৩৭১/এ, ব্লক-ডি, বসুন্ধরা, বারিধারা থেকে প্রকাশিত এবং প্লট-সি/৫২, ব্লক-কে, বসুন্ধরা, খিলক্ষেত, বাড্ডা, ঢাকা-১২২৯ থেকে মুদ্রিত।
বার্তা ও সম্পাদকীয় বিভাগ : বসুন্ধরা আবাসিক এলাকা, প্লট-৩৭১/এ, ব্লক-ডি, বারিধারা, ঢাকা-১২২৯। পিএবিএক্স : ০২৮৪০২৩৭২-৭৫, ফ্যাক্স : ৮৪০২৩৬৮-৯, বিজ্ঞাপন ফোন : ৮১৫৮০১২, ৮৪০২০৪৮, বিজ্ঞাপন ফ্যাক্স : ৮১৫৮৮৬২, ৮৪০২০৪৭। E-mail : info@kalerkantho.com