logo
আপডেট : ৯ ফেব্রুয়ারি, ২০১৮ ২৩:৩৬
সংযমের পরিচয় দিতে হবে

সংযমের পরিচয় দিতে হবে

জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় খালেদা জিয়ার পাঁচ বছরের ও অন্য অভিযুক্তদের ১০ বছরের কারাদণ্ড হয়েছে। আদালতের রায়ের পর রাজনৈতিক মহলে ভিন্ন ভিন্ন প্রতিক্রিয়া লক্ষ করা গেছে। আমরা পাঠকদের কাছে তাঁদের প্রতিক্রিয়া জানতে চেয়েছিলাম। পাঠকরা জানিয়েছেন, রায় নিয়ে অহেতুক রাজনৈতিক উত্তেজনা সৃষ্টি নয়, আইনিভাবেই মোকাবেলা করতে হবে। সব পক্ষকেই সংযমের পরিচয় দিতে হবে। টেলিফোন ও ই-মেইলে কালের কণ্ঠ’র পাঠকদের পাঠানো প্রতিক্রিয়া এখানে তুলে ধরা হলো

 

► দুর্নীতির মামলায় খালেদা জিয়ার সাজা হওয়ায় নানা জন নানা প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন। আমি মনে করি, শুধু খালেদা জিয়ার দুর্নীতি কেন, দেশের সর্বস্তরের দুর্নীতির মূলোৎপাটন হওয়া উচিত। রাজনৈতিক পক্ষপাতিত্ব না করে দুর্নীতিবাজ সবাইকে বিচারের আওতায় আনতে হবে। দেশের সাধারণ মানুষ শুধু একজনের বিচারে সন্তুষ্ট হবে তা ভাবার কোনো কারণ নেই। সব অপরাধীর বিচার তারা চায়। আমরা একটি দুর্নীতিমুক্ত দেশ চাই।

কাজী আবু মহম্মদ খালেদ নিজাম

মরিয়মনগর, রাঙ্গুনিয়া, চট্টগ্রাম।

 

► আইনের দৃষ্টিতে সবাই সমান। অপরাধ করে কেউ এড়িয়ে যেতে পারবে না, এখানে সেই সত্যটি প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। বিশ্বের অনেক দেশেই রাজনীতিবিদ ও রাষ্ট্রনায়কদের দুর্নীতির জন্য শাস্তি দেওয়ার নজির রয়েছে। এর মাধ্যমে আমরা সেই সব দেশের কাতারে পৌঁছে গেলাম।

জাহাঙ্গীর কবির পলাশ

বারইখালী, মুন্সীগঞ্জ।

 

► অন্যায়, দুর্নীতি করলে শাস্তি হয়—এ রায়ের মাধ্যমে প্রমাণিত হলো। আইনের চোখে সবাই সমান। অনেকেই বলছে যে এই শাস্তিটা বিএনপিকে নির্বাচন থেকে মাইনাস করার একটা চক্রান্ত। এই কথা যে ভুল, সরকারকে তা প্রমাণ করতে হবে। পাশাপাশি সরকারি দলের দুর্নীতিবাজদেরও আইনের আওতায় আনতে হবে। তাহলে জননেত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে যে উন্নয়নের ধারা বিরাজমান, তা অব্যাহত থাকবে।

মো. হুমায়ুন কবির বাবু

দক্ষিণ বানিয়াগাতি, বেলকুচি, সিরাজগঞ্জ।

 

► এই রায়ের মাধ্যমে প্রমাণিত হলো কোনো দুর্নীতিবাজের ছাড় নেই। শুধু তা-ই নয়, এর মাধ্যমে বাংলাদেশের গণতন্ত্রের ভিত আরো মজবুত হলো। বহির্বিশ্বে বাংলাদেশের সুনাম আরো এক ধাপ উন্নীত হলো। তারা এই বার্তা পেল যে বাংলাদেশে সঠিক বিচার হয়। বঙ্গবন্ধুর স্বপ্ন ছিল ক্ষুধা, দারিদ্র্য ও দুর্নীতিমুক্ত দেশ গড়ার।

কুমারেশ চন্দ্র

শ্রমিক, ঝিনাইদহ বাসস্ট্যান্ড, ঝিনাইদহ।

 

► মামলার রায় দেশের জন্য দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে। দেশের স্বার্থে, উন্নয়নের স্বার্থে সবাইকে গণতান্ত্রিক মনমানসিকতা নিয়ে এগিয়ে যেতে হবে। আইনের ঊর্ধ্বে কেউ নয়। সবাইকে শান্ত থাকতে হবে।

কামরুজ্জামান

কলাবাগান, ঝিনাইদহ।

 

► আজ থেকে অনেক বছর আগে কবিগুরু আক্ষেপ করে বলেছিলেন, এ জগতে হায় সেই বেশি চায় আছে যার ভূরি ভূরি, রাজার হস্ত করে সমস্ত, কাঙালের ধন চুরি। কবিগুরুর কথা আরেকবার সত্য প্রমাণিত হলো। যাঁরা সোনার পালঙ্কে ঘুমিয়েও এতিমের হকে কুদৃষ্টি দেন তাঁদের শাস্তি আরো বেশি হওয়া উচিত ছিল। যারা বলে চুরি তো সবাই করে, তাদের উদ্দেশে বলতে চাই, শাস্তিও অনেকেরই হয়। এই নজিরবিহীন রায় আমাদের আরেকবার মনে করিয়ে দিল আইনের চোখে সবাই সমান। অপরাধী সে যতই ক্ষমতাশালী হোক না কেন একদিন না একদিন তাদের জবাব দিতেই হবে।

সোলায়মান শিপন

কেরানীগঞ্জ, ঢাকা।      

 

► আমার মতে, এই রায় ঠিক হয়নি। কারণ যেখানে হাজার হাজার কোটি টাকা লুটপাট হচ্ছে, সেগুলোর কোনো বিচার হচ্ছে না, সেখানে দুই কোটি টাকার জন্য জেল-জরিমানা হলো। বিচারের নামে তামাশা হচ্ছে। এটা প্রতিহিংসাপরায়ণ রায় বলে আমি মনে করি। দুই দলের প্রতিহিংসাপরায়ণ রাজনীতির শিকার হচ্ছে জনগণ। আমাদের ভবিষ্যৎ কী হবে, তা নিয়ে উদ্বিগ্ন আমি।

শাহেন শাহ বাবর

ওয়ারী, ঢাকা।

 

► কেউ আইনের ঊর্ধ্বে নয়। আইনের প্রতি সবাইকে শ্রদ্ধাশীল হতে হবে। সুষ্ঠু, সুন্দর ও ন্যায়নিষ্ঠ রায় প্রদানের জন্য বিচার বিভাগকে অবশ্যই নিরপেক্ষ থাকতে হবে। জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলায় খালেদা জিয়াকে পাঁচ বছর ও অন্য নেতাদের ১০ বছরের যে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে তা নিয়ে সারা বিশ্বে তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে। আশা করি আপিল করার মধ্য দিয়ে যে রায় আসবে তা সঠিক হবে।

এম আনিসুর রহমান

শেখেরখিল, বাঁশখালী, চট্টগ্রাম।

 

► আইনের দৃষ্টিতে সবাই সমান। কেউই আইনের ঊর্ধ্বে নয়। জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলার রায়ে খালেদা জিয়ার পাঁচ বছরের সশ্রম কারাদণ্ডে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন হয়েছে বাংলাদেশে। অন্যায় করলে কেউ পার পায় না, আইনের ঊর্ধ্বে কেউই নয়, তা প্রমাণিত হয়েছে। সাজা মেনে নিয়ে দেশে নিয়মতান্ত্রিক রাজনীতির পথে ফিরে আসাই হবে বিএনপি নেত্রীর বুদ্ধিমানের কাজ। এতে করে দেশের জনগণের তাঁর প্রতি আস্থা ফিরে আসবে এবং দলের ভাবমূর্তি তৈরি হবে।

তৌহিদুল ইসলাম রবিন

লাকসাম, কুমিল্লা।

 

► খালেদা জিয়ার মামলার রায়ের প্রতিক্রিয়ায় এতটুকুই বলব যে ব্যক্তি ও দলের স্বার্থজড়িত রাজনীতির কারণে বর্তমান বাংলাদেশে কেউ শান্তিতে নেই। খালেদা জিয়ার সাজা হওয়ায় আওয়ামী লীগ সন্তোষ প্রকাশ করেছে। চলমান ঘটনাগুলোর পরিপ্রেক্ষিতে বিচারপ্রক্রিয়া রাজনৈতিক বলে জনসমক্ষে প্রকাশ পাচ্ছে। খালেদা জিয়া এখন জেলে। তাঁর বিরুদ্ধে মামলাগুলোও রাজনৈতিক প্রতিহিংসাপরায়ণ বলে মনে করি। নির্বাচন থেকে দূরে রাখার জন্যই এগুলো করা হয়েছে।

শহীদুল মোড়ল

নলিয়ান, দাকোপ, খুলনা।

 

► দেশজুড়ে রাজনৈতিক উত্তাপ আর জনমনে উদ্বেগের মধ্যে বৃহস্পতিবার সাবেক প্রধানমন্ত্রী বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলার রায় দিয়েছেন আদালত। এই দুর্নীতি মামলায় বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার সাজা হওয়া দেশে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার এক অনন্য দৃষ্টান্ত। অন্যায় করলে কেউ পার পায় না আজ তা প্রমাণিত।

এ কে এম আলমগীর

ও আর নিজাম রোড (আবাসিক এলাকা), চট্টগ্রাম।

 

► সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার দুর্নীতির মামলায় পাঁচ বছরের জেল হওয়ায় তাঁর দলের নেতাকর্মীরা ক্ষুব্ধ হয়েছে। আমি বলব, এর প্রতিবাদে আপনারা বিক্ষোভ মিছিল করুন আর প্রতিবাদ সমাবেশ করুন—তা যেন শান্তিপূর্ণ হয়। আগের মতো রাজনীতির মাঠ গরম করতে আগুন সন্ত্রাস করলে দেশের মানুষ মেনে নেবে না। সহিংসতা, নাশকতা, নৈরাজ্যের মাধ্যমে জান-মালের ক্ষতি করলে, জননিরাপত্তা বিঘ্ন করলে ছাড় দেওয়া ঠিক হবে না। এ দেশের মানুষ মনে করে, যারা দেশের উন্নয়ন বাধাগ্রস্ত করে, আগুন সন্ত্রাস করে, ঘুমন্ত মানুষ পুড়িয়ে হত্যা করে, এতিমদের অর্থ লুটপাট করে—তাদের এমনই দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি হওয়া উচিত। সাবেক এই প্রধানমন্ত্রীর দুর্নীতির মামলায় পাঁচ বছর জেল হয়েছে, এ থেকে দুর্নীতিবাজ রাজনীতিবিদদের শিক্ষা নিতে হবে।

ফারুক আহমেদ

বাগমারা, রাজশাহী।

 

► সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার রায়কে কেন্দ্র করে দেশবাসী উদ্বেগ, উৎকণ্ঠা আর উত্তেজনার মধ্য দিয়ে দিন অতিবাহিত করে। বাংলাদেশের একজন সাবেক প্রধানমন্ত্রীর বিচার এক ঐতিহাসিক ঘটনা। দেশের জনগণ দেখতে চায় এ রায় বাংলাদেশের আদালত কর্তৃক পরিচ্ছন্ন রায়। আমরা দেশবাসী এই প্রত্যাশা করি যে আমাদের আদালত সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণমুক্ত। এই রায়কে কেন্দ্র করে বিএনপির নেতাকর্মীরা যেন আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থাকে, এটাই জনগণ প্রত্যাশা করে। বিএনপির কর্মীদের সহনশীলতা, দূরদর্শিতা ও তাদের ধৈর্য ভবিষ্যতে আলোর পথে চলতে সাহায্য করবে। দুই দলেরই পাল্টাপাল্টি হুমকির মুখে জনগণ অসহায় হয়ে পড়ে এবং এই হুমকির জন্যই জনমনে উদ্বেগ সৃষ্টি হয়। অরাজকতা সৃষ্টির মতোই প্রতিরোধের নামে সংঘাতময় পরিস্থিতি সৃষ্টি করা কাম্য নয়। প্রয়োজন সহনশীল দূরদর্শিতার। এই ধৈর্য আর সহনশীলতা জাতির জন্য দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে। এমন কোনো বক্তব্য প্রদান করা উচিত হবে না, যা অন্যকে আঘাত করে কিংবা অন্যের অধিকার খর্ব করে। আমাদের দেশে সব রাজনৈতিক দলই গঠনমূলক চিন্তাধারা নিয়ে ভবিষ্যতের পথে অগ্রসর হোক। জনগণের শান্তির প্রতি সুদৃষ্টি বর্ষিত হোক। পরিশেষে এটাই কামনা করি, আমাদের দেশের স্থিতিশীল পরিস্থিতি বজায় থাকুক।

নিমাই কৃষ্ণ সেন

মেইন রোড, বাগেরহাট।

 

► তিনবারের প্রধানমন্ত্রী যখন দুর্নীতি মামলায় দণ্ডিত হন তখন সাধারণ সচেতন নাগরিক তথা জাতি হিসেবে লজ্জামিশ্রিত ক্ষোভ ছাড়া আর কিছু আমাদের অবশিষ্ট থাকে না। আমার বিশ্বাস কোথাও না কোথাও থেকে শুরু করতে হবে। তাই বড় কিছু দিয়েই সেই শুরুটা করেছে দুদক। পত্রিকান্তরে প্রকাশিত খবরের সূত্র মতে, বর্তমান সরকারের অনেক রাঘব বোয়াল তথা সরকারি আমলাশ্রেণির কর্মচারী-কর্মকর্তা সাগরসম দুর্নীতিতে জড়িয়ে পড়েছেন। তদন্তের ব্যবস্থা করে দুর্নীতি প্রমাণিত হলে তাদেরও বিচারের আওতায় আনা আবশ্যক।

আসাদুল্লাহ মুক্তা

মহেশপুর, উল্লাপাড়া, সিরাজগঞ্জ।

 

► বর্তমান সরকার দেশের মানুষকে অন্যায়ভাবে ঘর থেকে গ্রেপ্তার করে নিয়ে যাচ্ছে। পুলিশ দিয়ে হয়রানি করছে। এগুলো বেআইনি। খালেদা জিয়াকে বেআইনিভাবে বিচারিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে রাজনৈতিক প্রতিহিংসামূলকভাবে ষড়যন্ত্র করে শাস্তি দেওয়া হয়েছে। এটা সামনের নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে না দেওয়ার একটি চক্রান্ত। উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে এটি করা হয়েছে।

মো. জামরুল ইসলাম

দক্ষিণগাঁও, সবুজবাগ, ঢাকা।

 

► সব অন্যায়, অপরাধ ও দুর্নীতির বিচার যদি সুষ্ঠু ও সুন্দরভাবে হয়, তাহলে দেশের সব সেক্টর সুন্দর ও সফলভাবে এগিয়ে যাবে। সব সেক্টরে অন্যায়ের বিচার হলে দেশ ও জাতি আরো শত বছর অগ্রগণ্য হয়ে বিশ্বের সঙ্গে এগিয়ে যাবে। রাজনৈতিকভাবে নয়, যে বা যারা অন্যায় কাজের সঙ্গে জড়িত, তাদের সবাইকেই যেন কাঠগড়ায় দাঁড়াতে হয়।

মোহাম্মদ জহির উদ্দিন শেখ

দত্রা, ফরিদগঞ্জ, চাঁদপুর।

 

► সুদীর্ঘ ৩৬ বছরের প্রত্যক্ষ রাজনৈতিক জীবনে তিনবার প্রধানমন্ত্রী হিসেবে রাষ্ট্রক্ষমতা পরিচালনাকারী, বিরোধী দলের নেত্রী হিসেবে সংসদীয় রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা, সর্বোপরি দেশের অত্যন্ত জনপ্রিয় নেত্রীর তকমা যাঁর ললাটে চিহ্নিত, তাঁকে জেল-জরিমানা করে রাজনীতি থেকে অপসারণ সম্ভব নয় বলেই অভিজ্ঞ মহলের বিশ্বাস। খালেদা জিয়া হাসিমুখেই আদালতের রায় ও কারাবরণ মেনে নিয়েছেন। পাশাপাশি আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থেকে এই রায়ের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতের শরণাপন্ন হওয়ার জন্য তাঁর আইনজীবীদের পরামর্শ দিয়েছেন।

ভূঁইয়া কিসলু বেগমগঞ্জী

চৌমুহনী, হাজীপুর, বেগমগঞ্জ, নোয়াখালী।

 

► বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার আগে ও পরে রাজনৈতিক নেতাদের জেলখানায় নেওয়ার অনেক ইতিহাস আমরা বইয়ে পড়েছি। যেমন—বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে বেশির ভাগ সময় জেলে কাটাতে হতো বলে তাঁর সন্তানরা পর্যন্ত তাঁকে তেমনভাবে চিনতেন না। তাই আমি এই প্রজন্মের একজন হিসেবে এই রায়কে স্বাভাবিকভাবেই দেখতে চাই। আশা করি বিএনপি এ ব্যাপারে আদালতের রায়ের প্রতি শ্রদ্ধা দেখিয়ে আইনি পথ অনুসরণ করবে বলেই আমি মনে করি।

বিলকিছ আক্তার

আরাজি হরিশ্বর, কাউনিয়া, রংপুর।

 

► সবার ওপর মানুষ সত্য, তার ওপরে আইন। বঙ্গবন্ধুও জেলে ছিলেন। খালেদা জিয়ার অন্যায়কে ছোট করে দেখার কোনো কারণ নেই। তিনি সাবেক রাষ্ট্রপতি এরশাদকে স্বৈরশাসনের জন্য জেলে পাঠিয়েছিলেন। তাহলে খালেদা জিয়ার দুর্নীতির কারণে তাঁকেও জেলে যেতে হবে। তবেই সাধারণ জনগণের আইনের ওপর আস্থা তৈরি হবে এবং ভবিষ্যতে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা পাবে।

মনোজ কুমার বিশ্বাস

পার্বতীপুর, দিনাজপুর।

 

► এখনো সময় আছে, সাধু সাবধান! কারণ বিজ্ঞ আদালতের রায় শুনে যারাই আজ লম্ফঝম্ফ করছে; তাদের জন্যই অপেক্ষা করছে চরম এক বাস্তবতা! দুদকের দায়েরকৃত দুর্নীতির মামলায় খালেদার পাঁচ বছর ও তারেকসহ অন্যদের ১০ বছর জেল এবং অর্থদণ্ড একটি দৃষ্টান্ত।

কামরুল ইসলাম জাহাঙ্গীর

মুন্সীগঞ্জ।

 

► আসলে মানুষ আইন মান্য করে শাস্তির ভয়ে। বাংলাদেশের জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলটি একটি নজির সৃষ্টি হলো। আমার মনে হয় না বাংলাদেশের বাইরে সেটা ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করবে। জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলায়  বাংলাদেশের সাবেক প্রথম মহিলা প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়াসহ অন্য আসামিদের সাজা দেওয়া হয়েছে। হয়তো সাজাপ্রাপ্তরা পুনর্বিচারের জন্য আপিল করবেন। বিএনপিকে আইনিভাবে এগোতে হবে।

মাহফুজুর রহমান খান

চিনিতোলা, মেলান্দহ, জামালপুর।

 

► জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলার রায় প্রমাণ করে দিল—অপরাধী যতই বড় হোক না কেন, তাঁরও রেহাই নেই। দেশে সবার জন্য আইন সমান, সমান বিচারব্যবস্থাও আছে।

সঠিক রায়ের মাধ্যমে মানুষের মধ্যে এখন একটা স্বস্তি ফিরে এসেছে এবং একটা ভয়ভীতি কাজ করবে যে অপরাধ করলে আর রক্ষা নেই। বিচারের সম্মুখীন হতেই হবে—সাজা পেতেই হবে। তাই এই রায়ের মাধ্যমে দেশে অপরাধপ্রবণতা অনেক কমে আসবে বলে আমরা মনে করি।

লিয়াকত হোসেন খোকন                         

আদর্শপাড়া, পিরোজপুর।       

 

► জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতির মামলায় বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়াকে পাঁচ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই মামলায় খালেদা জিয়ার বড় ছেলে ও বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানসহ অন্য পাঁচ আসামিকে ১০ বছর করে সশ্রম কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে। আইনিভাবে যা করার, সেভাবেই বিএনপি উচ্চ আদালতে যাবে। আমার বিশ্বাস উচ্চ আদালত এই রায় প্রত্যাখ্যান করবেন, খালেদা জিয়াকে বেকসুর খালাস দেবেন। ক্ষমতাসীনরা এটা একটা ইস্যু পেয়েছে, তখন কথায় কথায় খালেদাকে বলবে দুর্নীতির দায়ে জেলখাটা নেত্রী।

রহিমা আক্তার মৌ

তেজগাঁও, ঢাকা।

 

► রায়কে কেন্দ্র করে সারা দেশে টান টান উত্তেজনা বিরাজ করছে। বিশেষ করে খালেদা জিয়ার গাড়িবহর নিয়ে আদালতে যাওয়ার প্রাক্কালে তাঁর কর্মীদের অহেতুক উত্তেজনা সৃষ্টি দৃষ্টিকটু হয়েছে। আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সাহসী ভূমিকার কারণে বেশি বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করতে পারেনি। রায়ে খালেদা জিয়ার পাঁচ বছরের কারাদণ্ড ও অন্যদের ১০ বছরের কারাদণ্ড হয়েছে। গতকালই খালেদাকে কারাগারে প্রেরণ করা হয়েছে। কারাগার হলো সংশোধনের জায়গা। তিনি সংশোধন হয়ে ফিরে আসবেন—সেই প্রত্যাশা করছি। রাজনৈতিক নেতাদের কারাবরণ নিত্যনৈমিত্তিক ব্যাপার। আইন তার নিজস্ব গতিতে চলবে। হাইকোর্টে আপিলের সুযোগ, রিভিউ পিটিশন, সর্বোচ্চ রাষ্ট্রপতির ক্ষমতা—সব সুবিধা নিয়ে তিনি আইনের লড়াইয়ে বেরিয়ে আসুন, সেটাই কামনা করি।

মিজানুর রহমান

বানাসুয়া, কুমিল্লা।

 

► খালেদা জিয়ার মামলা নিয়ে নানা ধরনের আলোচনা ও বিভিন্ন জনের বক্তব্য শুনেছি, দেখেছি। এ ব্যাপারে আমার মতামত এই যে এতিমদের কল্যাণে আসা টাকা খালেদা জিয়ার নেতৃত্বাধীন সরকার সুষুম ও স্বচ্ছভাবে পরিচালনা করতে পারেনি। অনেকেই বলেছে, দেশে অনেক বড় বড় দুর্নীতি চলছে। দেশের মঙ্গলের জন্য আমাদের সবার উচিত এটা প্রত্যাশা করা যে এরূপ বিচার যেন ভবিষ্যতেও চলতে থাকে। তাহলেই সৎ নেতৃত্ব ও সুন্দর আনন্দময় দেশ পাওয়া যাবে।

রঞ্জু চৌধুরী

ধানমণ্ডি, ঢাকা।

 

► বৃহস্পতিবার যে রায় হলো, তাতে তারেক জিয়াকে ১০ বছর এবং তাঁর মাকে জেল দেওয়া হলো পাঁচ বছর। এটা ঠিক হয়নি। রায়ে সবাইকেই ১০ বছরের সাজা দেওয়া উচিত ছিল, আর অর্থদণ্ডের পরিমাণটা আরো বাড়ানো উচিত ছিল। এই রায় থেকে রাজনীতিবিদরা শিক্ষা নেবেন। দুর্নীতি করলে যে-ই হোক রক্ষা নাই। এর ধারাবাহিকতা থাকলে বাংলাদেশকে দুর্নীতিমুক্ত করা সম্ভব হবে।

নাদিম খান

ভাইজোড়া, পিরোজপুর।

 

► মামলাটি তত্ত্বাবধায়ক সরকার করেছে সেই আমলে। তাই অন্য রাজনৈতিক দলকে অযৌক্তিকভাবে এতে দোষারোপ করা হচ্ছে বলে মনে হয়। দেশে বা আন্তর্জাতিক পর্যায়ে এত দীর্ঘ সময় নিয়ে একটি মামলার বিচারকাজ চলার ইতিহাস নেই। আসামিপক্ষের আবেদন-নিবেদন বিবেচনায় নিয়ে যথেষ্ট সময় দিয়ে বিচারের রায় ঘোষিত হয়েছে। ট্রাস্টি গঠন না করে ব্যাংক অ্যাকাউন্ট করে অর্থ সংগ্রহ করা হয়েছে। আসামিপক্ষ নিজেদের নির্দোষ প্রমাণে ব্যর্থ হয়েছে। এই রায় বিএনপির বিপক্ষে গেলেও দলের নিবেদিত নেতাদের সমন্বয়ে ঘুরে দাঁড়ালে জনসমর্থন নিয়ে রাজনৈতিক দল হিসেবে টিকে থাকতে পারবে বলে মনে করি। আইনের ঊর্ধ্বে কেউ নয়, এটাই এই বিচারে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।

এইচ কে নাথ

পাহাড়তলী, চট্টগ্রাম।

 

► অপরাধ করলে সেই অপরাধের সাজা তাঁকে ভোগ করতে হবে। কিন্তু কেউ কাউকে বিনা অপরাধে সাজা দিয়ে থাকলে সেটাও কিন্তু মেনে নেওয়া যায় না। আবার অন্যদিকে কেউ অপরাধ করে থাকলে, সেই অপরাধীর সাজা হয়ে থাকলে. সেটা শতভাগ মেনে নেওয়া যায়। ক্ষমতায় থাকার এবং ক্ষমতায় যাওয়ার জন্য আগামী নির্বাচন সামনে রেখে দেশের বড় দুই দলের বর্তমান তৎপরতা। দেশ কিসের দিকে এগোচ্ছে? এ দেশের সাধারণ জনগণ দেশের অমঙ্গল চায় না। দেশের উন্নতি চায়। তাই বড় দুই দলের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি। আপনারা রাজনৈতিক কাদা ছোড়াছুড়ি না করে দেশের জন্য ভাবুন।

ইয়াছিন খন্দকার লোভা

উত্তর জায়লস্কর, দাগনভূঞা, ফেনী।

 

► খালেদা জিয়ার সাজা যুক্তিযুক্ত হয়েছে বলে আমি মনে করি। এতিমদের টাকা খাওয়া অপরাধ। আদালত বুঝিয়ে দিয়েছেন যে আইন সবার জন্য সমান।

শিবুপ্রসাদ মজুমদার

লেকসার্কাস, কলাবাগান, ঢাকা।

সম্পাদক : ইমদাদুল হক মিলন,
নির্বাহী সম্পাদক : মোস্তফা কামাল,
ইস্ট ওয়েস্ট মিডিয়া গ্রুপ লিমিটেডের পক্ষে ময়নাল হোসেন চৌধুরী কর্তৃক প্লট-৩৭১/এ, ব্লক-ডি, বসুন্ধরা, বারিধারা থেকে প্রকাশিত এবং প্লট-সি/৫২, ব্লক-কে, বসুন্ধরা, খিলক্ষেত, বাড্ডা, ঢাকা-১২২৯ থেকে মুদ্রিত।
বার্তা ও সম্পাদকীয় বিভাগ : বসুন্ধরা আবাসিক এলাকা, প্লট-৩৭১/এ, ব্লক-ডি, বারিধারা, ঢাকা-১২২৯। পিএবিএক্স : ০২৮৪০২৩৭২-৭৫, ফ্যাক্স : ৮৪০২৩৬৮-৯, বিজ্ঞাপন ফোন : ৮১৫৮০১২, ৮৪০২০৪৮, বিজ্ঞাপন ফ্যাক্স : ৮১৫৮৮৬২, ৮৪০২০৪৭। E-mail : info@kalerkantho.com