logo
আপডেট : ৬ ফেব্রুয়ারি, ২০১৮ ১৬:৩০
একুশে গ্রন্থমেলা
কতটা খুলছে চিন্তার জানালা

কতটা খুলছে চিন্তার জানালা

ছবি : শেখ হাসান

বাংলাদেশে বই প্রকাশ ও বিক্রির সবচেয়ে বড় উপলক্ষ একুশে গ্রন্থমেলা। প্রকাশকদের তথ্য অনুসারে নব্বই শতাংশের বেশি বই বের হয় আর প্রায় পঁচাত্তর শতাংশ বিক্রি হয় বইমেলাকে কেন্দ্র করে। এ থেকেই বোঝা যায় বাংলাদেশে বই প্রকাশের ক্ষেত্রে মেলা কতটা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। একুশে গ্রন্থমেলার আরম্ভ থেকে বর্তমান যাত্রার নানা দিক নিয়ে লিখেছেন আবুল হাসান রুবেল

 

কেউ বলেছেন, বই মানুষের শ্রেষ্ঠ বন্ধু। কেউ বা তাকে ডেকেছেন অনন্ত যৌবনা প্রিয়তমা বলে। কারো কাছে তা একমাত্র প্রয়োজনীয় বস্তু বলে বিবেচিত হয়েছে। আবার তাকে বলা হয়েছে অতীত আর বর্তমানের সাঁকো। মোদ্দা কথা, বই নিয়ে নানা ধরনের অনুভূতির প্রকাশ মানুষ ঘটিয়েছে নানাভাবে। সেই বই যখন একসঙ্গে এসে হাজির হয়, তার মেলা বসে, তখন সেটা বইপোকাদের জন্য যে এক বিরাট উপলক্ষ তা বলার অপেক্ষা রাখে না। বাংলাদেশে বই প্রকাশ ও বিক্রির সবচেয়ে বড় উপলক্ষ একুশে গ্রন্থমেলা। প্রকাশকদের তথ্য অনুসারে নব্বই শতাংশের বেশি বই বের হয় আর প্রায় পঁচাত্তর শতাংশ বিক্রি হয় বইমেলাকে কেন্দ্র করে। এ থেকেই বোঝা যায়, বাংলাদেশে বই প্রকাশের ক্ষেত্রে মেলা কতটা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

বই নিয়ে অনুভূতি শুধু উচ্ছ্বাস, ভালোবাসার নয়, শঙ্কা, এমনকি বিরূপ মনোভাবও একেবারে নেই এমন নয়।  বিশেষত বই হারিয়ে যাচ্ছে বলে আজকাল প্রায়ই আফসোস শোনা যায়। একেকটা বই গড়ে কত কপি করে বিক্রি হয় সেটার হিসাব নিলে এই আশঙ্কার কিছু ভিত্তি আছে বলেও মনে হয়। আবার বেশি বেশি বই বেরোচ্ছে কিন্তু মানসম্মত বই বেরোচ্ছে না—এ রকম অভিমতও কম নয়। অনেকে এখন পড়াশোনাটা ডিজিটাল মাধ্যমে সেরে ফেলছেন। কিন্তু নতুন বইয়ের ঘ্রাণ তাঁর খুব ভালো লাগে, সেটা ভুলতে পারছেন না বা চাচ্ছেন না। কারো বা আবার ভালো লাগে পুরনো বইয়ের ঘ্রাণ। খেয়াল আছে কিশোরবেলায় সামনে যা পেতাম সেসব তো গোগ্রাসে গিলতামই, রাতে ঘুমিয়েও স্বপ্ন দেখতাম, বিশাল লাইব্রেরির ভেতরে আমাকে বসিয়ে দেওয়া হয়েছে আর ইচ্ছামতো বই পড়ছি। স্বপ্নেই কত বই শেষ করে ফেলেছি তার ইয়ত্তা নেই। যা পড়তাম তাকে বড়রা বলতেন হাবিজাবি বই। এসব বই পড়েই যে অনেকেই গোল্লায় গেছে সেটাও শুনতে হতো প্রায়ই। আজকাল বিভিন্ন ডিজিটাল মাধ্যম সম্পর্কে যা যা বলা হয়, তার বেশির ভাগই বই সম্পর্কেও প্রচলিত ছিল। আমার কথা বিশ্বাস না হলে মোহিতলাল মজুমদারের পুঁথির প্রতাপ পড়ে দেখতে পারেন।

যাক সেসব কথা, আসলে লেখার কথা বইমেলা নিয়ে অথচ এখনো বই থেকেই বেরোতে পারলাম না। কখন-কিভাবে শুরু হলো বইমেলা? ঢাকার আর সব কিছুর মতো সেটা নিয়েও রয়েছে বিভিন্ন ধরনের মতামত, তথ্য। বাংলা একাডেমির বর্তমান মহাপরিচালক শামসুজ্জামান খানের তথ্যমতে, বইমেলা শুরু হয় সরদার জয়েনউদ্দীনের হাত ধরে। তাঁর কথায়, “তিনি একটি শিশু গ্রন্থমেলার ব্যবস্থাই করে ফেললেন তৎকালীন কেন্দ্রীয় পাবলিক লাইব্রেরির (বর্তমান ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় লাইব্রেরি) নিচতলায়। যত দূর জানা যায়, এটাই ছিল বাংলাদেশের প্রথম বইমেলা। এটি অনুষ্ঠিত হয়েছিল ১৯৬৫ সালে।

শিশু গ্রন্থমেলা করে সরদার জয়েনউদ্দীন পুরোপুরি তৃপ্ত হতে পারেননি। আরো বড় আয়োজনে গ্রন্থমেলা করার তিনি সুযোগ খুঁজতে থাকেন। সুযোগটি পেয়েও যান। ১৯৭০ সালে নারায়ণগঞ্জ ক্লাবের সহযোগিতায় নারায়ণগঞ্জে একটি গ্রন্থমেলার আয়োজন করা হয়। এই মেলায় আলোচনা সভারও ব্যবস্থা ছিল। সেসব আলোচনায় অংশ নেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের তৎকালীন প্রধান অধ্যাপক মুহাম্মদ আব্দুল হাই, শহীদ অধ্যাপক মুনীর চৌধুরী ও সরদার ফজলুল করিম। এই মেলায় সরদার জয়েনউদ্দীন একটি মজার কাণ্ড করেছিলেন। মেলায় যে রকম বইয়ের পসরা সাজিয়ে বসেছিলেন, উত্সুক দর্শকরাও এসেছিলেন প্রচুর, বইয়ের বেচাকেনাও মন্দ ছিল না, কিন্তু তাদের জন্য ছিল একটি রঙ্গ-তামাশাময় ইঙ্গিতধর্মী বিষয়ও। মেলার ভেতরে একটি গরু বেঁধে রেখে তার গায়ে লিখে রাখা হয়েছিল ‘আমি বই পড়ি না’। সরদার জয়েনউদ্দীন সাহেবের এই উদ্ভাবনা দর্শকদের ভালোভাবেই গ্রন্থমনস্ক করে তুলেছিল বলে অনুমান করি।

এখানেই সরদার জয়েনউদ্দীন থেমে থাকেননি। ১৯৭২ সালে তিনি যখন গ্রন্থকেন্দ্রের পরিচালক, তখন ইউনেসকো ওই বছরকে ‘আন্তর্জাতিক গ্রন্থবর্ষ’ হিসেবে ঘোষণা করে। গ্রন্থমেলায় আগ্রহী সরদার সাহেব এই আন্তর্জাতিক গ্রন্থবর্ষ উপলক্ষে ১৯৭২ সালের ডিসেম্বর মাসে বাংলা একাডেমি প্রাঙ্গণে একটি আন্তর্জাতিক গ্রন্থমেলার আয়োজন করেন। সেই থেকেই বাংলা একাডেমিতে বইমেলার সূচনা।”

অন্য ভাষ্যমতে, ‘১৯৭২ খ্রিস্টাব্দের ৮ ফেব্রুয়ারি চিত্তরঞ্জন সাহা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সংলগ্ন বর্ধমান হাউস প্রাঙ্গণের বটতলায় এক টুকরো চটের ওপর কলকাতা থেকে আনা ৩২টি বই সাজিয়ে বইমেলার গোড়াপত্তন করেন। এই ৩২টি বই ছিল চিত্তরঞ্জন সাহা প্রতিষ্ঠিত স্বাধীন বাংলা সাহিত্য পরিষদ (বর্তমান মুক্তধারা প্রকাশনী) থেকে প্রকাশিত বাংলাদেশি শরণার্থী লেখকদের লেখা বই। এই বইগুলো স্বাধীন বাংলাদেশের প্রকাশনা শিল্পের প্রথম অবদান। ১৯৭২ থেকে ১৯৭৬ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত তিনি একাই বইমেলা চালিয়ে যান। ১৯৭৬ খ্রিস্টাব্দে অন্যরা অনুপ্রাণিত হন। ১৯৭৮ খ্রিস্টাব্দে বাংলা একাডেমির তৎকালীন মহাপরিচালক আশরাফ সিদ্দিকী বাংলা একাডেমিকে মেলার সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ত করেন। ১৯৭৯ খ্রিস্টাব্দে মেলার সঙ্গে যুক্ত হয় বাংলাদেশ পুস্তক বিক্রেতা ও প্রকাশক সমিতি; এই সংস্থাটিও প্রতিষ্ঠা করেছিলেন চিত্তরঞ্জন সাহা। ১৯৮৩ সালে কাজী মনজুরে মওলা বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক হিসেবে বাংলা একাডেমিতে প্রথম অমর একুশে গ্রন্থমেলার আয়োজন সম্পন্ন করেন।’

যা হোক, এরপর গ্রন্থমেলার পরিসর ক্রমে বেড়েছে। বহু নতুন প্রকাশক যুক্ত হয়েছেন, বেড়েছে বইয়ের সংখ্যা, নতুন নতুন লেখক যুক্ত হয়েছেন। এমনকি বাংলাদেশিদের ভেতর বিদেশে যেসব শিক্ষিত ভদ্রলোকরা থাকেন তাঁদের সবচেয়ে বড় অংশ বোধ হয় দেশে আসেন ফেব্রুয়ারি মাসেই। বইমেলা এ ক্ষেত্রে একটা বড় অনুঘটক। তাঁদের অনেকে মেলায় বই-পুস্তক কেনেন, আবার অনেকে বই বেরও করেন। আর বইমেলা শুধু বই কেনাবেচারই জায়গা নয়, আড্ডারও স্থান। লেখক আর পাঠকের দেখা-সাক্ষাৎ নয় শুধু, বইমেলা ফেব্রুয়ারি মাসজুড়েই অসংখ্য আড্ডার কেন্দ্রস্থল। আমরা তো নিশ্চিন্ত মনে বইমেলায় চলে যেতাম। কেননা মেলায় একবার প্রবেশ করলে আড্ডা দেওয়ার মতো কাউকে না কাউকে পাওয়া যাবেই। অনেকেরই মতে, বইমেলা আড্ডার সেই মেজাজ হারিয়েছে। বইমেলার ধুলা নিয়ন্ত্রণের ব্যবস্থার অকার্যকারিতা, নিরাপত্তার বাড়াবাড়ি, সেলফির অত্যাচার বইমেলার পুরনো আড্ডাবাজদের অনেককেই দূরে ঠেলে দিয়েছে। বইমেলার বিষয়ে এই অভিযোগ একদিকে আছে, অন্যদিকে বইমেলায় লোক সমাগম কিন্তু বেড়েই চলেছে। তাহলে কি আসলে বাস্তবতার নিয়ে যাঁদের সঙ্গে কথা বলেছি তাঁদের একটা ব্যবধান হচ্ছে? ‘জেনারেশন গ্যাপ’ ধরনের কিছু?

হতে পারে সেই সম্ভাবনা হিসাবে রেখেই একটু দেখে নেওয়া যাক বই বিক্রির হিসাবটা। প্রতিবছরই বাংলা একাডেমি থেকে মোট কত বই বের হলো, আর মোট কত টাকার বই বিক্রি হলো সেটার একটা হিসাব দেওয়া হয়। সেখান থেকে বই বিক্রির পরিমাণের একটা হিসাব টাকার অঙ্কে পাওয়া যায়। কিন্তু তাতে বাস্তবতা পুরোটা বোঝা যায় না। সেটার জন্য প্রতিটি বই আসলে কত কপি করে গড়ে বিক্রি হয় সেটা একটা ধারণা পেতে আমাদের সহায়তা করতে পারে। বেশ কয়েকজন প্রকাশকের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, বেস্ট সেলার বাদে পরিচিত লেখকদের উপন্যাস বছরে ৫০০ কপির মতো বিক্রি হয়। মাত্র ৫০০, তা-ও বিক্রি হয় না। ননফিকশন, কবিতার অবস্থা আরো খারাপ। ননফিকশন বছরে ৪০০ কপি গেলে বেস্ট সেলার হিসেবে বিবেচিত। গত বছরের বইমেলায় প্রচুর বিক্রি হয়েছে বলে বেশ উচ্ছ্বাস ছিল। গত বছর মেলায় মোট বিক্রি ৪০ কোটি ৫০ লাখ টাকা। যা আগের বছরের প্রায় দ্বিগুণ। প্রকাশিত হয়েছে প্রায় সাড়ে চার হাজার বই। এখন প্রতিটি বইয়ের গড় দাম ৩০০ টাকা ধরলে প্রতিটি বই কত কপি করে বিক্রি হয়েছে? সেটা দাঁড়ায় মাত্র ৩০০ কপি। এটাই সাম্প্রতিক সময়ে পর্যন্ত সবচেয়ে বেশি বই বিক্রির রেকর্ড। হুমায়ূন আহমেদসহ আর চার-পাঁচজন লেখককে যদি এই হিসাবের বাইরে রাখা হয় তাহলে পরিস্থিতি সত্যিই নিদারুণ হয়ে ওঠে।

বইমেলাও অন্য মেলার মতোই তাতে মেলার উৎসবমুখরতা থাকবে এতে আপত্তির কিছু নেই। তবে সব উৎসবের চরিত্র যদি একই রকম হয়ে দাঁড়ায়, যখন তার বিশিষ্টতা হারিয়ে যায় তখনই বিপত্তি বাধে। তাতে উৎসবমুখরতার ভিড়ে উপলক্ষটাই হারিয়ে যায়, তাকে খুঁজে বেড়াতে হয়। আমার কাছে কোনো পরিসংখ্যান নেই, তবে এটা নিঃসন্দেহে বলে দেওয়া যায় প্রতিদিন যত ক্যামেরায় ক্লিক হয় তার চেয়ে বই বিক্রি হয় অনেক কম। আর বইমেলা গত কয়েক বছরে লেখক, প্রকাশকদের গোঁড়া ধর্মীয় বা জাতীযতাবাদী শিবিরের আক্রমণ থেকে রক্ষা করতে পারেনি। বরং প্রকাশনীর স্টল বন্ধ করে দিয়েছে, বইমেলা থেকে নিষিদ্ধ করেছে। বইমেলাতেই আক্রমণের শিকার হয়ে লেখকদের মৃত্যু হয়েছে। হুমাযুন আজাদের পর নিরাপত্তাব্যবস্থার আরো কড়াকড়ি হয়েছে, কিন্তু সেটা অভিজিৎ রায়কে রক্ষা করতে পারেনি। নিরাপত্তার নামে অধিক নজরদারি শেষ পর্যন্ত যে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পারে না। বরং সমাজে জ্ঞান, তর্ক, যুক্তির প্রসার ঘটানো, মানুষের মত প্রকাশের স্বাধীনতা নিশ্চিত করা—আর সেটাই যে আসল রক্ষা কবচ। বইমেলার মোটো আসলে সেটাই হওয়ার কথা। কিন্তু উল্টো নজরদারি, নিয়ন্ত্রণ বাড়ছে আর মুক্ত পরিসর সংকুচিত হচ্ছে। এখন তো আরো আগ বাড়িয়ে প্রতিটি বইয়ের বিষয়বস্তু আগেই পুলিশ দিয়ে নিরীক্ষা করিয়ে নেওয়ার কথা শুনছি। জানি না সেটা আদৌ বাস্তবে সম্ভব কি না।

এত কিছুর মধ্যেও বইমেলা চলছে, ভিড় বাড়ছে। কিন্তু শুধু শুধু ভিড় বাড়িয়ে তো কোনো লাভ নেই। বইমেলা আসলে কী বার্তা ছড়িয়ে দিচ্ছে তার কাছে আগত মানুষের কাছে—সেটাই হয়তো আসল। আর কী বার্তা ছড়াবে সেটা যেমন লেখক-প্রকাশকসহ দেশের বিদ্ব্যুৎসমাজের দায়িত্ব’ কিন্তু তারও আগে সেই দায় বাংলা একাডেমির।

 

নিরাপত্তার নামে অধিক নজরদারি শেষ পর্যন্ত যে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পারে না; বরং সমাজে জ্ঞান, তর্ক, যুক্তির প্রসার ঘটানো, মানুষের মত প্রকাশের স্বাধীনতা নিশ্চিত করা—আর সেটাই যে আসল রক্ষাকবচ। বইমেলার মোটো আসলে সেটাই হওয়ার কথা। কিন্তু উল্টো নজরদারি, নিয়ন্ত্রণ বাড়ছে আর মুক্ত পরিসর সংকুচিত হচ্ছে

ছবি : তারেক আজিজ নিশক

সম্পাদক : ইমদাদুল হক মিলন,
নির্বাহী সম্পাদক : মোস্তফা কামাল,
ইস্ট ওয়েস্ট মিডিয়া গ্রুপ লিমিটেডের পক্ষে ময়নাল হোসেন চৌধুরী কর্তৃক প্লট-৩৭১/এ, ব্লক-ডি, বসুন্ধরা, বারিধারা থেকে প্রকাশিত এবং প্লট-সি/৫২, ব্লক-কে, বসুন্ধরা, খিলক্ষেত, বাড্ডা, ঢাকা-১২২৯ থেকে মুদ্রিত।
বার্তা ও সম্পাদকীয় বিভাগ : বসুন্ধরা আবাসিক এলাকা, প্লট-৩৭১/এ, ব্লক-ডি, বারিধারা, ঢাকা-১২২৯। পিএবিএক্স : ০২৮৪০২৩৭২-৭৫, ফ্যাক্স : ৮৪০২৩৬৮-৯, বিজ্ঞাপন ফোন : ৮১৫৮০১২, ৮৪০২০৪৮, বিজ্ঞাপন ফ্যাক্স : ৮১৫৮৮৬২, ৮৪০২০৪৭। E-mail : info@kalerkantho.com