logo
আপডেট : ৬ ফেব্রুয়ারি, ২০১৮ ১৫:৫১
নতুনদের কাছে চবি ক্যাম্পাস

নতুনদের কাছে চবি ক্যাম্পাস

নতুন বর্ষের শিক্ষার্থীদের পদচারণায় মুখরিত চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ক্যামপাস। ক্লাস-লাইব্রেরি কিংবা ঝুপড়ির আড্ডা সবখানেই তাঁদের প্রাণবন্ত উপস্থিতি। ১ জানুয়ারি থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০১৭-২০১৮ শিক্ষাবর্ষের স্নাতক (সম্মান) প্রথম বর্ষের ক্লাস শুরু হয়েছে। এরই মধ্যে একমাস পেরিয়ে গেছে। ক্যামপাস আপন করে নিচ্ছেন সবাই। নতুনদের ক্যাম্পাস ভাবনার গল্প শোনাচ্ছেন : মোবারক আজাদ, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়

 

এখানে পড়ি বলতে অনেক আনন্দ লাগে

নিশাত আনজুম স্বর্ণা

মানবসম্পদ ব্যবস্থাপনা বিভাগ

স্কুল-কলেজ ছিল ঢাকার ভিকারুননিসা নুন স্কুল অ্যান্ড কলেজ। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়ার পর ক্যামপাস নিয়ে অনেক বেশি ভয় কাজ করত। কারণ আমি ঢাকা থেকে এসেছি। তাই এখানকার নতুন পরিবেশে একা মানিয়ে নেওয়া নিয়ে অনেক বেশি চিন্তিত ছিলাম। কিন্তু এ ক্যামপাসে পা দেওয়ার পর পরই সব ভয়ভীতি দূর হয়ে যায়। বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশ এবং এখানকার মানুষজন ও বন্ধুরা সবাই এত বেশি হেল্পফুল হবে তা কল্পনারও বাইরে ছিল। আরো একটা ব্যাপার নিয়ে বেশি ভয় কাজ করত, তা হল-র‌্যাগ। অনেক শুনতাম ভাইয়া-আপুরা এই করাবে সেই করাবে। কিন্তু ক্যামপাসে আসার পর ধারণাই বদলে যায়। র‌্যাগ তো দূরের কথা, আপু-ভাইয়ারা ঠিক কতটা হেল্পফুল তা ক্যামপাসে না আসলে কখনই বুঝতাম না। ঢাকা  বিশ্ববিদ্যালয়ে চান্স না পাওয়ার কষ্ট দূর হয় এই ক্যামপাসে এসে পা রেখেই। ক্যামপাসে আড্ডা, গানের আসর ও ঝুপড়ির চা সবই এখন অনেক বেশি প্রিয়। বাংলাদেশের সব থেকে আয়তনে বড় বিশ্ববিদ্যালয় এবং নিজেদের শাটল থাকার অনুভূতিই অন্যরকম। ক্যামপাসের সব থেকে আমার  প্রিয় জায়গা শহীদ মিনার। আর যখন কেউ জিজ্ঞেস করে কোথায় পড়ি? তখন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় বলতে পারার মধ্যেই অনেক বেশি আনন্দ কাজ করে, গর্ব লাগে যে আমি এই প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থী।

 

এখন নিজেকে যোগ্য হিসেবে প্রমাণের পালা

মেহেদী হাসান

ইতিহাস বিভাগ

প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের অপরূপ লীলাভূমি চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়। প্রথম যেদিন পরীক্ষা দিতে এসেছিলাম ভালো লেগে গিয়েছিল। এখানেই থাকার প্রবল আশা জাগছিল। আল্লাহর রহমতে আশা পূরণ হয়েছে। কারণ প্রতিযোগিতার বিশ্বে সবাই যেমন ভালো জিনিস চায়, তেমনি আমিও উচ্চশিক্ষার বিষয়ে কোনো ধরনের আপস না করে এখানে ভর্তি হয়েছি। ওয়াইফাই প্রযুক্তি, আবাসিক হল, শাটল ট্রেন, ঝুলন্ত ব্রিজ ও অভিজ্ঞ শিক্ষকদের পাঠ গ্রহণের পাশাপাশি এই প্রাকৃতিক সৌন্দর্যটাও বেশ উপভোগ করছি। নতুন প্রতিষ্ঠান ও নতুন পরিবেশে যতটা কড়া হবে ভেবেছিলাম ততটা কড়া নন কেউ। আমিসহ নবাগত ভর্তি হওয়া শত শত নতুন ছাত্রছাত্রীর পদচারণায় ক্যামপাস হয়ে ওঠেছে আনন্দমুখর। নেচে-গেয়ে আমাদের নতুনদের বরণ করে নিয়েছে বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষার্থীরা। এছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের জেলা সমিতিগুলো ও নবীন শিক্ষার্থীদের জন্য গেটটুগেদার, পিকনিকসহ নানা কর্মসূচির আয়োজন করছে। যশোর থেকে পরিবার ছেড়ে এখানে এসে যেন আরেক পরিবারের সদস্য হয়েছি। সেই ধারাবাহিকতায় তৈরি হচ্ছে সিনিয়র-জুনিয়রদের মধ্যে সমপর্কের সেতুবন্ধন। তবে সেশনজট, সন্ত্রাস ও নৈরাজ্যমুক্ত একটি ক্যামপাস উপহার দিতে পারলে  আমাদের ক্যামপাস জীবন সুখী-সমৃদ্ধ হবে। বাংলাদেশে একমাত্র আমরা চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরাই পারি ক্ষুদ্র পাহাড়ে চড়ে এভারেস্ট জয়ের মজা নিতে। এখন শুধু নিজেকে যোগ্য হিসেবে প্রমাণের পালা।

 

প্রথম একটু খারাপ লেগেছিল, ধীরে ধীরে মানিয়ে নিচ্ছি

খাদিজা জাহান

প্রাণরসায়ন ও অনুপ্রাণ বিজ্ঞান বিভাগ

সায়েন্সের ছাত্রী হিসেবে নবম শ্রেণিতে যখন বিজ্ঞান বিভাগে পড়া শুরু করলাম অন্য সব বিষয়ের মধ্যে জীববিজ্ঞান বেশি ভালো লাগত। এই ভালো লাগা থেকেই বিজ্ঞান বিভাগ পরিবর্তন করিনি। কলেজ শেষ করে সর্বোচ্চ চেষ্টা দিয়ে প্রতিযোগিতার মধ্য দিয়ে সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে আসন সংখ্যা যেখানে সীমিত সেখানে নিজেকে ভাগ্যবানদের একজন হিসেবে দেখতে ভালো লাগছে। সবার ইচ্ছে থাকে ভালো কিছু করার। আমিও চাই ভালো কিছু করতে। পরিবারের সহায়তায় আজ চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ছি। কুমিল্লা থেকে পরিবার ছেড়ে এখানে এসেছি। প্রথমে একটু খারাপ লাগছিল। নতুন পরিবেশ ও নতুন মানুষ। কীভাবে মানিয়ে নেব। তবে সবাই খুবই আন্তরিক। আমি নতুন পরিবেশে ইতোমধ্যে নিজেকে মানিয়ে নিয়েছি। আশা করছি বাকি সময়গুলো খুব আনন্দে সবার সাথে মিলে মিশে কাটবে। প্রত্যাশা করছি বড়রা নবীনদেরও সহায়তা করবে। বিভিন্ন বিষয়ে পরামর্শ দিয়ে লক্ষ্য অর্জনে সহায়তা করবে। ক্যামপাসে প্রতিদিন বাইরে থেকে লোক আসে অবসর সময় কাটানোর জন্য। ক্যামপাসের জিরো পয়েন্ট, রেলস্টেশন, লেডিস ঝুপড়ি, বুদ্ধিজীবী চত্বর ও শহীদ মিনার সর্বত্র নবীনদের জয়জয়কার। প্রতি বিকেলে বিশ্ববিদ্যালয়ের সর্বত্র তাদের সরব উপস্থিতি দেখা যায়।

 

মানুষের কল্যাণে নিজেকে উজাড় করে দেব

মুজাহিদুল ইসলাম

আইন বিভাগ

উত্তরবঙ্গের মফস্বল এলাকা নাটোরের দিঘাপাতিয়া এম কে কলেজ থেকে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়তে এসেছি। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সুযোগ না পেয়ে ও বাড়ির কাছে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে মোটামুটি ভালো করে পছন্দমতো বিষয় না পেয়ে এখানে পছন্দমতো আইন বিষয়ে ভর্তি হই। প্রথমে দ্বিধা-দ্বন্দ্ব কাজ করছিল ৬০০ কিলোমিটার দূরে! তাছাড়া চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় সম্পর্কে উত্তরবঙ্গের বেশির ভাগ মানুষের এক ধরনের নেতিবাচক মনোভাব কাজ করে। এখানে ভালো পড়াশোনা হয় না, সিনিয়র-জুনিয়রদের সম্পর্ক আন্তরিক না এবং সব সময় নিজেদের মধ্যে মারামারি ও সংঘর্ষ লেগেই থাকে। কিন্তু এ সকল বাধা উপেক্ষা করে চট্টগ্রামে আসা আমার বিফলে যায়নি। এখানে বাস্তবজ্ঞান লাভ করা সম্ভব হচ্ছে। ক্যাম্পাসে বড় ভাই-আপুরা বেশ আন্তরিক ও বন্ধুভাবাপন্ন। তারা নতুনদের সার্বিক সহায়তা করে যাচ্ছে। শিক্ষকরাও অনেক বেশি আন্তরিক বলা চলে। এছাড়া ক্যাম্পাসে আসার এক মাসের মধ্যে বিভিন্ন সাংস্কৃতিক সংগঠন, কারিকুলাম, কো-কারিকুলাম প্রোগ্রাম ও সেমিনার পেয়েছি। যার মাধ্যমে অনেক হাই প্রোফাইল লোকজনের সঙ্গে পরিচিত হওয়ার সুযোগ হয়েছে এবং জ্ঞান লাভের সুযোগ ঘটেছে। এত বড় ক্যামপাস, কেন্দ্রীয় লাইব্রেরি, কেন্দ্রীয় খেলার মাঠ, জিমনেসিয়াম ও সেমিনারসহ এতসব কিছু দেখেই মনটা অনেক বড় হয়ে যায়। সব মিলিয়ে এখানে ভর্তি হতে পেরে খুব ভালো লাগছে। আশা রাখি পাহাড়ে ঘেরা এই সবুজের রানিক্ষেত ক্যাম্পাস থেকে সঠিক শিক্ষা নিয়ে যে পেশায় থাকি না কেন ভবিষ্যতে মানুষের কল্যাণে নিজেকে উজাড় করে দেব।

সম্পাদক : ইমদাদুল হক মিলন,
নির্বাহী সম্পাদক : মোস্তফা কামাল,
ইস্ট ওয়েস্ট মিডিয়া গ্রুপ লিমিটেডের পক্ষে ময়নাল হোসেন চৌধুরী কর্তৃক প্লট-৩৭১/এ, ব্লক-ডি, বসুন্ধরা, বারিধারা থেকে প্রকাশিত এবং প্লট-সি/৫২, ব্লক-কে, বসুন্ধরা, খিলক্ষেত, বাড্ডা, ঢাকা-১২২৯ থেকে মুদ্রিত।
বার্তা ও সম্পাদকীয় বিভাগ : বসুন্ধরা আবাসিক এলাকা, প্লট-৩৭১/এ, ব্লক-ডি, বারিধারা, ঢাকা-১২২৯। পিএবিএক্স : ০২৮৪০২৩৭২-৭৫, ফ্যাক্স : ৮৪০২৩৬৮-৯, বিজ্ঞাপন ফোন : ৮১৫৮০১২, ৮৪০২০৪৮, বিজ্ঞাপন ফ্যাক্স : ৮১৫৮৮৬২, ৮৪০২০৪৭। E-mail : info@kalerkantho.com