logo
আপডেট : ৬ ফেব্রুয়ারি, ২০১৮ ১৫:৪১
দীঘিনালা
সবজিক্ষেতে তামাকের আগ্রাসন

সবজিক্ষেতে তামাকের আগ্রাসন

খাগড়াছড়ির দীঘিনালায় কোনোভাবেই বন্ধ যাচ্ছে না তামাকের আগ্রাসন। সবজিখ্যাত দীঘিনালায় এখন সবজি নেই বললেই চলে। মাইনী নদীর দুই তীরবর্তী উর্বরা জমি পুরোটাই তামাকের দখলে। উল্লেখযোগ্য হারে তামাক চাষ কমছে না বলে স্বীকার করলেও কৃষিবিভাগের দাবি ধীরে ধীরে তামাকচাষের পরিমাণ কমে আসছে।

উপজেলা কৃষি বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছর উপজেলার ১ হাজার ১৫০ একর (৪৬০ হেক্টর) জমিতে তামাকচাষ করা হয়েছে। কিন্তু তামাকচাষের সাথে সম্পৃক্তদের ধারণা, তামাকচাষের পরিমাণ কৃষি বিভাগের তথ্যের চেয়ে অনেক বেশি।

সরেজমিন দেখা যায়, এক সময়ের সবজির জন্য বিখ্যাত দীঘিনালায় এখন সবজি উৎপাদন নেই বললেই চলে। মাইনী নদীর তীরবর্তী উর্বরা জমি পুরোটা তামাকের দখলে। বাড়ির আঙিনা, সড়ক ও জনপথ বিভাগের জমি নদীর চর সব জায়গাতেই এখন তামাক পাতা বড় হচ্ছে। এককথায় যে দিকে দুচোখ যায় শুধু তামাক আর তামাক। পাহাড়ি এলাকায় নদী তীরবর্তী সামান্য সমতল জায়গা ছাড়া অধিকাংশই পাহাড় বা টিলাবেষ্টিত। আর চাষ উপযোগী সমতল জায়গার বেশির ভাগ তামাকের দখলে।

মধ্যবেতছড়ি এলাকার তামাকচাষি মো. রহিম জানান, উপজেলায় এখন ব্রিটিশ-আমেরিকান টোব্যাকো এবং আবুল খায়ের টোব্যাকো-এ দুই কম্পানির রেজিস্ট্রেশন নিয়ে চাষিরা তামাকচাষ করছেন। রহিম হলেন ব্রিটিশ আমেরিকান টোব্যাকোর চাষি। তিনি জানান, সবজি বা অন্যান্য রবিশস্য চাষ করলে অনেক সময় বিভিন্ন রোগ বালাইয়ের কারণে ফসল নষ্ট হয়ে যায়। এছাড়া বাজারজাত করার পর ন্যায্যমূল্য পাওয়ার সম্ভাবনা খুব কম থাকে। সেক্ষেত্রে চাষ করার পর বেশির ভাগ সময় লোকসান গুনতে হয়। আর তামাকচাষ করলে কম্পানির তদারকিতে ফসল নষ্ট হয় কম এবং কম্পানি তামাক ক্রয় করে নিয়ে যায়। এতে একসাথে মূল্যটা পাওয়া যায়। তাছাড়া কম্পানি বীজ, সার, কীটনাশক এবং ঋণ দিয়ে চাষের জন্য সহযোগিতা করেন; সে কারণেই মূলত তামাকচাষ।

অপরদিকে নাম প্রকাশ না করার শর্তে একাধিক তামাকচাষি জানান, তামাক ক্ষেতে উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন কীটনাশক এবং অতিরিক্ত সার ব্যাবহার করা হয়। ফলে ব্যবহারকারী চাষিদের শারীরিক কিছুটা সমস্যা হতে পারে বলেও তাঁদের জানা আছে।

এছাড়া জমির উর্বরতাও নষ্ট হয়। এর পরও পণ্য বিক্রির নিশ্চয়তা এবং আর্থিক লাভের কারণেই তাঁরা বাধ্য হয়ে তামাকচাষ ছাড়তে পারছেন না।

উপজেলার উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা সুপন চাকমা জানান, এ বছর ১ হাজার ৪৬০ হেক্টর জমিতে তামাকচাষ হয়েছে। গত বছরের চেয়ে এ বছর তামাকচাষ কিছুটা কমেছে দাবি করলেও ওই কর্মকর্তার ভাষায়, ‘উল্লেখযোগ্য হারে তামাকচাষ কমছে না।’

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা এম এম শাহনেওয়াজ জানান, মাঠ পর্যায়ে কৃষকদের সাথে বৈঠক এবং তাঁদের প্রশিক্ষণের সময় তামাকচাষে নিরুৎসাহিত করা হয়। এখন প্রয়োজন কৃষকদের সাথে এলাকাবাসী সচেতন হওয়া।

সম্পাদক : ইমদাদুল হক মিলন,
নির্বাহী সম্পাদক : মোস্তফা কামাল,
ইস্ট ওয়েস্ট মিডিয়া গ্রুপ লিমিটেডের পক্ষে ময়নাল হোসেন চৌধুরী কর্তৃক প্লট-৩৭১/এ, ব্লক-ডি, বসুন্ধরা, বারিধারা থেকে প্রকাশিত এবং প্লট-সি/৫২, ব্লক-কে, বসুন্ধরা, খিলক্ষেত, বাড্ডা, ঢাকা-১২২৯ থেকে মুদ্রিত।
বার্তা ও সম্পাদকীয় বিভাগ : বসুন্ধরা আবাসিক এলাকা, প্লট-৩৭১/এ, ব্লক-ডি, বারিধারা, ঢাকা-১২২৯। পিএবিএক্স : ০২৮৪০২৩৭২-৭৫, ফ্যাক্স : ৮৪০২৩৬৮-৯, বিজ্ঞাপন ফোন : ৮১৫৮০১২, ৮৪০২০৪৮, বিজ্ঞাপন ফ্যাক্স : ৮১৫৮৮৬২, ৮৪০২০৪৭। E-mail : info@kalerkantho.com