logo
আপডেট : ৪ জানুয়ারি, ২০১৮ ০২:০১
দপ্তর বদল চার মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীর প্রতিক্রিয়া

দপ্তর বদল চার মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীর প্রতিক্রিয়া

দপ্তর বদল হওয়া তিন মন্ত্রী ও এক প্রতিমন্ত্রী বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের কাছে তাঁদের প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন। ডাক ও টেলিযোগাযোগ প্রতিমন্ত্রী থেকে তথ্য প্রতিমন্ত্রী হিসেবে নিয়োগ পাওয়া তারানা হালিম বলেছেন, ‘আমি ফেরেশতা নই, মানুষ; কষ্ট তো হবেই।’ বন ও পরিবেশ মন্ত্রী থেকে পানিসম্পদমন্ত্রী হওয়া আনোয়ার হোসেন মঞ্জু প্রধানমন্ত্রীকে উদ্দেশ করে বলেছেন, ‘উনি হর্তাকর্তা-বিধাতা।’ বিমান ও পর্যটন মন্ত্রী থেকে সমাজকল্যাণমন্ত্রীর দায়িত্ব পাওয়া রাশেদ খান মেনন এবং পানিসম্পদমন্ত্রী থেকে বন ও পরিবেশ মন্ত্রীর দায়িত্ব পাওয়া আনিসুল ইসলাম মাহমুদও প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন।

যদি কাজ না করতাম, তাহলে এই শকটা পেতাম না : তারানা

তথ্য প্রতিমন্ত্রী তারানা হালিম গত রাতে কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘প্রচণ্ড প্রতিরোধের মুখে আমি বায়োমেট্রিক পদ্ধতিতে মোবাইল ফোনের সিম নিবন্ধন সম্পন্ন করেছি। বাংলা ভাষায় ডট বাংলা ডোমেইন চালু করেছি। সিম নিবন্ধন যাচাইয়ের জন্য প্ল্যাটফর্ম করেছি। মোবাইল ফোনের সেবার মান বাড়াতে স্প্রেকট্রাম নিলামের ব্যবস্থা নিয়েছি। কয়েক মাস পরেই ফোরজি আসছে। বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইটের উেক্ষপণের প্রস্তুতিও প্রায় সম্পন্ন। স্যাটেলাইট বিষয়ে মানুষের কোনো ধারণা ছিল না, থাকলেও ভ্রান্ত ধারণা ছিল। আমি সেই ধারণা সৃষ্টি করেছি এবং ভ্রান্ত ধারণা পাল্টে দিয়েছি। আমার কষ্টের কারণ, আমি স্যাটেলাইটের জন্মপ্রক্রিয়ার সাথে জড়িত ছিলাম, কিন্তু উেক্ষপণের সময় থাকছি না।’

তারানা হালিম বলেন, দেশে দ্বিতীয়

সাবমেরিন কেবল যুক্ত হয়েছে। টেসিসকে লাভজনক করতে পেরেছি। খুলনাতে কেবল শিল্প লিমিটেডও লাভজনক পর্যায়ে পৌঁছে গেছে। গত আড়াই বছরে এসব কাজে আমাকে অনেক শ্রম দিতে হয়েছে। এই শ্রমের পেছনে আমার একটাই উদ্দেশ্য ছিল—প্রধানমন্ত্রীর মুখ উজ্জ্বল করব, সরকারের সফলতা নিশ্চিত করব। এমন কেউ বলতে পারবে না, এসব কাজে আমার শ্রম, আন্তরিকতা ও একনিষ্ঠতা কম ছিল। বিদেশে গেছি, প্রাইভেট সেক্টর সাথে নিয়ে ঘুরিনি। আমি যদি কাজ না করতাম তাহলে এই শকটা পেতাম না। অবৈধ ভিওআইপির বিরুদ্ধে যুদ্ধ করলাম। তার ফল কি এটা হতে পারে? আমি ফেরেশতা নই, মানুষ, কষ্ট তো হবেই।’

তথ্য প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘তথ্য মন্ত্রণালয়ে প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পেয়েছি। এখানে কী করব জানি না। আমি ভাবতে চাই। আমি টেলিযোগাযোগ সেক্টরে পয়সা কামাতে আসিনি। দুর্নীতি করতে আসিনি। কাজ করতে এসেছিলাম। এই সেক্টরটাকে পরিষ্কার করতে চেয়েছিলাম। তার পরও আমি প্রধানমন্ত্রীর কাছে কৃতজ্ঞ। আমি তাঁকে ভালোবাসি। আপা আমাকে এমপি করেছেন, প্রতিমন্ত্রী করেছেন, বিশ্বাস করেছেন। বঙ্গবন্ধুর আদর্শকে ধারণ করে তাঁর সেই বিশ্বাস এবং আশ্বাস রাখার চেষ্টা করেছি। তিনি বলেছিলেন, সৎ থাকো, মন দিয়ে কাজ করো। আমি তাই করে যাচ্ছি। তিনি আমাকে ভালোবেসেই হয়তো তথ্য মন্ত্রণালয়ে দিয়েছেন; এটা আমি বিশ্বাস করি।’

প্রধানমন্ত্রীর সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত : মঞ্জু

তিন মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীর দপ্তর বদলের কারণ একমাত্র প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলতে পারবেন বলে মনে করনে পানিসম্পদমন্ত্রী আনোয়ার হোসেন মঞ্জু। জানতে চাইলে তিনি কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বলতে পারবেন কেন, কিসের জন্য তিনি পরিবর্তন করেছেন। এ বিষয়ে আমার কোনো ক্রিয়া বা প্রতিক্রিয়া নেই। আমি কুম্ভ রাশির জাতক, কাজের লোক। বদলের কারণ আমি বলতে পারব না। প্রধানমন্ত্রী বলতে পারবেন। উনি হর্তাকর্তা-বিধাতা। প্রধানমন্ত্রী যখন যাকে যে দায়িত্ব দেন, যে নির্দেশনা দেন তিনি সেই দায়িত্বই পালন করেন। আমাকে যে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল, সেটা কেমন করেছি জনগণই বিচার করবে।’

চ্যালেঞ্জ নিয়ে কাজ করেছি বিমান মন্ত্রণালয়ে : মেনন

প্রতিক্রিয়া জানতে চাইলে সমাজকল্যাণমন্ত্রী রাশেদ খান মেনন সন্ধ্যায় কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘বিমান ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের যে চ্যালেঞ্জ, সেটা আমি ভালোভাবে ম্যানেজ করেছি। এখানে আমি সফল বলে মনে করি। পর্যটন খাতে আজ সারা বিশ্বে বাংলাদেশ পরিচিত। আমার দায়িত্ব পালনকালে বিমানকে লাভজনক প্রতিষ্ঠানে দাঁড় করিয়েছি।’

নতুন মন্ত্রণালয় সম্পর্কে মেনন বলেন, ‘সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয় এমন একটি মন্ত্রণালয় যেখানে একদম সাধারণ মানুষ, প্রান্তিক মানুষ, প্রতিবন্ধী ও সমাজের পিছিয়ে পড়া মানুষদের নিয়ে কাজ করতে পারব। আমি মনে করি, এখানে আরো বেশি কাজ করার সুযোগ আছে। বিশেষ করে মানুষের সঙ্গে মিশে কাজ করার সুযোগ হলো। আশা করি, এই মন্ত্রণালয়েও সফলভাবে কাজ করতে পারব। সবাই আমার জন্য দোয়া করবেন।’

এর আগে দুপুরে সচিবালয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে মেনন বলেন, ‘আমার জন্য সুখকর এই কারণে বলতে পারেন, আমি আকাশ থেকে একটু মাটিতে নামলাম। সামাজিক নিরাপত্তার প্রশ্নে বলেন, সামাজিক কল্যাণের প্রশ্নে বলেন, একেবারে সাধারণ মানুষের কাছে।’

সরকারে ছিলাম, সরকারে আছি : আনিসুল ইসলাম মাহমুদ

মন্ত্রীদের দপ্তর বদলকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন বন ও পরিবেশ মন্ত্রী আনিসুল ইসলাম মাহমুদ। তিনি কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘সরকারে ছিলাম, সরকারে আছি। প্রধানমন্ত্রী যে দায়িত্ব দিয়েছেন তা আগেও পালন করেছি, আগামীতেও করব।’

সম্পাদক : ইমদাদুল হক মিলন,
নির্বাহী সম্পাদক : মোস্তফা কামাল,
ইস্ট ওয়েস্ট মিডিয়া গ্রুপ লিমিটেডের পক্ষে ময়নাল হোসেন চৌধুরী কর্তৃক প্লট-৩৭১/এ, ব্লক-ডি, বসুন্ধরা, বারিধারা থেকে প্রকাশিত এবং প্লট-সি/৫২, ব্লক-কে, বসুন্ধরা, খিলক্ষেত, বাড্ডা, ঢাকা-১২২৯ থেকে মুদ্রিত।
বার্তা ও সম্পাদকীয় বিভাগ : বসুন্ধরা আবাসিক এলাকা, প্লট-৩৭১/এ, ব্লক-ডি, বারিধারা, ঢাকা-১২২৯। পিএবিএক্স : ০২৮৪০২৩৭২-৭৫, ফ্যাক্স : ৮৪০২৩৬৮-৯, বিজ্ঞাপন ফোন : ৮১৫৮০১২, ৮৪০২০৪৮, বিজ্ঞাপন ফ্যাক্স : ৮১৫৮৮৬২, ৮৪০২০৪৭। E-mail : info@kalerkantho.com