logo
আপডেট : ৩ জানুয়ারি, ২০১৮ ২৩:৫৩
আগ্রাসী ঋণ বন্ধের নির্দেশ গভর্নরের

আগ্রাসী ঋণ বন্ধের নির্দেশ গভর্নরের

গত বছরে দুটি ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদে আকস্মিকভাবে বড় পরিবর্তন হয়েছে। ওই পরিবর্তনের ফলে চাকরি হারাতে হয়েছে শীর্ষ নির্বাহীদেরও। তাই ব্যাংক খাতে আকস্মিক পরিবর্তনের ঘটনায় আতঙ্কিত হয়ে পড়েছেন ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকরা (এমডি)। অস্বাভাবিক পরিবর্তন ঠেকাতে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সহযোগিতা চেয়েছেন এমডিরা। গতকাল বাংলাদেশ ব্যাংকে অনুষ্ঠিত ব্যাংকার্স সভায় গভর্নর ফজলে কবিরের কাছে বিষয়টি তুলে ধরেন বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর এমডিদের সংগঠন অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকার্স বাংলাদেশ (এবিবি)। বিষয়টি দেখবেন বলে আশ্বস্ত করেছেন গভর্নর। এ ছাড়া আগ্রাসীভাবে ঋণ বিতরণ বন্ধের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তারল্য সংকটের আশঙ্কায় ঋণ বিতরণের অনুমোদিত মাত্রাও কমিয়ে আনা হচ্ছে।

গতকাল বুধবার ব্যাংকার্স সভা শেষে এবিবির চেয়ারম্যান ও ঢাকা ব্যাংকের এমডি সৈয়দ মাহবুবুর রহমান সাংবাদিকদের বলেন, গত বছর কয়েকটি ব্যাংকের আকস্মিক পরিবর্তন হয়েছে। এতে ম্যানেজমেন্ট ও আমানতকারীরা ভীত হয়ে পড়েছেন। পরিবর্তন অবশ্যই কাম্য। তবে আকস্মিকভাবে কোনো পরিবর্তন হওয়া উচিত নয়। গভর্নরের কাছে আমরা বলেছি। গভর্নর বিষয়টি দেখবেন বলে আশ্বস্ত করেছেন।

বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নর এস কে সুর চৌধুরী সাংবাদিকদের বলেন, শেয়ারহোল্ডাররা শেয়ার কেনাবেচা করেন। এতে কেউ বেশি শেয়ার কিনে এজিএম বা বোর্ড সভার মাধ্যমে পরিচালক হতেই পারেন। এ ক্ষেত্রে কোনো অনিয়ম হলে বা সুশাসনের অভাব থাকলে বাংলাদেশ ব্যাংক বিষয়টি দেখে এবং দেখছে।

প্রতি তিন মাস পরপর ওই ব্যাংকার্স সভা অনুষ্ঠিত হয়। গভর্নরের সভাপতিত্বে গতকালের সভায় সব ব্যাংকের শীর্ষ নির্বাহীরা উপস্থিত ছিলেন। সভায় দেশের সামস্টিক অর্থনীতি, ব্যাংকগুলোর অতিরিক্ত ঋণ বিতরণ, আমদানি-রপ্তানি, ডলারের বিনিময় মূল্য, রেমিট্যান্স পাঠানোর খরচ কমানোসহ বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা হয়েছে।

সভা সূত্র জানায়, সাধারণ ব্যাংকগুলো সংগৃহীত আমানতের সর্বোচ্চ ৮৫ শতাংশ এবং ইসলামী ব্যাংকগুলো সংগৃহীত আমানতের সর্বোচ্চ ৯০ শতাংশ ঋণ বিতরণ করতে পারে। কোনো কোনো ব্যাংক এর চেয়ে বেশি ঋণ বিতরণ করেছে। যার ফলে ঋণের প্রবৃদ্ধি অনেক বেশি হচ্ছে। এই আগ্রাসীভাবে ঋণ বিতরণ বন্ধের নির্দেশ দিয়েছেন গভর্নর।

এস কে সুর চৌধুরী বলেন, অর্থনৈতিক উন্নতির স্বার্থে ১৬ থেকে ১৭ শতাংশ ঋণ বিতরণ বাড়তে পারে। কিন্তু বর্তমানে ঋণ বিতরণ বৃদ্ধি ১৯ শতাংশ ছাড়িয়ে গেছে। এতে তারল্য সংকট হতে পারে। এ জন্য ঋণ আমানতের অনুপাত (এডিআর) কমানো হতে পারে। আগামী মুদ্রানীতি ঘোষণায় এ বিষয়ে দিকনির্দেশনা দেওয়া হবে।

সৈয়দ মাহবুবুর রহমান বলেন, অনুমোদিত মাত্রার তুলনায় বেশি হারে ঋণ বিতরণ করা হচ্ছে। ঋণ যেহারে বাড়ছে সেই হারে আমানত বাড়ছে না। এ জন্য তারল্য কমে যাচ্ছে। এটি প্রতিরোধে সতর্ক থাকতে নির্দেশ দিয়েছেন গভর্নর। ঋণ বিতরণের অনুমোদিত মাত্রা কমিয়ে আনা হতে পারে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক।

তিনি আরো বলেন, আমদানি ব্যয় অনেক বেশি হচ্ছে। সেই তুলনায় রপ্তানি ও রেমিট্যান্স বাড়ছে না। এ জন্য চলতি হিসাব ভারসাম্যে বড় অঙ্কের ঘাটতি রয়েছে। ঘাটতি পূরণে রপ্তানি ও রেমিট্যান্স বাড়ানোর বিষয়ে পদক্ষেপ নিতে বলা হয়েছে। মালয়েশিয়ায় এক্সচেঞ্জ হাউসগুলোর সার্ভিস চার্জ কমিয়ে প্রতি লেনদেনে সর্বোচ্চ ২০ টাকা করতে বলা হয়েছে। এ ছাড়া ডলারের বিক্রয় মূল্য সমহারে নির্ধারণের জন্য ব্যাংকগুলোকে বলা হয়েছে।

এস কে সুর চৌধুরী জানান, ডলারের বিনিময় মূল্য নির্ধারণে সব ব্যাংককে সতর্ক করা হয়েছে। বিলাসবহুল পণ্য আমদানি না প্রয়োজনী পণ্য আমদানিতে অর্থায়ন করতে বলা হয়েছে। এ ছাড়া ব্যাংকের কর্মী নিয়োগে আবেদনের ক্ষেত্রে ফি নেওয়ার জন্য ব্যাংকগুলো দাবি করেছিল। সেই দাবি নাকচ করা হয়েছে। চলতি অর্থবছরের প্রথম মুদ্রানীতি নিয়ে পর্যালোচনা এবং আগামী মুদ্রানীতি নিয়ে আলোচনা হয়েছে। সাইবার হামলার বিষয়ে ব্যাংকগুলোকে সতর্ক করা হয়েছে।

সম্পাদক : ইমদাদুল হক মিলন,
নির্বাহী সম্পাদক : মোস্তফা কামাল,
ইস্ট ওয়েস্ট মিডিয়া গ্রুপ লিমিটেডের পক্ষে ময়নাল হোসেন চৌধুরী কর্তৃক প্লট-৩৭১/এ, ব্লক-ডি, বসুন্ধরা, বারিধারা থেকে প্রকাশিত এবং প্লট-সি/৫২, ব্লক-কে, বসুন্ধরা, খিলক্ষেত, বাড্ডা, ঢাকা-১২২৯ থেকে মুদ্রিত।
বার্তা ও সম্পাদকীয় বিভাগ : বসুন্ধরা আবাসিক এলাকা, প্লট-৩৭১/এ, ব্লক-ডি, বারিধারা, ঢাকা-১২২৯। পিএবিএক্স : ০২৮৪০২৩৭২-৭৫, ফ্যাক্স : ৮৪০২৩৬৮-৯, বিজ্ঞাপন ফোন : ৮১৫৮০১২, ৮৪০২০৪৮, বিজ্ঞাপন ফ্যাক্স : ৮১৫৮৮৬২, ৮৪০২০৪৭। E-mail : info@kalerkantho.com