logo
আপডেট : ৩ জানুয়ারি, ২০১৮ ২৩:৪০
এও কি পাকা সড়ক!

এও কি পাকা সড়ক!

ভালুকা-বিরুনিয়া সড়কের থানার মোড় অংশ। ছবি : কালের কণ্ঠ

পানি জমলে জলকাদা আর পানি না থাকলে ধুলায় ধূসর। ময়মনসিংহের ভালুকা মডেল থানারমোড় থেকে বিরুনিয়া বাজার পর্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এ সড়কের অবস্থা এমনই বেহাল। এলজিইডির আওতাভুক্ত সড়কটির ভালুকা সদর অংশ শীতকালেও জলকাদায় একাকার হয়ে থাকায় সহসা এ পথে পা বাড়ায় না কোনো পথচারী। ভয়ংকর সমস্যা যান চলাচলেও। শুকনা অবস্থায় ধুলার রাজ্যে পরিণত হয় সড়কটির আশপাশ এলাকা।

স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, প্রতিদিন সিএনজিচালিত অসংখ্য অটো টেম্পো, ট্রাক, পিকআপের যাতায়াত এ সড়কে। এ সড়ক দিয়েই প্রতিদিন ভালুকা সদরে যাতায়াত করে ভালুকা পৌরসভার দুটি ওয়ার্ড ও উপজেলার ভালুকা, বিরুনিয়া ও রাজৈ ইউনিয়নের অসংখ্য মানুষ। পাশাপাশি ভালুকা পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়, ভালুকা সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়, ভালুকা ডিগ্রি কলেজ, ভালুকা ফাজিল মাদরাসার শত শত শিক্ষার্থীর যাতায়াতও করতে হয়। অথচ সিলকোর্ড কার্পেটিং, খোয়া উঠে অসংখ্য ছোট-বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে সড়কে। বিশেষ করে ভালুকা মডেল থানারমোড় থেকে প্রায় এক হাজার ৫০০ মিটার সড়কের অবস্থা খুবই নাজুক। জলকাদায় একাকার হয়ে আছে সড়কটির ওই অংশ। পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা না থাকা এ সমস্যার বড় কারণ বলে মনে করে এলাকাবাসী।

সরেজমিনে গেলে স্থানীয়রা জানায়, ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের ভালুকা মডেল থানারমোড় থেকে বিরুনিয়া বাজার পর্যন্ত সড়কটি পাকাই ছিল। কিন্তু এটিকে এখন আর পাকা সড়ক বলা যায় না। এখন দেখতে গ্রামের মাটির রাস্তার চেয়েও বাজে অবস্থা। ছয়-সাতটি ভাটার ইটবাহী ট্রাক, বালু ব্যবসায়ীদের ওভার লোডেড ড্রামট্রাক, পানিসহ মাছবাহী গাড়ির যাতায়াতে সড়কটি বেহাল। সড়কটির দুই পাশের দোকানিরা জানান, প্রতিদিন বালুবাহী অসংখ্য ট্রাক যাতায়াত করে সড়কটির এই অংশ দিয়ে। ধারণক্ষমতার চেয়ে বেশি ওজনের ড্রামট্রাক চলাচলে সড়কটিতে সৃষ্টি হয়েছে ছোট-বড় অংসখ্য গর্ত। তা ছাড়া প্রতি রাতেই উপজেলার দক্ষিণ এলাকা থেকে মাছ বাজারজাত করা হয় এ সড়ক দিয়ে। মাছবাহী এসব গাড়ি থেকে পানি ঝরে সড়কে জমা হয়। বিভিন্ন যানবাহনের চাকার ঘষায় জলকাদায় একাকার হয়ে যায় সড়কের এই অংশ।

এ পথে নিয়মিত যাতায়াতকারী কে বি এম কামরুজ্জামান টগর জানান, এ অংশে যাতায়াত খুবই কষ্টকর। স্থানীয় বালু ব্যবসায়ীরা ভালুকা অংশে গোলাহাংগুনের খাল পর্যন্ত দুই পাশে বালু তুলে রাখায় সড়কটির পানি নিষ্কাশন হচ্ছে না। ফলে বৃষ্টি না থাকলেও এখানে পানি জমে থাকে। শিক্ষার্থীরা জানায়, সড়কের দুরবস্থার কথা ভাষায় প্রকাশ করা যাবে না। স্থানীয় হাফিজ উদ্দিন জানান, সড়কটির ভালুকা অংশ পৌরসভা এলাকায়। এ পথে যাতায়াত করার সময় নিজেদের পৌরবাসী বলে মনে হয় না। সড়কটিতে এখন ভারী যান চলাচল করতে পারছে না। উল্টে যাওয়ার ভয়ে রিকশায় যাতায়াতও আশঙ্কাজনক। মাছের গাড়ির পানি কয়েক দিন বন্ধ থাকলে ধুলার রাজ্যে পরিণত হয় সড়কটির আশপাশ এলাকা। স্থানীয়রা সড়কটি সংস্কারের পাশাপাশি এর দুই পাশে ড্রেন নির্মাণের দাবি জানান।

উপজেলা প্রকৌশলী ফরিদুল ইসলাম বলেন, ‘প্রায় ৬০ লাখ ৯০ হাজার টাকায় সড়কটির প্রথম অংশ থানারমোড় থেকে এক হাজার ৫০০ মিটার এইচবিবি ও কার্পেটিং করার জন্য টেন্ডার আহ্বান করা হয়েছিল। কিন্তু কোনো ঠিকাদার কাজটি করার জন্য আগ্রহ দেখাননি। দ্বিতীয় দফায় আবারও টেন্ডার আহ্বান করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার তা ড্রপিং হবে।’ কথা হলে একাধিক ঠিকাদার জানান, সরকার নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে নির্মাণসামগ্রীর বাজারমূল্য বেশি হওয়ায় ওই কাজের দরপত্রে অংশ নিতে আগ্রহী হচ্ছেন না তাঁরা।

 

সম্পাদক : ইমদাদুল হক মিলন,
নির্বাহী সম্পাদক : মোস্তফা কামাল,
ইস্ট ওয়েস্ট মিডিয়া গ্রুপ লিমিটেডের পক্ষে ময়নাল হোসেন চৌধুরী কর্তৃক প্লট-৩৭১/এ, ব্লক-ডি, বসুন্ধরা, বারিধারা থেকে প্রকাশিত এবং প্লট-সি/৫২, ব্লক-কে, বসুন্ধরা, খিলক্ষেত, বাড্ডা, ঢাকা-১২২৯ থেকে মুদ্রিত।
বার্তা ও সম্পাদকীয় বিভাগ : বসুন্ধরা আবাসিক এলাকা, প্লট-৩৭১/এ, ব্লক-ডি, বারিধারা, ঢাকা-১২২৯। পিএবিএক্স : ০২৮৪০২৩৭২-৭৫, ফ্যাক্স : ৮৪০২৩৬৮-৯, বিজ্ঞাপন ফোন : ৮১৫৮০১২, ৮৪০২০৪৮, বিজ্ঞাপন ফ্যাক্স : ৮১৫৮৮৬২, ৮৪০২০৪৭। E-mail : info@kalerkantho.com