logo
আপডেট : ৩ জানুয়ারি, ২০১৮ ০১:০১
তাঁরা রক্ত দিয়ে জীবন বাঁচান
... ‘একজন মুমূর্ষু রোগীকে বাঁচাতে রক্তের প্রয়োজন’-এমন ডাকের অপেক্ষায় থাকেন সবাই। খবর পেলেই ছোটেন। রোগীর ঠিকানা নিয়ে পৌঁছে যান হাসপাতালে। রক্ত দিয়ে ফেরেন হাসিমুখে। চট্টগ্রাম নগরীর একদল তরুণের এটি প্রতিদিনের কাজ। এসব তরুণ-তরুণী স্বেচ্ছায় রক্ত দিতে গড়ে তুলেছেন ‘সিটিজি ব্লাড ব্যাংক’ নামে অনলাইনভিত্তিক একটি সংগঠন ...

তাঁরা রক্ত দিয়ে জীবন বাঁচান

সবার বয়স ২২ থেকে ২৫ বছর। ‘একজন মুমূর্ষু রোগীকে বাঁচাতে রক্তের প্রয়োজন’-এমন ডাকের অপেক্ষায় থাকেন সবাই। খবর পেলেই ছোটেন। রোগীর ঠিকানা নিয়ে পৌঁছে যান হাসপাতালে। রক্ত দিয়ে ফেরেন হাসিমুখে।

চট্টগ্রাম নগরীর একদল তরুণের এটি প্রতিদিনের কাজ। এসব তরুণ-তরুণী স্বেচ্ছায় রক্ত দিতে গড়ে তুলেছেন ‘সিটিজি ব্লাড ব্যাংক’ নামে অনলাইনভিত্তিক একটি সংগঠন।

সংগঠনটির অ্যাডমিন প্রিমিয়ার বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী সূর্য দাস শোনান জন্মের ইতিকথা। বললেন, ‘আগে থেকে আমাদের কারও সখ্যতা ছিল না। বিভিন্ন সময় রক্ত দিতে গিয়ে একজনের সঙ্গে অন্যজনের পরিচয়। এরপর ফেসবুকে কথাবার্তা। একটা সময় চিন্তা করলাম, নিজেদের একটা প্ল্যাটফরম দরকার। এরপর সবার সঙ্গে আলোচনা। অবশেষে ২০১২ সালে ১২ ডিসেম্বর যাত্রা শুরু।’

সংগঠনটি সম্প্রতি ৫ম বর্ষপূর্তি উদযাপন করেছে। এ উপলক্ষে নগরীর মুসলিম হলে নানা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, চট্টগ্রামের রক্তদাতা সংগঠনগুলোর মধ্যে সিটিজি ব্লাড ব্যাংকের কার্যক্রম বেশি বিস্তৃত। ফেসবুকে এই সংগঠনের অনুসারী (ফলোয়ার) তিন লাখের বেশি। ১২ জন অ্যাডমিন শুরু করেন কার্যক্রম।

অবশ্য এখন অ্যাডমিনের সংখ্যা ২২। প্রত্যেক অ্যাডমিন ইতোমধ্যে কমপক্ষে ১৩ বার করে রক্ত দিয়েছেন। এছাড়া রয়েছে সহকার্যকরী সদস্য ১২২ জন এবং কার্যকরী সদস্য ৫২। তাঁরা প্রতিদিন গড়ে রক্ত জোগাড় করে দেন কমপক্ষে ৩০ ব্যাগ। অবশ্য সবাই যে ছাত্র তা নয়। চাকরিজীবীরাও যুক্ত আছেন এ কার্যক্রমে।

বর্তমান ২২ অ্যাডমিন হলেন ইমরান ইমু, আলতাফ মোহাম্মদ জাহেদ, মোর্শেদুল আলম, ইমাম হোসেন, নিশি আক্তার, ফরহাদ মো. কাউছার, সূর্য দাস, রাজু দেব, মাসুদুর রহমান রুবেল, শোয়েবুল হক চৌধুরী, সোহেল রানা, কে এইস মো. ইউসুফ, নাসির উদ্দীন, আখতার হামিদ, আরমান শরীফ, আশরাফ ভূঁইঞা ফরহাদ, জসিম উদ্দিন, রাজীব দাশ, মোহাম্মদ ইউসুফ, খালেদ হাসান, মং চৌধুরী ও মোহাম্মদ বাপ্পী।

‘আমরা সবাই পরিবারের মতো হয়ে গেছি। ধর্মীয় ভেদাভেদ নেই। নিজেদের ভাইবোন হিসেবে পরিচয় দিতে পছন্দ করি।’-যোগ করেন সূর্য দাস।

রক্তদান করা ছাড়াও এ সংগঠন শীতবস্ত্র বিতরণ, ব্লাড গ্রুপিং, সচেতনতামূলক ক্যাম্পেইন এবং অসহায় রোগীদের সাহায্য করে থাকে।

এ পর্যন্ত সচেতনতামূলক ১০০টি ক্যাম্পেইন করা হয়েছে।

চট্টগ্রামের সব উপজেলার পাশাপাশি সিলেট, টেকনাফ, কক্সবাজার, বান্দরবান, লামা, ফরিদপুর, নওগাঁ, ঢাকার সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে এসব ক্যাম্পেইন অনুষ্ঠিত হয়। ২০১৫ সাল থেকে প্রতিবছর ১৪ জুন বিশ্ব রক্তদাতা দিবসে রক্তদানে বিশেষ ভূমিকা রাখা ব্যক্তিদের ক্রেস্ট প্রদান করে সংগঠনটি।

এ সংগঠনের মাধ্যমে রক্ত পেতে হলে প্রথমে সংগঠনের ফেসবুক পেজে পোস্ট দিতে হবে। এই পোস্ট পাওয়ার পর সংগঠনের অ্যাডমিনরা কিছু তথ্য চেয়ে রক্তের সন্ধানকারীর কাছে মোবাইলে সংক্ষিপ্ত বার্তা (এসএমএস) পাঠান। সন্ধানকারীর কাছ থেকে সেই তথ্য পাওয়ার পর রক্তের গ্রুপ উল্লেখ করে ফেসবুক সদস্যদের চাহিদা জানিয়ে দেওয়া হয়। ‘আমরা অ্যাডমিনরা সার্বক্ষণিকভাবে শেষ পর্যন্ত খবরাখবর রাখি। রক্তের সন্ধান পাওয়ার পর অপেক্ষায় থাকি আরেকজনে চাহিদা জানার অপেক্ষায়।’-বলেন ইমরান ইমু।

অনলাইনে অভ্যস্ত নন, এমন ব্যক্তিদের কীভাবে সেবা দেওয়া হয় জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘০১৭৩৮৪৩৭৭৭৭ মোবাইল নম্বরে ফোন করে রক্তের চাহিদা জানালেও আমরা চাহিদা মাফিক সেবা দিতে সর্বাত্মক চেষ্টা করে থাকি। আমাদের ওয়েবসাইটে গিয়েও সেবা সম্পর্কিত তথ্য পাওয়া যাবে।’ সিটিজি ব্লাড ব্যাংকের ওয়েব সাইটর .িপঃমনষড়ড়ফনধহশ.ড়ত্ম.

তবে কাজ করতে গিয়ে বিড়ম্বনায় পড়ার অভিজ্ঞতাও রয়েছে বলে জানান সাফা মোতালেব মাদ্রাসার শিক্ষক ইমাম হোসেন। তিনি বলেন, ‘২০১৬ সালের ২৯ আগস্ট বিকেল ৫টায় চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজের ৩৭ নম্বর ওয়ার্ডের নিচে গ্রুপের ৩০ জন সদস্য নিয়ে বৈঠক চলছিল। এর মধ্যে পুলিশ জঙ্গি সন্দেহে আমাদের পাঁচলাইশ থানায় নিয়ে যায়। নগরীর বহু গণ্যমান্য ব্যক্তি যাঁরা এই গ্রুপ সম্পর্কে জানতেন এবং যাঁরা এই গ্রুপের সহায়তা পেয়েছেন এমন ব্যক্তিত্বরা খবর পেয়ে আমাদেরকে ছাড়িয়ে নিতে এগিয়ে আসেন। আট ঘণ্টা পর রাত ১টায় আমরা ছাড়া পাই।’

‘এতে অবশ্য লাভও হয়েছে। আমাদের কর্মকাণ্ড নিয়ে প্রশাসনের প্রায় সব মহল জানতে পেরেছে।

তরুণদের অনেকে এখন ১৮ বছর পূর্তি উদযাপন করেন রক্তদান করে। অনেক দম্পতি রক্তদানের মাধ্যমে

বিবাহবার্ষিকী পালন করেন। আমাদের সমাজে এই ধরনের চর্চা নিশ্চয়ই শুভ লক্ষণ। প্রত্যেকে যদি তাঁদের

জন্মদিনে রক্তদান করেন, তাহলে রক্তের চাহিদা পূরণ করা সম্ভব।’

 

সম্পাদক : ইমদাদুল হক মিলন,
নির্বাহী সম্পাদক : মোস্তফা কামাল,
ইস্ট ওয়েস্ট মিডিয়া গ্রুপ লিমিটেডের পক্ষে ময়নাল হোসেন চৌধুরী কর্তৃক প্লট-৩৭১/এ, ব্লক-ডি, বসুন্ধরা, বারিধারা থেকে প্রকাশিত এবং প্লট-সি/৫২, ব্লক-কে, বসুন্ধরা, খিলক্ষেত, বাড্ডা, ঢাকা-১২২৯ থেকে মুদ্রিত।
বার্তা ও সম্পাদকীয় বিভাগ : বসুন্ধরা আবাসিক এলাকা, প্লট-৩৭১/এ, ব্লক-ডি, বারিধারা, ঢাকা-১২২৯। পিএবিএক্স : ০২৮৪০২৩৭২-৭৫, ফ্যাক্স : ৮৪০২৩৬৮-৯, বিজ্ঞাপন ফোন : ৮১৫৮০১২, ৮৪০২০৪৮, বিজ্ঞাপন ফ্যাক্স : ৮১৫৮৮৬২, ৮৪০২০৪৭। E-mail : info@kalerkantho.com