logo
আপডেট : ৩ জানুয়ারি, ২০১৮ ০০:৫৯
পরীক্ষা পাসের আনন্দ


পরীক্ষা পাসের

আনন্দ

মাত্র পাঁচ বছর আগে প্রতিষ্ঠা পাওয়া মিরসরাইয়ের করেরহাট ইউনিয়নের সাইবেনীখিল রূপাইধন ত্রিপুরা প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ১৭ জন শিক্ষার্থী প্রথমবারের মতো ২০১৭ সালের প্রাথমিক সমাপনী পরীক্ষায় (পিইসি) অংশ নেয়। এদের মধ্যে ১৬ জন উত্তীর্ণ হয়েছে। এ খবর ওই সকল শিক্ষার্থীদের কানে পৌঁছাতেই তারা আনন্দে আত্মহারা।

স্কুল পরিচালনা পরিষদের সভাপতি ঊষা ত্রিপুরা কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘দেশের মানুষের কাছে পাড়ার বাচ্চাদের এ কৃতিত্ব খুব একটা বড় বলে মনে না হলেও আমাদের পাড়ার প্রত্যেকটি পরিবারে বইছে খুশির জোয়ার। প্রথমবারের মতো আমাদের বাচ্চারা পিইসি পরীক্ষা দিয়েছে এবং তাদের মধ্যে ১৬ জন কৃতকার্য হয়েছে।’

যেখানে বিদ্যুৎ, সুপেয় পানি, খাদ্য ও মানুষের মৌলিক অধিকারগুলো অনুপস্থিত সে দুর্গম পাহাড়ে ব্যক্তি উদ্যোগে প্রতিষ্ঠা পাওয়া স্কুলটির শিক্ষার্থীদের সফলতায় শিক্ষক, অভিভাবক ও প্রতিষ্ঠাতা সকলেই খুশি। গত ৩০ ডিসেম্বর (শনিবার) দুপুরে প্রাথমিক সমাপনী পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশ হওয়ার আগে থেকে স্কুল কর্তৃপক্ষ পরীক্ষার্থী শিক্ষার্থীদের নিয়ে অপেক্ষার প্রহর গুনছিল। শেষতক বেলা ২টায় অনলাইনে তাদের ফলাফল প্রকাশিত হলে শিক্ষার্থী-শিক্ষক ও অভিভাবকদের মধ্যে খুশির বন্যা বয়ে যায়।

জানা গেছে, উপজেলার করেরহাট ইউনিয়নের দুর্গম পাহাড়ে বসবাস করে শতাধিক আদিবাসী পরিবার। কয়েক বছর পূর্বে রাষ্ট্রের নাগরিক হওয়ার অধিকার প্রতিষ্ঠিত হলেও মৌলিক সকল অধিকার থেকে তারা বঞ্চিত। ২০১৩ সালে এলাকার সুধীজন প্রফেসর ডা. জামসেদ আলম, সাংবাদিক শারফুদ্দীন কাশ্মীর ও আমেরিকা প্রবাসী রেদোয়ান চৌধুরী নিজেদের উদ্যোগে পাড়ার প্রবীণ ব্যক্তি রূপাইধন ত্রিপুরার নামে প্রতিষ্ঠা করেন এ বিদ্যালয়। এখানে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত পাঠদান করা হয়। এ বিদ্যালয়ে শতাধিক আদিবাসী শিশুকে পাঠদান করানো হয়। এছাড়া বিদ্যালয় পরিচালনার জন্য আদিবাসী অভিভাবকদের নিয়ে গঠিত হয়েছে একটি পরিচালনা পরিষদ। যার প্রধান হিসেবে রয়েছেন পাড়ার সর্দার ঊষা ত্রিপুরা।

বিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতাদের অন্যতম প্রফেসর ডা. জামসেদ আলম কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘অনেক কষ্টে দুর্গম পাহাড়ে আমরা বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠা করতে পেরেছি। এবার প্রথমবারের মতো আমাদের শিশুরা পিইসি পরীক্ষায় অংশ নিয়ে কৃতকার্য হওয়ায় বেশ ভালো লাগছে।’

তিনি জানান, বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের পরিচর্যার জন্য রয়েছে একজন সেবিকা। অভিভাবকদের সচেতন করতে প্রতি মাসে আয়োজন করা হয় অভিভাবক সমাবেশ। শুধু তাই নয় বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের বিনা মূল্যে চিকিৎসারও ব্যবস্থা রয়েছে এখানে। আমার মালিকানাধীন হাসপাতালে তাদের বিনা মূল্যে চিকিৎসা দেওয়া হয়। এছাড়া শিক্ষার্থীদের সকল শিক্ষা উপকরণ বিনা মূল্যে সরবরাহ করা হয়।

বিদ্যালয় পরিচালনা পরিষদের সদস্যরা জানান, প্রথম দিকে প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণি পর্যন্ত পাঠদান হতো। বর্তমানে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত উন্নীত হয়েছে। শিক্ষার্থীদের নিয়মিত বাংলা, ইংরেজি ও গণিত বিষয়ে পাঠদান করা হয়। তাদের সকল শিক্ষা উপকরণও বিনা মূল্যে দেওয়া হয়। 

উদ্যোক্তা শারফুদ্দীন কাশ্মীর বলেন, ‘আমরা চেষ্টা করছি অন্তত শিক্ষা প্রদানের মধ্য দিয়ে তাদের যোগ্য নাগরিক হিসেবে গড়ে তোলার। আমরা বিশ্বাস করি শিক্ষার আলো তাদের মানুষের মতো বাঁচতে শেখাবে। তারা নিজেরাই নিজেদের অধিকার প্রতিষ্ঠা করবে। তারা নিজেদের চেষ্টায় শিক্ষা জীবনের একটি ধাপ অতিক্রম করেছে। আগামীতে ইনশাল্লাহ তারা আরো ভালো করবে।’

 

সম্পাদক : ইমদাদুল হক মিলন,
নির্বাহী সম্পাদক : মোস্তফা কামাল,
ইস্ট ওয়েস্ট মিডিয়া গ্রুপ লিমিটেডের পক্ষে ময়নাল হোসেন চৌধুরী কর্তৃক প্লট-৩৭১/এ, ব্লক-ডি, বসুন্ধরা, বারিধারা থেকে প্রকাশিত এবং প্লট-সি/৫২, ব্লক-কে, বসুন্ধরা, খিলক্ষেত, বাড্ডা, ঢাকা-১২২৯ থেকে মুদ্রিত।
বার্তা ও সম্পাদকীয় বিভাগ : বসুন্ধরা আবাসিক এলাকা, প্লট-৩৭১/এ, ব্লক-ডি, বারিধারা, ঢাকা-১২২৯। পিএবিএক্স : ০২৮৪০২৩৭২-৭৫, ফ্যাক্স : ৮৪০২৩৬৮-৯, বিজ্ঞাপন ফোন : ৮১৫৮০১২, ৮৪০২০৪৮, বিজ্ঞাপন ফ্যাক্স : ৮১৫৮৮৬২, ৮৪০২০৪৭। E-mail : info@kalerkantho.com