logo
আপডেট : ২ জানুয়ারি, ২০১৮ ২২:০৭
মাঠ দখল করে দলীয় কার্যালয়

মাঠ দখল করে দলীয় কার্যালয়

ধধুপখোলা মাঠের দক্ষিণ পাশের প্রবেশ মুখের দুই পাশে দুটি রাজনৈতিক দলের কার্যালয়

ধুপখোলা খেলার মাঠটি এখন অবৈধ দখলদারদের কবলে। মাঠটির চারদিকে সিটি করপোরেশনের বেশ কিছু দোকান রয়েছে। তবে মাঠের দক্ষিণ পাশের প্রবেশ মুখের দুই পাশে দুটি রাজনৈতিক দলের কার্যালয়। মাঠের প্রবেশ মুখের ডানে রয়েছে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ গেণ্ডারিয়া থানার অফিস আর হাতের বামে রয়েছে জাতীয় পার্টির গেণ্ডারিয়া থানার অফিস।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, দুই অফিসেই রয়েছে মাঠের দেয়াল নির্মিত বাউন্ডারির দোতলায়। যদিও অফিস দুটি ছাড়া আর কোথাও বাউন্ডারির ওপরে দোতলা নেই। স্থানীয় বেশ কয়েজন দোকানদারের সঙ্গে কথা বলে জানা গেল, এই অফিস দুটির আসলে কোনো অনুমোদন নেই। এ ছাড়া তারা নিজেরাই অফিস নির্মাণের জন্য অতিরিক্ত একতলা নির্মাণ করে নিয়েছে।

দলীয় অফিসের কারণে কেউ এ ব্যাপারে মুখ খুলতেও রাজি নয়। সব মিলে দলীয় দখলের কবলে পড়েছে রাজধানীর বিখ্যাত এ মাঠটি। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় এক টেইলার্সের দোকানদার বলেন, ‘আমাদের এখানে যে ক্লাবঘর (দলীয় অফিস) আছে, তারা বিভিন্ন দিবস বা অনুষ্ঠান উপলক্ষে আমাদের কাছে টাকা নেয়। আমাদের বাধ্য হয়ে দিতে হয়। এখানে ব্যবসা করতে হলে দিতে হবে।’ কারা চাঁদা তোলে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘ক্লাবের ছেলেরা চাঁদা নেয়।’ কোন ক্লাব জানতে চাইলে তিনি গেণ্ডারিয়া থানা আওয়ামী লীগের কার্যালয় দেখিয়ে ক্লাবের কথা বলেন। না দিলে কী হবে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘বুঝেনই তো দলীয় ছেলেরা চাইছে!’

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক চা বিক্রেতা বলেন, ‘এখানে যাঁরা দোকান করেন, তাঁদের কাছ থেকে নিয়মিত চাঁদা নেওয়া হয়।’ একাধিক দোকানদারের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, তাঁরা দুই ক্লাবঘরকে (আওয়ামী লীগ ও জাতীয় পার্টির দলীয় অফিস) বিভিন্ন অনুষ্ঠান উপলক্ষে চাঁদা দিয়ে থাকেন। চাঁদা না দিলে তাঁদের বিভিন্নভাবে হুমকি দেওয়া হয়। এদিকে মাঠের তিন অংশের মধ্যে যে অংশ সিটি করপোরেশনের অধীনে, সেখানে ময়লা-আর্বজনার স্তূপ। ছড়িয়ে-ছিটিয়ে আছে ইট-পাথরসহ বিভিন্ন নির্মাণসামগ্রী। রয়েছে কয়েকটি চায়ের দোকানও। বিকেলে সেখানে বিক্রি হয় চটপটি, নুডলসসহ অন্যান্য খাবার। মাঠটির দক্ষিণ পাশে রিকশা গ্যারেজসহ বেশ কয়েকটি ট্রাকও রাখা আছে। আরেকাংশে রাখা হয়েছে মাইক্রোবাস, ট্রাক ও রিকশা। কোথাও কোথাও বেঁধে রাখা হয়েছে গরু-ছাগল। মাঠের সীমানার মধ্যেই টিনের চালা তুলে চায়ের স্টল নির্মাণ করা হয়েছে। এসব চায়ের দোকান ও ট্রাক পার্কিংয়ের জন্যও নেওয়া হয় নির্দিষ্ট হারে টাকা। এলাকাবাসীর অভিযোগ, মাঠের যত অপব্যবহার সবই করছেন স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতারা।

সাত একর জমির ওপর ধুপখোলা খেলার মাঠটিকে ১৯৮৪ সালে এরশাদের শাসনামলে তিন ভাগে ভাগ করা হয়। তার এক ভাগ দেওয়া হয় তৎকালীন জগন্নাথ কলেজকে। আরেকটি অংশ ‘ইস্ট অ্যান্ড খেলার মাঠ’ নামে একটি ক্লাবের কর্তৃত্বে রয়েছে। অন্য অংশটি রাখা হয় জনসাধারণের জন্য।

মাঠের দোকানগুলো থেকে চাঁদা তোলার বিষয়ে জানতে চাইলে গেণ্ডারিয়া থানা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও ৪৬ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর শহীদ উল্লাহ বলেন, ‘গেণ্ডারিয়া থানার অফিসটি মাঠের জায়গায়ই করা হয়েছে। এর জন্য কোনো অনুমতি আমরা পাইনি। তবে আমি এই অফিসে বসি না। আমি সেখানে কোনো দিন যাইনি। মাঠের কাছেই গেণ্ডারিয়া থানা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক লিয়াকত শিপনের বাসা হওয়ায় তিনি ওখানে বসেন। সব জায়গায় কিছু অতি উৎসাহী মানুষ থাকেন, যাঁরা আসলে এগুলো করে বেড়ান। আর চাঁদার বিষয়টি আমি এই নতুন শুনলাম। চা দোকানদাররা চাঁদা না দিলেই হয়।’ তিনি আরো বলেন, ‘মাঠের পশ্চিম দিকে রয়েছে জাতীয় পার্টির অফিস। তারা এখানকার স্থানীয় সংসদ সদস্য কাজী ফিরোজ রশিদের নাম ভাঙিয়ে অফিস খুলেছে।’

অফিসের বিষয়টি জানতে চাইলে জাতীয় পার্টির এক সদস্য শরফুদ্দিন আহম্মেদ শিপু বলেন, ‘আমাদের থানার অফিস হিসেবে আমরা এটি ব্যবহার করি। আমাদের এমপি (ঢাকা-৬, কাজী ফিরোজ রশিদ) এখানে আমাদের অস্থায়ীভাবে কার্যালয় করতে বলেছেন।’ সিটি করপোরেশনের জায়গায় অফিসের বিষয়টি অনুমোদিত কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘না, এটার এখনো অনুমতি পাইনি।’

এ বিষয়টি জানতে স্থানীয় ৪৫ নম্বর কাউন্সিলর আব্দুল কাদিরকে ফোন দিলে তাঁকে পাওয়া যায়নি। ধুপখোলা মাঠের জায়গায় দলীয় অফিস নির্মাণে বিষয়টি জানতে চাইলে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী খান মোহাম্মাদ বেলাল বলেন, ‘একটি সরকারি সম্পত্তি, কোনো দল বা গোষ্ঠী অবৈধভাবে ব্যবহার করতে পারে না।’ তিনি আরো বলেন, ‘আমি খোঁজ নিয়ে জানার চেষ্টা করব, সেখানে কারা দখল করে—কিভাবে আছে।’ এ ছাড়া তিনি বলেন, ‘মাঠের সার্বিক উন্নয়নের জন্য ২০০ কোটি টাকা ব্যয়ে সিঙ্গাপুর ও মালয়েশিয়ার শিশু পার্কের আদলে মাঠটিতে প্রযুক্তিসম্পন্ন আধুনিক শিশু পার্ক নির্মাণ করার কথা থাকলেও এলাকার জনসাধারণের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে এ পরিকল্পনা থেকে সরে এসেছে সিটি করপোরেশন। তবে নতুন পরিকল্পনা অনুযায়ী সেখানে গ্যালারিসহ খেলার মাঠ ও শিশু কর্নার হবে। সেখানে শিশুদের জন্য থাকবে বিভিন্ন রাইড। এ ছাড়া নতুন পরিকল্পনায় মাঠটির পশ্চিম পাশে একটি বহুতল মার্কেট নির্মাণ করার কথা আছে। এ জন্য মাঠের চারপাশে থাকা দোকানগুলো স্থানান্তর করে এই মার্কেট করা হবে। চারপাশে দেয়ালের পরিবর্তে গ্রিলের ব্যবস্থা করা হবে। আশা রাখি এ প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে এসব সমস্যা দূর হবে এবং মাঠটি ব্যবহার উপযোগী হবে বলে মনে করি।’ কবে নাগাদ কাজ শুরু হবে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘প্রকল্পটি প্রক্রিয়াধীন। আমরা খুব অল্প সময়ের মধ্যেই কাজ শুরু করব।’

সম্পাদক : ইমদাদুল হক মিলন,
নির্বাহী সম্পাদক : মোস্তফা কামাল,
ইস্ট ওয়েস্ট মিডিয়া গ্রুপ লিমিটেডের পক্ষে ময়নাল হোসেন চৌধুরী কর্তৃক প্লট-৩৭১/এ, ব্লক-ডি, বসুন্ধরা, বারিধারা থেকে প্রকাশিত এবং প্লট-সি/৫২, ব্লক-কে, বসুন্ধরা, খিলক্ষেত, বাড্ডা, ঢাকা-১২২৯ থেকে মুদ্রিত।
বার্তা ও সম্পাদকীয় বিভাগ : বসুন্ধরা আবাসিক এলাকা, প্লট-৩৭১/এ, ব্লক-ডি, বারিধারা, ঢাকা-১২২৯। পিএবিএক্স : ০২৮৪০২৩৭২-৭৫, ফ্যাক্স : ৮৪০২৩৬৮-৯, বিজ্ঞাপন ফোন : ৮১৫৮০১২, ৮৪০২০৪৮, বিজ্ঞাপন ফ্যাক্স : ৮১৫৮৮৬২, ৮৪০২০৪৭। E-mail : info@kalerkantho.com