logo
আপডেট : ৮ ডিসেম্বর, ২০১৭ ০১:০২
বগুড়া থেকে নব্য জেএমবির শীর্ষস্থানীয় চার জঙ্গি গ্রেপ্তার

বগুড়া থেকে নব্য জেএমবির শীর্ষস্থানীয় চার জঙ্গি গ্রেপ্তার

নব্য জেএমবির উত্তরবঙ্গের সামরিক প্রধানসহ চারজনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ হেডকোয়ার্টার্সের ইন্টেলিজেন্স শাখা ও বগুড়া জেলা পুলিশ। ছবি : কালের কণ্ঠ

নব্য জেএমবির উত্তরবঙ্গ সামরিক প্রধানসহ শীর্ষস্থানীয় চার জঙ্গিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। গত বুধবার গভীর রাতে বগুড়ার শিবগঞ্জ উপজেলার মোকামতলা বাজার থেকে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। তাদের কাছ থেকে বিদেশি পিস্তল, গুলি এবং বেশ কয়েকটি ধারালো অস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে।

পুলিশ বলছে, ঢাকায় বড় ধরনের হামলার পরিকল্পনা ছিল ওই জঙ্গিদের। ঢাকা যাওয়ার পথে তাদের অস্ত্রসহ গ্রেপ্তার করা হয়।

পুলিশ জানায়, উত্তরাঞ্চলের যেসব জেলায় অতীতে জেএমবির তৎপরতা ছিল, সেসব এলাকায়ই এখন ঘাঁটি গেড়েছে নব্য জেএমবি। সম্প্রতি রাজশাহী, চাঁপাইনবাবগঞ্জসহ উত্তরাঞ্চলের বিভিন্ন স্থানে নব্য জেএমবির একাধিক আস্তানায় অভিযান চালানো হয়। এরই ধারাবাহিকতায় বুধবার রাত ১টার দিকে বগুড়ায় এই অভিযান চালানো হলো।

গ্রেপ্তার জঙ্গিরা হলো নব্য জেএমবির রাজশাহী ও রংপুর বিভাগের সামরিক প্রধান ও শুরা সদস্য, দিনাজপুরের বিরামপুরের কসবা সাগরপুরের মৃত শফিকুল ইসলামের ছেলে বাবুল আক্তার ওরফে বাবুল মাস্টার ওরফে মাস্টার (৪৫); শুরা সদস্য, বগুড়ার শেরপুর উপজেলার গাড়িদহ জোয়ানপুর জঙ্গি আস্তানা থেকে অস্ত্র, গুলিসহ পালিয়ে যাওয়া প্রধান আসামি, সাতক্ষীরা সদর উপজেলার তলোইগাছা গ্রামের মৃত আব্দুল করিমের ছেলে আলমগীর হোসেন ওরফে আরিফ (২৮); নওগাঁর মান্দা উপজেলার পারইল আছির হাজীপাড়ার মৃত লোকমান আলীর ছেলে দেলোয়ার হোসেন ওরফে মিস্ত্রি ওরফে মিজানুর রহমান (৩৯) এবং শীর্ষস্থানীয় জঙ্গি নেতা রাজীব গান্ধীর ঘনিষ্ঠ সহযোগী, গাজীপুরের কাপাসিয়া উপজেলার আড়াল গ্রামের আহম্মদ আলীর ছেলে আফজাল হোসেন ওরফে লিমন (৩২)।

বগুড়া পুলিশের গণমাধ্যম শাখার প্রধান, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সনাতন চক্রবর্তী জানান, বগুড়া জেলা পুলিশ এবং পুলিশ সদর দপ্তরের এলআইসি শাখা এই চার জঙ্গিকে গ্রেপ্তার করেছে। তাদের কাছ থেকে একটি নাইন এমএম বিদেশি পিস্তল, ১৫ রাউন্ড গুলি, ম্যাগাজিন, একটি চাপাতি এবং চারটি বার্মিজ চাকু উদ্ধার করা হয়েছে।

অতিরিক্ত ডিআইজি (বগুড়ার দায়িত্বপ্রাপ্ত পুলিশ সুপার) আসাদুজ্জামান বলেন, রাজধানীর গুলশানে হলি আর্টিজানে জঙ্গি হামলার অন্যতম পরিকল্পনাকারী রাজীব গান্ধী গ্রেপ্তার হওয়ার পর বাবুল আকতার নব্য জেএমবির উত্তরবঙ্গের সামরিক শাখার নেতৃত্বে আসেন। তাঁর বাড়ি দিনাজপুরের বিরামপুরে।

আসাদুজ্জামান বলেন, ‘ঢাকায় বড় ধরনের হামলার পরিকল্পনা ছিল ওই জঙ্গিদের। পরিকল্পনা অনুযায়ী তারা ঢাকায় যাওয়ার পথে তাদের অস্ত্রসহ গ্রেপ্তার করা হয়।’

পুলিশ বলছে, গ্রেপ্তার হওয়া জঙ্গিরা প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানিয়েছে—যেসব জঙ্গির বাড়ি উত্তরাঞ্চলে, কিন্তু দেশের বিভিন্ন জেলায় তৎপর ছিল এখন তাদের অনেকে নিজ এলাকায় ফিরে আসছে। কারণ এখন ঢাকাসহ বিভিন্ন জেলা শহরে বাড়ি ভাড়া নেওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে। তাই তারা এলাকায় ফিরে নিজ বাড়িতেই আস্তানা গড়ে তুলছে।

ওই চার শীর্ষস্থানীয় জঙ্গি গ্রেপ্তার ও অস্ত্র উদ্ধার ঘটনার মামলার তদন্ত কর্মকর্তা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশের এসআই ফারুকুল ইসলাম জানান, গতকাল বৃহস্পতিবার বিকেলে জঙ্গিদের আদালতে তুলে রিমান্ডের আবেদন জানানো হয়। বগুড়ার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক শরিফুল ইসলাম জঙ্গি দেলোয়ার ছাড়া বাকি তিনজনের পাঁচ দিন করে রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

বাবুল মাস্টার : পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ২০০৩ সালে জেএমবিতে যোগ দেন তিনি। ২০১৩ সাল পর্যন্ত জেএমবিতে থেকে উত্তরাঞ্চলে দাওয়াতি কার্যক্রম পরিচালনা করতেন। ২০১৪ সালে নব্য জেএমবিতে যোগ দেন। চলতি বছরের প্রথম দিকে উত্তরবঙ্গের সামরিক প্রধানের দায়িত্ব পান। গত মে মাসে নব্য জেএমবির শুরা সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পান তিনি।

২০১৫ সালের ১০ নভেম্বর রংপুরের কাউনিয়া উপজেলার খাদেম রহমত আলী হত্যা মামলার অভিযোগপত্রভুক্ত অন্যতম আসামি বাবুল মাস্টার।

দেলোয়ার ওরফে মিজানুর : ২০০৫ সালে জেএমবিতে যোগ দিয়ে ২০১২ সাল পর্যন্ত সেই সংগঠনে থেকে নওগাঁ, নাটোর, রাজশাহী ও চাঁপাইনবাবগঞ্জে দাওয়াতি কার্যক্রম চালিয়েছেন দেলোয়ার। ২০১৩ সালে নতুন জঙ্গি সংগঠন জুনুদ আত তাওহীদ আল খিলাফাহে যোগ দেন। ২০১৪ সালে নব্য জেএমবিতে যোগ দিয়ে নওগাঁ, জয়পুরহাট, নাটোর, সিরাজগঞ্জ ও বগুড়া জেলার দায়িত্বশীল নেতা হিসেবে কাজ করেন। জেএমবির বোমা বিশেষজ্ঞ চট্টগ্রামের সামরিক কমান্ডার ফারদিনের একান্ত সহযোগী ছিল দেলোয়ার।

২০১৫ সালের ২৫ ডিসেম্বর রাজশাহীর বাঘমারা উপজেলায় আহম্মদিয়া মসজিদে আত্মঘাতী হামলার প্রধান পরিকল্পনাকারী এই দেলোয়ার। ওই হামলায় অভিযুক্ত আনোয়ার হোসেন ওরফে নাঈম (২০১৬ সালে রাজশাহীতে পুলিশের সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে নিহত) তাঁর আপন ছোট ভাই। দেলোয়ারের আরেক ছোট ভাই মোয়াজ্জেম গত ১৬ নভেম্বর নওগাঁর আত্রাই থেকে গ্রেপ্তার হয়।

দেলোয়ারের চার ভাই, এক ভাতিজা (২০১৬ সালে বগুড়ায়  গ্রেপ্তার হওয়া খায়রুল) ও এক ভাগ্নে (পলাতক মেহেদী হাসান) নব্য জেএমবির সক্রিয় সদস্য।

সম্পাদক : ইমদাদুল হক মিলন,
নির্বাহী সম্পাদক : মোস্তফা কামাল,
ইস্ট ওয়েস্ট মিডিয়া গ্রুপ লিমিটেডের পক্ষে ময়নাল হোসেন চৌধুরী কর্তৃক প্লট-৩৭১/এ, ব্লক-ডি, বসুন্ধরা, বারিধারা থেকে প্রকাশিত এবং প্লট-সি/৫২, ব্লক-কে, বসুন্ধরা, খিলক্ষেত, বাড্ডা, ঢাকা-১২২৯ থেকে মুদ্রিত।
বার্তা ও সম্পাদকীয় বিভাগ : বসুন্ধরা আবাসিক এলাকা, প্লট-৩৭১/এ, ব্লক-ডি, বারিধারা, ঢাকা-১২২৯। পিএবিএক্স : ০২৮৪০২৩৭২-৭৫, ফ্যাক্স : ৮৪০২৩৬৮-৯, বিজ্ঞাপন ফোন : ৮১৫৮০১২, ৮৪০২০৪৮, বিজ্ঞাপন ফ্যাক্স : ৮১৫৮৮৬২, ৮৪০২০৪৭। E-mail : info@kalerkantho.com