logo
আপডেট : ৭ ডিসেম্বর, ২০১৭ ২৩:৩২
দু-দুটি চোখ জুড়ানো গোল

দু-দুটি চোখ জুড়ানো গোল

ক্রীড়া প্রতিবেদক : দু-দুটি জাদুকরী মুভে দুই দেশির দৃষ্টিনন্দন গোলে রাঙিয়ে গেল প্রিমিয়ার ফুটবল লিগ। দুর্ভাগ্য ফুটবলের, গোল দুটি দেখার জন্য বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়ামে হাজারখানেক দর্শকও হাজির ছিল না। ফুটবলানুরাগীদের অগোচরেই থেকে যাবে মতিন মিয়ার পায়ে ‘ম্যারাডোনার গোল’-এর সুরভি! তাঁর গোলে সাইফ ২-০ গোলে হারিয়েছে মুক্তিযোদ্ধাকে। সুবাদে ৩০ পয়েন্ট নিয়ে তারা চতুর্থ স্থানেই আছে। অন্যদিকে রাজন মিয়া দুর্দান্ত গোল করেও জেতাতে পারেননি আরামবাগকে। শেষ মুহূর্তে সিও জুনাপিওর গোলে ব্রাদার্স ১-১ গোলে ম্যাচ ড্র করে। তাতে অষ্টম স্থানে থাকা আরামবাগের সংগ্রহ ১৫ পয়েন্ট এবং নবম দল ব্রাদার্সের ১৪ পয়েন্ট।   

মতিন মিয়ার গোলে ম্যারাডোনার ছায়া খুঁজছেন সাংবাদিকরা! কাউন্টারে নিজেদের বক্সের একটু বাইরে থেকে বল ধরে প্রথমবার প্রিমিয়ারে নাম লেখানো সিলেটের এই তরুণ দেখিয়েছেন দু-পায়ের কারুকাজ। সাপের মতো এঁকেবেঁকে এক এক করে প্রতিপক্ষের চারজনকে ছিটকে ফেলে পৌঁছে যান মুক্তিযোদ্ধার পেনাল্টি বক্সে। সেখানে বডি ডজে গোলরক্ষক আজাদকে বোকা বানিয়ে মুক্তিযোদ্ধার জালে বল পৌঁছে দিয়ে আনন্দে মেতেছেন। এমন গোলের জন্য লাগে গ্যালারিভরা দর্শক, যারা দাঁড়িয়ে করতালি দিয়ে কুর্নিশ করবে গোলদাতাকে। সেটা যখন হওয়ার নয়, তখন দর্শকহীন মাঠে খেলোয়াড়রা মিলেই আনন্দ-উল্লাসে মুহূর্তটা স্মরণীয় করে রাখার চেষ্টা করেছেন। অথচ মতিন বদলি হয়ে নেমেছিলেন ৮১ মিনিটে, আর ইনজুরি টাইমে অমন অসাধারণ গোল উপহার দিয়ে ২-০তে জিতিয়েছেন সাইফ স্পোর্টিংকে। এই জয়কে ছাপিয়ে গিয়ে ম্যাচ শেষে বড় হয়ে উঠেছে মতিনের জাদুকরী গোল, কোচ রায়ান নর্থমোর তুলনা দিয়েছেন এভাবে, ‘ঢাকার ট্রাফিক জ্যামে যেভাবে চলতে হয়, সেভাবেই বল নিয়ে এগিয়ে গিয়ে গোল করেছে মতিন। দুর্দান্ত সুন্দর এক গোল।’

তবে প্রথমার্ধে সাইফের খেলায় ছিল না এত আধিপত্য। ৩২ মিনিটে বরং মুক্তিযোদ্ধাই প্রথম জালে বল পাঠিয়েছিল। তৌহিদের ক্রসে নাইজেরিয়ান ম্যাগালান আউয়ালা বল জালে জড়িয়ে দিলেও গোলরক্ষক পাপ্পু হাসানের গায়ে একটুখানি বুটের খোঁচা লেগেছিল বলে বেঁচে যায় সাইফ। তবে ৪২ মিনিটে কাউন্টার অ্যাটাকে দুই ডিফেন্ডারকে ছিটকে ফেলে ইংলিশ ফরোয়ার্ড চার্লি শেরিংহাম বল মুক্তিযোদ্ধার জালে পাঠিয়ে এগিয়ে নেন সাইফকে। বিরতির পর ফেরে তাদের সেই অপ্রতিরোধ্য গতি। সঙ্গে চলতে থাকে গোল মিসের মহড়া এবং গোলরক্ষক আজাদের অবিশ্বাস্য সেভ। ৫২ মিনিটে হাইতিয়ান ফরোয়ার্ড ওয়েডসন অ্যানসেলমের লং বলটি গোলরক্ষকের সামনে ড্রপের পর ক্রসবারে লেগে ফিরলে সেই ফিরতি বলে জুয়েল রানার শট ঠেকিয়েছেন আজাদ। এ রকম গোল মিসের মহড়ার পরই ইনজুরি টাইমে মতিন মিয়ার জাদুকরী মুভের জন্ম।

মতিনের গোলটি একক নৈপুণ্যে ভাস্বর হলেও আরামবাগের রাজন মিয়ার গোলটি একটা দলগত মুভের গোলের রূপায়ণ। ৪৯ মিনিটে বাঁদিক থেকে সোহেল মিয়ার সঙ্গে একটা ওয়াল খেলে ঢুকে পড়েন বক্সে। তারপর ডান পায়ের বুটের ডগায় বল তুলে দেন ব্রাদার্সের জালে। এরপর ব্যবধান বাড়ানোর সুযোগ পেয়েও কাজে লাগাতে পারেনি আরামবাগ। উল্টো ৮৩ মিনিটে খেয়ে বসে, এনামুলের ক্রসে কঙ্গোর সিও জুনাপিওর ভলিতে ১-১ গোল ম্যাচ ড্র করে ব্রাদার্স ইউনিয়ন।

সম্পাদক : ইমদাদুল হক মিলন,
নির্বাহী সম্পাদক : মোস্তফা কামাল,
ইস্ট ওয়েস্ট মিডিয়া গ্রুপ লিমিটেডের পক্ষে ময়নাল হোসেন চৌধুরী কর্তৃক প্লট-৩৭১/এ, ব্লক-ডি, বসুন্ধরা, বারিধারা থেকে প্রকাশিত এবং প্লট-সি/৫২, ব্লক-কে, বসুন্ধরা, খিলক্ষেত, বাড্ডা, ঢাকা-১২২৯ থেকে মুদ্রিত।
বার্তা ও সম্পাদকীয় বিভাগ : বসুন্ধরা আবাসিক এলাকা, প্লট-৩৭১/এ, ব্লক-ডি, বারিধারা, ঢাকা-১২২৯। পিএবিএক্স : ০২৮৪০২৩৭২-৭৫, ফ্যাক্স : ৮৪০২৩৬৮-৯, বিজ্ঞাপন ফোন : ৮১৫৮০১২, ৮৪০২০৪৮, বিজ্ঞাপন ফ্যাক্স : ৮১৫৮৮৬২, ৮৪০২০৪৭। E-mail : info@kalerkantho.com