logo
আপডেট : ৭ ডিসেম্বর, ২০১৭ ২৩:৩২
টি-টোয়েন্টির দাবি মেটাচ্ছেন যাঁরা

টি-টোয়েন্টির দাবি মেটাচ্ছেন যাঁরা

ক্রীড়া প্রতিবেদক : ক্রিকেট পরিসংখ্যানের খেলা। সেঞ্চুরি, রান, জুটি, সেরা বোলিং, সর্বোচ্চ উইকেটের রেকর্ড ভাঙা-গড়া হচ্ছে নিত্য। তবে সবটাই কি আর পরিসংখ্যান? কখনো কখনো এই সংখ্যাগুলো ধোঁকাও দেয়। একটা সেঞ্চুরিও কোনো দলের হারের কারণ হতে পারে যেমন, তেমনি ছোট্ট ইনিংসও হতে পারে ম্যাচের নির্ণায়ক। সীমিত ওভারের ক্রিকেটে বিশেষ করে টোয়েন্টি-টোয়েন্টিতে পরিসংখ্যান প্রায়ই আড়ালে পড়ে যায় প্রভাব বিস্তারকারী নৈপুণ্যে। ‘ইমপ্যাক্ট’ ক্রিকেটার বলে তাঁদের।

বিপিএল পঞ্চম আসরের গ্রুপ পর্ব পর্যন্ত পরিসংখ্যান বলছে আসরের সফলতম ব্যাটসম্যান রবি বোপারা, ১২ ম্যাচে ৪৫.৬২ গড়ে ৩৬৫ রান। এই তালিকার শীর্ষ পাঁচে রংপুর রাইডার্সের আরেকজন আছেন, ২৯৯ রান করা মোহাম্মদ মিঠুন। অথচ ফাইনালের দরজা খোলা যে চারটি দলের সামনে, এর মধ্যে সবচেয়ে ভঙ্গুর রংপুরের ব্যাটিং। শিরোপাপ্রত্যাশী দলটির সেরা চারে উত্তরণ মূলত বোলারদের হাত ধরে। ধারাবাহিকতা দিয়ে দলকে অক্সিজেন জুগিয়েছেন ঠিকই বোপারা-মিঠুন, তবে রংপুরের ব্যাটিং শৌর্য-বীর্যের প্রতীক হয়ে আছেন মাশরাফি বিন মর্তুজা ও থিসারা পেরেরা। দুজনেরই যে ম্যাচের ভাগ্য নির্ণায়ক ইনিংস আছে! মাশরাফি-পেরেরারা খুব বেশি রান করেননি। তবে টি-টোয়েন্টির দাবি মেটানো স্ট্রাইক রেট রয়েছে দুজনেরই, মাশরাফির ১৫২.৩২ আর পেরেরার ১৪১.৭৯। লোয়ার অর্ডারের কাছে এমনটাই চায় দল।

টি-টোয়েন্টির আগুনে ক্রিকেটে ইনিংস গড়ের চেয়ে স্ট্রাইক রেটের কদর বেশি। স্ট্রাইক রেটের দাবি মেটাতে ঝুঁকি নিতে হয়। তবে খেলা তো মোটে ২০ ওভারের। তাই ঝুঁকি নিয়ে একজন বিদায় নিলেও ডাগআউটে ছটফট করতে থাকেন আরো অনেক মারকুটে। তাই বোপারার ধারাবাহিকতার চেয়ে ঢাকা ডায়নামাইটসের এভিন লুইস কিংবা সুনীল নারিনের ব্যাটিং শুধু রোমহর্ষকই নয়, কার্যকরও। গতবারের চ্যাম্পিয়নরা তাই জেতে আয়েশে আর রংপুর রাইডার্সকে জিততে হয় ‘আইসিইউ’তে উদ্বেগাকুল ‘অবজারভেশন পিরিয়ড’ কাটিয়ে ম্যাচের অন্তিমলগ্নে।

স্ট্রাইক রেটকে মানদণ্ড ধরলে এবারের বিপিএল ওয়েস্ট ইন্ডিজের দখলে! এভিন লুইসের (স্ট্রাইক রেট ১৬০.৫৭) মতো শীর্ষ মারদাঙ্গা ব্যাটসম্যানদের তালিকায় আছেন আরো অনেক ক্যারিবীয়—ঢাকারই নারিন (১৫১.২৮), কিয়েরন পোলার্ড (১৬৪.২২), রাজশাহী কিংসের ড্যারেন সামি (১৬৮.১৮), খুলনা টাইটানসের কার্লোস ব্রাথওয়েট (১৭৮.৫৭) এবং রংপুর রাইডার্সের  ক্রিস গেইল (১৪৪.৮২)। সারা বিশ্বের ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেটে উত্তর আমেরিকার দ্বীপবাসীদের কদর তো আর অকারণেই বেশি নয়! বেচারা লুক রংকি, সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহকদের শীর্ষ তিনে থাকা এই নিউজিল্যান্ডারের স্ট্রাইক রেটই সবচেয়ে বেশি; ১৬৯.৮৪। তবু তাঁর দল চিটাগং ভাইকিংসই কিনা সবার আগে ছিটকে গেছে টুর্নামেন্ট থেকে। দক্ষিণ আফ্রিকার ক্যামেরন ডেলপোর্টও (১৬৩.২৯) ঢাকাকে দিয়েছেন উড়ন্ত সূচনা।

কমপক্ষে দুই শ রান করা বাংলাদেশিদের মধ্যে দেড় শর বেশি স্ট্রাইক রেট নেই কোনো ব্যাটসম্যানেরই। তবে ১৪০.৫৪ স্ট্রাইক রেটও মন্দ কি? ১১ ম্যাচে ১০ ইনিংসে এই স্ট্রাইক রেটে ২০৮ রান করা আরিফুল হক ব্যাট হাতে ম্যাচও জিতিয়েছেন খুলনা টাইটানসকে। রাজশাহী কিংসের জাকির হাসানও (১৪২.০১) নজর কেড়েছেন। সে তুলনায় জাতীয় দলের টি-টোয়েন্টি ব্রিগেডের বিধ্বংসী ব্যাটিং দেখেনি এবারের বিপিএল। নিয়মিতদের মধ্যে কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ানসের অধিনায়ক তামিম ইকবালই সেরা (৮ ম্যাচে ২৬৫ রান, স্ট্রাইক রেট ১৩০.৫৪)। বিভিন্ন সময় যাঁকে নিয়ে সবচেয়ে বেশি উৎকণ্ঠিত দেখায় নির্বাচকদের, খুলনা টাইটানসের অধিনায়ক সেই মাহমুদ উল্লাহ (১১ ম্যাচে ২৯২ রান, স্ট্রাইক রেট ১২৪.৭৮) আর তামিমের মাঝখানে রয়েছেন সিলেট সিক্সার্সের সাব্বির রহমান (১১ ম্যাচে ২১১ রান, স্ট্রাইক রেট ১২৫.৫৯)। বাকিদের কারোর অবস্থাই সুবিধার নয়। ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেটে বাংলাদেশের ব্যস্ততম তারকা সাকিব আল হাসানের ব্যাটেও বিষাদের রং, ১১ ম্যাচে ১৭৬ রান আর স্ট্রাইক রেট মোটে ১১৯.৭২।

তিনি অলরাউন্ডার, তাই বল হাতে দুর্দান্ত প্রত্যাবর্তনের গল্পও লিখে ফেলেছেন ঢাকা ডায়নামাইটসের অধিনায়ক সাকিব। ১১ ম্যাচে ১৯ উইকেট নিয়ে সফলতম বোলারদের তালিকার শীর্ষে আছেন, সঙ্গে গড়টাও চোখে পড়ার মতো— ১২.৯৪। তবে এই ফরম্যাটে ডট বলের কদরই বেশি। সেখানেও স্থানীয়দের মধ্যে দ্বিতীয় স্থানে সাকিব, ৬.৩৩ ইকোনমি রেট নিয়ে। গ্রুপ পর্বে কমপক্ষে ২০ ওভার বোলিং করাদের তালিকার শীর্ষে রংপুর রাইডার্সের সোহাগ গাজী (৬.২৭)। এবারের আসরে অলরাউন্ডারের লড়াইয়ের মঞ্চে সাকিবের জোর প্রতিদ্বন্দ্বী রয়েছেন দুজন। তাঁদের একজন আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টি থেকে অবসর নেওয়া মাশরাফি, ১১ ম্যাচে ১৩ উইকেট নেওয়া রংপুর রাইডার্স অধিনায়কের ইকোনমি রেট ৬.৫৮। অন্যজন মাহমুদ উল্লাহ ১১ ম্যাচে ৬ উইকেট নিয়েছেন ওভারপিছু ৬.৪০ রান দিয়ে। ওভারপিছু ৭-এর নিচে রান দিয়েছেন স্থানীয় আরো তিন বোলার—কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ানসের মেহেদী হাসান (৬.৭৩), রংপুর রাইডার্সের নাজমুল ইসলাম (৬.৮৫) ও রাজশাহী কিংসের মেহেদী হাসান মিরাজ (৬.৮৮)। অত্যাশ্চর্য ব্যাপার হলো, এই বোলারদের মাঝে একমাত্র সাকিবই বাংলাদেশের টি-টোয়েন্টি দলে নিয়মিত। আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে সাকিবের সঙ্গী বোলারদের ওপর আলো না ফেলাই ভালো, পরিস্থিতি খুব একটা সুবিধের নয় যে! এঁদের মধ্যে কুমিল্লার মোহাম্মদ সাইফুদ্দিনকে অবশ্য আলাদা করা যায়। ১১ ম্যাচে ১৫ উইকেট নিয়ে দলের সাফল্যে ভূমিকা আছে এই তরুণের। তা ছাড়া ৭.৪৩ ইকোনমি রেট খুব মন্দও নয় টি-টোয়েন্টির তুলকালাম ক্রিকেটে।

অবধারিতভাবে বোলিং বিচারেও বিপিএলের সেরা বিদেশিরা। ৭ ম্যাচ খেলেই রশিদ খান দেশে ফিরে যাওয়ায় নিশ্চয় স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলেছেন অনেক ব্যাটসম্যান। কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ানসের এই আফগান লেগ স্পিনারের বোলিং রেকর্ড যে অসাধারণ—উইকেট মোটে ৬টা, তবে ইকোনমি রেট ৪.৪৬! এর পরই ওয়েস্ট ইন্ডিজের নারিন (ওভারপিছু ৫.১৬ রান)। এ-কালের টি-টোয়েন্টিতে ওভারপ্রতি ৮ রান পর্যন্ত খরচকে অপচয় মনে করা হয় না। তো, গ্রুপ পর্ব পর্যন্ত এই গোত্রের বোলারদের সুদীর্ঘ তালিকায় সাকিব, সাইফুদ্দিনের সঙ্গে জাতীয় দলের আশপাশে থাকা নাম বলতে সানজামুল ইসলাম, নাসির হোসেন, আবু হায়দার রয়েছেন। তবে ব্যাটে-বলে-মেজাজে এঁদের চেয়ে বেশি প্রভাবশালী মনে হয়েছে খুলনা টাইটানসের আফিফ হোসেনকে।

আরিফুল, জাকিরদের নাম এসেছে আগেই। সময় এসেছে কি এঁদের নিয়েও ভাববার?

সম্পাদক : ইমদাদুল হক মিলন,
নির্বাহী সম্পাদক : মোস্তফা কামাল,
ইস্ট ওয়েস্ট মিডিয়া গ্রুপ লিমিটেডের পক্ষে ময়নাল হোসেন চৌধুরী কর্তৃক প্লট-৩৭১/এ, ব্লক-ডি, বসুন্ধরা, বারিধারা থেকে প্রকাশিত এবং প্লট-সি/৫২, ব্লক-কে, বসুন্ধরা, খিলক্ষেত, বাড্ডা, ঢাকা-১২২৯ থেকে মুদ্রিত।
বার্তা ও সম্পাদকীয় বিভাগ : বসুন্ধরা আবাসিক এলাকা, প্লট-৩৭১/এ, ব্লক-ডি, বারিধারা, ঢাকা-১২২৯। পিএবিএক্স : ০২৮৪০২৩৭২-৭৫, ফ্যাক্স : ৮৪০২৩৬৮-৯, বিজ্ঞাপন ফোন : ৮১৫৮০১২, ৮৪০২০৪৮, বিজ্ঞাপন ফ্যাক্স : ৮১৫৮৮৬২, ৮৪০২০৪৭। E-mail : info@kalerkantho.com