logo
আপডেট : ১৪ অক্টোবর, ২০১৭ ২০:৫৪
সংগ্রহে আছে সেই আদিকালের আড়াই লাখ সিনেমা!

সংগ্রহে আছে সেই আদিকালের আড়াই লাখ সিনেমা!

এই সেই অমূল্য ভাণ্ডার, ব্রিটিশ ফিল্ম ইনস্টিটিউটের ন্যাশনাল আর্কইভ

ব্রিটিশ ফিল্ম ইনস্টিটিউটের ন্যাশনাল আর্কাইভে গেলে ভড়কে যাবেন। মেঝে থেকে ছাদ অবধি সেই পুরনো আমলের সিনেমার ফিল্মের চাকতি সারি সারি সাজানো। ওগুলোতে চোখ বুলানোর আগেই নাকে আসবে রাসায়নিক গন্ধ। ফিল্মের হুইলগুলোর বিস্তার যখন মস্তিষ্কে পরিষ্কার হবে, তখন অবাক হতেই হবে। কারণ, এখানে পুরনো সিনেমার আড়াই লাখ হুইল সংগ্রহে রাখা আছে! এখান থেকে বেশ কয়েকটি ছবি বেছে বেছে বিএফআই-এর লন্ডন ফিল্ম ফেস্টিভ্যালে দেখানো হবে। 

আপনি হয়তো জানেনও না, কখনো শোনেননি এমন সিনেমা এখানে সযত্নে সুরক্ষিত আছে। আজই ওই মেলার অতিথিদের জন্য রয়েছে বিশেষ আকর্ষণ। 'সিরাজ: এ রোমান্স অব ইন্ডিয়া' দেখার জন্য মুখিয়ে আছেন সবাই। এটা প্রথম প্রদর্শিত হয়েছিল ১৯২৮ সালে। এমন আরো ছবি আছে। হৃদয়বিদারক ভারতীয় লাভ স্টোরি 'তাজমহল' নিয়ে নির্মিত ছবিও রয়েছে সংগ্রহে। 

সংগ্রহশালার কিউরেটর ব্রায়োনি ডিক্সন জানান, এটা সুন্দর, নাটকীয়। এতে দারুণ স্থান নির্বাচন করা হয়েছে। চমৎকার অভিনয় করেছেন শিল্পীরা। সেই সময়ের আর কোনো ছবিই টিকে নেই। কাজেই এটা বিশেষ কিছু। 

ডিক্সন এমনই শতবর্ষী সিনেমাগুলো সংরক্ষণ করছেন। বললেন, এগুলো সামলে রেখে অতীত ইতিহাস টেনে আনতে পারি। এর মাধ্যমে আমরা আরো বেশি পরিষ্কার দেখতে পারি। এই নির্বাচক চলচ্চিত্রে পণ্ডিত রবি শঙ্করের তনয়া আনুশকা শঙ্করের অসাধারণ স্বরগ্রাম যোগ করা হয়েছে। 

হাত থেকে ডিজিটাল 
প্রযুক্তির যথেষ্ট অগ্রগতি থাকা সত্ত্বেও এ ছবিটির পেছনে অনেক হাতের কাজ করা হয়েছে। আর্কাইভের ফিল্ম কনজারভেশন ম্যানেজার কিয়েরন ওয়েব বলেন, হাতের অনেক কাজ করতে হয়েছে। ছবির আসল কপির মেরামত করা হয়েছে হাতে। পরিষ্কার করার মেশিনে যেন ফিল্ম সুষ্ঠুভাবে যেতে পারে তার ব্যবস্থা করা হয়েছে। স্ক্যানারের কাজেও যেন বিঘ্ন না ঘটে তাতে তীক্ষ্ন দৃষ্টি দেওয়া হয়। 

সিরাজের আসল ক্যামেরা নেগেটিভ ব্যবহার করা হয়েছে। তার সঙ্গে ছিল একটি কপি বা নকল। ওটা অবশ্য কয়েক যুগ পর তৈরি করা হয়েছিল। আসল এবং নকলটিকে প্রযুক্তির সহায়তায় সমন্বয় করা হয়েছে। এতে অনেক ভালো ফলাফল পাওয়া গেছে। 

আঁচড় আর ময়লা পরিষ্কারের কাজটিও কিন্তু দারুণ কঠিন ছিল, জানান ওয়েব। কিছু দৃশ্যের আলো এবং আঁধার কিছুটা বদলে গেছে। এসবের পেছনে হাজার হাজার ঘণ্টা ব্যয় হয়েছে। যেমন দৃশ্যের গুণগত মান বজায় রাখার কাজে নেতৃত্ব দিয়েছেন বেন থম্পসন। তার কাজ ছিল সিরাজের ফিল্মের কোনো আঁচড় সরাতে গিয়ে যেন দৃশ্যের কোনো ঘোড়ার পা মুছে না যায়। 

মেরামতের পর বেশ ঝকঝকে হয়েছে ছবি। কিন্তু শার্পনেস বাড়ানোর পর সিনেমা যেমন পরিষ্কার হয়, তেমনই খুঁতগুলোও পরিষ্কার হয়ে ওঠে। 

'এক অনবদ্য রেকর্ড'
ভারতীয় চলচ্চিত্র জগত প্রায় ৯০ বছর পার করছে। কিন্তু বিএফআই-এ এমন সব সিনেমার ফিল্ম রয়েছে যা সেই ১৮৯০-এর সময়কার। আরেকটি মজার বিষয় আছে, জানালেন কিউরেটর। এই ধরনের ছবিগুলো সারাইয়ের কাজটি সহজ হয়েছে তাদের স্বল্পদৈর্ঘ্যের জন্যে। এদের কয়েকটি মাত্র ১ মিনিট দীর্ঘ, বলেন ডিক্সন। 

তবে ১৯২০ এর সময়কার ছবিগুলো অনেক বেশি জটিল। কারণ তখন ছবিগুলো বেশ দীর্ঘ ছিল। আর তাদের চলচ্চিত্রের একটা ব্যাকরণ ছিল। 

তবে মেরামতের এই প্রক্রিয়াটি ব্যয়বহুল প্রয়াস। এই উদ্যোগকে এগিয়ে নিতে আর্কাইভ পাবলিক ফান্ড আর ব্যক্তিগত ডোনারদের ওপর নির্ভর করে। সেই সঙ্গে স্ক্রিনিংয়ের সময় টিকেট বিক্রি থেকে আসা অর্থও বেশ ভূমিকা রাখে। 

সারাইয়ের এ কাজের সাংস্কৃতিক মূল্যমান অসীম। এই ছবিগুলো দর্শকদের এক অদেখা সময় আর স্থানে নিয়ে যেতে পারে। 
সূত্র : ডন 

সম্পাদক : ইমদাদুল হক মিলন,
নির্বাহী সম্পাদক : মোস্তফা কামাল,
ইস্ট ওয়েস্ট মিডিয়া গ্রুপ লিমিটেডের পক্ষে ময়নাল হোসেন চৌধুরী কর্তৃক প্লট-৩৭১/এ, ব্লক-ডি, বসুন্ধরা, বারিধারা থেকে প্রকাশিত এবং প্লট-সি/৫২, ব্লক-কে, বসুন্ধরা, খিলক্ষেত, বাড্ডা, ঢাকা-১২২৯ থেকে মুদ্রিত।
বার্তা ও সম্পাদকীয় বিভাগ : বসুন্ধরা আবাসিক এলাকা, প্লট-৩৭১/এ, ব্লক-ডি, বারিধারা, ঢাকা-১২২৯। পিএবিএক্স : ০২৮৪০২৩৭২-৭৫, ফ্যাক্স : ৮৪০২৩৬৮-৯, বিজ্ঞাপন ফোন : ৮১৫৮০১২, ৮৪০২০৪৮, বিজ্ঞাপন ফ্যাক্স : ৮১৫৮৮৬২, ৮৪০২০৪৭। E-mail : info@kalerkantho.com