logo
আপডেট : ২০ সেপ্টেম্বর, ২০১৭ ২৩:৪২
৯ বছর পর মালয়েশিয়ায় কর্মী রপ্তানিতে গতি

৯ বছর পর মালয়েশিয়ায় কর্মী রপ্তানিতে গতি

বাংলাদেশ থেকে মালয়েশিয়ায় কর্মী রপ্তানিতে নতুন গতি পেয়েছে। ২০০৯ সালে কর্মী রপ্তানিতে ধস নামার পর গত আগস্ট মাসে সর্বোচ্চসংখ্যক কর্মী সেই দেশে গেছে। চলতি বছরের জুলাই মাসে কর্মী গিয়েছিল ৭ হাজার ৫০০ জন, সেখানে আগস্টে গেছে প্রায় ১৫ হাজার জন। শুধু তাই নয়, ৯ বছর পর কর্মী রপ্তানিতে দ্বিতীয় স্থানে উঠেছে বাংলাদেশের অন্যতম বড় শ্রমবাজার মালয়েশিয়া।

ধারণা করা হচ্ছে, জনশক্তি রপ্তানির এই ধারা অব্যাহত থাকলে কর্মী রপ্তানির শীর্ষে থাকা সৌদি আরবের সঙ্গে ব্যবধান কমতে বেশি সময় লাগবে না। কিন্তু মালয়েশিয়ায় দালালের সংখ্যা এত বেশি থাকায় লক্ষ্য অর্জন প্রতিবারই হোঁচট খাচ্ছে।

জানতে চাইলে জনশক্তি কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরোর পরিচালক (ইমিগ্রেশন) আতিকুর রহমান কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘জিটুজি প্লাস পদ্ধতিতে অনলাইনে ভিসা যাচাই-বাছাই করা খুব সহজ এবং নির্ভেজাল। এতে প্রতারণার হারটাও কমে গেছে, চাকরির নিশ্চয়তাও আছে। ফলে দ্রুত আমরা অনুমোদন দিতে পারছি।’

তিনি বলেন, সেপ্টেম্বর মাসে প্রতিদিন মালয়েশিয়ায় ৭০০ থেকে ৮০০ ভিসা ইস্যু করা হচ্ছে। এটি অব্যাহত থাকলে মাস শেষে আগস্টের চেয়েও বড় অগ্রগতি হবে।

আতিকুর রহমান আরো বলেন, ওমান এবং কাতারেও কর্মী রপ্তানি বাড়াতে নতুন সিদ্ধান্ত হয়েছে।

জনশক্তি কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরো জানায়, ২০১৭ সালের জানুয়ারি থেকে আগস্ট পর্যন্ত আট মাসে মোট কর্মী গেছে ৯৩ হাজার ৩৪১ জন। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি ৫৭ শতাংশ গেছে বড় শ্রমবাজার সৌদি আরবে। দ্বিতীয় স্থানে আছে মধ্যপ্রাচ্যের আরেক দেশ ওমান সাড়ে ৯ শতাংশ, আর কাতার সোয়া ৯ শতাংশ কর্মী রপ্তানি করে তৃতীয় স্থানে আছে। আর মালয়েশিয়া ৫.৩৫ শতাংশ কর্মী রপ্তানি করে চতুর্থ শতাংশ।

পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, চলতি ২০১৭ সালের জুন পর্যন্ত এ কর্মী রপ্তানিতে সৌদি আরব, ওমান ও কাতার-তিন দেশ শীর্ষে থাকলেও জুলাই মাস থেকে চিত্র পাল্টাতে থাকে। জুলাই মাসে সাড়ে সাত হাজার কর্মী রপ্তানি করে সবাইকে তাক লাগিয়ে সৌদি আরবের পরেই স্থান করে নেয় মালয়েশিয়া। আগস্ট মাসে কর্মী রপ্তানিতে দ্বিতীয় স্থান ঠিক থাকলেও এক মাসেই কর্মী যায় প্রায় ১৫ হাজার জন, যা জুলাই মাসের দ্বিগুণ। এতে করে সৌদি আরবের সঙ্গে মালয়েশিয়ায় কর্মী যাওয়ার ব্যবধানও কমেছে।

জনশক্তি রপ্তানিকারকরা জানান, গত ২০০৮ সাল পর্যন্ত জনশক্তি রপ্তানির বড় বাজার ছিল মালয়েশিয়া। বেতন-ভাতা ভালো, মুসলিম দেশ ও পরিবেশ ভালো থাকায় বাংলাদেশের কর্মীদের মালয়েশিয়া যাওয়ার আগ্রহ ছিল শীর্ষে। কিন্তু ২০০৯ সাল থেকে বিভিন্ন জটিলতায় এই বাজারে ধস নেমে কর্মী যাওয়া প্রায় বন্ধই হয়ে যায়। ২০০৮ সালে যেখানে কর্মী গিয়েছিল এক লাখ ৩১ হাজার সেখানে ২০১০ সালে ৯০০ জনে নেমে আসে। পরে আরো কমে ২০১২ সালে ৮০০ জনে নেমে আসে।

আওয়ামী লীগ সরকারের ব্যাপক কূটনৈতিক প্রচেষ্টায় ২০১৫ সালে মালয়েশিয়ায় কর্মী যাওয়ার দুয়ার খোলে। কিন্তু কর্মী প্রেরণকারী এজেন্সিগুলোর প্রতারণার কারণে সুফল মেলেনি। এই কারণে সরকারি উদ্যোগে কম খরচে কর্মী যাওয়ার সুফল ভোগ করতে পারেনি মালয়েশিয়াগামী কর্মীরা। এরপর সরকার আবারও কূটনৈতিক প্রচেষ্টা চালিয়ে সরকারি-বেসরকারি যৌথ উদ্যোগে সেটি চালুর উদ্যোগ নেয়।

এতে ২০১৫ সালে এক বছরে যেখানে কর্মী গিয়েছিল ৩০ হাজার ৫০০ জন, ২০১৬ সালে সেটি বেড়ে ৪০ হাজার জনে উন্নীত হয়। আর ২০১৭ সালের জানুয়ারি থেকে আগস্ট পর্যন্ত আট মাসে মালয়েশিয়ায় কর্মী গেছে প্রায় ৩৭ হাজার জন, যা মোট কর্মী রপ্তানির ৫.৩৫ শতাংশ।

সম্পাদক : ইমদাদুল হক মিলন,
নির্বাহী সম্পাদক : মোস্তফা কামাল,
ইস্ট ওয়েস্ট মিডিয়া গ্রুপ লিমিটেডের পক্ষে ময়নাল হোসেন চৌধুরী কর্তৃক প্লট-৩৭১/এ, ব্লক-ডি, বসুন্ধরা, বারিধারা থেকে প্রকাশিত এবং প্লট-সি/৫২, ব্লক-কে, বসুন্ধরা, খিলক্ষেত, বাড্ডা, ঢাকা-১২২৯ থেকে মুদ্রিত।
বার্তা ও সম্পাদকীয় বিভাগ : বসুন্ধরা আবাসিক এলাকা, প্লট-৩৭১/এ, ব্লক-ডি, বারিধারা, ঢাকা-১২২৯। পিএবিএক্স : ০২৮৪০২৩৭২-৭৫, ফ্যাক্স : ৮৪০২৩৬৮-৯, বিজ্ঞাপন ফোন : ৮১৫৮০১২, ৮৪০২০৪৮, বিজ্ঞাপন ফ্যাক্স : ৮১৫৮৮৬২, ৮৪০২০৪৭। E-mail : info@kalerkantho.com