logo
আপডেট : ৪ মার্চ, ২০১৭ ১৩:২৪
পিএসএল ফাইনাল উপলক্ষে লাহোরে নজিরবিহীন নিরাপত্তা

পিএসএল ফাইনাল উপলক্ষে লাহোরে নজিরবিহীন নিরাপত্তা

অবশেষে রাত সেই দিনটি দরজায় কড়া নাড়ছে। পাকিস্তান সুপার লিগের বহুল বিতর্কিত ফাইনাল ম্যাচটি লাহোরে অনুষ্ঠিত করতে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ পিএসএল কমিটি এবং পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড। গত ফেব্রুয়ারিতেই লাহোরসহ বেশ কয়েকটি শহরে বড়সর বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। তাই দুবাই থেকে পাকিস্তানে ম্যাচ আয়োজন করায় ইমরান খান সহ সাবেক গ্রেটরা আপত্তি তুলেছিলেন। কিন্তু পিসিবি যেন একরোখা। তবে এই ফাইনাল ম্যাচটি সামনে রেখে নজিরবিহীন নিরাপত্তার আয়োজন করেছে পাক প্রশাসন।

গত তিন দিন আগে থেকেই গাদ্দাফি স্টেডিয়ামের আশপাশে সাধারণ মানুষ ও যান চলাচল বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। পুরো স্টেডিয়াম এলাকা ঘিরে রেখেছে পুলিশ। লুকোনো বোমা খুঁজতে চলছে চিরুনি তল্লাশি। মিডিয়াকর্মীদের স্টেডিয়াম এলাকায় প্রবেশেও রয়েছে বেশ কড়াকড়ি। পাকিস্তান প্যারামিলিটারি ফোর্স এবং পাঞ্জাব পুলিশের সদস্য সহ ১০ হাজার নিরাপত্তাকর্মী এই ম্যাচটির নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকবে। স্টেডিয়ামের প্রবেশের পথে বসানো হয়েছে তিন স্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা। স্টেডিয়ামের আশপাশে দুই বর্গকিলোমিটার এলাকা এখন নিরাপত্তাকর্মীদের দখলে।

পাঞ্জাবের আইনমন্ত্রী রানা সানাউল্লাহ বলেছেন, "শহরের সব কার্যক্রম স্বাভাবিক থাকবে। তবে জনগণের নিরাপত্তার জন্য আমরা এসব বিশেষ পদক্ষেপ নিয়েছি। আমাদেরকে সহযোগিতা করার জন্য জনগণের কাছে আহ্বান জানাচ্ছি।"

ইতিমধ্যেই ম্যাচটি উপলক্ষে ১৮ হাজার টিকিট বিক্রি হয়ে গেছে। স্টেডিয়াম যে কানায় কানায় পূর্ণ থাকবে তাতে কোনোরকম সন্দেহ নেই। এই বিপুলসংখ্যক দর্শকদের সামাল দিতে এবং নিরাপত্তা দেওয়ার বড় চ্যালেঞ্জটি গ্রহণ করেছে পাকিস্তান। ২০০৯ সালে শ্রীলঙ্কা দলের বাসে হামলার পর একমাত্র টেস্ট দল হিসেবে পাকিস্তান সফরে গিয়েছিল ক্রিকেটের খর্বশক্তি জিম্বাবুয়ে। ২০১৫ সালে অনুষ্ঠিত সেই সফরেও হামলা চালিয়েছিল জঙ্গিরা। দ্বিতীয় ওয়ানডে ম্যাচ চলাকালে স্টেডিয়াম থেকে মাত্র ৮০০ মিটার দূরে জঙ্গিদের বোমা হামলায় এক পুলিশ কর্মকর্তাসহ দুজন নিহত হয়। তখনকার সময়ে গৃহীত বিশাল নিরাপত্তা ব্যবস্থাও এমন হামলা ঠেকাতে পারেনি।

এরপরও জিম্বাবুয়ে সিরিজ শেষ করেই দেশে ফিরেছিল। কিন্তু সেই সফরের পরও কোনো ক্রিকেট দল পাকিস্তান যেতে রাজি হয়নি। যেমনটা হয়েছে পিএসএলের ফাইনাল ঘিরে। অবশ্য কয়েকজন বিদেশি ক্রিকেটার যে খেলছেন না এমন নয়। তাদের মধ্যে বাংলাদেশের এনামুল হক বিজয়ও আছেন। বিজয় পাকিস্তানের উদ্দেশে আজই দেশ ছেড়েছেন। সব মিলিয়ে পাকিস্তানের মাটিতে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের ভাগ্য নির্ধারণ করে দেবে এই ফাইনাল ম্যাচটি। যে দেশটিতে সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে নিরাপত্তারক্ষীদের মধ্যেও ধর্মান্ধতার বীজ রোপিত আছে, সেই দেশটিতে কি আবারও ফিরবে ক্রিকেট?

সম্পাদক : ইমদাদুল হক মিলন,
নির্বাহী সম্পাদক : মোস্তফা কামাল,
ইস্ট ওয়েস্ট মিডিয়া গ্রুপ লিমিটেডের পক্ষে ময়নাল হোসেন চৌধুরী কর্তৃক প্লট-৩৭১/এ, ব্লক-ডি, বসুন্ধরা, বারিধারা থেকে প্রকাশিত এবং প্লট-সি/৫২, ব্লক-কে, বসুন্ধরা, খিলক্ষেত, বাড্ডা, ঢাকা-১২২৯ থেকে মুদ্রিত।
বার্তা ও সম্পাদকীয় বিভাগ : বসুন্ধরা আবাসিক এলাকা, প্লট-৩৭১/এ, ব্লক-ডি, বারিধারা, ঢাকা-১২২৯। পিএবিএক্স : ০২৮৪০২৩৭২-৭৫, ফ্যাক্স : ৮৪০২৩৬৮-৯, বিজ্ঞাপন ফোন : ৮১৫৮০১২, ৮৪০২০৪৮, বিজ্ঞাপন ফ্যাক্স : ৮১৫৮৮৬২, ৮৪০২০৪৭। E-mail : info@kalerkantho.com