logo
আপডেট : ২৮ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ০০:১১
খুলনার পরিবহন ধর্মঘট নিয়ে ভিন্ন অবস্থানে নেতারা
পথে পথে ভোগান্তি, বেনাপোলে পণ্যজট

খুলনার পরিবহন ধর্মঘট নিয়ে ভিন্ন অবস্থানে নেতারা

অন্তত ১৮ ঘণ্টা যাত্রী ভোগান্তির পর খুলনা বিভাগের ১০ জেলায় ডাকা অনির্দিষ্টকালের পরিবহন ধর্মঘট প্রত্যাহারের ঘোষণা দিয়েছেন খুলনার প্রশাসন এবং পরিবহন মালিক ও শ্রমিক নেতারা। তবে যে সংগঠনটি ধর্মঘট ডেকেছে তার সভাপতি বলছেন, ধর্মঘট প্রত্যাহার হয়নি। এ নিয়ে ঢাকায় তাঁরা বৈঠক করছেন। সেই বৈঠকে সিদ্ধান্ত হবে।

খুলনায় গতকাল সোমবার দুপুরের পর থেকে বাস, মিনিবাস এবং ট্রাকসহ গণপরিবহন চলাচল শুরু হয়।

এর আগের দিন রবিবার সকাল ৬টা থেকে ধর্মঘট পালন শুরু করে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশনের খুলনা বিভাগীয় আঞ্চলিক কমিটি। সড়ক দুর্ঘটনায় চলচ্চিত্রকার তারেক মাসুদ ও সাংবাদিক মিশুক মুনীর নিহত হওয়ার ঘটনায় বাসচালক জামির হোসেনের সাজার রায়ের প্রতিবাদে সংগঠনটি এ ধর্মঘট ডাকে। তাদের সঙ্গে যোগ দেয় ফরিদপুর, গোপালগঞ্জ, মাদারীপুরসহ আরো ছয়টি জেলা।

পথে পথে বিকল্প যানবাহন চলাচলে বাধা, ভাঙচুরের মধ্য দিয়ে পরিবহন শ্রমিকরা ধর্মঘট পালন করে। এতে যাত্রীদের ভোগান্তির পাশাপাশি পণ্য পরিবহনও বাধাগ্রস্ত হয়। যশোরের বেনাপোল স্থলবন্দরে আমদানি পণ্যভর্তি অন্তত এক হাজার ট্রাক আটকে পড়ে।

আমাদের বিশেষ প্রতিনিধি, নিজস্ব প্রতিবেদক ও প্রতিনিধিদের পাঠানো খবর :

ধর্মঘট প্রত্যাহার নিয়ে ধোঁয়াশা : গতকাল দুপুর ১২টা থেকে প্রায় দেড়টা পর্যন্ত খুলনা সার্কিট হাউস মিলনায়তনে খুলনা বিভাগ ও জেলা প্রশাসনের সঙ্গে বৈঠক করার পর পরিবহন মালিক-শ্রমিক নেতারা ধর্মঘট প্রত্যাহারের ঘোষণা দেন।

বৈঠক শেষে সংক্ষিপ্ত সংবাদ সম্মেলনে খুলনার অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার মোহাম্মদ ফারুক হোসেন ও খুলনা মোটর শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক মো. জাকির হোসেন বিপ্লব যৌথভাবে এ সিদ্ধান্তের কথা জানান। ঘোষণার পর দুপুর দেড়টা থেকে খুলনা অভ্যন্তরীণ রুটে এবং সন্ধ্যা ৭টা থেকে খুলনা থেকে সব রুটে ধর্মঘট তুলে নেওয়া হয়। 

খুলনার জেলা প্রশাসক নাজমুল আহসান বলেন, ‘আমরা আন্দোলকারীদের কাছে সাজাপ্রাপ্ত আসামির পক্ষে ধর্মঘট করে জনদুর্ভোগ সৃষ্টির বিষয়টি তুলে ধরেছি। এ বিষয়ে তারা আইনগত ব্যবস্থা নিতে পারে। কিন্তু আদালতের বিরুদ্ধে আন্দোলন নামা সঠিক হয়নি বলে যুক্তি তুলে ধরেছি। পরিবহন শ্রমিক ও মালিক সংগঠনের নেতারা এসব যুক্তি সঠিক মনে করে কর্মসূচি প্রত্যাহার করার ঘোষণা দেন।’

খুলনা মোটর শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক জাকির হোসেন বিপ্লব বলেন, ‘কেন্দ্রীয় নেতাদের সঙ্গে কথা বলে আমরা কর্মসূচি প্রত্যাহার করেছি। আমরাও চাই না জনগণের দুর্ভোগ সৃষ্টি হোক।’

তবে যশোর থেকে জানা গেছে, ধর্মঘট প্রত্যাহার নিয়ে ধোঁয়াশা সৃষ্টি হয়েছে। টেলিভিশনে ধর্মঘট প্রত্যাহারের খবর গতকাল দুপুরে প্রচারিত হলেও বাস্তবে ধর্মঘট চলছে। এর ফলে চরম জনদুর্ভোগের সৃষ্টি হয়েছে।

ধর্মঘট কর্মসূচির ঘোষণা দেওয়া পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশন খুলনা বিভাগীয় আঞ্চলিক কমিটির সভাপতি আজিজুল আলম মিন্টু বলেন, ‘ধর্মঘট অব্যাহত রয়েছে। ধর্মঘট প্রত্যাহার হবে নাকি চলমান থাকবে, সে ব্যাপারে বিকেলে (গতকাল সোমবার) ঢাকায় ফেডারেশনের মুলতবি সভায় সিদ্ধান্ত হবে। ফেডারেশনের নেতাদের সঙ্গে গতকাল দুপুরে খুলনা বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয়ে যে বৈঠক হওয়ার কথা ছিল, ফেডারেশনের নেতারা ঢাকায় অবস্থান করায় ওই বৈঠক হয়নি। ধর্মঘট যারা ডেকেছে তারাই শুধু প্রত্যাহার করতে পারে।’

চুয়াডাঙ্গায় রাত পৌনে ৯টা পর্যন্ত যানবাহন চলাচল শুরু হয়নি। শ্রমিক নেতারা বলছেন, ধর্মঘট প্রত্যাহার হয়নি। ঢাকাগামী জেআর পরিবহনের বড়বাজার কাউন্টার থেকে বলা হয়, গাড়ি আজ (সোমবার) রাতে চলবে না। কবে চলবে তাও বলা যাচ্ছে না। ঢাকাগামী পরিবহন পূর্বাশা কাউন্টার থেকে রোকন হোসেন জানান, শ্রমিক নেতারা গাড়ি চালানোর কোনো নির্দেশনা এখনো দেননি।

সন্ধ্যা ৭টায় চুয়াডাঙ্গা জেলা বাস-ট্রাক সড়ক পরিবহনের শ্রমিক ইউনিয়ন নেতারা জানিয়েছেন, ধর্মঘট প্রত্যাহার হয়নি। গাড়ি চলবে না। বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশনের খুলনা বিভাগীয় আঞ্চলিক কমিটির সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রহিম বক্স দুদু জানান, ধর্মঘট প্রত্যাহার করা হয়নি। ঢাকায় বৈঠক চলছে। আজ (সোমবার) রাত ১১টার পর সিদ্ধান্ত জানা যাবে।

বেনাপোলে আমদানি পণ্যবোঝাই ট্রাকের জট : পরিবহন ধর্মঘটের দ্বিতীয় দিনে বেনাপোল বন্দর কার্যত অচল হয়ে পড়ে। বন্দরে ওষুধ, অক্সিজেন ও অতিপচনশীল পণ্যসহ খালাসের অপেক্ষায় অন্তত এক হাজার ট্রাক। কোনো ট্রাক বন্দরে আসতে না পারায় ভারতে পণ্য রপ্তানি সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যায়।

ব্যবসায়ীদের দাবি অনুযায়ী, গতকাল বন্দরে আটকে পড়া বেশ কিছু পণ্য চালানের মধ্যে অন্তত এক কোটি টাকার মাছ নষ্ট হয়ে গেছে। লাখ লাখ টাকার পেঁয়াজও নষ্ট হয়ে গেছে।

কাস্টমস সূত্রে জানা গেছে, ধর্মঘটের কারণে গত দুই দিনে বন্দর থেকে প্রায় ৩০ কোটি টাকার রাজস্ব পায়নি সরকার। দুই দেশের মধ্যে শুধু আমদানি বাণিজ্য সচল আছে। পণ্য বোঝাই না হওয়ার কারণে বন্দর সড়কের দুই পাশে শত শত ট্রাক আটকা পড়েছে। বেনাপোল কাস্টমস কমিশনার শওকাত হোসেন জানান, প্রথম দিনের পরিবহন ধর্মঘটে মাত্র এক কোট টাকার রাজস্ব আয় হয়েছে। যেখানে প্রতিদিন রাজস্ব আয় হয় ১৫ কোটি টাকা। ইন্ডিয়া-বাংলাদেশ চেম্বার অব কমার্সের বন্দর সাবকমিটির চেয়ারম্যান মতিয়ার রহমান জানান, বন্দর শেডে কোনো জায়গা না থাকায় বন্দরে সৃষ্টি হয়েছে ভয়াবহ পণ্যজট। ফলে বেনাপোল বন্দরে প্রবেশের অপেক্ষায় ভারতের পেট্রাপোল বন্দরে পাঁচ হাজার পণ্যবোঝাই ট্রাক আটকা পড়ে আছে। বেনাপোলে আটকে পড়া ভারতফেরত পাসপোর্ট যাত্রীরা রাতে বিভিন্ন উপায়ে নিজ নিজ গন্তব্যে চলে গেছে বলে জানা গেছে।

বিকল্প যানবাহন চলাচলে বাধা : গতকাল সকাল থেকে পরিবহন শ্রমিকরা সড়ক-মহাসড়ক ও বাস টার্মিনালে সাধারণ যান চলাচলে বাধা দেয়। এর আগের দিন ইজি বাইক, মহেন্দ্র, ভটভটিসহ বিকল্প যান চললেও পরিবহন শ্রমিকরা তাদের লাঠিসোঁটা নিয়ে একাধিক স্থানে তাড়া করে। এমনকি মাইক্রোবাস, সংবাদপত্র ও মিডিয়ার গাড়ি চলাচলেও বাধা দেওয়ার চেষ্টা করে।

সম্পাদক : ইমদাদুল হক মিলন,
নির্বাহী সম্পাদক : মোস্তফা কামাল,
ইস্ট ওয়েস্ট মিডিয়া গ্রুপ লিমিটেডের পক্ষে ময়নাল হোসেন চৌধুরী কর্তৃক প্লট-৩৭১/এ, ব্লক-ডি, বসুন্ধরা, বারিধারা থেকে প্রকাশিত এবং প্লট-সি/৫২, ব্লক-কে, বসুন্ধরা, খিলক্ষেত, বাড্ডা, ঢাকা-১২২৯ থেকে মুদ্রিত।
বার্তা ও সম্পাদকীয় বিভাগ : বসুন্ধরা আবাসিক এলাকা, প্লট-৩৭১/এ, ব্লক-ডি, বারিধারা, ঢাকা-১২২৯। পিএবিএক্স : ০২৮৪০২৩৭২-৭৫, ফ্যাক্স : ৮৪০২৩৬৮-৯, বিজ্ঞাপন ফোন : ৮১৫৮০১২, ৮৪০২০৪৮, বিজ্ঞাপন ফ্যাক্স : ৮১৫৮৮৬২, ৮৪০২০৪৭। E-mail : info@kalerkantho.com