logo
আপডেট : ২২ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ০০:০৫
রিয়াদে অগ্নিকাণ্ডে ৪ বাংলাদেশির মৃত্যু
নাটোরে তিনজনের দাফন স্বজনদের আহাজারি

নাটোরে তিনজনের দাফন স্বজনদের আহাজারি

সৌদি আরবের রিয়াদে একটি কারখানায় অগ্নিকাণ্ডে নাটোরের নলডাঙ্গার নিহত চার শ্রমিকের মধ্যে তিনজনের মৃতদেহ তাঁদের গ্রামে এসে পৌঁছেছে। গতকাল বুধবার সকালে নলডাঙ্গার খাজুরা গ্রামে তাঁদের লাশ পৌঁছার পর হৃদয়বিদারক দৃশ্যের অবতারণা হয়। স্বজনদের আহাজারিতে ভারী হয়ে ওঠে গ্রামের পরিবেশ। শোকের ছায়া বিরাজ করে পুরো এলাকায়।

জানা গেছে, সরকারি সহযোগিতা না পেয়ে স্থানীয়ভাবে অর্থ সংগ্রহ করে সকাল ১১টায় স্থানীয় কবরস্থানে তাঁদের লাশ দাফন করা হয়। নিহতদের পরিবার সৌদি সরকারের মাধ্যমে ক্ষতিপূরণ আদায়ের জন্য সরকারের কাছে দাবি জানিয়েছে।

স্থানীয়রা জানায়, গত ১০ আগস্ট সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদের পুরান শহর হারাজ বিন কাশেম মানফুহা এলাকার একটি সোফা তৈরির কারখানায় অগ্নিকাণ্ড ঘটে। তাতে অগ্নিদগ্ধ হয়ে নিহত হন নাটোরের নলডাঙ্গা উপজেলার খাজুরা গ্রামের শামিউল ইসলাম ওরফে সাদ্দাম হোসেন, আবদুল ওহেদ ওরফে ওয়াসিম, আমিনুল ইসলাম ও জামাল হোসেন মোল্লা। তাঁদের মধ্যে তিনজনের মৃতদেহ দেশে এলেও কাগজপত্রে জটিলতা থাকায় আমিনুল ইসলাম নামের অন্য শ্রমিকের মৃতদেহ দেশে আসেনি।

সরেজমিনে বুধবার সকালে খাজুরা গ্রামে গিয়ে দেখা যায় গ্রামজুড়ে শোকের ছায়া। স্বজনহারা পরিবারে চলছে শোকের মাতম। সাদ্দামের মা আসমা বেগম ক্ষণে ক্ষণে মূর্ছা যাচ্ছেন। তাঁর বিলাপে উপস্থিত পাড়া-প্রতিবেশীর চোখও অশ্রুসজল। সাদ্দামের বাবা সৈয়দ আলী জানান, ভিটামাটি বিক্রি করে সংসারে একটু সচ্ছলতার আশায় দেড় বছর আগে সৌদি আরবে গিয়েছিল তাঁর ছেলে। কিন্তু সেই সচ্ছলতাটুকু আসার আগেই সন্তানের জীবন প্রদীপ নিভে গেল। এখন পরিজন নিয়ে তাঁদের পথে বসা অবস্থা।

আহাজারি করতে করতে সাদ্দামের বোন ছবিলা খাতুন বলেন, ‘ভাইকে হারিয়ে আমরা সর্বস্বান্ত হয়ে গেছি। সরকারের কাছে উপযুক্ত ক্ষতিপূরণ দাবি করছি।’

একইভাবে শোকের মাতম চলছে আগুনে পুড়ে মারা যাওয়া ওয়াসিম, আমিনুল ও জামাল মোল্লার বাড়িতেও। পাঁচ মাসের ফুটফুটে কন্যাসন্তান কোলে নিয়ে বিলাপ করছেন ওয়াসিমের স্ত্রী। কাঁদতে কাঁদতে তিনি বলেন, ‘দেশে আসবে বলে ছেলেমেয়ের জন্য জামা-কাপড় কিনেছিল। কিন্তু তার আর দেশে ফিরে আসা হলো না। এখন দুটি সন্তান নিয়ে কোথায় যাব কী করব!’

নিহত আমিনুলের বাবা সেকেন্দার আলী বলেন, নিহত চারজনের মধ্যে তিনজনের লাশ ফেরত এলো। অথচ তাঁর ছেলের লাশ এলো না। তিনি কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, আমরা কি আমিনুলের মুখটা শেষ দেখাও দেখতে পাব না?’

সম্পাদক : ইমদাদুল হক মিলন,
নির্বাহী সম্পাদক : মোস্তফা কামাল,
ইস্ট ওয়েস্ট মিডিয়া গ্রুপ লিমিটেডের পক্ষে ময়নাল হোসেন চৌধুরী কর্তৃক প্লট-৩৭১/এ, ব্লক-ডি, বসুন্ধরা, বারিধারা থেকে প্রকাশিত এবং প্লট-সি/৫২, ব্লক-কে, বসুন্ধরা, খিলক্ষেত, বাড্ডা, ঢাকা-১২২৯ থেকে মুদ্রিত।
বার্তা ও সম্পাদকীয় বিভাগ : বসুন্ধরা আবাসিক এলাকা, প্লট-৩৭১/এ, ব্লক-ডি, বারিধারা, ঢাকা-১২২৯। পিএবিএক্স : ০২৮৪০২৩৭২-৭৫, ফ্যাক্স : ৮৪০২৩৬৮-৯, বিজ্ঞাপন ফোন : ৮১৫৮০১২, ৮৪০২০৪৮, বিজ্ঞাপন ফ্যাক্স : ৮১৫৮৮৬২, ৮৪০২০৪৭। E-mail : info@kalerkantho.com