kalerkantho


মালাবাত পূর্ণা

মৃত্যুকে তুচ্ছ করে ঈশ্বরের কাছাকাছি

২৫ মে, ২০১৮ ০০:০০



মালাবাত পূর্ণা

মালাবাত পূর্ণা। ভারতের তেলেঙ্গানার এক আদিবাসী অধ্যুষিত গ্রামের সন্তান। খুব একটা সচ্ছল নয়। তার বাবা একটা খামারে কাজ করেন। পূর্ণা ওখানকারই একটা সরকারি স্কুলে পড়ে। তবে মজা হলো, ওদের স্কুলটায় পর্বতারোহণ শেখানো হয়। একজন অবসরপ্রাপ্ত পুলিশ কর্মকর্তা ওদের নিয়ম করে পাহাড়ে চড়ানো শেখান। অন্যদের মতো পূর্ণাও তাঁর কাছে পাহাড়ে চড়া শিখতে শুরু করল। আর আট মাসের মাথায়ই তাঁর কাছ থেকে এভারেস্টে চড়ার ছাড়পত্র পেয়ে গেল। সেটি অবশ্য ও এমনি এমনি পায়নি। এরই মধ্যে সে তার যোগ্যতা প্রমাণ করেছে হিমালয়েরই কাঞ্চনজঙ্ঘা রেঞ্জের রেনোক শৃঙ্গ জয় করে।

২০১৪ সালের মে মাস। পূর্ণা যাত্রা শুরু করল এভারেস্ট জয় করতে। পূর্ণার বয়স তখনো ১৪ হয়নি। তার মাসখানেক আগেই এভারেস্ট জয় করতে গিয়ে ১৬ জন মারা গিয়েছিল। তা-ও আবার তারা শখের পর্বতারোহী নয়। তাদের সবাই ছিল শেরপা, মানে ওখানকার স্থানীয়। যারা এভারেস্ট জয় করতে যায়, ওরাই তাদের পথ দেখিয়ে নিয়ে যায়। শুধু তা-ই নয়, যাওয়ার পথেও ওরা মৃত্যুর সাক্ষী হয়েছিল। পথে ওদের ছয়জন পর্বতারোহীর লাশ পার হয়ে যেতে হয়েছিল।

এই মৃত্যুগুলো পূর্ণাকে ভালোই বিচলিত করেছিল। মনে হতো, এভারেস্ট জয়ের আশা বাদ দিয়ে ফিরে যাই। কিন্তু তখনই ওর স্কুলের কথা মনে হতো। স্কুলের বন্ধুদের কথা মনে হতো। ওদের পাহাড়ে চড়া শেখানো সেই পুলিশ কর্মকর্তার কথা মনে হতো। আর মনে হতো ওর মা-বাবার কথা। তাঁদের কথা ভেবেই সে মনে জোর ফিরে পেত। আবার এভারেস্টের চূড়ার পথে যাত্রা শুরু করত। তবে এগুলো নয়, ওর জন্য আসল চ্যালেঞ্জ ছিল খাওয়াদাওয়া। হিমালয়ের ভীষণ ঠাণ্ডায় প্যাকেট করা শুকনো খাবার খেতে হয়। সেগুলোর না গন্ধ, না স্বাদ—কিছুই ওর ভালো লাগত না। শুধুই ওর মায়ের রান্নার স্বাদ-ঘ্রাণ মনে পড়ত। মনে হতো, সব ছেড়েছুড়ে ঘরে ফিরে আসি।

না, পূর্ণা মাঝপথে ফিরে আসেনি। ২৫ মে, রোমেরোর চেয়ে মাত্র এক মাস বেশি বয়সে, মানে ১৩ বছর ১১ মাস ১৫ দিন বয়সে এভারেস্টের চূড়ায় পা রাখে সে। রোমেরোকে পেছনে ফেলতে না পারলেও এভারেস্টজয়ী সবচেয়ে কম বয়সী মেয়ের তকমাটা ঠিকই জিতে নেয় সে। পেছনে ফেলে নেপালি মেয়ে মিং কিপাকে। এভারেস্টের চূড়ায় দাঁড়িয়ে সে নাকি ভীষণ আবেগে ভেসে যাচ্ছিল। ভীষণ খুশি লাগছিল ওর। চারপাশে কী সুন্দর! পাহাড়, সূর্যের আলো, মেঘ। যেন ঈশ্বরের অস্তিত্ব অনুভব করতে পারছিল পূর্ণা।

মিনিট ১৫ সেখানে ছিল পূর্ণা। তারপর আবার ধরল ফিরতি পথ। কারণ ওকে আবার স্কুলে ফিরে আসতে হবে। অভিযানের কয়েক দিনে বাকির খাতায় জমা হওয়া পড়াগুলো শেষ করতে হবে। তাকে যে বড় হতে হবে। বড় হয়ে সে কী হবে? পুলিশ কর্মকর্তা। ঠিক তাকে পাহাড়ে চড়তে শেখানো ওই পুলিশ কর্মকর্তার মতো।



মন্তব্য