kalerkantho


একটু আলাদা

লাজুক প্রাণী বঙ্গো

তুষার ইশতিয়াক

২৯ ডিসেম্বর, ২০১৭ ০০:০০



লাজুক প্রাণী বঙ্গো

বঙ্গোদের পাবে আফ্রিকায়। ভারি লাজুক প্রাণী। বনের মধ্যে কোনোভাবে যদি এদের কাছে চলে যাও, হঠাত্ তোমাকে দেখে ফেললেই হলো! চম্পট দেবে সঙ্গে সঙ্গে। এরা আসলে এক ধরনের অ্যান্টিলোপ। বঙ্গোদের দুটি জাত। একটি ওয়েস্টার্ন বা নিচু জমির বঙ্গো আর আরেকটি ইস্টার্ন বা পাহাড়ি বঙ্গো। দুই ধরনের বঙ্গো দেখতে অনেকটা একই রকম।

অ্যান্টিলোপদের মধ্যে কিন্তু বঙ্গোরাই সবচেয়ে বড় হয়। উচ্চতায় এক মিটার কিংবা তার বেশি, ওজন দেড় শ থেকে চার শ কেজি। বঙ্গোরা দেখতে ভারি সুন্দর। বিশেষ করে এদের শরীরের ডোরা দাগগুলো দারুণ লাগে। গায়ের চামড়া লালচে বাদামি। আর এর মধ্যে দশ-পনেরোটা সাদা ডোরা দাগ। শিংগুলোও দেখার মতো। বাঁকানো একেকটা শিং অনেক লম্বা হয়। তবে কথা হলো, বঙ্গোরা বেশ গভীর জঙ্গলে থাকে। তাই তাদের আগেই বুঝে নিতে হয়, কোন পথে গেলে বিশাল এই শিং পথ চলতে বাধার সৃষ্টি করবে না। বঙ্গোরা কাদায় গড়াগড়ি খেতে ভারি পছন্দ করে। কাদা লেগে থাকা শিংগুলো গাছের গায়ে ঘষে কাদা তুলে ফেলে আর শিংগুলো চকচকে করে।

অনেক অ্যান্টিলোপই দিনে চলাফেরায় অভ্যস্ত হলেও বঙ্গোরা নিশাচর। অর্থাত্ সন্ধ্যা থেকে ভোর পর্যন্ত ঘোরাফেরা করে। ওই সময়টায় নানা ধরনের ডাকও দেয়। দিনের বেলাটা কাটায় বিশ্রাম নিয়ে।

বঙ্গোরা নিরামিষভোজী। গাছের ছাল, লতা-পাতা, ঘাস আর ফলমূল খায়। তাদের কিন্তু লবণেরও প্রয়োজন হয়। অবশ্য বনের মধ্যে লবণের স্তর খুঁজে পেতে তেমন একটা বেগ পেতে হয় না বঙ্গোদের। মেয়ে বঙ্গোরা সাধারণত দলবদ্ধভাবে থাকে। পুরুষদের আবার একা চলাফেরা করাই পছন্দ। সাধারণত গভীর জঙ্গলের মধ্যে একবারে একটি বাচ্চা দেয় মেয়ে বঙ্গো। এক সপ্তাহর মতো ওখানেই থাকে বাচ্চা। মা খাবারের খোঁজে বের হলেও মাঝেমধ্যে এসে বাচ্চার খোঁজ নিয়ে যায়।

বুনো অবস্থায় এরা প্রায় ২০ বছরের মতো বাঁচে। পৃথিবীতে এখন আর খুব বেশি বঙ্গো নেই। বিশেষ করে পাহাড়ি বঙ্গোদের সংখ্যা একেবারেই কমে গেছে। পূর্ব, মধ্য আর পশ্চিম আফ্রিকার অল্প কিছু এলাকায় এখনো টিকে আছে সুন্দর এই প্রাণী।



মন্তব্য