kalerkantho


কোথায় করবেন ফ্রিল্যান্সিং

আরিফুল ইসলাম   

১৯ মার্চ, ২০১৪ ০০:০০



কোথায় করবেন ফ্রিল্যান্সিং

ঘরে বসে অনলাইনে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান বা ব্যক্তির হয়ে কাজ করেন 'ফ্রিল্যান্সার'রা। তাঁদের সাফল্যে অনুপ্রাণিত হয়ে আরো অনেকেই এ বিষয়ে কাজ করতে আগ্রহী। কিন্তু কোথা থেকে কিভাবে কাজ জোগাড় করবেন, তাই জানেন না তাঁরা। তাঁদের জন্য অনলাইনে কাজ পাওয়ার ছয় মার্কেটপ্লেসের খোঁজ দিয়েছেন আরিফুল ইসলাম

ফ্রিল্যান্সাররা স্বাধীনভাবে দেশ-বিদেশে কাজ করেন সম্পূর্ণ নিজ যোগ্যতায়। এ পেশায় ঘরে বসেই আয় করা যায়। বিভিন্ন সাইটে ফ্রিল্যান্সাররা তাঁদের কাজ করে থাকেন।

যে ধরনের কাজ রয়েছে

বর্তমানে চাহিদা আছে এমন কাজের মধ্যে রয়েছে ওয়েব ডিজাইন, ওয়েব ডেভেলপমেন্ট, ওয়েব প্রোগ্রামিং, গ্রাফিকস ডিজাইন, ডেস্কটপ অ্যাপ্লিকেশন/সফটওয়্যার ডেভেলপমেন্ট, গেইম ডেভেলপমেন্ট, মোবাইল অ্যাপস (আইফোন, অ্যানড্রয়েড) ডেভেলপমেন্ট, টুডি/থ্রিডি অ্যানিমেশন, ইঞ্জিনিয়ারিং আর্কিটেকচার ডিজাইন। ক্রিয়েটিভ জ্ঞানভিত্তিক কাজ ছাড়াও সার্চ ইঞ্জিন অপটিমাইজেশন, সোশ্যাল মিডিয়া মার্কেটিং, অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং, ই-মেইল মার্কেটিং, আর্টিকেল রাইটিং, ওয়েব রিসার্চ, ভার্চুয়াল অ্যাসিস্ট্যান্ট, ডাটা এন্ট্রি লেভেলে কাজ করা যাবে।

ফ্রিল্যান্সিং করতে যা যা দরকার

কিছু বিষয় আগে থেকে ঠিক করে নিলে ফ্রিল্যান্সিংয়ের কাজ অনেক সহজ হয়ে যাবে। পছন্দের কাজে দক্ষতা অর্জন করে সঠিক ফ্রিল্যান্স মার্কেটপ্লেস নির্বাচন করে কাজ শুরু করা উচিত। ফ্রিল্যান্সিং ব্যাপারটি জানা এবং করার মধ্যে অনেক পার্থক্য আছে। অধ্যবসায় ও সময়জ্ঞান থাকাটা সফল ফ্রিল্যান্সার হওয়ার মূলমন্ত্র। দক্ষতা বাড়াতে কাজ শেখার মানসিকতাও থাকতে হবে। এ জন্য গুগলে সার্চ করে নির্দিষ্ট বিষয়ে দক্ষতা অর্জন করতে হবে।

কোথায় কাজ খুঁজব

নামকরা প্রায় সব ফ্রিল্যান্সিং মার্কেটপ্লেস সাইটেই সফলতার সঙ্গে কাজ করছেন বাংলাদেশের তরুণ-তরুণীরা। তবে সঠিক মার্কেটপ্লেস নির্বাচন করতে না পারার কারণে অনেক ক্ষেত্রেই নানা জটিলতার সম্মুখীন হচ্ছেন নতুন ফ্রিল্যান্সাররা। এখানে বিশ্বাসযোগ্য এবং আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন ছয়টি জনপ্রিয় ফ্রিল্যান্স মার্কেটপ্লেস সাইটের কথা বলা হলো।

ওডেস্ক

ওডেস্ক বর্তমানে অন্যতম জনপ্রিয় ফ্রিল্যান্সিং মার্কেটপ্লেস। ২০০৩ সালে যুক্তরাষ্ট্রের অঙ্গরাজ্য ক্যালিফোর্নিয়ার রেড সিটিতে ওডেস্কের যাত্রা শুরু। এদের কাজের ধরন ঘণ্টাভিত্তিক এবং মূল্য বাঁধা (ফিক্সড)। অর্থাৎ কেউ চাইলে ঘণ্টা হিসেবে কিংবা বাঁধা মূল্যে কাজ করতে পারবেন। ওডেস্কে বিভিন্ন বিভাগের আওতায় কয়েক লাখ কাজ খুঁজে পাবেন। এখানে ঘণ্টাভিত্তিক কাজের টাকা 'ওডেস্ক টিম' সফটওয়্যারের রেকর্ড অনুযায়ী কাজ শেষে পাবেন। উইকিপিডিয়ার তথ্যমতে সাইটটিতে বর্তমানে বিভিন্ন দেশের দুই লাখের বেশি বায়ার (ক্রেতা) এবং প্রোভাইডার (জোগানদাতা) কাজ করছেন। এই সাইট থেকে একই সঙ্গে কাজ করতে এবং অন্যদের দিয়ে কাজ করিয়েও নেওয়া যাবে। তবে 'ফ্রিল্যান্সার ডটকম' সাইটের মতো একই প্রোফাইল দিয়ে একই সঙ্গে দুটি কাজ করিয়ে নেওয়া যাবে না। এ জন্য 'বায়ার' ও 'ওয়ার্কার' হিসেবে আলাদা অ্যাকাউন্ট করতে হবে। সাইটটির ঠিকানা https://www.odesk.com

ফ্রিল্যান্সার

অস্ট্রেলিয়ার সিডনিতে অবস্থিত ফ্রিলান্স্যারডটকম ২০০৪ সালে 'গেট-এ-ফ্রিল্যান্সারডটকম' নামে যাত্রা শুরু করে। ২০০৯ সালে প্রতিষ্ঠানকে কিনে নেয় অস্ট্রেলিয়ার আরেকটি কম্পানি 'ইশনিশন নেটওয়ার্কস'। এরপর সাইটটির নাম বদলে রাখা হয় 'ফ্রিল্যান্সার.কম'। বর্তমানে সাইটটির প্রায় ৫৫ লাখ প্রকল্পে 'বায়ার' (ক্রেতা) ও প্রোভাইডার (জোগানদাতা) হিসেবে কাজ করছেন প্রায় এক কোটিরও বেশি মানুষ। সাইটটিতে একই সঙ্গে কাজ করা এবং অন্যদের দিয়ে কাজ করিয়েও নেওয়া যাবে।

বর্তমানে সাইটটিতে ঘণ্টাভিত্তিক এবং বাঁধা (ফিক্সড) মূল্যে ওয়েব ডিজাইন ও ডেভেলপমেন্ট, গ্রাফিক ডিজাইন, সফটওয়্যার ডিজাইন, অ্যাপ্লিকেশন ডিজাইনসহ দুই শতাধিক বিভাগে অসংখ্য কাজ রয়েছে। সাইটটিতে কাজ পাওয়ার জন্য 'বিড' করতে হয়। কিভাবে বিডে অংশ নেবেন জানতে http://goo.gl/CQmMEy থেকে ই-বুকটি ডাউনলোড করতে পারেন। সাইটটির ঠিকানা https://www.freelancer.com

ইল্যান্স

জনপ্রিয় ফ্রিল্যান্সিং মার্কেটপ্লেস ইলান্সের কার্যক্রম শুরু হয় ১৯৯৯ সালে। এদেরও কাজের ধরন ঘণ্টাভিত্তিক এবং বাঁধা (ফিক্সড) মূল্য। ঘণ্টাভিত্তিক কাজের টাকা 'ইল্যান্স টাইম ট্র্যাকার' সফটওয়্যারের রেকর্ড অনুযায়ী কাজ শেষে পাবেন। তবে আপনি কাজ ঠিকভাবে করেছেন_বায়ারের এই অনুমোদন পাওয়ার পরই কাজের টাকা পাবেন। বর্তমানে দুটি কারণে ইল্যান্সে কাজ করার ব্যাপারে আমাদের ফ্রিল্যান্সাররা বেশি আকৃষ্ট হচ্ছেন। প্রথমত, এ সাইটে ব্যক্তি বায়ারের চেয়ে প্রতিষ্ঠানভিত্তিক বায়ারের আধিক্য বেশি। ফলে কোনো ফ্রিল্যান্সার একবার কোনো প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যুক্ত হতে পারলেই তাঁকে আর প্রতিদিনের বিড করার ঝামেলায় পড়তে হয় না। দ্বিতীয়ত, এখানে দুই ধরনের কাজেরই পেমেন্ট নিশ্চিত। সাইটটির ঠিকানা https://www.elance.com

থিমফরেস্ট

থিমফরেস্ট মূলত গ্রাফিকস ও ওয়েব ডিজাইনারদের কাজের জায়গা। ডিজাইনাররা তাঁদের কাজগুলো এখানে জমা রাখেন। অন্যান্য ফ্রিল্যান্সিং সাইটের মতো এখানে কোনো বিড করার ঝামেলা নেই। তবে আপনার কাজ অবশ্যই মানসম্পন্ন হতে হবে। আপনার কাজে অন্য কারো সোর্স কোড ও ফাইল ব্যবহার করা হলে তাঁদের নামও উল্লেখ করে দিতে হবে। নয়তো আপনার কাজ কখনই থিমফরেস্টে গ্রহণযোগ্য হবে না। ডিজাইনটি পাবলিশ হলে যে কেউ সেই ডিজাইনটি সর্বনিম্ন এক ডলার থেকে কাজের মান ও সুযোগ-সুবিধা অনুযায়ী সর্বোচ্চ ৭০ ডলার রেটে কিনতে পারবেন। একই জিনিস বারবার বিক্রি হওয়ার কারণে এখানে একটি ছোট কাজ থেকেও কয়েক হাজার ডলার আয় করার সুযোগ থাকে। প্রতিবারের বিক্রয় থেকে থিমফরেস্ট আপনার থেকে অল্প কিছু টাকা চার্জ হিসেবে কেটে রাখবে। বাকি টাকা আপনার অ্যাকাউন্টে জমা করে দেবে। আবার একটি ডিজাইন শুধু একবার কিনতে চাইলে সেটি আর অন্য কেউ কিনতে পারবে না। সে ক্ষেত্রে ওই কাজটির দাম হতে পারে ৫০০ থেকে কয়েক হাজার ডলার পর্যন্ত। সাইটটির ঠিকানা http://themeforest.net/

কোডক্যানিয়ন

কোডক্যানিয়ন ডিজাইনভিত্তিক কোনো সাইট নয়। এর মূল লক্ষ্য কোডভিত্তিক রিসোর্স বিক্রি। যেমন ওয়ার্ডপ্রেস প্লাগইন, জেকুয়েরি স্লাইডার, এএসপি ডট নেট এবং পিএইচপি স্ক্রিপ্ট, জুমলা, ম্যাজেন্টো মডিউল ও এক্সটেনশন। কোডক্যানিয়নের প্রোডাক্টের পেমেন্ট পদ্ধতি থিমফরেস্টের মতোই। সাইটটি ঠিকানা http://codecanyon.com/

নাইনটি নাইন ডিজাইনস

নাইনটি নাইন ডিজাইন সাইটটি কিছুটা থিমফরেস্টের মতো। তবে এখানে বায়ার তাঁর কাজের একটা ধারণা দিয়ে রাখেন। ডিজাইনাররা ওই ধারণা অনুযায়ী তাঁদের ডিজাইন জমা দেন। জমা দেওয়া ডিজাইনগুলো থেকে একটিকে বেছে নেন বায়ার। কখনো কখনো বায়ারের আগের দেওয়া ধারণার সঙ্গে নতুন কোনো ধারণা চলে এলে সেগুলোকেও নিজেদের কাজে সংযুক্ত করতে হয়। তবে সেটা আলোচনা সাপেক্ষে। এ সাইটের কাজের প্রধান সমস্যা, হাড়ভাঙা খাটুনির পরও আপনার কাজটি পছন্দ নাও করতে পারেন বায়ার, আপনার মূল্যবান সময় ও শ্রম দুটিই বৃথা। তবে ধৈর্য নিয়ে লেগে থাকলে আর কিছু প্রজেক্ট সাফল্যের সঙ্গে শেষ করতে পারলে অনেক সময় নতুন বায়ারদের থেকে অগ্রিম অর্থও পাওয়া যায়। সাইটটির ঠিকানা http://99designs.com

অর্থ উত্তোলন পদ্ধতি

মার্কেটপ্লেসগুলোতে কাজ করে টাকা হাতে পাওয়াটা বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে কিছুটা কষ্টকর। বর্তমানে সব সাইটে আন্তর্জাতিক ডেবিট মাস্টার কার্ডের মাধ্যমে অর্থ উত্তোলন সুবিধা রয়েছে। এ ছাড়া মানিবুকার্স, পেপাল ও ওয়েবমানি ট্রান্সফারের মাধ্যমেও দেশের বিভিন্ন ব্যাংকে অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে অর্থ সংগ্রহ করা সম্ভব।

 

 



মন্তব্য