kalerkantho


সাদাকালো

কেমন কাটল বর্ষ ২০১৭

আহমদ রফিক

৪ জানুয়ারি, ২০১৮ ০০:০০



কেমন কাটল বর্ষ ২০১৭

শুরু হলো ২০১৮ খ্রিস্টাব্দ। স্বভাবতই মনে হতে পারে, কেমন কেটেছে বিগত বছরের বারোমাইস্যা দিনগুলো। সন্দেহ নেই, প্রতিটি বছরই কোনো না কোনোভাবে ঘটনাবহুল, ভালো-মন্দে মেশা, মাত্রার হেরফের—এই যা। আপাতত বিশ্বপরিস্থিতির কথা একপাশে রেখে নিজ দেশের কথাই ভাবছি। সমাজ, সংস্কৃতি, শিক্ষা, রাজনীতি ইত্যাদি বিষয় নিয়ে।

ভাবতে গেলে প্রথমেই মনে হতে পারে, ২০১৬ সালের তুলনায় ভালোই তো কেটেছে ২০১৭ সালের দিনগুলো। বিগত বছরের দুঃস্বপ্ন জঙ্গি আক্রমণের বর্বরতা আমাদের আতঙ্কিত করেনি। ব্যাপক জঙ্গি দমনের অভিযান এবং গ্রেপ্তার হয়তো বা এর কারণ। দ্বিতীয়, হলি আর্টিজানসুলভ হত্যাকাণ্ড আর দেখা যায়নি। ব্যাপক গোয়েন্দা অভিযানের মুখে ওরা আপাতত ওদের হাত-নখ গুটিয়ে নিয়েছে। সময় ও সুযোগের অপেক্ষায়। ওদের এখন দুঃসময়। বিশ্বপরিসরে আইএস ক্রমাগত পিছু হটছে; কি ইরাকে, কি সিরিয়ায়। আপাতসংকটে জঙ্গিগোষ্ঠীগুলো।

একই সঙ্গে অর্থনৈতিক সূচকে উন্নতির পালা চলছে। নিজ অর্থে পদ্মা সেতু নির্মাণের কাজ চলছে। উন্নতি প্রযুক্তিগত দিকেও। বিরোধী দল বেহাল বলেই বোধ হয় ‘হরতাল জ্বালাও পোড়াও’ থেকে গত বছরে মুক্ত দিন কাটাতে পেরেছে মানুষ। সামাজিক জীবন যেন নিস্তরঙ্গ নদীর ধীরে চলা গতিতে চলেছে। বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যবস্থার উন্নতি ইত্যাদি ইতিবাচক ঘটনায় যদি বছরটি শেষ হতো, তাহলে তো কথাই ছিল না। কিন্তু বিদ্যুতের দামই তো বছরে বছরে বেড়েছে। আর দ্রব্যমূল্য? সে কথায় পরে আসছি।

সাধারণ মানুষের অভিজ্ঞতার কথা আপাতত বাদ দিয়ে জাতীয় উন্নতি, অগ্রগতি ইত্যাদি নিয়ে দৈনিক পত্রিকায় চোখ রাখলে বিশেষজ্ঞদের বিচার-বিশ্লেষণমূলক শিরোনামে দেখা যায়, ‘সব সূচকই নিম্নমুখী’। এ বিষয়ে অন্য একটি দৈনিকে একই রকম প্রথম পৃষ্ঠার শিরোনাম ‘সুশাসনের সূচকে সুখবর নেই’। সুখবর তাহলে কোথায়? পূর্বোক্ত সীমিত বক্তব্যে? নাকি সে নির্বাসনে গেছে!

গত বছরের শুরুটাই শিক্ষাজগতের এক দুঃসংবাদ নিয়ে, যেটা জাতীয় জীবনে অশুভ বার্তাবহ, একুশের চেতনা ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনার পরিপন্থী এবং বিপরীত ধারার। ধর্মীয় সংরক্ষণবাদী ও প্রতিক্রিয়াশীল যে হেফাজতে ইসলামকে ঢাকা অবরোধের অশুভ অভিযানের কারণে অস্ত্রের মুখে তাড়াতে হয়েছিল, তাদের সঙ্গেই আঁতাতে পাঠ্য বইতে সম্প্রদায়বাদী ও প্রতিক্রিয়াশীল বিষয়াদির ভুক্তি ও পরিবর্তন শিক্ষা-সংস্কৃতিজগতের জন্য ছিল অশনিসংকেত।

দুই.

বিস্ময়কর, মুক্তিযুদ্ধের প্রধান পক্ষের হাতে এই পরিবর্তন এবং ধর্মীয় প্রতিক্রিয়াশীল শক্তির কাছে নতি স্বীকার। প্রগতিবাদী রাজনৈতিক শক্তির এবং অনুরূপ সাংস্কৃতিক ভুবনের আপত্তি ও প্রতিবাদ কাজে আসেনি। তার চেয়েও বড় কথা, সামাজিক পরিস্থিতি এমনই পশ্চাদ্মুখী যে এমন একটি জাতীয় পর্যায়ের গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে ব্যাপক গণ-আন্দোলন, প্রতিবাদী আন্দোলন গড়ে তোলা যায়নি। প্রতিবাদ-বিবৃতি ও বিক্ষোভেই তা সীমাবদ্ধ থেকে গেল। সমাজ ও সংস্কৃতির আধুনিকতা হঠাৎ টানে অনেকটাই নিচে নেমে গেল। আর তা বাঙালি জাতীয়তাবাদের হাত ধরে। বিষয়টিকে আমি সর্বাধিক গুরুত্ব দিতে চাই সমাজে এর ভবিষ্যৎ পরিণাম বিবেচনা করে। এতে সাম্প্রদায়িক চেতনার স্থায়ী ও সামাজিক বিকাশের সুযোগ তৈরি হবে, যা গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের এবং মানবিক চেতনার পরিপন্থী। কে বলতে পারে, এই পথে নতুন নতুন নাসিরনগর, অভয়নগর তৈরি হবে না? এই আপসবাদী পদক্ষেপ যে ক্ষমতাসীনদের রাজনৈতিক আদর্শের পরিপন্থী—এ সত্য তাদের না বোঝার কথা নয়।

বছরের শুরুটা যেমন শিক্ষা খাতের অশুভ বার্তায়, বছরের শেষটাও শিক্ষা খাতে দুর্নীতির প্রকাশে। সে কথায় পরে আসছি। আপাতত পূর্বোক্ত দুর্নীতির সূত্র ধরে বলি, এর বিস্তার সমাজে নানা মূর্তিতে এবং তা সর্বোচ্চ স্তর থেকে সর্বনিম্ন স্তর পর্যন্ত। আর তা সময়ের ধারাবাহিকতায় বছর থেকে বছরে, ক্রমেই এর আকার বৃদ্ধি, এই যা। এমনটি নয় যে ২০১৭ সালেই এর প্রকাশ।

সাধারণ মানুষের জীবনযাপনের প্রয়োজনীয়তা নিয়ে, জাতীয় পর্যায়ের নানা ঘাতের কার্যক্রম নিয়ে, এমনকি নিছক ব্যক্তিগত লোভ-লালসা ও বিত্তবৈভব অর্জনের সীমাহীন আকর্ষণে দুর্নীতির প্রকাশ ঘটছে নিত্যদিন। সমাজের নানা স্তরের মানুষ এতে সংশ্লিষ্ট, যেমন প্রতিবছরের মতো গত বছরও দৈনন্দিন প্রয়োজনের জিনিসপত্র, যেমন—চাল, কাঁচা মরিচ, পেঁয়াজ প্রভৃতি নিয়ে ব্যবসায়ীকুলের বিপুল মুনাফাবাজি।

ভাবা যায়, মানুষের প্রতিদিন, প্রতি বেলার খাদ্য সরু ও মোটা চালের দাম বিনা কারণে হঠাৎ করে কেজিপ্রতি ৮-১০ টাকা বেড়ে যাওয়া, সরকার চাল আমদানিতে সুযোগ দেওয়া সত্ত্বেও দাম দুই টাকার নিচে নামেনি। এখনো তা অস্বাভাবিক উচ্চতায়। মধ্যবিত্ত, নিম্নমধ্যবিত্ত থেকে নিম্নবর্গীয় মেহনতি মানুষ সবাই চালের দাম নিয়ে ক্ষুব্ধ, পত্রপত্রিকায় খবর ও প্রতিবাদী লেখা, দিনের পর দিন। তবু চাল নিয়ে মুনাফাবাজি বন্ধ হয়নি।

একই অবস্থা দেখা গেছে ২০ টাকা কেজির কাঁচা মরিচের ঝাল নিয়ে। এই ঝাল প্রথমে ১০০ টাকায় উন্নীত, পরে ২০০ টাকায়। ভাবতে পারি না এমন অনাচারের কথা। একটি দৈনিক পত্রিকার ভাষ্যে বলা হয়েছে, মুনাফাবাজরা দাম বাড়িয়ে কয়েক হাজার কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছে। একই রকম ঘটনা পেঁয়াজ নিয়ে। পেঁয়াজের ঝাঁজ এখনো ৪০-৪৫ টাকা থেকে লাফিয়ে ১২০ টাকা কেজিতে স্থির হয়ে আছে। বাজারের মুনাফাবাজি নিয়ে বড় দুঃসংবাদ হলো, একদিকে নিয়ন্ত্রক কর্তৃপক্ষ নির্বিকার, অন্যদিকে একদা সংগ্রামী মানুষ ক্ষোভ-ক্রোধ সত্ত্বেও রাজপথে নামছে না। নিঃশব্দে অর্থনৈতিক আঘাত সহ্য করছে।

ওই যে বলছিলাম, দুর্নীতি নানা স্তরে, তাই দেখা যাচ্ছে বালুখেকোরা অব্যাহতভাবে নদী থেকে বালু তুলে নিয়ে বিনা মূল্যে ব্যবসা করে কোটিপতি। এর ফলে নদীর পাড় ভাঙছে, সেতুর পিলার বিপর্যয়ের মুখে। চলছে পাহাড়ে মাটি কাটার ধুম। ফলে পাহাড়ে ধস, অনেক অসহায় ও প্রান্তিক মানুষের মৃত্যু, ওরা খবরের কাগজের শিরোনাম। অন্যদিকে বন কেটে উজাড় দুর্নীতিবাজ স্বল্পবিত্তবান মানুষ শতকোটি টাকার মালিক, সংবাদপত্রে এমন ভাষ্যেরই প্রকাশ। বাধা দেওয়ার কেউ নেই। নীরব বনকর্তারা।

এসব দস্যুবৃত্তির অত্যাচার থেকে মুক্ত নয় দেশের খাল, বিল, নদীগুলো। বুড়িগঙ্গা, শীতলক্ষ্যা থেকে বহুসংখ্যক নদী দুর্নীতিবাজদের তৈরি অবৈধ স্থাপনার শিকার। নদীর স্রোত ক্রমেই কমছে। বিষাক্ত বা সাদামাটা বর্জ্যে দূষিত নদীর পানি। তা শুধু অপেয়ই নয়, সাধারণ ব্যবহারেরও অযোগ্য হয়ে পড়েছে। হাইকোর্টের রায় পর্যন্ত মানছে না দুঃসাহসী দুর্বৃত্তজন। দেশের শাসনযন্ত্র যেন অচল। জাতীয় সম্পদ রক্ষার মতো কেউ নেই।

অর্থনৈতিক সাফল্য, প্রযুক্তির অগ্রগতির মতো একাধিক খাতে বিরাজমান সাফল্য ম্লান হয়ে পড়ছে এসব সামাজিক-বাণিজ্যিক অনাচারের প্রবলতায়। জঙ্গিবাদ দমনের সফলতা অর্থহীন করে তুলছে নিয়মিত অপহরণ, গুম বা নিখোঁজ হওয়ার মতো ঘটনাবলি। দক্ষ গোয়েন্দা বিভাগ এসবের হদিস করতে পারছে না, অপরাধী ধরা পড়ছে না। শনাক্ত হচ্ছে না তাদের দুষ্টচক্র।

এই সামাজিক উপদ্রব আন্তর্জাতিক মহলে সমালোচনার বিষয় হয়ে দাঁড়াচ্ছে। সামাজিক সন্ত্রাসের কবলে পড়ে রাষ্ট্রের-সমাজের নিরাপত্তা সূচক ক্রমেই অবনতির দিকে। দেশের ভাবমূর্তি তাতে ক্ষুণ্ন হচ্ছে আন্তর্জাতিক বিচার-বিশ্লেষণে। মোবাশ্বার হাসান বা উৎপল দাসের মতো দু-চারজন ফিরে এলেও অনেকে এখনো নিরুদ্দেশ। অপহৃত ব্যবসায়ী বা শিশুর লাশ মিলছে এখানে-সেখানে, কিংবা নদীতে। কিন্তু দুষ্টচক্রের পরিচয় মিলছে না। তারা সক্রিয় যথারীতি।

মানুষ অস্থিরতা-অশান্তি নিয়ে ভাবছে, কেন এই অপহরণ, কেনই বা দু-একজনকে ছেড়ে দেওয়া! এরা কারা? কী তাদের উদ্দেশ্য! আর কেনই বা ফিরে আসা বিধ্বস্ত ব্যক্তিরা মুখ খুলছেন না, কিছু বলতে চাইছেন না! আবার অপহরণের ভয়ে? অর্থাৎ সমাজে মানুষের নিরাপত্তা এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে মানুষ নিজের মতামত বা সত্য প্রকাশ করতেও ভয় পাচ্ছে। সামাজিক সন্ত্রাস যে কতটা শক্তিমান, তার প্রকাশ ঘটেছে বিগত বছরেও।

তবে বিচ্ছিন্ন অবাঞ্ছিত একটি ঘটনা সমাজে আলোড়ন তুলেছে, পত্রপত্রিকায় এ নিয়ে বাদ-প্রতিবাদ। রাজনৈতিক মহল থেকে শিক্ষা-সংস্কৃতির অঙ্গন নানামাত্রিক বিচার-বিশ্লেষণে এতটা ব্যস্ত ছিল যে এ বিষয় নিয়ে বেশ কয়েক মাস দৈনিকগুলোতে মত-ভিন্নমত প্রকাশ পেয়েছে। ক্ষুব্ধ নিরপেক্ষচেতনার মানুষ প্রধান বিচারপতিকে নিয়ে এজাতীয় বিব্রতকর ঘটনায়। ক্ষুব্ধ প্রধান বিচারপতি শেষ পর্যন্ত বিদেশে স্বেচ্ছানির্বাসনে চলে গেলেন। আর ফেরেননি। উল্লসিত মহলবিশেষ। এ ঘটনা গত বছরের অন্যতম প্রধান অপ্রীতিকর বিষয় হিসেবে বিবেচিত হয়েছে অধিকাংশ মহলে।

তিন.

সম্ভবত গত বছরের সবচেয়ে সামাজিক বিপর্যয়মূলক ঘটনা মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্য থেকে নির্যাতিত-নিপীড়িত রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর লাখ লাখ মানুষের বাংলাদেশে আশ্রয় গ্রহণ, যা এ দেশের সামাজিক ভারসাম্য নষ্ট এবং অস্থিতিশীলতা তৈরি করছে। এমনকি সামাজিক সুস্থতা নষ্ট করার পক্ষেও যথেষ্ট। বিষয়টি মানবিক বিপর্যয়ের তুল্য। বৈশ্বিক রাজনীতি মিয়ানমারের সামাজিক ও কথিত গণতন্ত্রী শাসকশ্রেণির বর্বর আচরণ সত্ত্বেও দ্বিধাবিভক্ত।

বাংলাদেশ তাদের সাময়িক আশ্রয় দিয়ে মানবিক কর্তব্য পালন করেছে। কিন্তু নির্যাতিত রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশকারীদের তাদের স্বদেশে প্রত্যাবর্তন নিয়ে সূচিত রাজনৈতিক-কূটনৈতিক সংলাপে খুব একটা সুবিধা করতে পারছে না বিশ্ব রাজনৈতিক মহলের একাংশে ভিন্নমতের কারণে। সেই মতামত তাদের স্বার্থভিত্তিক। তাই অন্যায় করেও মিয়ানমারের শাসকশ্রেণি এখনো সুবিধাজনক অবস্থানে। তারা জাতিসংঘের কার্যক্রমকে পাত্তাই দিচ্ছে না। এই অঘটনের ভবিষ্যৎ নিয়ে আগাম কিছু বলা কঠিন। দেখা যাক ২০১৮ সাল এর কী সমাধান তৈরি করতে পারে।

বিষম ঘটনাবহুল ২০১৭ বছরটি আরো নানা ঘটনায় বিশ্লেষকমহলে সমালোচিত। দীর্ঘ সময়ের অসুস্থ ঘটনার ধারাবাহিকতায় নারী নির্যাতন, নারী হত্যা ও শিশুদের প্রতি অনুরূপ আচরণে ২০১৭ সাল সম্ভবত অধিক সমালোচনার যোগ্য। এই সামাজিক পাপ সমাজের বিত্তবানশ্রেণিতে এতটা বিস্তৃত যে অপরাধের সুবিচার প্রায়ই প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে দাঁড়াচ্ছে।

মহানগর ঢাকা বৈশ্বিক বিচারে, বসবাসের বিচারে, নিরাপত্তার বিচারে ক্রমেই ধাপে ধাপে নিম্নমুখী। এবং তা আরো একাধিক সূচকে, যার ইঙ্গিত এর আগে দেওয়া হয়েছে। সমাজ যে কতটা দূষিত হয়ে পড়েছে তার প্রমাণ অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের ক্রমবিস্তার, দুর্নীতির বিস্তার, সামাজিক সুস্থতার ক্রমশ অধঃপতনে। তাই এমন শিরোনামও দৈনিকে শোভা পাচ্ছে, ‘দো-আঁশলা গণতন্ত্রের বছর ২০১৭’। হয়তো এই মূল্যায়ন সবাই মানবে না। কিন্তু আমরা ওপরে যা উল্লেখ করেছি, তা নিয়ে ভিন্নমতের সুযোগ নেই। কারণ ঘটনাগুলো একটিও মিথ্যা নয়। তাই সরকারের অর্জনগুলো মূল্য হারাচ্ছে।

বহু ঘটনা অনুল্লিখিত থেকে গেল। শেষ করছি শিক্ষা খাতের দুর্নীতি অর্থাৎ প্রশ্ন ফাঁসের অবাঞ্ছিত ঘটনা উল্লেখে। পত্রিকায় শিরোনাম ‘পদে থাকার নৈতিক অধিকার হারিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী’। আরেকটি শিরোনাম ‘গাছ কাটা-জমি দখল চলছে সমান তালে’। সম্ভবত অস্বস্তিকর দুর্ভাবনার শিরোনাম ‘শাস্তি হলেও থামছে না পুলিশের অপরাধ’। অর্থাৎ রক্ষক এখন ভক্ষক। মানুষ তার নিরাপত্তা ও স্বার্থরক্ষার জন্য কার কাছে যাবে? সুশাসনই একমাত্র চিকিৎসা—এই সত্যটিই কি আমাদের নতুন করে বুঝিয়ে দিয়ে গেল বর্ষ ২০১৭? তার সার্বিক ঘটনাবহুল চিত্র নিয়ে?

লেখক : কবি, গবেষক, ভাষাসংগ্রামী



মন্তব্য