kalerkantho


নৃ-র ঝরনাধারায়

৯ নভেম্বর, ২০১৮ ০০:০০



নৃ-র ঝরনাধারায়

মাসউদ আহমাদ

নৃ’ সেই অর্থে ছোটকাগজ নয়, কিন্তু এর উপস্থাপনকৌশলের বিভা ও বৈশিষ্ট্য অভিনব। মুগ্ধকর। পত্রিকার প্রচ্ছদ দেখে ভেতরের গুপ্ত সম্পদ সম্পর্কে ধারণা পেয়ে ওঠা কঠিন। কাগজটি শুরু হয়েছে খ্যাতিমান কথাকার সেলিনা হোসেনের গল্প ‘পাখি ধরা’ দিয়ে এবং এর শেষ রচনা লুবানা বিনতে কিবরিয়ার নিবন্ধ ‘নিরঙ্কুশ আকাশ চাই’; এতে লেখক লিখছেন—‘নিরঙ্কুশ একটা আকাশ পেলে মানুষ হব। সহজ মানুষ। সম্পাদিত, সংক্ষেপিত, পরিমার্জিত সংস্করণের নাগরিক খোলসে আমার বড্ড দমবন্ধ লাগে। চিৎকার করে কথা বলে দেউলিয়া অস্তিত্বের জানান দিতে দিতে বড্ড ক্লান্ত হয়ে গেছে প্রাণ। নাগরিক জীবনের রাষ্ট্রধর্মী ডিসকোর্সের ভারে বুকের আকাশ নুয়ে যাচ্ছে প্রতি মুহূর্তে।’ পত্রিকার শুরুর লেখা পত্র নিয়ে ধারণা না দিয়ে শেষ থেকে শুরু করার অর্থ এই যে, উদ্ধৃতির ভেতরে আমাদের নাগরিক দিনযাপনের রেখাচিত্র এত অবলীলায় তুলে ধরেছেন লেখক, যা পড়তে পড়তে ভাব হয়ে যায় কাগজটির সঙ্গে। সম্পাদকের ‘পাঠক সমীপে’ থেকে জেনে উঠি—‘সিন ও সিন্ডিকেটহীন শিল্প-সাহিত্যচর্চার মানসে প্রায়ই না গ্রাম না মফস্বলের একটি পরিত্যক্ত পোস্টাফিসের শ্যাওলাধরা ছাদে, আমরা ক’জন দেশ-জাতি উদ্ধারে বসতাম। উদ্দেশ্য লিটলম্যাগ সম্পাদনা’; পরে আর হয়ে ওঠে না পত্রিকা প্রকাশ করা। বহুকাল পরে স্বপ্নের সেই বাস্তবায়ন কুঁড়ি হয়ে ফুটে এই কাগজটি জীবন পেয়েছে। যে জীবনের ভেতরে সিন্ডিকেটের রাফ ও ম্যাড়মেড়ে দৃষ্টিকটু ছবি ও লেখা পত্র ধরা পড়েনি—কাগজটির এখানেই সার্থকতা। সম্পাদকের ভাবনা ও রুচির প্রকাশটুকু তাই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে ‘নৃ’র আয়োজনে। কয়েকটি পর্বে বিন্যস্ত নৃ-র ভেতরে আছে—সেলিনা হোসেন, স্বকৃত নোমান, মাসউদ আহমাদ প্রমুখের একগুচ্ছ ছোটগল্প, দুটি অণুগল্প, ফজল হাসান ও অনীলা পারভীনের ভাষান্তর গল্প, মুক্তিযুদ্ধ, ফকির ইলিয়াস, মজনু শাহ, পিয়াস মজিদ, জাহিদ সোহাগ প্রমুখের কবিতা, শাখাওয়াৎ নয়নের ভাষান্তরিত কবিতা ও গজল, সৈকত হাবিবের আর্ট ক্রিটিসিজমসহ আরো অনেকের ডায়াস্পোরা ও প্রবন্ধ-নিবন্ধসমৃদ্ধ হয়েছে নৃ। অস্ট্রেলিয়াপ্রবাসী গল্পলেখক শাখাওয়াৎ নয়ন সম্পাদিত এই কাগজটিতে শিল্পনির্দেশক হিসেবে কাজ করেছেন মাহবুবুল হক। রয়াল সাইজের ১১২ পৃষ্ঠার কাগজটি সংগ্রহে রাখার মতো।

নৃ সম্পাদক : শাখাওয়াৎ নয়ন। প্রথম প্রকাশ : নভেম্বর ২০১৮

                    

 



মন্তব্য