kalerkantho


ধারাবাহিক উপন্যাস মৎস্যগন্ধা

মৎস্যগন্ধা

হরিশংকর জলদাস

৯ নভেম্বর, ২০১৮ ০০:০০



মৎস্যগন্ধা

অঙ্কন : মানব

সিন্ধুচরণ গলবস্ত্র হয়ে বলল, ‘মহারাজ, আমরা যমুনার ভাটি অঞ্চল থেকে এসেছি। কৈবর্ত পল্লীর লোক আমরা। ওই পল্লীর দাশপ্রধানের উঠানে গতকাল সকালে অতি আশ্চর্য একটা ঘটনা ঘটে গেছে।

কাকা যে কথাগুলো নির্ভয়ে রাজার সামনে গুছিয়ে বলতে পারল, শুনে অবাক হয়ে গেল আজলা। ‘কী ঘটনা ঘটে গেছে?’ নিস্পৃহ কণ্ঠে জিজ্ঞেস করলেন মহারাজ। তিনি জানেন পল্লী অঞ্চলের মানুষরা তিলকে তাল করতে বড় পছন্দ করে। তা ছাড়া অল্পতেই বিস্মিত হয় তারা। তাদের বিস্ময়ের কোনো সীমা-পরিসীমা থাকে না। রাজ্যের কথা বলে তারা তাদের বিস্ময়ের যৌক্তিকতা প্রমাণ করতে চায়। এরাও তো গ্রামাঞ্চলের মানুষ। তাই রাজার কণ্ঠ শীতল। ‘মাছের পেটে দুটো বাচ্চা পাওয়া গেছে মহারাজ।’ সিন্ধুচরণ বলল, ‘মাছের পেটে বাচ্চা পাওয়া গেছে—এ আর অদ্ভুত কী? সব মাছ তো আর ডিম পাড়ে না, বাচ্চাও তো দেয় কোনো কোনো মাছ।’ কিছুটা উপহাসছলে বললেন নৃপাতি।

সিন্ধুচরণ এবার কণ্ঠ একেবারে কোমল করে বলল, মাছের বাচ্চা নয় মহারাজ। দুটি মানবসন্তান বেরিয়ে এসেছে রোহিত মাছটির পেট থেকে।

‘কী, কী বললে।’ রাজা উপরিচর হেলান থেকে সোজা হয়ে বসলেন। কৌতূহলে তাঁর চোখ দুটি বেরিয়ে আসতে চাইছে।

গোটা রাজদরবারে মিশ্র গুঞ্জন উঠল। সেই গুঞ্জনে বিশ্বাস আর অবিশ্বাসের মাখামাখি।

‘হ্যাঁ, মহারাজ মিথ্যা বলছি না আমি। আপনি ওদের জিজ্ঞেস করতে পারেন মহারাজ।’ সঙ্গীদের দেখিয়ে বাক্য শেষ করল সিন্ধুচরণ।

মহারাজ জিজ্ঞেস করার আগেই আজলারা বলে উঠল, ‘সিন্ধুচরণ দাশরাজা। এই উপাধিটা আপনিই দিয়েছিলেন তাকে। আমাদের দাশরাজা মিথ্যা বলছে না মহারাজ। ঘটনাটি আমাদের স্বচক্ষে দেখা।’

রাজা এবার কেন জানি আকুল কণ্ঠে বলে উঠলেন, ‘শিশুগুলো এখন কোথায়? বেঁচে আছে তো? মাছটি।’ সিন্ধুচরণ বলল, ‘পেট চিরে ফেলার পর রোহিতটির মৃত্যু হয়েছে মহারাজ। শিশু দুটি আমাদের কাছে আছে মহারাজ।’ রাজাসুলভ নয় এমন একটা কাজ করে ফেললেন তখন উপরিচর বসু। হঠাৎ সিংহাসন ছেড়ে উঠে দাঁড়ালেন তিনি। সেনাপতিকে লক্ষ্য করে বললেন, ‘যাত্রার আয়োজন করো সেনাপতি। নদীপথেই যাব আমি।’ সিন্ধুচণদের দিকে তাকালেন রাজা। বললেন, ‘আর তোমরা, তোমরা যাত্রা শুরু করো এখনই। তোমরা নদীঘাটে অপেক্ষা করতে থাকো। আমরা আসছি।’

প্রধানমন্ত্রী বললেন, আপনার যাওয়ার কী দরকার আছে মহারাজ অত দূরের পথ। যে কাউকে পাঠিয়ে দিয়ে ঘটনার সত্যতা বিচার করলে হতো না? মহারাজ ত্বরিত বললেন, ‘না হবে না প্রধানমন্ত্রী। আমি নিজের চোখে সেই মত্স্যজাত সন্তান দুটিকে দেখতে চাই।’ তারপর মহারাজ আবার মনে কী যেন ভাবলেন। অস্পষ্ট কণ্ঠে বললেন, ‘আমার মন কিছু একটা বলতে চাইছে। আমি ধরতে পারছি, আবার ধরতে পারছিও না।’ এরপর আপন মনে বিড়বিড় করতে লাগলেন মহারাজ, ‘পঙ্খি বটপত্র, তেজোবিন্দু, যমুনার ওপর দিয়ে উড়ে যাওয়া, নদীজলে মত্স্য। আকাশ পথে যুদ্ধ, বটপত্রের পতন। আহ! আর ভাবতে পারছি না আমি।’ দু-হাত দিয়ে নিজের মাথার দুদিকে চেপে ধরলেন মহারাজ। সভাসদরা বিভ্রান্ত চোখে রাজার দিকে তাকিয়ে থাকলেন।

রাজা বললেন, আজকের মতো রাজকার্যের এখানেই সমাপ্তি ঘোষণা করছি। বলে দ্রুত পায়ে প্রাসাদ অভ্যন্তরে প্রবেশ করলেন মহারাজ উপরিচর বসু।

ধীবর প্রধান সিন্ধুচরণের আঙিনায় মানুষের ঢল নেমেছে। শুধু ধীবর পল্লীটির মানুষজন নয়, আশপাশের গাঁ-গেরাম, গঞ্জ-নগর, উপকণ্ঠ-জনপদের মানুষদের কেউ ঘরে বসে নেই। সবাই এই ধীবরপাড়ায় সিন্ধুচরণের উঠানে হাজির হয়েছে। সবাই যে উঠান পর্যন্ত পৌঁছতে পেরেছে এমন নয়। কত মানুষই বা ধারণ করতে পারে সিন্ধুচরণের উঠানটি! অনেক অনেক মানুষ তাই আঙিনা ছাড়িয়ে ঘাটা, ঘাটা ছাড়িয়ে গোটা পাড়া, পা ছড়িয়ে যমুনা ঘাট পর্যন্ত সমবেত হয়েছে। রাজামশাই আসবেন বলে কথা! রাজদর্শন তো পুণ্যের কাজ। শুধু তা তো নয়, রাজা যে উদ্দেশ্যে আসছেন, তা-ও তো বিলক্ষণ বিমূঢ় বিস্ময়ের কথা। রাজদর্শন, মীনশিশু, রাজামশায়ের ক্রিয়া-প্রতিক্রিয়া দেখার লোভে রাজ্যের মানুষের বিপুল সমাগম ঘটে গেছে এই ধীবর পল্লীটিতে।

রাজা উপরিচর বসু যখন সিন্ধুচরণের আঙিনায় উপস্থিত হলেন, সব মানুষ প্রায় হুমড়ি খেয়ে পড়ল। হৈচৈ, কলকোলাহল। প্রহরীদের বেশ কিছুটা সময় লেগে গেল জনগণকে চুপ করাতে। কোলাহল গুঞ্জন থেমে গেলে রাজা গম্ভীর কণ্ঠে জিজ্ঞেস করলেন, ‘মাছটি কোথায়?’

পাশে দণ্ডায়মান নরসিংহ জেঠা লাঠিটি ছেড়ে দিয়ে কোমর সোজা করে দাঁড়ানোর চেষ্টা করল। দেহটি তখন তার টলটলায়মান। ওই অবস্থায়ই করজোড়ে প্রণাম করল জেঠা। সম্ভ্র সমাঘা কণ্ঠে বলল, ‘মহারাজ ওই গাছের তলায় পাটি জড়িয়ে রাখা হয়েছে। উঠানে সূর্যের তেজ বেশি, তাই ওখানে...।’

উপরিচর বসু নরসিংহের কথা শেষ হতে দিলেন না। সিন্ধুচরণকে লক্ষ্য করে বললেন, ‘আর শিশু দুটি?’

‘আছে। আছে মহারাজ। পরম যত্নে রাখা হয়েছে তাদের।’ এবারও কথা বলে উঠল নরসিংহ জেঠা। সেনাপতি ধমকের কণ্ঠে জিজ্ঞেস করলেন, ‘কোথায়?’ সেনাপতির রূঢ় কণ্ঠস্বর শুনে রাজা ব্যথা পেলেন বুঝি। নইলে কড়া চোখে সেনাপতির দিকে তাকাবেন কেন? মুহূর্তেই আত্মসংবরণ করলেন মহারাজ। নিচু গলায় বললেন, ‘আহ সেনাপতি! ওরা বড় নরম জাত। ওদের সঙ্গে কড়া গলায় কথা বলতে নেই।’ তারপর কণ্ঠস্বরকে স্বাভাবিক করে বললেন, ‘কোথায় রেখেছ তাদের? আমাকে কি একবার ওই শিশুদের দেখাবে?’

এতক্ষণে কথা বলার সুযোগ পেল সিন্ধুচরণ। বিগলিতভাবে বলল, ‘শিশু দুটি আমার ঘরেই আছে মহারাজ। আমার স্ত্রী ভবানীই এদের দেখেশুনে রেখেছে এতক্ষণ। আপনি আজ্ঞা দিলে ওদের নিয়ে আসতে বলি।’

রাজামশায় আজ্ঞা দেবেন কী, তাঁর কণ্ঠ যে থরথর। উত্তেজনায় তিনি যে বাকরুদ্ধ হয়ে পড়েছেন। রাজা মুখে কথা বললেন না, শুধু জোরে জোরে সম্মতির মাথা দোলালেন।

শিশু দুটিকে মহারাজ উপরিচর বসুর সামনে আনা হলো। শুভ্র বস্ত্র দিয়ে মোড়ানো। কাপড়ের আবরণ থেকে দুটি কচি মুখ উঁকি দিচ্ছে। কাপড় খণ্ড ছাড়িয়ে ওদের হাত আর পা বাইরে বেরিয়ে আছে, দুজনেই হাত-পা এলেবেলে নড়ছে। কিন্তু একজন ফরসা, অন্যজন কালো। এমন কালো একেবারে কুচকুচে কালো, যাকে বলে সে রকম। রাজার মুখ দিয়ে অজান্তেই যেন বেরিয়ে এলো, ‘কোনটা ছেলে, কোনটা মেয়ে?’

লম্বা ঘোমটা দিয়ে ভবানী একটা শিশুকে কোলে নিয়ে রাজার সামনে দাঁড়িয়েছিল। অন্য শিশুটি আরেকজন নারীর কোলে। তার মাথায়ও দীর্ঘ ঘোমটা টানা।

রাজার কথা শুনে ভবানী তার কোলের শিশুটিকে রাজার দিকে বাড়িয়ে ধরল। রাজার সঙ্গে কথা বলার সাহস ভবানীর নেই। রাজা দেখলেন—কালো শিশুটিকে বাড়িয়ে ধরেছে নারীটি।

রাজা জিসে করলেন, ‘কন্যা, না পুত্র?’

নরসিংহ জেঠা কোমল গলায় বলল, ‘ওইটি কন্যা মহারাজ। কন্যাটির কালো বরণ। আর ওই ফরসা সন্তানটি, ওটি পুত্র। রাজাদের মতো গায়ের রং তার।’

রাজার চোখ-মুখ হঠাৎ কুঁচকে গেল। চোখ তাঁর তখন কন্যাটির ওপর। উপরিচর ভীষণ বুদ্ধিমান। মুহূর্তেই নিজেকে লুফিয়ে ফেললেন মুখোশের অন্তরালে। বললেন, ‘বেশ, বেশ। মেয়েটি তো দেখতে বেশ ভালো। আর ওটি বুঝি ছেলে?’ শেষের বাক্যটি বলার সময় চোখ দুটি চকচক করে উঠল নিঃসন্তান রাজার। রাজার কথা শুনে নারীটি পুত্র শিশুটিকে রাজার দিকে এগিয়ে ধরল।

রাজা নিজেকে আর সামলাতে পারলেন না। বিপুল আগ্রহে দু-হাত বাড়িয়ে দিলেন নারীটির দিকে। ত্বরিত বুকে জড়িয়ে নিলেন শিশুটিকে। প্রজারা কী ভাবছে, সৈন্য-সেনাপতি কী ভাবছে, সঙ্গে আসা অমাত্যরা কী ভাবছেন—আমলে আনলেন না মহারাজা। শিশুপুত্রটিকে বুকে জড়িয়েই রাখলেন।

রাজা উপরিচরের বিয়ে হয়েছে বহু বছর। দুর্ভাগ্য, কোনো সন্তান জন্ম দিতে পারেননি তিনি। সন্তানহীনা মহিষী গিরিকার হাহাকার তিনি মুহূর্তে মুহূর্তে অনুভব করে গেছেন। সন্তান লাভের আশায় তিনি করেননি হেন কাজ নেই। যাগযজ্ঞে ব্রাহ্মণভোজন, দীনজনে সাহায্য ধ্যান-তপস্যা, উপবাস-তীর্থ ভ্রমণ—কিছুই বাদ দেননি মহারাজ-দম্পতি। কিন্তু কোনো কিছুতেই আপন সন্তানের মুখ দেখেননি তাঁরা। মাঝেমধ্যে বাৎসল্য উভয়কে আকুল করে তুলেছে। মহিষী উন্মাদের মতো আচরণ করেছেন মাঝেমধ্যে। রাজা উপরিচর বসু আত্মসংবরণশীল। তিনি তাঁর ব্যাকুলতা বাইরের কাউকে বুঝতে দেননি কখনো। কিন্তু বুকের তলায় সর্বদা সন্তান আকুলতা গুমরে মরেছে।

আজ এই শিশুটিকে কোলে নেওয়ার পরপরই রাজার ভেতরটা ভীষণভাবে উছলে উঠল। কেন এই উচ্ছ্বাস, কেন এই উন্মাদনা, বিভোরতা বুঝতে পারলেন না রাজা। শুধু অনুভব করতে পারলেন তাঁর শিরায় শিরায় প্রবল প্লাবন জাগছে। এই প্লাবনের ব্যাখ্যা তিনি খুঁজে পেলেন না। তাঁর মনে হলো—বহুদিন, বহু বছর ধরে খুঁজে বেড়ানো পরশ পাথরটি পেয়ে গেছেন তিনি। শিশুটিকে আরো নিবিড়ভাবে বুকের কাছে টেনে নিলেন উপরিচর।

রাজার মনে হলো—এই সন্তান তাঁরই। তাঁর না হয়ে অন্যের নয় কিছুতেই। এই শিশু তাঁরও বটে। নইলে কেন তিনি বুকের তলায় বটবৃক্ষের ছায়ার শীতলতা অনুভব করছেন। কেন তাঁর মনে হচ্ছে—এ তাঁর ভবিষ্যৎ উত্তরাধিকারী?

আকস্মাৎ রাজার চোখের সামনে তেজোবিন্দু বটপত্র উড়ন্ত পঙ্খি—এসবের স্মৃতি দৃশ্যময় হয়ে উঠল। রাজার মুখ দিয়ে বেরিয়ে এলো—বাছারে!

রাজার কাণ্ড দেখে সমবেতরা এমনিতেই অবাক হচ্ছিল। তারা মুখ ফুটে কিছু বলছিল না বটে, কিন্তু তাদের দেহের প্রতিটি অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ শিহরিত হচ্ছিল, প্রশ্নাকুল হচ্ছিল। শেষে রাজার ‘বাছারে’ শব্দটি শুনে আর চুপ থাকল না প্রজারা। প্রথমে পরস্পর পরস্পরের মুখ চাওয়াচাওয়ি করল। পরে কোলাহল মগ্ন হয়ে পড়ল তারা।

রাজা সংবিতে ফিরলেন। একটু লজ্জাও পেলেন বুঝি। তাঁর মধ্যে সংকুচিত ভাব দেখা গেল। তারপর কিছু একটা বলতে উদ্যত হলেন রাজা। কিন্তু বললেন না। হঠাৎ করে স্ত্রী গিরিকার কথা মনে পড়ে গেল রাজার। আগে যখন রানির কথা ভাবতেন তিনি, গিরিকার অসামান্য দেহ সৌন্দর্য তাঁর যৌবনোদ্ধত লাস্যময়ী রূপ তাঁর চারুনেত্র মদির কটাক্ষ—এসব মনে পড়ত। কিন্তু আজ ওসবেব কিছুই মনে পড়ল না রাজার। তাঁর চোখের সামনে শুধু ভেসে উঠল—সন্তান বুভুক্ষু একজন নারীর মুখচ্ছবি। নিঃস্ব, দীন, ব্যথিত, বাৎসল্যাকুল গিরিকার মুখখানি রাজা উপরিচরের সামনে দৃশ্যমান হলো। সন্তানহীনা নারীটি এই সন্তানটি পেলে কী উত্ফুল্লই না হয়ে উঠবেন? কী বিপুল আগ্রহেই না পুত্র শিশুটিকে বুকের কাছে টেনে নেবেন? ভেবে প্রথমে বিভোর, পরে আকুল হলেন মহারাজ। অমৃত আস্বাদে ভরে উঠল রাজার দেহ-মন।

নরম চোখে রাজা উপরিচর বসু সমবেত মানুষজনের দিকে তাকালেন একবার। তারপর নরসিংহ, সিন্ধুচরণ প্রভৃতির ওপর চোখ বুলিয়ে ভবানীর ওপর দৃষ্টি স্থির করলেন বসুরাজ। ক্ষীণ অথচ মোলায়েম স্বরে বললেন, ‘এই শিশুদের তুমিই লালন করেছ। তুমি এদের পালনকর্ত্রী। এদের ওপর তোমারই সর্বাধিকার। বুঝেছি, তুমি দাশরাজার স্ত্রী। তাই তোমার কাছেই আমার প্রার্থনা।’ ‘প্রার্থনা’ সব ভয়ডর ছাপিয়ে ভবানীর কণ্ঠ থেকে বেরিয়ে এলো।

‘হ্যাঁ, প্রার্থনা। এই সন্তানটিকে তোমার কাছ থেকে পাওয়ার জন্য প্রার্থনা করছি আমি।’ বিনীত গলা রাজার।

ভবানী কী বলবে বুঝে উঠতে পারল না। শুধু ঘোমটাটা তার মাথা থেকে খসে পড়ল। সবাই দেখল—নিঃসন্তান ভবানীর চোখ দুটি জলে ভরা।

পাশে দাঁড়ানো সিন্ধুচরণ সেই মুহূর্তে বলে উঠল, ‘ভবানী কী বলবে মহারাজ, আমি বলছি—আপনি স্বচ্ছন্দে দুটি সন্তানকেই নিয়ে যেতে পারেন। এরা তো আমাদের সন্তান নয়। অনেকটা কুড়িয়ে পাওয়া সন্তানই তো এরা।’ বলে চুপ মেরে গেল সিন্ধুচরণ।

রাজা বলে উঠলেন, ‘না, না। কন্যাটিকে নয়। পুত্রটিকেই নিয়ে যেতে চাই আমি।’

একটু দূরে লাঠিতে ভর দিয়ে দাঁড়ানো নরসিংহ জেঠা রূঢ় কর্কশ কণ্ঠে বলল, ‘শুধু ছেলেটিকে নেবেন মহারাজ। কন্যাটিকে নেবেন না?’

  চলবে ►►



মন্তব্য