kalerkantho


লে খা র ই শ কু ল

ব্যতিক্রমী মেধা ও মার্জিত ব্যক্তিত্বের কবি সিমাস হিনি

৮ জুন, ২০১৮ ০০:০০



ব্যতিক্রমী মেধা ও মার্জিত ব্যক্তিত্বের কবি সিমাস হিনি

আইরিশ কবি, নাট্যকার ও অনুবাদক সিমাস হিনি ১৯৯৫ সালে সাহিত্যে নোবেল পুরস্কার পান। সিমাস হিনির জন্ম, বড় হওয়া এবং শিক্ষাদীক্ষা উত্তর আয়ারল্যান্ডে। তবে তিনি জোর গলায় বলেছেন, তিনি ব্রিটিশ নন, আইরিশ। ১৯৭৬ সাল থেকে আমৃত্যু তিনি ডাবলিনের স্যান্ডিমাউন্টে থেকেছেন। অবশ্য ১৯৮১ সাল থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত মাঝেমধ্যে আমেরিকায় থেকেছেন অধ্যাপনার কাজে। সিমাস হিনির বাবা ও মায়ের দিকের আত্মীয়রা যথাক্রমে কৃষি ও শিল্পের সঙ্গে জড়িত ছিলেন। তাঁর কবি হওয়ার পেছনে এ রকম পটভূমিকে টানাপড়েনের কারণ বলে উল্লেখ করেন।

  তাঁর সম্পর্কে আমেরিকার কবি রবার্ট লোয়েল বলেন, ‘ইয়েসটসের পরে তিনিই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ আইরিশ কবি। ব্রিটিশ শিক্ষাবিদ জন সাদারল্যান্ড বলেন, ‘তিনি আমাদের সময়ের শ্রেষ্ঠ কবি।’ আরেক মার্কিন কবি রবার্ট পিনস্কি বলেন, ‘দেখার প্রতিভা আর শোনার প্রতিভা থাকার কারণে হিনি গল্পবলিয়ের প্রতিভাও পেয়েছেন।’

   ১৯৫৭ সালে হিনি বেলফাস্টে যান কুইন্স ইউনিভার্সিটিতে ইংরেজি ভাষা ও সাহিত্য পড়ার জন্য। বেলফাস্টে থাকাকালে তিনি টেড হিউজের ‘লুপারক্যাল’-এর একটা কপি পান। সেটি পড়ার পর তাঁর মধ্যে কবিতা লেখার প্রবল আগ্রহ জাগে। এ প্রসঙ্গে হিনি বলন—‘হঠাৎই মনে হলো, সমকালীন কবিতার বিষয় আমার নিজের জীবনের অংশ হয়ে গেছে।’ বেলফাস্টের সেন্ট যোসেফস টিচার ট্রেনিং কলেজে থাকাকালে পশ্চিম বেলফাস্টের সেন্ট টমাসেস সেকেন্ডারি ইন্টারমিডিয়েট স্কুলের প্রধান শিক্ষক এবং কথাসাহিত্যিক মাইকেল ম্যাকলেভার্টির সঙ্গে পরিচয় হয় হিনির। তিনি সিমাস হিনিকে প্যাট্রিক কাভানাফের কবিতার সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেন। ম্যাকলেভার্টির তত্ত্বাবধানেই প্রথম কবিতা প্রকাশ করা শুরু করেন সিমাস হিনি। নিজের ওপর ম্যাকলেভার্টির প্রভাবের কথা বলতে গিয়ে হিনি উল্লেখ করেন, ‘তাঁর কণ্ঠ নমনীয়; তিনি পাদপ্রদীপের নিচে আসার চেষ্টা করেননি কখনো। তার পরও আমাদের সাহিত্যে তাঁর অবস্থান শক্ত ও স্থায়ী।’ বিশ শতকের সমালোচনা এবং পূর্ব ইউরোপের কবিদের প্রভাব ছিল হিনির ওপর, বিশেষ করে উল্লেখ করার মতো ছিলেন পোল্যান্ডের কবি চেশোয়াভ মিউশ।

  ১৯৬০-এর দশকের শুরুর দিকে ব্রিটিশ শিক্ষাবিদ, কবি ও সমালোচক ফিলিপ হোবসবমের নজরে আসেন হিনি। হোবসবম তখন কুইন্স ইউনিভার্সিটিতে ইংরেজি সাহিত্য পড়াতেন। তিনি বেলফাস্টের উঠতি কবিদের সংগঠিত করেন। তখন সিমাস হিনিও ওই দলের কবিদের সঙ্গে একাত্ম হয়ে যান। তাঁদের মধ্যে ছিলেন কবি ডেরেক মাহোন এবং মাইকেল লংলি। পরবর্তী সময়ে সিমাস হিনির ঘনিষ্ঠ বন্ধু হয়েছিলেন তাঁরা।    ১৯৬৬ সালে ফেবার অ্যান্ড ফেবার হিনির প্রথম কাব্যগ্রন্থ ‘ডেথ অব আ ন্যাচ্রালিস্ট’ প্রকাশ করে। প্রথম বই সমালোচকদের প্রশংসা পেয়ে যায় এবং গ্রেগরি অ্যাওয়ার্ড ফর ইয়াং রাইটারস, জেফির ফেবার প্রাইজসহ বেশ কয়েকটি পুরস্কারও পায়।

 কবিতা সৃষ্টি সম্পর্কে হিনি বলেন, ‘যখন কবিতা ছন্দ হয়ে ওঠে, যখন আঙ্গিক নিজেই তৈরি হয়ে যায়, মাত্রা যখন চেতনাকে একটা নতুন ভঙ্গিতে রূপান্তরিত করে, কবিতা জীবনের পক্ষেই থাকে। ছন্দ যখন চমকে দেয় এবং শব্দের মাঝের সম্পর্কের প্রসারণ ঘটায়, তখন প্রয়োজনীয়তার বিরুদ্ধে দাঁড়িয়ে যায় সেটি। কবিতা বাস্তবতার যে অন্তর্দৃষ্টি উপহার দেয়, সেটির ভিন্ন ভিন্ন রূপ গ্রহণের ক্ষমতা থাকতে হবে। সেটি যেন অবশ্যই নির্দিষ্ট পরিস্থিতির সময় এবং স্থানের শুধু ছাপা চেহারার চেয়ে বেশি কিছু হয়ে থাকে।’

সিমাস হিনি সবার সঙ্গে আজীবন বিনয়ী ও নম্র আচরণ করেছেন। ২০১৩ সালে তাঁর মৃত্যুর পর ‘দি ইনডিপেনডেন্ট’ তাঁকে ‘সারা বিশ্বের সবচেয়ে সুপরিচিত কবি’ বলে মন্তব্য করে। অনেক দেশের রাষ্ট্রনায়কসহ শিল্পসাহিত্যের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অসংখ্য মানুষ তাঁর প্রতি শ্রদ্ধা জানান।

দুলাল আল মনসুর



মন্তব্য