kalerkantho


ধারাবাহিক উপন্যাস

বিষণ্ণ শহরের গল্প

সেলিনা হোসেন

১১ মে, ২০১৮ ০০:০০



বিষণ্ণ শহরের গল্প

অঙ্কন : বিপ্লব

তেইশ

 

সুফিয়া খাতুন স্তব্ধ হয়ে বসে থাকে। চারদিকে লোকজন হাঁটাচলা করছে। কেউ কেউ তার দিকে তাকায়। আবার মুখ ঘুরিয়ে চলে যায়। কেন বসে আছে—এমন প্রশ্ন কেউ তাকে করে না। বাজে মন্তব্যও করে না। দুটি মেয়েশিশু এগিয়ে এসে বলে, তুমি এখানে বসে আছ কেন?

 

—এমনি বসে আছি। বসে থাকা ছাড়া আমার কিছু করার নেই।

মেয়ে দুটি হেসে বলে, এটা আবার কেমন কথা? তোমার কি খুব দুঃখ?

—হ্যাঁ, আমার মনে অনেক দুঃখ। দুঃখ ছাড়া আমার আর কিছু নেই। তোমরা রাস্তায় ঘুরছ কেন?

—আমাদেরও অনেক দুঃখ। আমাদের বাবা আমাদের ফেলে রেখে কোথায় যেন চলে গেছে। আমরা পাতা কুড়িয়ে বিক্রি করি। আমাদের মা বাসাবাড়িতে কাজ করে।

—তোমাদের নাম কী?

—আমার নাম গোলাপি।

—আমার নাম ময়না।

—বাহ্, খুব সুন্দর নাম তো!

—সুন্দর নাম দিয়ে কী হয়?

—কিছু হয় না। যেমন তদন্ত কমিটি করেও কিছু হয় না।

—তদন্ত কমিটি? এটা কার নাম?

—তোদের বোঝানো যাবে না রে গোলাপি আর ময়না। তোরা  কোথায় থাকিস, বল তো?

—বস্তিতে। তুমি আমাদের বলছ না কেন যে তদন্ত কমিটি কার নাম?

—কারো নাম না। একটি জীবিত মেয়ের সঙ্গে একটি মরা ছেলে বদল হয়ে গেলে তদন্ত কমিটি হয়। হয় মানে, হতে হয়।

গোলাপি আর ময়না কিছু বুঝতে পারে না। হাঁ করে তাকিয়ে থাকে সুফিয়া খাতুনের মুখের দিকে। আসলে সুফিয়া খাতুন তো ওদের সঙ্গে কথা বলছে না। বলছে নিজের সঙ্গে। বলছে, তদন্ত কমিটি কী করবে? কারচুপির সঙ্গে পাল্লা দেওয়া কঠিন। সিসিটিভি ক্যামেরা থাকলেও দরকারের সময় সেটা আবার বন্ধ থাকে। হাঃ!

—খালা, আপনি কার সঙ্গে কথা বলেন?

—নিজের সঙ্গে।

—নিজের সঙ্গে কথা বলা যায়? আপনি কি পাগলি?

—আমাকে কি পাগলির মতো লাগছে? তোদের কী মনে হচ্ছে?

দুজনে চুপ করে তাকিয়ে থাকে। সুফিয়া খাতুন তো ঠিকঠাক কথা বলছে। তাকে তো পাগলির মতো লাগছে না। কী বলবে ওরা?

—কী রে, কথা বলছিস না যে?

দুজনে দুহাতে মুখ ঢাকে। সুফিয়া খাতুন ওদের মুখ থেকে হাত সরিয়ে দিয়ে বলে, দুপুরের ভাত খেয়েছিস?

—বাড়ি গিয়ে ভাত খাব। মা যে বাড়িতে কাজ করে, সেখান থেকে ভাত আনবে।

—সেই ভাতে কি সবার হয়? তোরা কয় ভাই-বোন?—গোলাপিরা  তিন ভাই-বোন। আমার ভাই-বোন নেই। মা ভাত আনলে আমি আর মা সেই ভাত খাই।

ময়নার কণ্ঠস্বরে  খুশির আভা। গোলাপি বলে, আমার মা যে ভাত আনে সেই ভাতে তিন ভাই-বোনের পেট ভরে না। অনেক দিন মা না খেয়ে থাকে। কখনো মুড়ি যায়, নইলে আর কিছু।

—তোরা তো বেশ সুন্দর করে কথা বলতে পারছিস রে। স্কুলে যাস?

—না, আমরা স্কুলে যাইনি। কখনো আপারা এসে আমাদের বই দিয়েছে। লেখাপড়া শিখিয়েছে। সে জন্য আমরা অল্পস্বল্প পড়তে পারি।

—তোদের নিজেদের বলার কোনো ঘটনা আছে? তোরা কোনো ঘটনা দেখেছিস?

—ময়নার একটা ঘটনা আছে। খুব লজ্জার কথা। আমরা বলতে চাই না।

—কোনো লোক ময়নাকে নিয়ে গিয়েছিল কোথাও?

—হ্যাঁ।

ময়না গোলাপির মুখে হাত দিয়ে বলে, চুপ কর। আর বলবি না।

তারপর কাঁদতে শুরু করে।

—কাঁদিস না সোনা। আমি বুঝেছি তোর কী হয়েছিল। তুই যে আমার কাছে এসে বসেছিস, হাসিমুখে কথা বলছিস, সে জন্য আমি খুব খুশি। তোর হাসিমুখ দেখে আমি বুঝে গেছি যে তুই লোকটাকে লাত্থি দেখাচ্ছিস। তাই না?

—হ্যাঁ, আমি তো প্রথমে ওকে লাত্থি দিয়েছিলাম। আমার ছোট পায়ের লাত্থি ওর গায়ে বেশি জোরে লাগেনি। ও আমার পা চেপে ধরেছিল। আমি ঠিক করেছি, বড় হলে ওকে আমি খুন করব।

—খুন করবি? সুফিয়া খাতুন চোখ বড় করে তাকায়।

—খুনই করব। লোকটা বুড়া হয়ে গেলেও আমি ওকে খুন করব। লোকটা আমাকে পথের ধারে ফেলে দিয়েছিল। পথ দিয়ে হেঁটে যাওয়া একজন খালা আমাকে দেখতে পেয়ে হাসপাতালে নিয়ে যায়। পরে আমার মা পত্রিকার খবর দেখে আমাকে বাড়িতে নিয়ে আসে। আমি এখন বড় হতে চাই। ময়না আমার বন্ধু। ও আমাকে ভালোবাসে। আমি আর ময়না খেলতে খেলতে বড় হব।

—শাবাশ, ঠিক আছে। তোকে যে মেরে ফেলেনি—এটাই আমার সান্ত্বনা। তুই যে ওকে খুন করতে চাস, সে জন্য তোকে স্যালুট।

হি হি হাসিতে মেতে ওঠে দুজন। ওদের হাসি শুনে সুফিয়া খাতুন বেঁচে থাকার চ্যালেঞ্জ গ্রহণ বুঝতে পারে। ও তাকিয়েই থাকে ওদের দিকে। দুটি ছোট মেয়ে আজ ওকে গভীর আনন্দ দিয়েছে। কত বয়স হয়েছে ওদের? দশ-এগারো হবে। সুফিয়া খাতুন ওদের মাথার ওপর হাত রাখলে শুনতে পায় শহরের কণ্ঠস্বর। বলছে, তোমরা সবাই আসিফার কথা শোনো।

ময়না আর গোলাপি জিজ্ঞেস করে, আসিফা কে?

—ও ভারতের কাশ্মীরের মেয়ে।

—ও কত বড়? স্কুলে পড়ে?

—হ্যাঁ ও স্কুলে পড়ে। ওর বয়স আট বছর।

—ও তো আমাদেরই মতো ছোট মেয়ে। ওর কী হয়েছিল?

—ওকে মন্দিরে আটক করা হয়েছিল।

—মন্দিরে? মন্দিরে কি কাউকে আটক করা যায়? মন্দিরে তো পূজা হয়। দুর্গাপূজার সময় মন্দিরের সামনে গেলে আমরা কত কিছু খেতে পাই। খেতে খুব মজা লাগে। মন্দিরে কেন আসিফাকে আটকে রাখা হয়েছিল?

—শয়তান লোকেরা ওকে আটকে রেখে ধর্ষণ করে। তারপর গলা চেপে ধরে মাথায় পাথর মেরে ওকে মেরে ফেলে।

—ও আল্লাহ রে...

হাউমাউ করে কেঁদে ওঠে গোলাপি আর ময়না। সুফিয়া খাতুন ওদের দিকে তাকিয়ে ভাবে, ওরা কাঁদুক। কেঁদে নিজেদের উজাড় করুক। শান্ত হলে আমি ওদের সঙ্গে কথা বলব। শহর, তোমার কথা শুনতে পাচ্ছি না। এখন আর কেউ তোমার কথা শুনবে না। শুধু আমি শুনব। ধর্ষণকারীদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে কি?

—হয়েছে। তোরা ধর্ষণ কী জানিস রে?

—জানি জানি। গোলাপি বেশি জানে। সুফিয়া খাতুনের জিজ্ঞাসায় ময়না জোরে জোরে বলে। খালা, আমি গোলাপির কাছ থেকে জেনেছি। আসিফাকে ওরা মেরে ফেলেছে কেন?

—আসিফা তো শয়তানগুলোকে ধরিয়ে দিতে পারত। পুলিশ আসিফাকে জিজ্ঞেস করত। এদের বলত, এদের কি চিনিস? আসিফা তো চিনবেই। সঙ্গে সঙ্গে বলত—হ্যাঁ, চিনি। এগুলোই শয়তান। সে জন্য ওরা আসিফাকে মেরে ফেলেছে।

দুজনে আর কোনো প্রশ্ন করে না। সুফিয়া খাতুন বলে, আজ আমি তোদের ভাত খাওয়াব। কাছে-ধারে কোনো হোটেল আছে?

—হ্যাঁ, আছে। কয়েকটা হোটেল আছে।

—তোরা ঠিক করবি আমরা কোন হোটেলে যাব।

—আমরা তো কখনো হোটেলে ভাত খাইনি, খালা।

—ঠিক আছে, আমি ঠিক করব হোটেল।

—ইস, আমাদের মায়েরাও যদি খেতে পারত!

—মায়েদের আরেক দিন খাওয়াব। মায়েরা যেখানে কাজ করে, সেখান থেকে তো ছুটি নিয়ে আসতে হবে।

—ঠিক বলেছেন।

—এখন তোরা চুপ করে বসে থাক। আমরা একটু পরে যাব।

সুফিয়া  খাতুন বাতাসের শব্দ টের পায়। বলছে, আসিফাকে হত্যার দায়ে আটজনকে অভিযুক্ত করেছেন ভারতের আদালত।

সুফিয়া খাতুন জোরে জোরে বলে, এই ছোট্ট মেয়েটিকে আটজন  ধর্ষণ করেছে। অমানুষ! অমানুষ! দুনিয়া থেকে মানুষ কমছে।

আবার বাতাসের কণ্ঠস্বর ভাসে, আসিফার পরিবারের হয়ে মামলা লড়ছেন দীপিকা রাজাওয়াত। তিনি টেলিভিশনে বলেন, ধর্ষকরা তাঁকেও হুমকি দিচ্ছে।

—হুমকি? কিসের জন্য হুমকি?

—বিচারের দাবি না করার হুমকি। শয়তানের দোসররা এই হুমকি দিচ্ছে। বলছে, তাকেও ধর্ষণ করা হবে। মেরে ফেলা হবে। তিনি যেন মামলা নিয়ে বাড়াবাড়ি না করেন।

—বিচারের দাবি করা কি বাড়াবাড়ি?

—অমানুষরা এমনই করবে, সুফিয়া খাতুন।

—তাহলে অন্যরা কি বসে থাকবে? এদের বিরুদ্ধে রাস্তায় নামবে না? বলবে না, ধর্ষকদের ফাঁসি চাই? ধর্ষণ? তা-ও আবার মন্দিরের মতো পবিত্র জায়গায়!

এটা একটা বড় খবর যে ক্ষোভে উত্তাল হয়ে উঠেছে ভারত। অন্যদিকে ‘হিন্দু একতা মঞ্চ’ নামের সংগঠন দোষীদের পক্ষে সমাবেশের আয়োজন করেছিল। এই সমাবেশে ভাষণ দিয়েছিলেন কাশ্মীরের মুখ্যমন্ত্রী। সরকারের দুজন মন্ত্রীও সেখানে উপস্থিত ছিলেন। দুই বিজেপি নেতা ধর্ষকদের মুক্তির দাবি জানান। ধর্ষকদের কেন গ্রেপ্তার করা হয়েছে, এর বিরুদ্ধে ক্ষোভ জানিয়ে একজন নেতা বলেন, একটি মেয়ের মৃত্যু নিয়ে এত প্রতিবাদের কী হলো। জনগণ রাজপথ ভরিয়ে ফেলেছে! ভারতে এমন অনেক মেয়ে মারা যায়। মৃত্যু মৃত্যুই। হৈচৈ করার কিছু নেই। মৃত্যু নিয়ে রাজনীতি করা হচ্ছে।

সুফিয়া খাতুন চেঁচিয়ে বলে, অমানুষ! অমানুষ! অমানুষদের ফাঁসি চাই।

বাতাস শোঁ শোঁ শব্দে বলে, স্থির হও। তুমিও মিছিল করবে নাকি?

—দরকার হলে করব। আমার সামনে যে দুটি মেয়ে বসে আছে, তাদের একজন ৯ বছরে পুরুষের হামলায় থেঁতলে গিয়েছিল।  কোনো রকমে জানে বেঁচে গেছে।

—থাম থাম। আরো বলি শোন। শয়তানরা যে আইনজীবীকে ধর্ষণ ও হত্যার হুমকি দিয়েছিল, ভারতের সুপ্রিম কোর্ট জম্মু ও কাশ্মীরের প্রাদেশিক সরকারকে আইনজীবী দীপিকার নিরাপত্তার নির্দেশ দিয়েছেন।

—সাধু, সাধু।

—আরেকটি কথা শোন। আসিফার বাবাও নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে। অপরাধীদের হুমকিধামকি এতই জোরালো।

—অমানুষ! অমানুষ! তুমি ওদের পুড়িয়ে ফেলো, বাতাস।

পোড়ানো কি সোজা কথা! বিচারের শাস্তি হওয়াটাই দরকার। আসিফার বাবা নিরাপত্তার স্বার্থে মামলা কাশ্মীরের আদালত থেকে সরিয়ে চণ্ডীগড়ের আদালতে উপস্থাপনের আবেদন জানান।

—ধর্ষণের মামলা তো মামলাই। সেটা এক প্রদেশ থেকে আরেক প্রদেশের আদালতে নিয়ে গেলে কি বাবার নিরাপত্তা হবে? আসামিরা তো কাশ্মীরেই থাকবে। ওদের সাঙ্গরা কি বিচারের রায়ে মৃত্যুদণ্ড হলে ছেড়ে দেবে পরিবারকে? ওরা কোথায় পেয়েছিল আসিফাকে?

—কাঠুয়ার উপত্যকায় ঘোড়া চরানোর সময় মেয়েটিকে উঠিয়ে নিয়ে গিয়েছিল।

—ওহ, ঘোড়া চরানো মেয়েটির এমন দুর্ভোগ। তা-ও আবার আটজন মিলে। আবার সরকারের মন্ত্রীদের সমর্থন পায়। আমরা যাব কোথায়? বাতাস, তোমার কথা শেষ হয়নি তা আমি জানি। বলো, আর কী খবর জানাবে। আসিফার বাবার করা মামলা কি চণ্ডীগড়ের আদালতে নেওয়া হয়েছে?

—এখনো হয়নি। মামলা স্থানান্তরের জন্য প্রাদেশিক সরকারের মতামত চেয়েছেন আদালত।

—হবে কি? নাকি শুধু সময় কাটাবে?

—কে জানে। তবে সরকারের ওপর অনেক চাপ সৃষ্টি করছে শিক্ষাবিদরা। তাঁদের মধ্যে ভারতের শিক্ষাবিদরা যেমন আছেন, তেমনি আছেন অস্ট্রেলিয়া, আমেরিকা, ব্রিটেনের শিক্ষক ও শিক্ষাবিদরা। তাঁরা প্রধানমন্ত্রীকে খোলা চিঠি দিয়েছেন।

—যাক, খুব ভালো। সবাই অমানুষ না। মানুষও আছে দুনিয়ায়।

—আরো একটা খবর তোমাকে বলি।

—বলো, বলো। সব খবর আমি শুনতে চাই। বলো কী বলবে? শুনতে দেরি হলে আমার মেজাজ খারাপ হয়ে যায়।

—বলছি যে শিশু ধর্ষণের শাস্তি মৃত্যুদণ্ড ঘোষণা করে অর্ডিন্যান্স জারি করা হয়েছে। প্রেসিডেন্ট স্বাক্ষর করেছেন। ভারতের সানডে টাইমসে হেড লাইনে বলা হয়েছে, কেবিনেট ক্লিয়ার্স ল টু পানিস রেপিস্টস অব মাইনর গার্লস উইথ লাইফ ইন জেল, ডেথ।

—বাব্বা, ভালোই তো; কিন্তু শুধু বালিকা মেয়েদের জন্য মৃত্যুদণ্ড, নারীদের ধর্ষণের বিচার কি হবে না? নারী ধর্ষণেরও বিচার চাই। তাঁদের ধর্ষকের জন্যও মৃত্যুদণ্ড আইন হোক।

—আমার এত কিছু বলার কথা নাই। আমি গেলাম।

থেমে যায় বাতাসের শোঁ শোঁ শব্দ। বেশ কিছুক্ষণ স্তব্ধ হয়ে থাকে সুফিয়া খাতুন।

গোলাপি বলে, তোমার কী হয়েছে খালা?

—আমার তো কিছু হয়নি। দেখছিস না আমি বসে আছি।

—তাহলে আমাদের সঙ্গে কথা বলছ না কেন?

—তোরা আমার প্রাণের টুকরা। তোদের আমি সালাম করি।

হি হি করে হাসে দুজন। ময়না বলে, আমরা তো ছোট। আমাদের সালাম করবে কেন?

—গোলাপি যে নতুন জীবন পেয়েছে, সে জন্য। গোলাপি তো দমে যায়নি। কেমন সুন্দর করে কথা বলছে, হাসছে।

—ওর জন্য আমি ওর সঙ্গে সঙ্গে থাকি। আমি ওকে খুব ভালোবাসি, খালা।

—ময়না রে, তোকেও আমি সালাম করি। এখন চল, তোদের নিয়ে ভাত খাব। তারপর তোদের কুকুরের ভালোবাসার গল্প শোনাব।

(চলবে)



মন্তব্য