kalerkantho

এটাচি

ম্যারিনা নাসরীন

২৯ ডিসেম্বর, ২০১৭ ০০:০০



এটাচি

অঙ্কন : মানব

নেহাল বুঝতে পারছে, শওকত সাহেব গ্লাসের বাকি জুসটুকু শেষ করতে চান, কিন্তু নেহাল সেদিকে ভ্রুক্ষেপ করে না। সে শওকত সাহেবকে বিজয় লাইফের যাবতীয় পলিসির সুযোগ-সুবিধা বুঝিয়ে দেওয়ার জন্য সর্বাত্মক চেষ্টা চালিয়ে যেতে থাকে। তিনি যে ডাকসাইটে উঠতি ব্যবসায়ী, সেটা উল্লেখ করে নেহাল আশঙ্কা প্রকাশ করে, যেকোনো দিন সুব্রত বাইন বা কালা জাহাঙ্গীর তাঁর কাছে চাঁদা চেয়ে হুমকি দিয়ে বসতে পারে। এমনকি হত্যার আশঙ্কাও উড়িয়ে দেওয়া যায় না। এ অবস্থায় শওকত সাহেবের উচিত, অচিরেই নিজের জন্য জীবন বীমা এবং ছেলে-মেয়েদের জন্য শিক্ষা বীমার পলিসি গ্রহণ করা। 

শওকত সাহেব একদৃষ্টিতে তাকিয়ে আছেন। খুবই অস্বস্তিকর দৃষ্টি। তাঁর পাশে রাখা জুসের গ্লাসের শরীর বেয়ে জলীয় বাষ্প গড়িয়ে পড়ছে। সেটা দেখে নেহালের পিপাসা বেড়ে গেলেও নেহাল থামে না। সে খুব আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে বলে, ‘আপনার অবর্তমানে আপনার পরিবারের মাথায় ছাতা ধরবে বিজয় লাইফ স্যার।’

‘তো আপনার বিজয় লাইফ শুধু আমার পরিবারের মাথায় ছাতা ধরবে, নাকি আপনার মাথায়ও ধরবে?’

শওকত সাহেব প্রশ্নটি করে হাসি হাসি মুখে চেয়ে থাকেন। নেহাল বুঝতে পারছে না উনি আসলে কোন অ্যাংগেলে কথাটি বলছেন। যে অ্যাংগেলেই বলুক, এসব গায়ে মাখা যাবে না। বলে, ‘আমাদের কম্পানি খুব তাড়াতাড়ি আরো উন্নত প্রযুক্তি চালু করতে যাচ্ছে, স্যার। তাতে মাঠকর্মীরা এক ধরনের অত্যাধুনিক ইলেকট্রনিক ডিভাইস ব্যবহার করতে পারবে। কম্পানির অ্যাকাউন্টে সরাসরি আপনার প্রিমিয়াম জমা করতে পারবেন। আপনি প্রিমিয়াম জমার রসিদ তাত্ক্ষণিকভাবে পেয়ে যাবেন। ফাঁকির কোনো রাস্তাই থাকবে না।’

‘হে হে হে, আগে তো ক্লায়েন্ট হই!’ 

‘আমি আপনাকে আমাদের ক্লায়েন্ট হিসেবে দেখতে চাই, স্যার। এই স্কিমগুলো পড়ে দেখুন। সব বুঝতে পারবেন।’

নেহাল শওকত সাহেবের দিকে একতাড়া কাগজসহ খাম এগিয়ে দেয়। তিনি খামটি হাতে নিয়ে বলেন—‘আচ্ছা, নেহাল সাহেব বলেন তো, এই নিয়ে মোট কয় দিন আপনি আমার দোকানে এলেন?’

‘তাতে সমস্যা নেই, স্যার। আপনাদের কাছে সেবা পৌঁছে দেওয়াই আমাদের কাজ।’

‘মোট পাঁচ দিন এসেছেন এবং প্রতিবার কিছু যোগ-বিয়োগ করে একই কথা আমাকে বলেছেন। আমার অবশ্য শুনতে মন্দ লাগে না। আপনাদের মতো অ্যাটাচি হাতের লোকজন চমত্কার গুছিয়ে কথা বলেন। পেটে ভাত না থাকুক, হাতে চকচকে অ্যাটাচি থাকা চাই! আপনাদের জন্য আমার খুব ভাবনা হয়! তরুণ একটা সমাজ শুধু দালালি করে জীবনটা কাটিয়ে দিচ্ছে! একটাই টার্গেট। জাল পেতে ক্লায়েন্ট ধরা। সো স্যাড!

নেহাল মুখে হাসি ঝুলিয়েই রাখে, ‘এটা দালালি নয়, স্যার। এক ধরনের সেবামূলক পেশা বলতে পারেন। আর আমরা মানুষের তো ক্ষতি করছি না, বরং আর্থিকভাবে তাদের যেকোনো বিপদের ঝুঁকি নিজের কাঁধে নিচ্ছি। তাতে হয়তো আমার পরিবারের ভরণ-পোষণটাও চলে যাচ্ছে।’ 

‘হুম, বুঝলাম। এই দিকটা অবশ্য আমি ভাবিনি। নেহাল সাহেব, আমার মাথার টুপি দেখছেন তো? এই দেখেন, দাড়ি একমুঠার কম নয়। একমুঠা কেন জানেন?’

‘জি। জানি, স্যার। এক মুষ্টি পরিমাণ দাড়ি রাখা সুন্নত।’

‘এই তো বুঝেছেন। শোনেন ইয়াংম্যান, লাইফের ইনস্যুরেন্স আল্লাহ তায়ালা ছাড়া কেউ দিতে পারেন না। সুদ ছাড়া ব্যাংকে টাকা রাখি। কারেন্ট অ্যাকাউন্ট। সুদ খাওয়া হারাম। আমি হারাম খাই না। এখন যান, আমার লাঞ্চের সময় হয়েছে।’

‘নিশ্চয়ই। তবে আমি আবার আসব, স্যার।’

মুচকি হেসে ফুলকি হার্ডওয়্যার থেকে বেরিয়ে আসে নেহাল। হাল ছাড়া যাবে না। এই লাইনে ছয় বছরের  অভিজ্ঞতা। মন বলছে, শওকত সাহেব বীমা করবেন এবং মোটা অঙ্কেরই করবেন।

দুই.

আজ আরো চারজন ক্লায়েন্ট ধরতে হবে। ঝা ঝকঝকে দুপুর। কোনো একটি কবিতায় নেহাল পড়েছিল—আগ্রাসী দুপুর। হতে পারে, এ তেমনই একটা দুপুর। নেহাল কবিতাটবিতা ভালো বোঝে না। ওর মগজজুড়ে চলছে জুন-জুলাইয়ের টার্গেট। আরো অন্তত পাঁচটা ফাইল লাইনে না এলে এবারও প্রমোশন আটকে থাকবে। 

প্রচণ্ড এসিডিটি হচ্ছে। বুঝতে পারছে না, সকালের আলুভর্তা-ডালের প্রভাব, নাকি টেনশন! রাস্তার পাশের ভ্যানে সবুজ রঙের ডাবগুলো চুম্বকের মতো টানছে। কিন্তু ৫০ টাকা বেরিয়ে যাওয়ার ভয়ে ওদিকে গেল না। তা ছাড়া ক্ষুধাও মিটবে না। কারওয়ান বাজারে কিছুক্ষণ নামে একটা হোটেল আছে। সেখানে ৪০ টাকার মধ্যে ভালো লাঞ্চ হয়ে যায়। ভেজানো চিঁড়ার সঙ্গে এক বাটি দই। এদিকটায় এলে নেহাল সেটাই খায়। এর কয়েকটা গুণ আছে। কম খরচে পেট ঠাণ্ডা রাখে, আর পরবর্তী কয়েক ঘণ্টা ক্ষুধা থাকে না।

হাঁটতে হাঁটতে নেহাল কিছুক্ষণে যায়। কিন্তু হোটেলটিতে আজ প্রচণ্ড ভিড়। কোনো টেবিল ফাঁকা নেই। নেহাল বেরিয়ে আসে। দেরি হলে ক্লায়েন্ট মিস হবে। ক্লায়েন্ট মিস হলে ফাইল মিস, ফাইল মিস মানে লাইন মিস, আর লাইন মিস হয়েছে তো, মাসের শেষে টানাপড়েন, বাজারের ফর্দের গরমিল, মিলার ঝাড়ি, কত কি!

পকেট থেকে ছোট্ট নোটবুক বের করে চেক করে নেয় নেহাল। পরের টার্গেট কে? হাহ! টার্গেট! এই একটা শব্দে আটকে আছে জীবন! মুখটা তেতো হয়ে ওঠে। একদলা থুথু ফেলে রাস্তায়। সামনে কোনো গ্রাহক নেই, সুতরাং অভিনয়ের কিছু নেই। কাদের ভাইয়ের অফিস গ্রিন রোডে। সেদিকেই হাঁটা শুরু করে।

এলাকার বড় ভাই। ব্যবসায় ভালো টাকা কামাচ্ছে। বীমা করবে করবে করে প্রায় দেড় বছর হলো ঘোরাচ্ছে নেহালকে। ফোন করে না নেহাল। আজকাল পরিচিত কেউ সহসা ফোন ধরতে চায় না। ধরলেও মিথ্যা বলে। বাসায় নেই বা অফিসে নেই। মোবাইল হয়ে মানুষের মিথ্যার পরিমাণ কী যে বেড়েছে! নিজেই কি কম মিথ্যা বলে! থাকে জিঞ্জিরা, বলে দেয় গুলশান! গত ছয় বছরে কমপক্ষে ৯টা সিম বদলেছে নেহাল।

লিফটের বারোতলায় কাদের ভাইয়ের অফিস। কাদের ভাই তার রুমেই আছে। একটু টোকা দিয়ে ভেতরে ঢুকতেই হাহা করে ওঠে।

‘আরে নেহাল, তোমাকেই খুঁজছি। ফোন বন্ধ কেন? কী টিউটর জোগাড় করে দিলে, মিয়া?  ঠিকমতো আসে না। পড়াতে পারে না কিছু। গত সপ্তাহে তোমার ভাবি ওকে বিদায় করে দিয়েছে। আর একজন টিউটর জোগাড় করে দাও, ভাই। তোমার ভাবি আমার ঘুম হারাম করে দিচ্ছে।’

‘আবার বিদায় করে দিয়েছেন?’ নেহাল খুব হতাশ কণ্ঠে বলে।

‘আরে কী করবে? ম্যাথ, ফিজিক্স—কোনোটাই ঠিকমতো বোঝাতে পারে না।’

‘আচ্ছা, আমি দেখছি কী করা যায়।’

‘দেখছি নয়, আমার আগামী সপ্তাহে চাই। রিমনের লেখাপড়া কিছুই হচ্ছে না। জানোই তো, টিউটর ছাড়া ও একদম পড়ে না।’

‘আচ্ছা, আমি আগামী সপ্তাহের মধ্যেই ব্যবস্থা করব। চিন্তা করবেন না।’

‘বাঁচালে। আচ্ছা, কী খাবে বলো? ঠাণ্ডা দিতে বলি?’

‘কিছু খাব না, কাদের ভাই। ভাবির একটা ডিপোজিট পেনশন স্কিম করবেন বলেছিলেন। ফরম নিয়ে এসেছি দেখেন।’ নেহাল একটা খাম কাদের ভাইয়ের দিকে এগিয়ে দেয়।

‘ফরম? আরে দূর! তোমার ওই এক আলাপ ছাড়া অন্য কিছু নেই। এ জন্য তোমাদের মতো এজেন্টদের মানুষ এড়িয়ে চলে, বুঝেছ? সেদিন এরফান সাহেব বললেন, এরা ভাইরাস! হা হা হা হা। শোনো, আপাতত একটা পয়সাও কোথাও ইনভেস্ট করতে পারব না।’

ভাইরাস শব্দটি কাদের ভাইয়ের অট্টহাসির সঙ্গে মিশে রুমজুড়ে তখনো তোলপাড় করছে। তার মধ্য দিয়ে নেহাল বেরিয়ে আসে। কাদের ভাইয়ের ছেলের টিউটর, শ্যালিকার জন্য দেশ থেকে আমসত্ত্ব, হলুদ-মরিচের গুঁড়া বয়ে আনা। বাড়িতে বৃদ্ধ মাকে ওষুধপথ্য, এটা-সেটা পৌঁছে দিয়ে আসার কাজ নেহাল হাসিমুখে করে দেয়। তার পেছনেও একটা স্বার্থ আছে তার। ক্লায়েন্ট, ফাইল, কমিশন!

তিন.

নিচে নেমে মোবাইলে ঘড়ি দেখে নেহাল। বিকেল সাড়ে ৩টা বাজে। আনিস সাহেব সাড়ে ৪টার মধ্যে তাঁর অফিসে যেতে বলেছিলেন। অফিস মহাখালী। গ্রিন রোড থেকে আবার হেঁটে সেই কারওয়ান বাজার মোড়। প্রতিটি বাসের গেটে বাদুড়ের মতো ঝুলছে মানুষ। ধুস শালা! এই দুপুরে এত ভিড় কেন? এসব মুহূর্তে একটা বাইকের অভাব প্রচণ্ডভাবে বোধ করে নেহাল। 

আনিস সাহেব নেহালের ফুফুর বাসায় ভাড়া থাকেন। ফুফুর মাধ্যমেই তাঁর সঙ্গে পরিচয়। একটা স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা। কিন্তু বর্তমানে যেভাবে গোল্ডেন হ্যান্ডশেকের হিড়িক পড়েছে, তাতে তাঁর চাকরি ঝুঁকির মুখে। নেহাল সে খবর ফুফুর কাছ থেকে জেনেছিল। তখনই নেহাল তাঁকে জবলেস স্কিমের অফার করে। এ সম্পর্কিত কাগজপত্রও দিয়ে এসেছিল। আজ ফোন পেয়ে মনে হচ্ছে, টোপ গিলেছেন আনিস সাহেব।  

আনিস সাহেবের অফিস আটতলায়। লিফটে ঢোকার আগে নেহাল টিস্যু দিয়ে ঘামে ভেজা ঘাড়-মুখ মুছে চুল ঠিক করে নেয়। দ্রুত হাতে অ্যাটাচি আর জুতো জোড়া থেকে ধুলো ঝেড়ে ফেলে। লিফটের আয়নায় এখন তাকে যথেষ্ট সাফ-সুতরো আর ঝকঝকে লাগছে।

বিশাল কক্ষের ভেতরটা শীতকালের মতো হিমহিম ঠাণ্ডা। নেহালের শার্টের যে অংশ ভেজা ছিল, সেটা পলকেই শুকিয়ে যায়। আনিস সাহেব নানা ধরনের পলিসি সম্পর্কে আবার নেহালের কাছে বিস্তারিত জেনে নেন। তারপর যে প্রস্তাব করেন, তার জন্য নেহাল প্রস্তুত ছিল না। তিনি যে পলিসি গ্রহণ করতে চান, তার প্রিমিয়াম ষাণ্মাসিক ২৮ হাজার টাকা, কিন্তু আনিস সাহেব দিতে চান ২০ হাজার টাকা। অর্থাত্ বাকি আট হাজার টাকা যাবে নেহালের নির্ধারিত কমিশন থেকে মানে গাঁট থেকে। প্রথম দিকে লাইসেন্স হারানোর ভয়ে এ ধরনের প্রস্তাবে দু-একটা ফাইল করেছে নেহাল, এখন আর করে না। তাঁদের যুক্তি খুব অদ্ভুত! আপনি তো অনেক টাকা কমিশন পাবেন, সেখান থেকে কিছু দিলেন, তাতে সমস্যা কী? শালার পাবলিক বুঝতে চায় না, কমিশনের ভাগ যদি গ্রাহককে দিয়ে দিতে হয় এজেন্টের সংসার চলবে কিভাবে?

পৃথিবীর যেকোনো উন্নত দেশে মানুষ থেকে শুরু করে প্রতিটি জিনিসের বীমা করা বাধ্যতামূলক। অথচ এ দেশে এখনো মানুষকে বীমা করাতে ছলচাতুরীর আশ্রয় নিতে হয়। চকচকে জুতা-টাই আর ভাঁজহীন শার্ট পরে তাদের কনভিনস করতে অফিস-বাড়ি ঘুরতে হয়। আরে বাবা, তুমি মরলে তোমার পরিবার টাকা পাবে, গাড়ি পুড়লে আরেকটা গাড়ি পাবে, এই ভালো তো পাগলেও বোঝে। বীমা পলিসি একটা সেবা, সেটা এ দেশের মানুষ কবে বুঝবে? যেদিন বুঝবে, সেদিন নেহালকে তাদের কাছে যেতে হবে না, তারাই নেহালকে খুঁজে বের করবে।

ভার্সিটি থেকে বেরিয়ে চাকরির ধান্দায় ঘুরতে ঘুরতে অস্থির হয়ে গিয়েছিল নেহাল। মিজান ভাই বললেন, ‘তুই স্মার্ট ছেলে; এই রাস্তায় অনেক রোজগার করতে পারবি, স্বাধীনতাও আছে, চলে আয়।’

মিজান ভাইয়ের লাইফ স্টাইল দেখে নেহালেরও মনে হলো, মন্দ কি? ৯টা-৫টা না করেই যদি এমন বিন্দাস থাকা যায়! মেধা আছে, পরিশ্রম করবে। কিন্তু মিজান ভাই পর্যন্ত যেতে এত রাস্তা পেরোতে হবে, সেটি আগে হিসাবে আসেনি।

আনিস সাহেবের অফিস থেকে বেরিয়ে অফিসে যায় নেহাল। মিজান ভাইকে পেলে কিছু টাকা যদি ধার পাওয়া যায়! ওয়ালেটে রাখা মিলার বাজারের ফর্দ নিয়ে দুই দিন ধরে ঘুরছে। পড়েও দেখেনি, কী লেখা আছে। শীতল চোখে তাকানো ছাড়া মিলা কিছু বলেনি। আজ খালি হাতে গেলে নির্ঘাত ভাঙচুর করবে। রেগে গেলে ভাঙচুর করা ওর স্বভাব। নেহালের অ্যাটাচিটার ওপর রাগ মিলার সবচেয়ে বেশি। ওর ধারণা, এই অ্যাটাচি হাতে দেখলে রাস্তার যে কেউ বুঝতে পারে, নেহাল কোনো কম্পানির এজেন্ট বা ওর মতে, দালাল। মিলার মনে খুব দুঃখ যে ওর একজন দালালের সঙ্গে বিয়ে হয়েছে! নেহালের ওপর যত রাগ মিলা অ্যাটাচির ওপর ঝাড়ে। দুবার তো আছড়ে ওটার লকই ভেঙে ফেলেছিল।

অফিসে মিজান ভাই নেই। তবে খোঁজ নিয়ে জানে, দুটি ফাইলের কম্পিউটার রিসিপ্ট হয়ে গেছে, আগামীকালই ক্যাশ করতে পারবে। আজকের দিনটা মিলাকে সামলাতে পারলে সমস্যা নেই।

কিছুটা দ্বিধা নিয়ে বেশ রাত করে ঘরে ফেরে নেহাল। কিন্তু মিলা আজ বাজারের বিষয়ে কোনো কথা বলে না। বরং হাত ধরে টেনে বারান্দায় নিয়ে যায়। আজ রাতেই একটা নাইটকুইন ফুটবে বলে বাচ্চাদের মতো আহ্লাদ প্রকাশ করে। এরপর কানে কানে বলে, ‘রিপোর্ট পজিটিভ। উই আর গোয়িং টু বি প্যারেন্টস।’ নেহাল দুই হাতে মিলাকে জাপটে ধরে।

মিলা বুকে মুখ গুঁজে বলে, ‘এবার অ্যাটাচি ছেড়ে ভদ্র কোনো চাকরি করো, নেহাল। তোমার সন্তান বাবার কী পরিচয় দেবে?’

নেহাল মিলার কাঁধের ওপর দিয়ে বিছানার পাশে রাখা অ্যাটাচিটার দিকে তাকায়। এই মুহূর্তে অ্যাটাচিটাকে খুব নিঃসঙ্গ আর একা মনে হয়।



মন্তব্য