kalerkantho


প্রিয় রীপামণি

মোফাজ্জল করিম

২৯ ডিসেম্বর, ২০১৭ ০০:০০



প্রিয় রীপামণি

তিরিশ বছর আগে—
এতদিন পর ভাবতে কেমন লাগে
এই মেয়েটি তখন ছোট্ট খুকি
খাতার পাতে করত আঁকিবুকি
দেখা হলেই ক্ষেপিয়ে বলতাম তাকে :
রীপামণি, খবর খারাপ বড়
হঠাত্ কেমন সবই এলেমেলো
যে স্কুলে তুমি এখন পড়
হায় হায় সে স্কুলটি বন্ধ হয়ে গেল
এখন যে কী হবে, কী যে এখন হবে
লেখাপড়া শিকেয় উঠল তবে।

রীপা শুধু বলত মিষ্টি করে,
ভালই হলো চাচু
এখন থেকে পড়ব শুধু
বসে তোমার ঘরে।

তিরিশ বছর পর—
দেখা হতেই যেই বলেছি
শুনেছ তো খবর, বড়ই খারাপ খবর,
অবাক করে বলল রীপা হেসে
জানি চাচু বলবে তো
কেউ জানে না কবে
হঠাত্ করে সেই স্কুল
বন্ধ অবশেষে।
যা খুশি হোক হতে দাও, পড়ব আমি শুধু
বসে তোমার কোলে
তোমার ছোট্ট ঘরে।

সানাউল হক খান
নজরবন্দি

বেশ ভালো তো, কষ্টগুলো নষ্ট হয়ে
তোমার দিকেই তাকিয়েছে
নেবে তো নাও, নইলে একটু ঘুরে দাঁড়াও
জটিল এখন আরো কুটিল

সাহসী পা বাড়াও
বেশ ভালো তো, দুঃখগুলোর সূক্ষ্মবুদ্ধি
তোমার মাথায় বসবাস
কাজে লাগলে লাগাও তারে
মানিয়ে নাও সে’ কালঅবোধের
শুদ্ধ উপহাস
যেমন মানো কবিতা সত্, চরিত্রবান,
শব্দেরা বদমাশ
বুঝলে বোঝো, না-বুঝলে মুখ ফিরিয়ে নাও
অন্ধকার যে নিজেই জ্বলে
দেখতে কি তা পাও

কষ্টগুলো নষ্ট তবু তোমার দিকেই নজর
মন মানে না, প্রাণ ধরে না, এমন
সচরাচর।

রুদ্র আরিফ
উড়ন্ত গ্রামে

তুমি ছিলে অস্তিত্ব নামের গ্রহের স্টেশনে, লাস্ট ট্রেনের বগি ছুঁয়ে থাকা ঘামে; তোমার মিছিলে এলিয়েনেশনের দীর্ঘশ্বাস নিয়ে, মৃত্যুরহিত ফ্লাইংসসার নামে...আমরা চিরকাল লোকাল বাসের ভিড়ে, এলোমেলো হাওয়ায় উড়ন্ত গ্রামের খোঁজ—যাই করে রোজ, বিলবোর্ডের ঢেউ ছিঁড়ে : পৃথিবী এখানে ক্রমহ্রাসমান দর-দামে!

আমাদের পৃথিবী আমাদের আদৌ নয়; ভয়ের চেহারা লোডশেডিংময় কালো : তবু যৌবন—ডিপফ্রিজের খামে, ভীষণ গরমে বজ্র চমকানো।



মন্তব্য