kalerkantho


পাহাড়ধসে দীর্ণতার হাহাকার

৩১ ডিসেম্বর, ২০১৭ ০০:০০



পাহাড়ধসে দীর্ণতার হাহাকার

পাহাড়ধসের পর উদ্ধার অভিযান। ছবি : কালের কণ্ঠ

জুন মাসে রাঙামাটি, বান্দরবান, খাগড়াছড়ি, চট্টগ্রাম ও কক্সবাজার জেলায় পাহাড়ধসে দেড় শর ওপরে মানুষ নিহত হয়। এ ঘটনায় সারা দেশ শোকে মুহ্যমান হয়ে পড়ে। সাম্প্রতিক বছরগুলোর মধ্যে এটিই ছিল পাহাড়ধসে সর্বোচ্চসংখ্যক মানুষ নিহত হওয়ার ঘটনা। এর আগে ২০০৭ সালের জুন মাসে চট্টগ্রামের বিভিন্ন স্থানে পাহাড়ধসে ১২৭ জন মানুষ মারা যায়। সাম্প্রতিক পাহাড়ধস বিশেষত পার্বত্য তিন জেলায় পাহাড়ধসের কারণ উদ্ঘাটনে পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের তদন্ত কমিটি ১৩টি বিষয়কে উল্লেখ করেছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই কারণগুলোর মধ্যে আটটি মানবসৃষ্ট এবং পাঁচটি প্রাকৃতিক। তদন্ত কমিটি পাহাড়ধস ঠেকাতে ১১টি সুপারিশ করেছে।

মানবসৃষ্ট কারণগুলোর মধ্যে আছে নির্বিচারে বন ও গাছপালা ধ্বংস করা। আরেকটি কারণ হলো পরিকল্পনার অভাব। অপরিকল্পিতভাবে পাহাড় কেটে বসতি স্থাপন, রাস্তা ও সড়ক নির্মাণ এবং অন্যান্য উন্নয়নমূলক স্থাপনা নির্মাণে বিল্ডিং কোড না মানা। উন্নয়নমূলক সংস্থাগুলোর মধ্যে সমন্বয়ের অভাব। পাহাড়ে উন্নয়নের ক্ষেত্রে সুনির্দিষ্ট নীতিমালার অভাব।

অপরিকল্পিত জুমচাষ। জুমচাষে আগাছানাশক ওষুধ ব্যবহার করার ফলে পাহাড়ের মাটি দুর্বল হয়ে যায়। এ ছাড়া পাহাড়ের পরিবেশ-প্রতিবেশ অনুযায়ী ফসলাদি চাষ না করে আদা, হলুদের চাষ করায় প্রচুর মাটি ক্ষয় হয়।

মানবসৃষ্ট অন্যান্য কারণের মধ্যে আছে পাহাড়ে বিভিন্ন প্রজাতির গাছ না লাগিয়ে বেশি লাভের আশায় অধিক হারে সেগুনগাছ লাগানো।

পানি নিষ্কাশনের সুযোগ না রেখে উন্নয়নমূলক কাজ করা। পাহাড় থেকে বালু ও পাথর উত্তোলন।

পাহাড়ধসের পেছনে কমিটি পাঁচটি প্রাকৃতিক কারণ চিহ্নিত করেছে। এগুলো হলো অতিবৃষ্টি, রাঙামাটিতে গত ১০ থেকে ১৫ জুন সময়ে ৯৪৫ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়; যা গত ১০ বছরের সর্বোচ্চ রেকর্ডের প্রায় ৯ গুণ বেশি।

আরেকটি প্রাকৃতিক কারণ হলো মাটির প্রকৃতি। ওই অঞ্চলের বেলে-দোআঁশ মাটি বৃষ্টির পানিতে সহজে নরম হয়ে যায়। বৃষ্টির কারণে পাহাড়ের মাটি আলগা হয়ে ধসে পড়ে। পাহাড়ধস ঠেকাতে ১১টি সুপারিশ করা হয় প্রতিবেদনে। এর মধ্যে রয়েছে প্রাকৃতিক বনভূমি সংরক্ষণ, নির্বিচারে গাছ ও বন কাটা বন্ধ, জুমচাষে আগাছানাশক ওষুধ ব্যবহার বন্ধ, ভূমিকম্প প্রতিরোধে তাল ও সুপারিগাছ লাগানো, পরিবেশ আইন মেনে পাহাড়ের উপযোগী অবকাঠামোগত উন্নয়ন করা ইত্যাদি।



মন্তব্য