kalerkantho


বন্যা ও জলাবদ্ধতার বছর

৩১ ডিসেম্বর, ২০১৭ ০০:০০



বন্যা ও জলাবদ্ধতার বছর

এবার হাওরাঞ্চলের বন্যার প্রকোপে ফসল ডুবে সর্বস্বান্ত হয়েছে সাধারণ মানুষ। বিপন্ন মানুষের নিরন্ন থাকার কথা জানিয়ে পত্রিকাগুলো প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। টিভি মিডিয়া সাধারণ মানুষের আর্তি দেখিয়েছে। উজানের ঢলে হাওরপারের মানুষের এই দুর্গতি শেষ হতে না হতেই উত্তরাঞ্চলের লাখ লাখ মানুষ বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বন্যায় শতাধিক মানুষের প্রাণই শুধু যায়নি, ১০০ কিলোমিটারের বেশি রেলপথ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে; বিধ্বস্ত হওয়া সড়কপথের দৈর্ঘ্য দুই হাজার ৮০০ কিলোমিটার। দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের তথ্যমতে, বন্যাকবলিত ২৭ জেলায় ছয় লাখ ১৮ হাজার ৭০৯ হেক্টর ফসলি জমি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। মাত্র চার মাস আগে হাওরাঞ্চলের সাত জেলায় অতিবৃষ্টি আর উজান থেকে নেমে আসা পানিতে ২০ লাখ টন ধান হারিয়েছিল কৃষক। সেই ধাক্কা কাটিয়ে না উঠতেই কুড়িগ্রাম, নীলফামারী, লালমনিরহাট, জামালপুর, দিনাজপুরসহ উত্তর ও মধ্যাঞ্চলের ২৭ জেলায় দেখা দিয়েছিল বন্যা। বন্যাকবলিত ২৭ জেলায় কলা, শসা, চিচিঙ্গা, পটোলসহ সব ধরনের সবজি পানিতে তলিয়ে যায়। শস্যভাণ্ডার খ্যাত রংপুরে সবজিক্ষেতের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়। এর প্রভাবে বন্ধ হয়ে যায় তিন হাজার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। রাজধানী ঢাকায় সবজির বাজারে দাম বেড়ে যায় কয়েক গুণ। তখন ত্রাণ মন্ত্রণালয়ে অনুষ্ঠিত আন্ত মন্ত্রণালয় সভায় জানানো হয়,  বন্যায় ২৭ জেলার ১৫৪টি উপজেলার ছয় হাজার ৬৬৮টি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। পানি উন্নয়ন বোর্ডের ১৭৯ কিলোমিটার বাঁধ আংশিক এবং ৩৫ কিলোমিটার বাঁধ সম্পূর্ণ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। দুই হাজার ৭৭৯ কিলোমিটার সড়ক আংশিক এবং ৩১ কিলোমিটার সড়ক সম্পূর্ণ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ৫৭ লাখ আট হাজার ৭৫০ জন মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সভায় নিজ নিজ মন্ত্রণালয় ও দপ্তরগুলোকে তাদের ক্ষয়ক্ষতি সুচারুরূপে নিরূপণ করে ক্ষতি কাটিয়ে ওঠার জন্য বিশেষ ব্যবস্থা নিতে বলা হয়।


মন্তব্য