kalerkantho


উচ্চ আদালত-সরকার টানাপড়েন, অবসরে এস কে সিনহা

৩১ ডিসেম্বর, ২০১৭ ০০:০০



উচ্চ আদালত-সরকার টানাপড়েন, অবসরে এস কে সিনহা

বিদায়ী বছরে দেশের আদালত অঙ্গন ছিল বহুল আলোচিত এবং এর কেন্দ্রে ছিল সংবিধানের ষোড়শ সংশোধনী বাতিলের রায় ঘিরে প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার (এস কে) সিনহার বিদায়। এস কে সিনহা ২১তম প্রধান বিচারপতি হিসেবে ২০১৫ সালের ১৭ জানুয়ারি নিয়োগ পান। ২০১৮ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে এস কে সিনহার মেয়াদ শেষ হওয়ার কথা ছিল। দেশের নিম্ন আদালতের বিচারকদের চাকরি শৃঙ্খলাবিধি প্রণয়ন নিয়ে সরকারের সঙ্গে দ্বন্দ্বে জড়িয়ে পড়েন এস কে সিনহা। প্রধানমন্ত্রী বিচারপতি সংবিধানের ষোড়শ সংশোধন অবৈধ ঘোষণা করে রায়ে বাংলাদেশের স্বাধীনতা, নির্বাচন, গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা নিয়ে এমন কিছু পর্যবেক্ষণ দেন, যা নিয়ে বিরোধী দল উল্লাস প্রকাশ করে। আর এ ঘটনায় সরকার তীব্র ক্ষোভ দেখায়। এরপর এক মাসের ছুটি নিয়ে ১৩ অক্টোবর রাতে অস্ট্রেলিয়ার উদ্দেশে ঢাকা ছাড়েন প্রধান বিচারপতি। পরে এই ছুটির মেয়াদ ৯ দিন বাড়ানো হয়। তবে দেশত্যাগ করার আগমুহূর্তে সাংবাদিকদের প্রধান বিচারপতি বলেন, ‘আমি অসুস্থ নই। সাময়িকভাবে যাচ্ছি, আবার ফিরে আসব।’ পরদিন সুপ্রিম কোর্টের পক্ষ থেকে নজিরবিহীন এক বিবৃতিতে জানানো হয়, রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ গত ৩০ সেপ্টেম্বর আপিল বিভাগের বিচারপতিদের ডেকে নিয়ে বিচারপতি সিনহার বিরুদ্ধে ১১টি সুনির্দিষ্ট অভিযোগ তুলে ধরেন। এর মধ্যে দুর্নীতি, অর্থপাচার, আর্থিক অনিয়ম ও নৈতিক স্খলনের অভিযোগ রয়েছে। প্রধান বিচারপতি এসব অভিযোগের বিষয়ে সদুত্তর দিতে না পারায় সহকর্মী বিচারপতিরা তাঁর সঙ্গে বসে বিচারকাজ চালাতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন। ১৪ অক্টোবর অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম বলেন, ‘ছুটি শেষে অস্ট্রেলিয়া থেকে দেশে ফিরে প্রধান বিচারপতি এস কে সিনহার দায়িত্ব গ্রহণ সুদূরপরাহত।’ ছুটি শেষে ৯ নভেম্বর অস্ট্রেলিয়া থেকে কানাডা যাওয়ার পথে সিঙ্গাপুরে বাংলাদেশের হাইকমিশনে রাষ্ট্রপতি বরাবর পদত্যাগপত্র জমা দেন প্রধান বিচারপতি। পরদিন ১০ নভেম্বর পদত্যাগপত্রটি বঙ্গভবনে এসে পৌঁছায় বলে জানান রাষ্ট্রপতির প্রেসসচিব। ১৬ নভেম্বর আইনমন্ত্রী আনিসুল হক ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি মো. আবদুল ওয়াহ্হাব মিঞার নেতৃত্বে আপিল বিভাগের পাঁচ বিচারপতির সঙ্গে বৈঠক করেন। ওই বৈঠকেই নির্বাহী বিভাগের সঙ্গে বিচার বিভাগের সমঝোতা হয়। এরপর নতুনভাবে বিধিমালার খসড়া তৈরি করে আইন মন্ত্রণালয়। ওই খসড়া সুপ্রিম কোর্টে পাঠানোর পর সুপ্রিম কোর্ট তাতে মতামত দেন। সর্বশেষ গত ২৪ ডিসেম্বর ষোড়শ সংশোধনী বাতিলের রায় পুনর্বিবেচনার (রিভিউ) জন্য সর্বোচ্চ আদালতে আবেদন করেছে সরকার। অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম পরে সাংবাদিকদের বলেন, এই রিভিউ আবেদনে রাষ্ট্রপক্ষ মোট ৯৪টি যুক্তি তুলে ধরেছে; আশা করা হচ্ছে এগুলো বিবেচনায় নিয়ে আপিল বিভাগ রায় পুনর্বিবেচনা করবে এবং সংবিধানের ষোড়শ সংশোধনী বহাল থাকবে।



মন্তব্য