kalerkantho


অভিযোগের দায়মুক্তি ছাড়িয়ে পদ্মা সেতুর জেগে ওঠা ‘৪৯ শতাংশ শেষ’

৩১ ডিসেম্বর, ২০১৭ ০০:০০



অভিযোগের দায়মুক্তি ছাড়িয়ে পদ্মা সেতুর জেগে ওঠা ‘৪৯ শতাংশ শেষ’

স্বপ্নের পদ্মা সেতুও এই বছর বাস্তবের অনেক কাছাকাছি এসেছে। পদ্মা সেতুর সামগ্রিক কাজ ৪৯ শতাংশ শেষ হয়েছে বলে জানিয়েছেন সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। ২১ নভেম্বর জাতীয় সংসদে প্রশ্নোত্তরে তিনি আরো বলেন, পদ্মা সেতু প্রকল্পে শিগগিরই দুটি স্প্যান উঠবে। মন্ত্রী বলেন, ‘এরপর পর্যায়ক্রমে মোট ৪১টি স্প্যান বসবে, ওইগুলো কিন্তু এত সময় লাগবে না। সাত থেকে ১০ দিনের মধ্যে পর পর, তৃতীয়টি বসার পর অন্যগুলো সাত থেকে ১০ দিন পর পর বসতে থাকবে এবং যেকোনো ওয়েদারে বসবে। এটা হলো অগ্রগতি।’

এ বছর পদ্মা সেতু প্রকল্প নিয়ে বিশ্বব্যাংকের অভিযোগ থেকেও দায়মুক্তি

ঘটে বাংলাদেশের। প্রকল্পে ব্যাপক দুর্নীতি হয়েছে এমন অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে বিশ্বব্যাংক এ প্রকল্পে অর্থ দিতে অস্বীকার করে। দুর্নীতির অভিযোগে কানাডার অন্টারিওরের একটি আদালতে মামলাও হয়। এ ছিল কয়েক বছর ধরে সব থেকে আলোচিত ঘটনার মধ্যে অন্যতম। তবে এ বছরের ১০ ফেব্রুয়ারি কানাডার অন্টারিওর আদালত পদ্মা সেতু প্রকল্পে ঘুষ দুর্নীতিতে যুক্ত রয়েছে এমন অভিযোগ থেকে কানাডার মন্ট্রিয়লভিত্তিক প্রকৌশল প্রতিষ্ঠান এসএনসি-লাভালিনের সাবেক তিন কর্মকর্তাকে খালাস দেওয়া হয়। দুর্নীতির ষড়যন্ত্রের ওই অভিযোগের মুখে বাংলাদেশে এক মন্ত্রীকে তখন পদ হারাতে হয়েছিল। হাজতবাস করতে হয়েছিল সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সচিব এবং সেতু বিভাগের কর্মকর্তাদের। জেল খাটিয়ে, তাঁদের সামাজিকভাবে হেয় হতে হয়েছিল।

২০১১ সালে বিশ্বব্যাংক পদ্মা সেতু প্রকল্পে দুর্নীতির যড়যন্ত্রের এ অভিযোগ করে। অভিযোগে বলা হয়েছিল, তখনকার যোগাযোগমন্ত্রী সৈয়দ আবুল হোসেন, সেতু বিভাগের সচিব মোশাররাফ হোসাইন ভূঁইঞা এবং পদ্মা সেতু প্রকল্প পরিচালক রফিকুল ইসলাম পরামর্শকের কাজ পাইয়ে দেওয়ার বিনিময়ে এসএনসি-লাভালিনের কাছে ১০ শতাংশ অর্থ কমিশন চেয়েছিলেন। প্রকল্পে পরামর্শক প্রতিষ্ঠানের জন্য বরাদ্দ ছিল চার কোটি ৭০ লাখ ডলার। বহুল আলোচিত পদ্মা সেতুর কথিত দুর্নীতির ষড়যন্ত্রের অভিযোগে অস্বস্তিতে পড়ে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ সরকার। এ অভিযোগের সত্যতা না পাওয়ায় আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও বাংলাদেশের সম্মান বেড়েছে।


মন্তব্য