kalerkantho

মানবতার জননী

৩১ ডিসেম্বর, ২০১৭ ০০:০০



২১ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘে দেওয়া ভাষণে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বাংলাদেশ এখন পর্যন্ত আট লাখ রোহিঙ্গাকে আশ্রয় দিয়েছে। রাখাইন রাজ্যের চলমান অস্থিরতা ও মানবাধিকার লঙ্ঘন আবারও বাংলাদেশ-মিয়ানমার সীমান্তের পরিস্থিতি নৃশংস করে তুলেছে। রাখাইন রাজ্যের সহিংসতা থেকে বাঁচতে প্রতিদিন বাংলাদেশে পালিয়ে আসছে হাজার হাজার রোহিঙ্গা। আইএমও এরই মধ্যে সাম্প্রতিক সহিংসতা থেকে বাঁচতে চার লাখ ৩০ হাজার মানুষের পালিয়ে আসার তথ্য দিয়েছে।’ নিজের শরণার্থীজীবনের অধ্যায় উল্লেখ করে ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট সপরিবারে বঙ্গবন্ধুর হত্যাকাণ্ড প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমার বাবা জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানসহ পরিবারের প্রায় সব সদস্যকে হত্যার পর আমি আমার ছোট বোনকে নিয়ে ছয় বছরের শরণার্থী জীবনের পথে পা বাড়াতে বাধ্য হয়েছিলাম। ১৯৭৪ সালে বঙ্গবন্ধু এই বিশ্বসভায় দাঁড়িয়ে বলেছিলেন, এমন এক বিশ্বব্যবস্থা গঠনে বাঙালি জাতি প্রতিজ্ঞাবদ্ধ, যা মানুষের শান্তি ও ন্যায়বিচার প্রাপ্তির আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন ঘটাবে। এই প্রতিজ্ঞায় আমাদের লাখো শহীদের বিদেহী আত্মার স্মৃতি জড়িয়ে আছে।’ এরপর থেকে বিশ্ব গণমাধ্যম তাঁকে মাদার অব হিউম্যানিটি বা মানবতার জননী হিসেবে আখ্যায়িত করে।

২০১৬ সালে শান্তিতে নোবেল জয়ী কলম্বিয়ার প্রেসিডেন্ট জুয়ান ম্যানুয়েল সান্তোস বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী দেশরত্ন শেখ হাসিনাকে ‘বিশ্ব মানবতার বিবেক’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন। আরেক নোবেলজয়ী কৈলাস সত্যার্থী দেশরত্ন শেখ হাসিনাকে ‘বিশ্ব মানবতার আলোকবর্তিকা’ হিসেবে তুলনা করেছেন। তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোগান, দেশরত্ন শেখ হাসিনাকে একজন ‘বিরল মানবতাবাদী নেতা’ হিসেবে চিহ্নিত করেছেন। ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সুষমা স্বরাজ এক বক্তৃতায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রশংসা করে বলেছেন, ‘বাবার মতোই বিশাল হূদয় তাঁর। সেখানে ভালোবাসার অভাব নেই।’ পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেছেন, ‘শেখ হাসিনা দেখিয়ে দিলেন বাঙালির হূদয় কত বড়। তিনি বাঙালির গর্ব।’ গার্ডিয়ান পত্রিকায় রোহিঙ্গা ইস্যুতে এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ‘বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী যে বিশাল মহানুভবতার পরিচয় দিয়েছেন, তা বিরল। তিনি যে একজন হূদয়বান রাষ্ট্রনায়ক তা তিনি আগেও প্রমাণ করেছেন, এবারও প্রমাণ করলেন।’ ইন্ডিয়া টুডে তাদের দীর্ঘ এক প্রতিবেদনে বলেছে, ‘শেখ হাসিনার হূদয় বঙ্গোপসাগরের চেয়েও বিশাল। যেখানে রোহিঙ্গাদের আশ্রয়ে কার্পণ্য নেই।’
 



মন্তব্য