kalerkantho


ফিরে দেখা ২০১৭

উন্নয়নের অগ্রযাত্রায় বাংলাদেশ

আরেকটি বছর বিদায় নিল মহাকাল থেকে। গত এক বছরে বাংলাদেশের জাতীয় পরিসরে আছে যেমন অর্জন, প্রাপ্তি, আনন্দে অভিভূত হওয়ার মতো ঘটনা; তেমনি বিষাদের গাঢ় কালো অন্ধকার গ্রাস করতে পারে—এমন ঘটনাও রয়েছে। একদিকে রয়েছে একসময়ের দরিদ্র ‘তলাবিহীন ঝুড়ি’ আখ্যা পাওয়া একটি দেশের গৌরবের পথে বহুদূর অগ্রসরের গল্প; এর অন্য পিঠে রয়েছে মানবাধিকারচিত্রের করুণ হতাশাব্যঞ্জক চিত্র, নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্যের লাগামহীন ঊর্ধ্বগতি। ভালো-মন্দে বিদায় নেওয়া ২০১৭ সালের আলোচিত ঘটনাবলি নিয়ে আমাদের বিশেষ আয়োজন। গ্রন্থনায় গাউস রহমান পিয়াস ও আরিফুজ্জামান তুহিন

৩১ ডিসেম্বর, ২০১৭ ০০:০০



উন্নয়নের অগ্রযাত্রায় বাংলাদেশ

‘এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম’—এই অগ্নিঝরা আহ্বানে জাতিকে উদ্দীপ্ত করে জাতির জনক ১৯৭১ সালের ৭ মার্চ যে ভাষণ দেন তা এখন বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ প্রামাণ্য দলিল।

একসময়ে বাংলাদেশকে তলাবিহীন ঝুড়ি বলা হতো। খরা, বন্যা ও দরিদ্র মানুষের ক্লিষ্ট চেহারা ছিল সেই বাংলাদেশের প্রতিচ্ছবি। কিন্তু গত চার দশকে এ গল্প থেকে ভিন্ন গল্প তৈরি হয়েছে আস্তে আস্তে। বিশেষত বিদায়ী বছরে সেই দারিদ্র্যক্লিষ্ট বাংলাদেশের বিপরীতে ভিন্নরূপের বাংলাদেশের ব্যাপারে আশাবাদী হওয়ার মতো নানা ঘটনা তৈরি হয়েছে।

বিশ্ব অর্থনীতির মোড়ল বিশ্বব্যাংক যখন বাংলাদেশের পদ্মা সেতুর অর্থায়ন থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছিল তখন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশের অর্থে পদ্মা সেতু নির্মাণের সাহসী পদক্ষেপ নিয়েছিলেন। এ শুধু একটি সেতু নির্মাণ নয়, একই সঙ্গে পশ্চিমা দেশগুলোর নেতৃত্বে থাকা বিশ্বব্যাংকের উন্নয়ন দর্শনের বিরুদ্ধে দাঁড়িয়ে নিজের সামর্থ্যে ঘুরে দাঁড়ানোর যুদ্ধে শামিল হওয়া। সেই স্বপ্নের পদ্মা সেতু, যুদ্ধজয়ের পদ্মা সেতুর মূল পিলারের স্প্যান বসানো হয় গত ৩০ সেপ্টেম্বর। আর ডিসেম্বরে বসেছে সেতুটির দ্বিতীয় স্পান। হার না মানা পদ্মার বুকে দৃশ্যমান হতে থাকে পদ্মা সেতু।

বাংলাদেশের যোগাযোগব্যবস্থায় অভূতপূর্ব উন্নয়নের মহাযজ্ঞ শুরু হয়েছিল আওয়ামী লীগ ২০০৯ সালে সরকার গঠনের পর। তবে ব্যাপক আকারে এটি দৃশ্যমান হতে শুরু করে ২০১৭ সাল থেকে। এ বছরেই রাজধানীর মগবাজার-মালিবাগ ফ্লাইওভার খুলে দেওয়া হয় যান চলাচলের জন্য। এ বছরেই কাজ শুরু হয় মেট্রো রেলের।

নৌশক্তিতে আরো বলীয়ান

এ বছরের বছরের ১২ মার্চ বাংলাদেশের নৌবাহিনীতে যুক্ত হয় ডিজেলচালিত চীন থেকে কেনা ০৩৫ জি ক্লাসের সাবমেরিন। এদিন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আনুষ্ঠানিকভাবে চট্টগ্রাম ঈশা খাঁ ঘাঁটির ভেতরে চট্টগ্রাম নৌ জেটিতে আনুষ্ঠানিকভাবে দুটি সাবমেরিন ‘নবযাত্রা’ ও ‘জয়যাত্রা’র কমিশনিং করেন। সাবমেরিনের সংযুক্তির ফলে মিয়ানমারের চেয়ে কৌশলগত দিক থেকে এগিয়ে থাকবে বাংলাদেশের নৌবাহিনী।

এ অঞ্চলে মিয়ানমার, শ্রীলঙ্কা ও থাইল্যান্ডের সাবমেরিন নেই। তবে ভারত, পাকিস্তান, মালয়েশিয়া, ইরান ও ইন্দোনেশিয়ার আছে। চীনের এ ধরনের সাবমেরিন একটানা এক মাসের বেশি পানির নিচে থাকতে পারে। এগুলো ডিজেল ইলেকট্রিক সাবমেরিন; যার প্রতিটির দৈর্ঘ্য ৭৬ মিটার এবং প্রস্থে ৭.৬ মিটার। নৌবাহিনীতে এই সাবমেরিনগুলো যুক্ত হওয়ার পর বঙ্গোপসাগরের বিস্তৃত এলাকায় নিরবচ্ছিন্নভাবে পাহারা দেওয়ার সক্ষমতা বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে।

দুটি সাবমেরিন শুধু বাংলাদেশের কৌশলগত নৌ প্রতিরক্ষাকে মজবুত করেনি, বাস্তবে বঙ্গোপসাগর এলাকায় বাংলাদেশের সমুদ্রসম্পদ ও

সার্বভৌমত্ব রক্ষায় সাবমেরিন দুটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে মনে করা হচ্ছে। 

ইউনেসকোর স্বীকৃতি

জাতিসংঘের বিজ্ঞানবিষয়ক সংস্থা ইউনেসকোর স্বীকৃতি যেকোনো দেশের জন্য গর্বের। ২০১৭ সালে বাংলাদেশ এ রকম দুটি স্বীকৃতি পেয়েছে। এর একটি হলো ১৯৭১ সালের ৭ই মার্চে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ভাষণ। জাতির জনকের এ ভাষণ সারা দুনিয়ার মুক্তিকামী মানুষের কাছে এক অনন্য অমূল্য সম্পদ। সেটি বিবেচনা করে ইউনেসকো এই ভাষণকে বিশ্ব ঐতিহ্যের অংশ হিসেবে ঘোষণা করেছে।

৩০ অক্টোবর ইউনেসকোর মহাপরিচালক ইরিনা বোকোভা ১৯৭১ সালের ৭ই মার্চে দেওয়া বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ঐতিহাসিক ভাষণটিকে বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ প্রামাণ্য ঐতিহ্য হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার ঘোষণা দেন।  এ ধরনের দলিলগুলো যে ‘মেমোরি অব দ্য ওয়ার্ল্ড ইন্টারন্যাশনাল রেজিস্টারে’ অন্তর্ভুক্ত করা হয়, সে তালিকায় এ ভাষণকেও অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

সারা বিশ্ব থেকে আসা প্রস্তাবগুলো দুই বছর ধরে নানা পর্যালোচনার পর ইউনেসকোর উপদেষ্টা কমিটি তাদের মনোনয়ন চূড়ান্ত করে। মূলত এর মাধ্যমে বিশ্বজুড়ে যেসব তথ্যভিত্তিক ঐতিহ্য রয়েছে সেগুলোকে সংরক্ষণ এবং পরবর্তী প্রজন্ম যাতে তা থেকে উপকৃত হতে পারে সে লক্ষ্যেই এ তালিকা প্রণয়ন করে ইউনেসকো। ইউনেসকোর মেমোরি অব দ্য ওয়ার্ল্ড (এমওডাব্লিউ) কর্মসূচির উপদেষ্টা কমিটি ৭ই মার্চের ভাষণসহ মোট ৭৮টি দলিলকে ‘মেমোরি অব দ্য ওয়ার্ল্ড ইন্টারন্যাশনাল রেজিস্টারে’ যুক্ত করার সুপারিশ করেছে। এ আমাদের অনন্য এক অর্জন।
৩২তম পরমাণু ক্লাবে বাংলাদেশ

গত ৩০ নভেম্বর দেশের প্রথম পরমাণু বিদ্যুেকন্দ্রের মূল পর্বের নির্মাণকাজ উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এর মধ্য দিয়ে বিদ্যুেকন্দ্রটির পরমাণু চুল্লি বসানোর কাজ শুরু হবে। এর আগে ৩ নভেম্বর রূপপুর পরমাণু বিদ্যুেকন্দ্রের মূল নির্মাণ পর্বের প্রাথমিক কাজ শুরুর (ফার্স্ট কংক্রিট পৌরিং বা এফসিপি) অংশ হিসেবে ‘ডিজাইন অ্যান্ড কনস্ট্রাকশন লাইসেন্স’ দেয় বাংলাদেশ আণবিক শক্তি কমিশন (বিএইসি)। বিদ্যুেকন্দ্র নির্মাণের প্রথম ইউনিটের লাইসেন্স দিয়েছে বাংলাদেশ অ্যাটমিক এনার্জি রেগুলেটরি অথরিটি (বিএইআরএ)। এই লাইসেন্স পাওয়ার মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ আনুষ্ঠানিকভাবে বিশ্ব পরমাণু ক্লাবে (নিউক্লিয়ার নেশন) যুক্ত হলো। বাংলাদেশ এই ক্লাবের ৩২তম দেশ।

বর্তমানে পৃথিবীর ৩১টি দেশে ৪৫০টি পারমাণবিক বিদ্যুতের ইউনিট চলমান আছে। এগুলোর মোট উত্পাদনক্ষমতা প্রায় তিন লাখ ৯২ হাজার মেগাওয়াট (৩৯২ গিগাওয়াট)। বাংলাদেশ ছাড়া আরো ৬০টি ইউনিট বিভিন্ন দেশে নির্মাণাধীন, যার মোট ক্ষমতা প্রায় ৬০ হাজার মেগাওয়াট। বিদ্যুেকন্দ্রটি নির্মাণে সরকার ২০১১ সালে রাশিয়ার সঙ্গে চুক্তি করে। পরে ২০১৩ সালে ঋণচুক্তি সই হয়। কেন্দ্রটির প্রথম ধাপের কাজ এরই মধ্যে শেষ হয়েছে। এখন মূল নির্মাণকাজ শুরু হচ্ছে। মোট দুই হাজার ৪০০ মেগাওয়াটের কেন্দ্রটির প্রথম ইউনিট এক হাজার ২০০ মেগাওয়াট উত্পাদনে আসবে ২০২২ সালের ডিসেম্বরে। আর দ্বিতীয় ইউনিট আসবে পরের বছর। এর মাধ্যমে পারমাণবিক বিদ্যুত্ উত্পাদনে বাংলাদেশ বিশ্বে ৩২তম দেশ হিসেবে নিউক্লিয়ার ক্লাবে যুক্ত হতে যাচ্ছে। এই প্রকল্প বাস্তবায়নে রাশিয়ার কাছ থেকে সরকার ১১ দশমিক ৩৮ বিলিয়ন ডলার ঋণ নিচ্ছে।

আইপিউ বিশ্বে দ্যুতি বাড়াল

এ বছরই ঢাকায় আইপিইউ (ইন্টার পার্লামেন্টারি ইউনিয়ন) সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। বিশ্বের ১৭১টি দেশের অংশগ্রহণে এ সম্মেলন হয়, যা বিশ্বের কাছে বাংলাদেশের মুখ উজ্জ্বল করে। এ ছাড়া সিপিএ (কমনওয়েলথ পার্লামেন্টারি অ্যাসোসিয়েশন) সম্মেলন হয়, যা বিশ্বের কাছে বাংলাদেশের আস্থা অর্জন করেছে।

জ্বালানি নিরাপত্তায় এলএনজি আমদানি

যদি নতুন কোনো গ্যাসক্ষেত্র আর আবিষ্কৃত না হয়, তাহলে দেশের যে প্রাকৃতিক গ্যাসের মজুদ রয়েছে তা ২০৩০ সালের মধ্যে শেষ হয়ে যাবে। এ পরিস্থিতি সামাল দিতে সরকার বিদেশ থেকে তরলায়িত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) আমদানির সিদ্ধান্ত নিয়েছে। সরকার ২০১৮ সালের মধ্যেই এলএনজি আমদানি করতে চায়। এর মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক কম্পানি এক্সেলারেটের সঙ্গে সরকারের ২০১৬ সালে চুক্তি হয়েছে। তবে এ বছর চুক্তি হয়েছে সামিট, রিলায়েন্স, হংকং সাংহাই মানজালার সঙ্গে। এসব প্রতিষ্ঠান সম্মিলিতভাবে এক হাজার ৫০০ মিলিয়ন ঘনফুট এলএনজি আমদানি করবে। এর মধ্যে সামিট ২০১৮ সালের অক্টোবর থেকে এলএনজি আমদানি শুরু করবে। দেশে এলএনজি আমদানি শুরু হলে ভয়াবহ গ্যাস সংকটের কিছুটা উন্নতি ঘটবে।

বাংলাদেশের মেয়েরাই দক্ষিণ এশিয়ার সেরা 

আমাদের দামাল মেয়েরা সাফ অনূর্ধ্ব-১৫ মহিলা ফুটবল টুর্নামেন্টে অপরাজিত চ্যাম্পিয়ন হয়ে বাংলাদেশকে দিয়েছে অসামান্য মর্যাদা। ছবি : কালের কণ্ঠ
কমলাপুর স্টেডিয়ামে দর্শকের ঢল। ড্রামে বাড়ি পড়ছে দ্রিমদ্রিম। ভুভুজেলার তীক্ষ আওয়াজ আর গগনবিদারী চিত্কারে ফাইনালের আবহ পুরোমাত্রায়। আড়ালে আসলে বাংলাদেশের শিরোপা জয়ের প্রস্তুতি। টুর্নামেন্টের আগের ম্যাচগুলোতেই মনিকা, মারিয়ারা জানিয়ে দিয়েছিল তারাই সেরা। সেই আনুষ্ঠানিকতাও সেরেছে তারা ভারতকে ১-০ গোলে হারিয়ে। প্রতিযোগিতায় কোনো গোল না খেয়ে অপরাজিত চ্যাম্পিয়ন হয় বাংলাদেশের মেয়েরা সাফ অনূর্ধ্ব-১৫ মহিলা ফুটবল টুর্নামেন্টে। নেপালকে ৬-০ গোলে উড়িয়ে দেওয়ার পর লিগের দ্বিতীয় ম্যাচে ভুটানের বিপক্ষে মার্জিয়ারা জেতে ৩-০ ব্যবধানে। লিগের শেষ ম্যাচেও ভারতকে ৩-০ গোলে হারিয়েছিল বাংলাদেশ।

আলোয় ভাসবে বাংলাদেশ

১৯৭২ সালে সারা দেশে বিদ্যুত্ উত্পাদন হতো ৪০০ মেগাওয়াট। এখন সর্বোচ্চ বিদ্যুত্ উত্পাদিত হয় সাড়ে ৯ হাজার মেগাওয়াট। আর বিদ্যুতের স্থাপিত ক্ষমতা ১৫ হাজার মেগাওয়াট ছাড়িয়ে গেছে। সারা দেশের মানুষকে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুত্ সরবরাহ করতে ২০১৭ সালে বেশ কিছু উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে রামপালে এক হাজার ৩২০ মেগাওয়াট কেন্দ্রের কাজ শুরু। এ ছাড়া কক্সবাজারের মহেশখালীতে জাপানের জাইকার অর্থায়নে ৩৪ হাজার কোটি টাকার প্রকল্পের অংশ হিসেবে মাতারবাড়ী বিদ্যুেকন্দ্রের কাজ শুরু হয়েছে। এ কেন্দ্র থেকে এক হাজার ২০০ মেগাওয়াট বিদ্যুত্ আসবে। এ ছাড়া পটুয়াখালীর পায়রায় তিন হাজার ৬০০ মেগাওয়াটের দেশের সব থেকে বড় বিদ্যুেকন্দ্র স্থাপনের জন্য জার্মানির সিমেন্সের সঙ্গে চুক্তি করেছে সরকার। এ বছরের নভেম্বরে বাংলাদেশের সব

থেকে বড় আর্থিক প্রকল্প রূপপুর পরমাণু বিদ্যুেকন্দ্রের নির্মাণকাজের উদ্বোধন করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এ কেন্দ্র নির্মাণে খরচ হবে এক লাখ সাত হাজার কোটি টাকা। এসব কেন্দ্র উত্পাদনে এলে বাংলাদেশ নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুত্ সরবরাহের পথে আরো এক ধাপ এগিয়ে যাবে।

শীতলপাটির স্বীকৃতি লাভ

গত ৬ ডিসেম্বর দক্ষিণ কোরিয়ায় ইউনেসকোর দ্বাদশ আন্তর্জাতিক সম্মেলনে বাংলাদেশের সিলেট অঞ্চলের শীতলপাটি বুননের ঐতিহ্যগত হস্তশিল্পকে বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ নির্বস্তুক সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করেছে। দক্ষিণ কোরিয়ার জেজু দ্বীপে অনুষ্ঠিত ইউনেসকোর নির্বস্তুক সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য সংরক্ষণে গঠিত আন্তর্জাতিক পর্ষদ বাংলাদেশ সরকারের শীতলপাটি বিষয়ক প্রস্তাবটি অনুমোদন করে।

সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের পক্ষে বাংলাদেশ জাতীয় জাদুঘর প্রস্তাবটি প্রণয়ন করেছিল ২০১৬ সালের সেপ্টেম্বরে। বাংলাদেশ সরকারের পক্ষে সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয় ইউনেসকোর কাছে তা দাখিল করেছিল। স্বীকৃতিদানের মূল কাজটি করে ইন্টারগভর্নমেন্টাল কমিটি ফর দ্য সেফগার্ডিং অব দ্য ইনট্যানজিবল কালচারাল হেরিটেজ। এতে সারা দুনিয়ায় বাংলাদেশের সম্মান বেড়েছে।


মন্তব্য