kalerkantho


গ য় না

পালকে ভাসুন সুতায় বাঁধুন

৬ এপ্রিল, ২০১৮ ০০:০০



পালকে ভাসুন সুতায় বাঁধুন

মডেল : নাজিফা, সাজ : প্রিভে স্যালন এন্ড স্পা, ছবি : কাকলী প্রধান

নববর্ষের নতুন দিনটিতে নতুন পোশাকের সঙ্গে গয়নায়ও থাকা চাই নতুনত্বের ছাপ। রাখা চাই ঐতিহ্যের ছোঁয়াও। তাজা ফুলের গয়না কিংবা মেটাল, কাঠ ও পুঁতির গয়নার পাশাপাশি এবারের বৈশাখী ট্রেন্ডে যোগ হয়েছে পালক ও সুতার তৈরি নতুন ধারার গয়না। বাজার ঘুরে বৈশাখী গয়নার বিস্তারিত খোঁজ দিয়েছেন জান্নাতুল মাওয়া

নিউ মার্কেট, গাউছিয়া, মৌচাক মার্কেট ঘুরে দেখা যায়, প্রায় সব দোকানেই সাজানো রংবেরঙের পালকের গয়না। এবারের বৈশাখে আপনিও বেছে নিতে পারেন পালকের গয়না। গয়নায় পালকের ব্যবহার বহু পুরনো। পৃথিবীর নানা আদিবাসীর ঐতিহ্যের অংশ হিসেবে পালকের ব্যবহার রয়েছে। আমাদের দেশে ময়ূরের পালকের তৈরি কানের দুল বা লকেটের চল শুরু হয়েছে অনেক আগে। আর এবারের বৈশাখী গয়নায় থাকছে গৃহপালিত পাখির পালক। এসব পালকে কৃত্রিম রং লাগিয়ে নতুনত্ব আনা হচ্ছে। গয়নায় বৈচিত্র্য আনতে পালকের সঙ্গে বিডস, পুঁতি আর লেদারের ফিউশন ঘটানো হচ্ছে। কাঠের ছোট নকশাদার পুঁতি বা বিডসও থাকছে পালকের কানের দুল বা লকেটে। থাকছে নকশাদার মেটালের লকেট বা পিস। পালকের গয়নার সুবিধা হলো, এগুলো বেশ হালকা। যাঁরা খুব ভারী গয়না পরে স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করেন না তাঁরা পালকের গয়নায় নিজেকে সাজাতে পারেন একদম ভিন্ন আঙ্গিকে। খোঁপায় গোঁজা ফুলের সঙ্গে একটা বাহারি পালকও গুঁজে নিতে পারেন। কপালের বড় লাল টিপের সঙ্গে পালকের সাজে সুন্দর ট্রাইবাল লুক আসবে। নিউ মার্কেটের ঝুমকা নামের একটি গয়নার দোকান পহেলা বৈশাখ সামনে রেখে নানা ধরনের আকর্ষণীয় পালকের কানের দুল ও প্যান্ডেন্ট নিয়ে এসেছে ক্রেতাদের জন্য। ঝুমকার বিক্রয়কর্মী তুহিন জানান, পালকের সঙ্গে সুতা, লেদার, হরেক উপাদানের বিডসের সমন্বয়ে তৈরি লকেট আর ঝুমকাও থাকছে। ১৫০ থেকে ২০০ টাকার মধ্যে এখানে চমত্কার সব পালকের কানের দুল পাবেন ক্রেতারা। পালকের পাশাপাশি এবার বৈশাখে সুতার গয়নাও বেশ জনপ্রিয়তা পাবে বলে আশা করা যাচ্ছে। দেশি ফ্যাশন হাউস থেকে শুরু করে বিপণিবিতানের কসমেটিকসের দোকানের গয়না কর্নারে সাজানো রয়েছে সুতার গয়নার বৈচিত্র্যময় সংগ্রহ। বাংলা বছরের প্রথম দিনে অনেকে দেশি গয়না বা যে গয়নায় দেশের ঐতিহ্যের ছোঁয়া পাওয়া যায় সেসব গয়না পরেন। একসময় এই দিনে মাটির গয়নার ছিল প্রচুর চাহিদা।

এখন আবার মাটির গয়নার জনপ্রিয়তায় ভাটা নেমেছে। মাটির জায়গা দখল করে ফেলেছে মেটাল, কাঠ, পুঁতিসহ আরো অনেক উপকরণ। তবে এগুলোর প্রায় বেশির ভাগেরই কাঁচামাল আসে দেশের বাইরে থেকে।  দেশি গয়না প্রস্তুতকারকরাও দেশের বাইরে থেকেই বেশির ভাগ কাঁচামাল নিয়ে আসেন গয়না বানানোর জন্য। তাই আমরা অনেক সময় দেশি জিনিস ভেবে যে গয়নাগুলো আগ্রহ করে পরি সেগুলোও আসলে পুরোপুরি দেশি   হয় না।

বেশির ভাগ গয়নার কাঁচামাল বাইরে থেকে আমদানি করতে হলেও সুতার গয়নার বেলায় ব্যাপারটা অন্য রকম। আমাদের দেশেই পাওয়া যায় হরেক রকম সুতা। গয়না তৈরির জন্য পাটের সুতারও তুলনা নেই। বেশ কয়েকটি শপিং মল ঘুরে দেখা যায়, সুতার গয়নায় এই সময়ের জনপ্রিয় ট্রেন্ড হলো ফিউশন ডিজাইন। সুতা, মেটাল আর কাঠের বিডসের ফিউশনে অপূর্ব সব গয়না আসছে। মেটালের বড় লকেটের সঙ্গে রং মিলিয়ে রেশমি বা সুতি সুতা ব্যবহূত হচ্ছে। সুতার তৈরি টারসেলও বিভিন্নভাবে ব্যবহূত হচ্ছে গলা ও কানের গয়নায়। এই বৈশাখে সুতা নিয়ে দেশি কারিগরদের অনেকেই কাজ করছেন। এঁদের মধ্যে একজন হলেন অনলাইন শপ আরটোপোলিসের স্বত্বাধিকারী সুমাইয়া সাইদ। সুমাইয়া জানান, দেশি ঐতিহ্য নিয়ে কিছু করার আগ্রহ থেকে সুতা নিয়ে কাজ করা শুরু করেন। অন্য অনেক উপকরণ নিয়ে কাজ করলেও সুতার গয়নার প্রতি রয়েছে আলাদা ভালো লাগা। বৈশাখ সামনে রেখেও তিনি বেশ কিছু স্পেশাল সুতার  গয়না নিজস্ব নকশায় ডিজাইন করেছেন। ক্রেতারা চাইলে তাঁদের মনমতো সুতার গয়না অর্ডার নিয়েও বানিয়ে দেন সুমাইয়া। আরটোপোলিসে ২০০ থেকে শুরু করে  ৫০০ টাকার মধ্যে রয়েছে চমত্কার সব সুতার কানের দুল। মালা পাবেন ৫০০ থেকে ৮০০ টাকার মধ্যে। অনলাইন শপ বুননেও পাবেন নানা রকম সুতার গয়না। দেশি প্রায় সব ফ্যাশন হাউস আর শপিং মলেও মিলবে কমবেশি সুতার গয়না।

এখন আবার মাটির গয়নার জনপ্রিয়তায় ভাটা নেমেছে। মাটির জায়গা দখল করে ফেলেছে মেটাল, কাঠ, পুঁতিসহ আরো অনেক উপকরণ। তবে এগুলোর প্রায় বেশির ভাগেরই কাঁচামাল আসে দেশের বাইরে থেকে। দেশি গয়না প্রস্তুতকারকরাও দেশের বাইরে থেকেই বেশির ভাগ কাঁচামাল নিয়ে আসেন গয়না বানানোর জন্য। তাই আমরা অনেক সময় দেশি জিনিস ভেবে যে গয়নাগুলো আগ্রহ করে পরি সেগুলোও আসলে পুরোপুরি দেশি হয় না

কোনো নতুন ট্রেন্ডই খুব বেশি দিন এবং ব্যাপক হারে থাকছে না, আবার চলেও যাচ্ছে না। তাই গয়নার উপকরণে সুতা আর পালকের চল শুরু হলেও বাকিগুলোও কিন্তু একেবারে বাদ যাচ্ছে না। মেটালের গয়নার চাহিদা এবারও থাকছে। রুপা, ব্রাস সাহ সংকর ধাতুতে গড়া লহরি গয়না এবারও বাজারে দেখা যাচ্ছে বেশ। ব্যতিক্রমী নকশার মেটাল গয়না পাবেন আড়ং, বিশ্বরঙ, অঞ্জন’সসহ দেশি ফ্যাশন হাউসগুলোতে। এ ছাড়া তুলনামূলক কম দামে এই গয়নাগুলোর খোঁজ পাবেন নিউ মার্কেট, গাউছিয়া, মৌচাক মার্কেটে। এ ছাড়া কাঠ, বিডস, পুঁতির গয়নাও পাবেন এসব জায়গায়।

বছরের প্রথম দিনে অনেকেই স্নিগ্ধ সাজে তাজা ফুলের গয়না রাখতে ভালোবাসেন। অন্য যেকোনো গয়নার সঙ্গে মিলিয়ে কিংবা শুধুই তাজা ফুলের গয়নায় বরণ করে নিতে পারেন নতুন বছরের নতুন দিনটিকে। এখন নানা রঙের বাহারি ফুল পাওয়া যাচ্ছে ফুলের দোকানগুলোয়। পোশাকের রঙের সঙ্গে মিলিয়ে বেছে নিতে পারেন ফুলের রং। শাহবাগ বা কাছাকাছি ফুলের দোকানে নিজের পছন্দমতো ডিজাইনের গয়না আগে থেকেই অর্ডার করে রাখতে পারেন। ফুলের মালা বা খোঁপার ব্যান্ডে ফুল ব্যবহার করে তার সঙ্গে মিল রেখে গয়না পরতে পারেন। তবে পহেলা বৈশাখে হয়তো আপনাকে অনেক হাঁটতে হবে, তাই গয়না আর ফুলের ভারে যেন জবরজং না হয়ে যান সেদিকে খেয়াল রাখুন।



মন্তব্য