kalerkantho


বিদায় আর কে

সাত দশকের অজস্র স্মৃতি, কত ইতিহাস! সব শেষ হতে চলল। কাপুর পরিবার সিদ্ধান্ত নিয়েছে তাদের আর কে স্টুডিও বিক্রির। রাজ কাপুরের প্রতিষ্ঠিত বিখ্যাত এই স্টুডিও নিয়ে লিখেছেন মামুনুর রশিদ

৬ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ০০:০০



বিদায় আর কে

আর কে স্টুডিওতে রাজ কাপুর

রাজ কাপুরের হাত ধরে তৈরি স্টুডিও। তাঁর নামের আদ্যক্ষর নিয়ে নাম হয় ‘আর কে স্টুডিও’। মুম্বাইয়ের চিম্বুুরে দুই একর জমির ওপর এই বিশাল স্টুডিও। যাত্রা হয়েছিল ১৯৪৮ সালে, ভারত স্বাধীনতা অর্জনের পরের বছরই। স্টুডিও থেকে সর্বপ্রথম মুক্তিপ্রাপ্ত সিনেমা ‘আগ’, যা বক্স অফিসে ততটা সাফল্য পায়নি। কিন্তু পরের বছর মুক্তি পাওয়া ‘বারসাত’ আলোচিত হয়। ১৯৫১ সালে মুক্তি পাওয়া ‘আওয়ারা’ শুধু ভারতে নয়, বাইরেও সাফল্য লাভ করে। আর কে স্টুডিওর সবচেয়ে সফল সিনেমা ধরা হয় এটিকে। আর কে ফিল্মসের ব্যানারে রাজ কাপুরের সঙ্গে জুটি বেঁধে সবচেয়ে বেশি সিনেমা করেন নার্গিস। রাজ কাপুরের বিপরীতে ১৫টি সিনেমার নায়িকা তিনি। ‘জিস দেশ ম্যায় গঙ্গা বেহেতি হ্যায়’, ‘মেরা নাম জোকার’, ‘ববি’, ‘প্রেমরোগ’সহ অনেক উল্লেখযোগ্য ছবি। ১৯৭০ সালে রাজ কাপুরের সঙ্গে তাঁর ছেলে রণধির কাপুরও স্টুডিওতে যোগ দেন। তাঁর অভিষেক সিনেমা ‘কাল আজ অওর কাল’ আর কে ফিল্মসের  ব্যানার থেকে মুক্তি পায়। এই সিনেমা স্টুডিওর জন্য অন্য কারণেও গুরুত্বপূর্ণ। কারণ বাবা রাজ কাপুর, দাদা পৃথ্বীরাজ কাপুর, পরবর্তী জীবনে রণধির কাপুরের স্ত্রী ববিতাও অভিনয় করেছিল।

১৯৮৮ সালে রাজ কাপুরের মৃত্যুর পর স্টুডিওর দায়িত্ব নেন রণধির। শশী কাপুর, রাজীব কাপুর, ঋষি কাপুর সবারই বাবার প্রতিষ্ঠিত স্টুডিও থেকেই পরিচালনা ও অভিনয়ে অভিষেক। কিন্তু পরে স্টুডিও থেকে নির্মিত সিনেমাগুলো একে একে বক্স অফিসে ব্যর্থ হওয়ায় ১৯৯৯ সালে ‘আ আব লট চলে’ দিয়েই আর কে ফিল্মস থেকে সিনেমা নির্মাণ বন্ধ করে দেওয়া হয়। তার পরও স্মৃতির এই স্টুডিওকে নিজেদের গর্ব আর ঐতিহ্যের প্রতীক বলেই দেখভাল করে আসছিল কাপুর পরিবার। কিন্তু কফিনে শেষ পেরেকটি ঠুকে দেয় গত বছর স্টুডিওতে লাগা আগুন। আগুনে ভস্ম হয়ে গেছে রাজ কাপুরের সব স্মৃতি। আগুন লাগার পর থেকেই ভেঙে পড়ে পুরো কাপুর পরিবার। রক্ষণাবেক্ষণ খরচ বেড়ে যায় কয়েক গুণ। নতুন করে ফের স্টুডিওটি চালুর সব আশা তখনই শেষ হয়ে যায়। শোকে স্তব্ধ কাপুর খানদান বছর ঘুরতেই জানাল বিখ্যাত এই স্টুডিও বিক্রির সিদ্ধান্ত। ঋষি কাপুর বলেন, ‘সিদ্ধান্তটা কঠিন ছিল। কিন্তু স্টুডিওটি একটা শ্বেতহস্তীতে পরিণত হয়েছিল। এ ছাড়া আমাদের কোনো উপায় ছিল না।’ কাপুর পরিবারের মেয়ে কারিনা কাপুর বলেন, ‘এটা সব সময়ই আমার হূদয়ের খুব কাছে থাকবে। ওই এলাকায় গেলে ভীষণ মন খারাপ হবে।’

আওয়ারা

 



মন্তব্য