kalerkantho


ম্যারির শুভ সূচনা

ব্রিটিশ গায়িকা অ্যান ম্যারি ২০১৫ সালে ‘কারাতে’ প্রকাশ করে শ্রোতার মন জিতেছিলেন। এবার তাঁর প্রথম স্টুডিও অ্যালবাম ‘স্পিক ইওর মাইন্ড’ জয় করছে বিশ্ব। লিখেছেন সজল সরকার

৭ জুন, ২০১৮ ০০:০০



ম্যারির শুভ সূচনা

২৭ এপ্রিল প্রকাশ পায় অ্যান ম্যারির প্রথম স্টুডিও অ্যালবাম ‘স্পিক ইওর মাইন্ড’। মাসখানেক পরই অ্যালবামটি এখন আলোচনায়। অ্যালবামের প্রতিটি গানই ভিন্² ভিন্² আবেদনের। শুরুতেই ‘ক্রাই’ গানটি অ্যালবামের পরিচিতি তুলে ধরেছে বলা যায়। অন্যান্য গানের মধ্যে ‘অ্যালার্ম’, ‘ট্রিগার’, ‘ফ্রেন্ডস’ অন্যতম। ‘ব্যাড গার্লফ্রেন্ড’ সে তুলনায় সাড়া না জাগালেও শ্রোতাদের মন কেড়েছে ‘ক্যান আই গেট ইওর নাম্বার’।

সম্পর্ক গড়ার ক্ষেত্রে নারীদেরই এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়ে ম্যারি এ গান গেয়েছেন। আরেক গান ‘মেশিন’ সম্পর্কে গায়িকা বলেন, ‘আমি প্রত্যেকের অনুভূতিই বুঝি। যখন অন্য মানুষকে দুঃখী দেখি তখন নিজেও দুঃখী হয়ে যাই।’ মানুষের অনুভূতি নিয়ে গড়া এ অ্যালবাম এখন সবার মুখে মুখে।     

অ্যালবামটি প্রকাশ ছিল বেশ দীর্ঘ ও নাটকীয়। ২০১৬ সালের ২০ মে প্রথম এ অ্যালবামের একক গান ‘অ্যালার্ম’ প্রকাশ পায়। এক মাসে ইউকে টপ চার্টের ১৬ নম্বরে উঠে আসে গানটি এবং জিতে নেয় প্লাটিনাম অ্যাওয়ার্ড। পরবর্তী সময়ে ২০১৭ সালের মার্চে পায় ‘চ্যাও আডিওস’। ইউকে চার্টে ১০ নম্বরে ওঠে গানটি। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে মার্কিন পপ তারকা ও ডিজে মার্শমেলোর সঙ্গে বের করেন ‘ফ্রেন্ডস’। গানটি জনপ্রিয়তার ৫ নম্বরে উঠে এলে অ্যালবাম প্রকাশের ঘোষণা দেন। গত ২০ এপ্রিল ‘২০০২’ গানটি প্রকাশের

পরের সপ্তাহেই গোটা অ্যালবাম প্রকাশ করেন। 

অন্য পপ সংগীতশিল্পীর তুলনায় অ্যান ম্যারির জীবনযাপন একটু ব্যতিক্রমী বলা যায়। সাজগোজের দিকে মোটেও নজর দেন না। ভক্তদের সঙ্গে কথা বলাই হোক বা কোনো সাক্ষাত্কারই হোক, অ্যান ম্যারি থাকেন অতি সাধারণ। নিউ ইয়র্কে এক সাক্ষাত্কারে বলেন, ‘আমি কখনো চিন্তা করি না যে এখন কী বলতে যাচ্ছি। অনেক বেশি লোক সমাগমও আমার পছন্দ নয়।’ পোশাকের ক্ষেত্রেও তেমন নজর নেই এই তারকার। সাধারণ ট্রাউজার ও টপস পরেই বাইরে বের হন বেশির ভাগ সময়।

পপসংগীতে অ্যান ম্যারির ক্যারিয়ার শুরু হয় ২০১৩ সালে। সে সময় ‘সামার গার্ল’ গানটি প্রকাশ পেলে ‘কারাতে শিল্পী’ থেকে ‘সংগীতশিল্পী’র খাতায় নাম ওঠে তাঁর। ‘কারাতে’ শিরোনামে প্রথম ইপি (এক্সটেন্ডেড প্লে) প্রকাশ করেন ২০১৫ সালে। সে বছরেরই নভেম্বরে তাঁর ‘ডু ইট রাইট’ গানটি জনপ্রিয়তা পায়। উঠে আসে ইউকে সিঙ্গেল চার্টে ৯০তম স্থানে। তার পর থেকে শুধুই সামনে চলা।

১৯৯১ সালে যুক্তরাজ্যের এসেক্সে অ্যান ম্যারির জন্ম। পুরো নাম অ্যান ম্যারি রোজ নিকোলসন। বাবা আয়ারল্যান্ডের অধিবাসী হলেও মা ছিলেন এসেক্সেই। মাত্র ছয় বছর বয়সেই শোবিজে আসেন ম্যারি। ওয়েস্টএন্ড প্রডাকশনের ‘লে মিজারেবলস’-এ শিশু শিল্পী হিসেবে অভিনয় করেছেন। ১২ বছর বয়সে অভিনয় করেছেন ‘হুইসেল ডাউন দ্য উইন্ড’-এ। বহু গুণের অধিকারী অ্যানি ম্যারি ‘কারাতে’ জানেন ভালোই। ৯ বছর বয়স থেকেই শতোকান কারাতে (বিশেষ ধরনের কারাতে) শেখেন।

পুরস্কারও জিতেছেন কয়েকটি। ২০০২ সালে ফুনাকোশি শতোকান কারাতে অ্যাসোসিয়েশন ওয়ার্ল্ড চ্যাম্পিয়নশিপে ‘ডাবল গোল্ড’, ২০০৭ সালে ‘গোল্ড অ্যান্ড সিলভার’ এবং ইউনাইটেড কিংডম ট্র্যাডিশনাল কারাতে ফেডারেশন ন্যাশনাল চ্যাম্পিয়নশিপে স্বর্ণপদক জয় করেন।

 



মন্তব্য