kalerkantho


মন কেড়ে নিল ‘ঠাণ্ডু খুনি’

‘ছুঁয়ে দিলে মন’-এ ভিলেন হয়ে পেলেন জাতীয় পুরস্কার। গিয়াস উদ্দিন সেলিমের ‘স্বপ্নজাল’-এ আবারও ভিলেন। ভয়ানক এক খুনির চরিত্রে দর্শকের মন কেড়েছেন এই অভিনেতা। ইরেশ যাকেরকে নিয়ে লিখেছেন ইসমাত মুমু

১২ এপ্রিল, ২০১৮ ০০:০০



মন কেড়ে নিল ‘ঠাণ্ডু খুনি’

পর্দায় অভিনয়শিল্পীদের নানা ঢঙে, নানা রূপে দেখা মেলে। সাধারণত এর জন্য কৃত্রিম উপায় বেছে নেওয়া হয়। এই যেমন দাড়ি। সাধারণত কৃত্রিম চুল, দাড়ি বা গোঁফ লাগিয়ে পর্দায় উপস্থিত হন অভিনেতারা। কিন্তু ইরেশ সেই পথে হাঁটেননি। গিয়াস উদ্দিন সেলিম যখন জানালেন এমন একটি চরিত্র করতে হবে, চেহারাটা এমন লাগবে। ইরেশ ‘না’ করলেন না। সিদ্ধান্ত নিলেন যদি এমন দাড়ির প্রয়োজন হয়, তবে শুটিংয়ের আগে আর দাড়ি কামাবেন না। জুলাই মাসে এই ছবির অফার পেলেন। পরের বছর মার্চে শুটিং। এর মধ্যে আর দাড়িতে রেজর বসাননি। অন্য কোনো নাটক-সিনেমায় অভিনয়ও করেননি। কিন্তু বাস্তব জীবনে দাড়ি নিয়ে কি বিড়ম্বনায় পড়তে হয়নি? ‘ঠিক বিড়ম্বনা বলব না। আমার তো একটা করপোরেট পরিচয়ও আছে। মিটিংয়ে গেলে অনেকে অবাক হতো, এ কি দশা! তখন বুঝিয়ে বলতাম, ছবির প্রস্তুতি নিচ্ছি। যাদের সঙ্গে আমার উঠবোস তারা তো জানে করপোরেট পরিচয়ের বাইরে আমি অভিনেতাও। এসব বিষয়ে বরং তারা উৎসাহই দেয়’, বললেন ইরেশ।

তবে শুটিংয়ে একবার বিড়ম্বনায় পড়তে হয়েছিল। যারা ‘স্বপ্নজাল’ দেখেছে, তারা নিশ্চয়ই দেখেছে, মাতাল খুনি ঠাণ্ডু [ইরেশ] লাফ দিয়ে আয়নালের [ফজলুর রহমান বাবু] গলা টিপে ধরে। সেই লাফ দিতে গিয়ে হাঁটুতে প্রচণ্ড ব্যথা পান ইরেশ। তার জন্য অনেক দিন ভুগতে হয়েছে। দৃশ্যটা দেখে অনেকেই হয়তো ভেবেছে, ইরেশ পুরো শরীরের ভার দিয়ে বাবুর ওপর ঝাঁপিয়ে পড়েছেন। আসলে ডান হাতের ওপর শরীরের ভর দিয়ে রেখেছিলেন। শটের আগেই ফজলুর রহমান বাবু বলে দিয়েছিলেন, ‘যদি আমার ওপর পুরো ভর দেও, তাইলে আমি শেষ!’ তাই শটটা খুব টেকনিক্যালি নিতে হয়েছে। ইরেশ বলেন, ‘চেহারায় তামাটে ভাব আনার জন্য শুটিংয়ের অনেক আগেই গ্রামে চলে গিয়েছিলাম। শহরে থাকলে তো এই ভাবটা আনা সম্ভব ছিল না। গাড়িতে চড়তে হয় কিংবা এসি রুমে অফিস করি। তাই আগে গ্রামে গিয়ে নিজেকে প্রস্তুত করেছি।’

‘স্বপ্নজাল’-এর প্রধান দুষ্টু লোকটি ফজলুর রহমান বাবু। তাঁর সহযোগী ইরেশ। দুজন মিলে খুন, দখলসহ নানা অপকর্ম করে বেড়ান। বাবুর সঙ্গে জুটি হয়ে অভিনয় করার অনুভূতি কেমন? “বাবু ভাই ছবিতে চমৎকার অভিনয় করেছেন। উনি একজন ন্যাচরাল অভিনেতা। আমাদের জুটির অভিনয়ের প্রশংসা পাচ্ছি সবার কাছ থেকে। সেলিম ভাইয়ের দক্ষ পরিচালনার কারণে আমরা আরো বেশি চরিত্রে ঢুকে যেতে পেরেছি। ‘স্বপ্নজাল’ আমার কাছে স্মরণীয় হয়ে থাকবে।”

প্রশংসা করতে ভোলেননি অন্য কলাকুশলীদেরও। ‘সবাই যে যাঁর জায়গা থেকে বেশ করেছেন। প্রথম কৃতিত্ব সেলিম ভাইয়ের। তেমনি পরীমণি, সাচ্চু ভাইসহ যাঁরাই অভিনয় করেছেন, নিপুণভাবে ফুটিয়ে তোলার চেষ্টা করেছেন। এই যে সোনাই [নায়ক ইয়াশ রোহানের ডাকনাম], ওকে ভবিষ্যতে ইন্ডাস্ট্রির কাজে লাগানো উচিত। অনেক দিন ধরে শুটিং হয়েছে, এতটা সময় এনার্জি ধরে রাখাও কিন্তু বেশ কষ্টকর। ছেলেটা সেটা পেরেছে’, বললেন ইরেশ।

খল চরিত্রে অভিষেকেই পেয়েছেন জাতীয় পুরস্কার। এবারও নিশ্চয়ই পুরস্কারের আশা রাখেন? ছবির প্রিমিয়ার থেকে বের হওয়ার পথে ইরেশকে প্রশ্নটা করা হয়েছিল। উত্তরে হাসতে হাসতে বলেন, ‘এই ছবির জন্য অন্তত না। বাবু ভাই যে অসাধারণ অভিনয় করেছেন, বাংলা ছবির ইতিহাসে নেগেটিভ রোলে এমন দুর্দান্ত অভিনয় খুব কমই দেখা গেছে। তাঁর পাশে অভিনয় করতে পেরেই আমি ধন্য।’ সামনে আসছে ইরেশের আরো দুটি ছবি—অনম বিশ্বাসের ‘দেবী’ ও মোস্তফা সরয়ার ফারুকীর ‘শনিবার বিকেল’। দুটিতেই তিনি নেগেটিভ। তার মানে খল চরিত্রেই নিয়মিত দেখা যাবে? ‘আমার যে চেহারা তাতে তো নায়ক চরিত্রে অভিনয়ের সম্ভাবনা দেখি না। বাংলাদেশের পরিপ্রেক্ষিতে সাধারণত শাকিব খান, আরিফিন শুভ, তাহসানদের মতো সুদর্শন নায়ক দরকার হয়। তাই আমার কাছে নায়ক হওয়ার প্রস্তাব আসবে, সেটা আশাও করি না। খলনায়কের চরিত্র কিন্তু বেশ স্ট্রং। আমি আশাবাদী, হলিউড-বলিউডের মতো আমরাও একদিন বাংলাদেশের সিনেমার মূল চরিত্র হয়ে উঠব।’



মন্তব্য