kalerkantho


তারার বন্ধু তারা

প্রতিদ্বন্দ্বী যখন ভাই-বন্ধু

তৌসিফ মাহবুব ও সিয়াম আহমেদ—টিভি নাটকে একে অন্যের প্রতিদ্বন্দ্বী। তবু তাঁরা একে অন্যের ভালো বন্ধু। তাঁদের বন্ধুত্বের গল্প লিখেছেন মীর রাকিব হাসান

১২ এপ্রিল, ২০১৮ ০০:০০



প্রতিদ্বন্দ্বী যখন ভাই-বন্ধু

২০১২ সাল, দুজনই নতুন শোবিজে। আদনান আল রাজীবের নির্মাণে ‘রুচি ঝুরি ভাজা’র বিজ্ঞাপনচিত্র করতে গিয়ে প্রথম পরিচয়। দেখা-সাক্ষাৎও নিয়মিত হতে থাকল। সখ্য বেড়ে যায়। সিয়ামের এক বছর আগে অভিনয়ে এসেছেন তৌসিফ—২০১৩ সালে। বয়সেও কিছুটা বড়। বন্ধু হলেও তৌসিফকে তাই ‘ভাইয়া’ বলে ডাকেন সিয়াম।

সিয়াম বলেন, ‘আমাদের সম্পর্কটা দারুণ। ফিজিক্যালি সব সময় একে অন্যের পাশে থাকতে পারি না, তবে মানসিকভাবে থাকার চেষ্টা করি। যদি কিছুতে ঝামেলা মনে করেন তৌসিফ ভাই, আগেই আমাকে জানিয়ে রাখেন। আমিও চেষ্টা করি এমন কিছু চোখে পড়লে তাঁকে আগে জানাতে।’

তৌসিফও গলা মেলালেন, ‘শুরু থেকেই ওকে বলে রেখেছি, শোবিজে তুই আমার অপশন, আমি তোর অপশন। জানি, আমরা দুজনই প্রতিযোগিতার দৌড়ে আছি। আমাদের প্রতিযোগিতা অপূর্ব বা নিশো ভাইদের সঙ্গে নয়। প্রতিযোগিতা আমাদের নিজেদের মধ্যে। নাম নেব না, আমরা দুজনই লক্ষ করেছি সিনিয়রদের মধ্যে প্রতিযোগিতাটা হেলদি নয়। প্রতিযোগিতায় জেতার জন্য একজন আরেকজনের সম্পর্কে একটা বাজে কথা বলে ফেলেন। এসব দেখে আমরা শিখেছি।’ 

তার পরও কি মনকষাকষি হয় না? নিশ্চয়ই হয়। স্বীকার করলেন তাঁরা। ক্যারিয়ারের শুরুর দিকে ছয় মাস একে অন্যের সঙ্গে কথা বলেননি। কারণটা বললেন তৌসিফ, ‘আমাদের মধ্যে দ্বন্দ্বটা তৈরি করেছেন সিনিয়ররা। তাঁরা হিসাব কষেছেন, সিয়ামকে দমিয়ে রাখতে পারবে তৌসিফই আর তৌসিফকে সিয়াম। আমাদের দুজনের মধ্যে বিশাল একটা মিস আন্ডারস্ট্যান্ডিং তৈরি করে দিয়েছিলেন। ছয় মাস পরে অভিনেত্রী আজমেরি আশা উদ্যোগী হয়ে আমাদের মিলিয়ে দেয়। ও এসে আমাকে বলে যে তোমাদের সমস্যা কী? তুমি যে সিয়ামকে নিয়ে এমনটা ভেবে বসে আছ, আসলে ও এমন নয়। আবার ওর কাছে গিয়ে বলেছে, তৌসিফকে নিয়ে যা ভাবছ সে কিন্তু এমনটা নয়। দুজনকে বুঝিয়ে দেখা করাল। সামনাসামনি কথা বলে বুঝলাম, সমস্যাটা আসলে কোথা থেকে শুরু। এরপর আর কখনোই কিছু হয়নি আমাদের।’

একসঙ্গে অনেক মজার স্মৃতিও আছে। থাইল্যান্ডে শুটিংয়ে গিয়ে একে অন্যের আরো কাছাকাছি এসেছেন। ‘সেখানে একই রুম শেয়ার করতাম আমরা। পুলের পাড়ে রাতে হাঁটছি আর কথা বলছি। পরিবার থেকে শুরু করে ব্যক্তিগত অনেক বিষয় শেয়ার করেছি’, বললেন সিয়াম।

সিয়ামের গুণগান করলেন তৌসিফ, ‘ওর কাছ থেকে শেখার আছে অনেক। সুন্দর করে কথা বলে। আমি হুটহাট রেগে যাই, আমার ব্যবহারেও অনেকে রাগ করে। কেউ ওর ওপর রাগ করে থাকতে পারবে না। এটা অনেক বড় গুণ। ও কোনো দোষ করে ফেললেও সবাইকে ম্যানেজ করে ফেলতে পারে।’

তৌসিফকে নিয়ে সিয়াম বলেন, ‘তৌসিফ ভাই আপাদমস্তক ভালো মানুষ। কিছু কথা আছে সবাইকে বলা যায় না, তাঁকে বলতে পারি। শুধু আমি নই, আরো অনেকেরই নির্ভরতার জায়গা তৌসিফ ভাই। সাধ্যের সর্বোচ্চটা দিয়ে অন্যকে সাহায্য করার চেষ্টা করেন।’

গুণের পাশাপাশি একের অন্যের দোষের কথাও বললেন। সিয়াম বলেন, ‘তৌসিফ ভাই গণহারে অনেক কাজ করছেন। এটা আমার ভালো লাগে না। এখন অবশ্য বেশ বেছে কাজ করছেন।’ সিয়ামের কথা শুনে হাসিমুখে বললেন তৌসিফ, ‘মিথ্যে বলেনি ও। বেশি কাজ করার অন্যতম কারণ কিন্তু ওর সিনেমায় ব্যস্ত হয়ে যাওয়া [হাসি]। এখন আমার ডাবল কাজ করতে হয়। ওরটাও করতে হয়। নিয়মিত কাজ করলে সব সময় বেছে কাজ করা সম্ভব হয় না। সিনেমার ব্যাপার আলাদা। কিন্তু নাটকে নিয়মিত করতে হয়। সব কাজ যে ভালো হবে তা নয়।’ সিয়ামের দোষের কথা কিন্তু বলা হলো না! ‘ও অনেক বেশি সুন্দর, এটাই ওর দোষ [হাসি]। ও ইদানীং কঠোর ডায়েট করছে, এটা আমার ভালো লাগছে না। চেহারার ভরাট ভাবটা চলে গেলে ও আর সিয়াম থাকবে না’, বলেন তৌসিফ।

দুজনে একসঙ্গে বেশ কিছু নাটক করেছেন, করেছেন বিজ্ঞাপনচিত্রও। নাটকের মধ্যে উল্লেখযোগ্য ‘নাইন অ্যান্ড আ হাফ’, ‘হিং টিং ছট’, ‘সুপারস্টার’, ‘তরুণ তুর্কি’, ‘এক্স ফ্যাক্টর রিলোডেড’, ‘মধ্য দুপুর’, ‘নীল আবরণ’ ইত্যাদি।



মন্তব্য