kalerkantho


মিন্ট টু বি

মার্কিন গায়িকা, গীতিকার ও প্রযোজক হিসেবে বেবে রেক্সহার আধিপত্য বেড়েই চলেছে। তাঁর গাওয়া ‘মিন্ট টু বি’ এখন দুনিয়া কাঁপাচ্ছে। লিখেছেন সজল সরকার

১২ এপ্রিল, ২০১৮ ০০:০০



মিন্ট টু বি

বেবে রেক্সহার ক্যারিয়ারে সুবাতাস বইছে এ বছরের শুরু থেকেই। মার্কিন পপ সাম্রাজ্যে তাঁর আধিপত্য দিন দিন বেড়েই চলেছে। তাঁর গাওয়া ‘মিন্ট টু বি’ এখন বিলবোর্ড হট এক শর দুই নম্বরে। আর বিলবোর্ড হট কান্ট্রি সংয়ের তালিকায় এক নম্বরে। গায়িকার প্রথম স্টুডিও অ্যালবাম ‘এক্সপেকটেশনস’-এর গান এটি। ১৩ গানের এই অ্যালবামের অন্যতম গানের মধ্যে আরো রয়েছে—‘টু সোলস অন ফায়ার’, ‘শাইনিং স্টার’, ‘সেলফ কন্ট্রোল’, ‘ডোন্ট ওয়েস্ট মাই টাইম’ ইত্যাদি। ওয়ার্নার ব্রাদার্স প্রযোজনায় আগামী জুন মাসে প্রকাশ পাবে অ্যালবামটি। এর আগে রেক্সহা ২০১৫ সালে ‘আই ডোন্ট ওয়ানা গ্রো আপ’, ২০১৭ সালে ‘অল ইউর ফল্ট-১ ও ২’ শিরোনামে তিনটি ইপি প্রকাশ করেছেন।      

আবেদনময়ী চেহারার এই গায়িকা শুধু মঞ্চ কাঁপাতেই নয়, বরং গান কম্পোজিশন এবং প্রযোজনায়ও বেশ পটু। রিহানা, সেলেনা গোমেজসহ খ্যাতিমান শিল্পীদের প্রায় সবাই রেক্সহার কম্পোজিশনে গেয়েছেন। গত ৩০ মার্চ টেক্সাসে ‘এনসিএএ ম্যাডনেস মিউজিক ফেস্টিভাল’-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে রেক্সহা ‘মি, মাইসেলফ অ্যান্ড আই’ ও ‘মিন্ট টু বি’ গান দুটি গেয়ে দর্শকদের মাতিয়ে রাখেন।

এ বছরের প্রায় পুরো সময় রেক্সহা ব্যস্ত থাকবেন বিভিন্ন দেশের মঞ্চ মাতাতে। ওয়ার্ল্ড ট্যুরে সঙ্গী হয়েছেন খ্যাতিমান শিল্পীদের সঙ্গেও। ব্রুনো মার্সের ‘২৪কে ম্যাজিক ওয়ার্ল্ড ট্যুর’ ও কেটি পেরির ‘উইটনেস : দ্য ট্যুর’-এ অংশ নিচ্ছেন রেক্সহা। শুধু নিজেকে নিয়ে না ভেবে অনুজদের জন্য দারুণ অনুপ্রেরণা জোগান তিনি। তরুণ উদ্যোক্তাদের যেকোনো অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে সাহস দেন। গত ৮ এপ্রিল আমেরিকান আইডলে অংশগ্রহণকারী প্রতিযোগীদের সঙ্গে গেয়েছেন তাদের অনুপ্রেরণা দিতে; যেখানে বিচারক ছিলেন কেটি পেরি, লিওনেল রিচি ও লুক ব্রায়ান।       

রেক্সহার জন্ম ১৯৮৯ সালের ৩০ আগস্ট নিউ ইয়র্কের ব্রুকলিনে। তাঁর আলবেনীয় মা-বাবা অভিবাসী হয়ে যুক্তরাষ্ট্রে বসবাস শুরু  করেন। জন্মের পর রেক্সহার নাম ছিল ‘ব্লেটা রেক্সহা’, আলবেনিয়ান ভাষা ‘ব্লেটা’ শব্দের অর্থ ‘বি’ বা ‘মৌমাছি’ এবং সেই ‘বি’ থেকেই নিজের নাম রাখেন ‘বেবে রেক্সহা’। ছোটবেলা থেকেই সংগীতের প্রতি আগ্রহ। প্রাইমারি স্কুলে পড়ার সময়ই ট্রামপেট বাজাতেন। তখনই পিয়ানো ও গিটার শেখা রেক্সহা সংগীতে নিজেকে আবিষ্কার করতে যোগ দেন গানের দলে।

পেশাগত জীবন শুরু হয় ২০১০ সালে। নিউ ইয়র্কের এক রেকর্ডিং স্টুডিওতে ‘ফল আউট বয়েজ’ ব্যান্ডের পিটে উয়েন্টজের সঙ্গে পরিচয় হওয়ার পর ব্যান্ডটিতে কাজ শুরু করেন। অল্প সময়েই ব্যান্ডটির লিড ভোকালিস্ট হয়ে যান। তবে বছর দুয়েক পর ব্যান্ডটি ছেড়ে দেন। ২০১৩ সালে রেক্সহার চুক্তি হয় ওয়ার্নার ব্রাদার্স কম্পানির সঙ্গে। সেই সময় সেলেনা গোমেজ, রিহানা ও নিকি উইলিয়ামসের মতো বাঘা বাঘা সংগীতশিল্পীর জন্য গান কম্পোজ করেন রেক্সহা। তাঁর কম্পোজে রিহানা ও এমিনেমের গাওয়া ‘দ্য মনস্টার’ ব্যাপক জনপ্রিয়তা পায়। ২০১৪ সালে তাঁর গাওয়া ‘আই কান্ট স্টপ ড্রিংকিং অ্যাবাউট ইউ’ বিলবোর্ড টপ হিটশিকার চার্টের ২২ নম্বরে উঠে আসে।

২০১৫ সালে রেক্সহার ‘মি, মাইসেলফ অ্যান্ড আই’ বিলবোর্ড হট চার্টের সাত নম্বরে উঠে আসে। ২০১৬ সালে নিকি মিনাজের অবদানে প্রকাশ করেন ‘নো ব্রোকেন হার্টস’; যার ভিডিও ইউটিউবে ২২০ মিলিয়নেরও বেশি দেখা হয়। ২০১৭ সালে এমটিভি বেবে রেক্সহার সংগীত ক্যারিয়ার নিয়ে তথ্যচিত্র প্রচার করে। ২০১২ সালে ‘সং রাইটারস হল অব ফেম’, ২০১৬ সালে ‘বিএমআই লন্ডন অ্যাওয়ার্ডস’, ‘ইন্টারন্যাশনাল ডান্স মিউজিক অ্যাওয়ার্ডস’, ২০১৭ সালে ‘এডিসন অ্যাওয়ার্ডস’ এবং ‘ভিক্টোরিয়া সিক্রেট’-এ আবেদনময়ী উঠতি তারকা হিসেবে পুরস্কার পান বেবে রেক্সহা। এ ছাড়া ‘এমটিভি ইউরোপ মিউজিক অ্যাওয়ার্ডস’, ‘এমটিভি ভিডিও মিউজিক অ্যাওয়ার্ডস’ ও বিলবোর্ড মিউজিক অ্যাওয়ার্ডসহ কয়েকটি পুরস্কার জিতেছেন।



মন্তব্য