kalerkantho


সারা ভারতের প্রিয়া

জানা আছে পাঁচ-পাঁচটি ভারতীয় ভাষা, ইংরেজি আর স্প্যানিশ তো ডালভাত। তিনি যে ভারতের বিভিন্ন আঞ্চলিক সিনেমায় দাপিয়ে বেড়াবেন তাতে আর আশ্চর্য কি। এ বছরই যেমন কাজ করেছেন চার ভাষার চার সিনেমায়। এর সর্বশেষটা ‘ফুকরে রিটার্নস’ মুক্তি পাচ্ছে আগামীকাল। তাঁর আগে প্রিয়া আনন্দকে নিয়ে লিখেছেন খালিদ জামিল

৭ ডিসেম্বর, ২০১৭ ০০:০০



সারা ভারতের প্রিয়া

আমেরিকায় গেলে নাকি কেউ ফিরে আসে না! প্রিয়া আনন্দ অবশ্য সবার মতো হলেন না। ইচ্ছা ছিল বিনোদন সাংবাদিক হবেন।

আর সে কারণেই আমেরিকায় লেখাপড়া করেন সাংবাদিকতার ওপর। শেষ হতেই চলে এলেন সোজা চেন্নাই।

কিন্তু কপালের ফের চাইলে কি বদলানো যায়! যে প্রিয়া চেয়েছিলেন ক্যামেরার পেছনে কাজ করবেন, তিনিই চলে এলেন সামনে। বনে গেলেন তারকা।

প্রিয়ার মা ছিলেন তামিল, বাবা অর্ধেক মারাঠি আর অর্ধেক তেলেগু। পরিবারের এই জাতির সংমিশ্রণ আশীর্বাদই হয়ে এলো তাঁর জীবনে। তামিল, তেলেগু আর মারাঠি ভাষা তো পরিবারের কাছেই শিখে রেখেছেন। তারপর হিন্দি, বাংলা, ইংরেজি আর স্প্যানিশ ভাষায়ও কথা বলতে পারেন অনর্গল। এমন পারদর্শিতার কারণেই তামিল অ্যাকশন থ্রিলার ‘ভমণন’ দিয়ে ক্যারিয়ার শুরু করলেও একের পর এক ডাক আসতে থাকে ভারতের বিভিন্ন অংশের সিনেমাপাড়া থেকে।

ভারতের মতো বহু ভাষা আর সংস্কৃতির দেশে সাত সাতটা ভাষা জানা যে তাঁকে অন্যদের চেয়ে এগিয়ে রেখেছে তা ভালোই জানেন প্রিয়া। সে জন্যই তাঁর পরের টার্গেট মালয়ালম। ভারতের সবচেয়ে শক্তিশালী সিনেমাপাড়ার একটা এটা। এই অঞ্চলের ভাষাটা আয়ত্ত করতে পারলে প্রিয়াকে আর পায় কে! ‘নতুন ভাষা শেখাটা মজা লাগে আমার। এখন শিখছি মালয়ালম। তামিল জানার ফলে কিছু শব্দ পরিচিত। তার পরও এই ভাষাটা বাগে আনা মোটেও সহজ মনে হচ্ছে না। এটা হলে প্রধান প্রধান প্রায় সব ভারতীয় ভাষা জানা হয়ে যাবে। ’

এখন পর্যন্ত প্রিয়ার ক্যারিয়ারের সেরা বছর ২০১৭। কারণ এ বছর সব মিলিয়ে চারটি ছবিতে অভিনয় করেছেন। সেই সঙ্গে নিজের লক্ষ্যটাও পূরণ হয়েছে। কারণ এ বছর মুক্তি পাওয়া প্রতিটি ছবিতেই ভিন্ন ভিন্ন চরিত্রে কাজ করেছেন। সেই সঙ্গে ব্যস্ততাও বেড়েছে। তামিল, মালয়ালম, কন্নড়, হিন্দি—এক বছরে চার সিনেমা ইন্ডাস্ট্রিতে কাজ করা সহজ নয়, ‘আসলে এ বছর এমন কিছুই চেয়েছিলাম, কারণ গত সাত বছর একই ধরনের কাজ করতে করতে একঘেয়ে লাগছিল। তাই চ্যালেঞ্জটা দরকার ছিল। ’

 বছরটা শুরু করেছিলেন মালয়ালম হরর ‘এজরা’ দিয়ে। পৃথ্বীরাজের বিপরীতে এই সিনেমায় তিনি করেন অভিশপ্ত আত্মা ভর করা এক নারীর চরিত্র। যা করতে গিয়ে নিজেই শিউরে উঠেছেন, ‘এটা ছিল সত্যিকারের ভয়ের গল্প। কাজ করতে গিয়ে আমি নিজেই অনেকবার ভয় পেয়ে সেট থেকে বেরিয়ে গেছি। ’ বছরের চতুর্থ ছবি ‘ফুকরে রিটার্নস’ মুক্তি পাচ্ছে আগামীকাল। ফারহান আখতারের প্রযোজনায় ছবিটি পরিচালনা করেছেন মৃগদ্বীপ সিং লাম্বা। আলোচিত ‘ফুকরে’ ছবির এই সিক্যুয়ালে পুলকিত সম্রাট, আলী জাফর, মনজিত্ সিংয়ের সঙ্গে অভিনয় করেছেন প্রিয়া। ‘ফুকরে’র প্রথম পর্বে তাঁর উপস্থিতি ছিল খানিকটা কম। এবার তা বেড়েছে অনেকটা। এটা বলিউডে তাঁকে আরো নিয়মিত সুযোগ করে দেবে আশা অভিনেত্রীর। অনেক ভাষা জানলেও বলিউডই যে তাঁর প্রধান লক্ষ্য গোপন করেননি প্রিয়া।


মন্তব্য